Category Archives: Sunnah,beard…

দাড়ি রাখা ওয়াজিব

দাড়ি রাখা ওয়াজিব

এ.কিউ.এম মাসূম মজুমদার
সম্পাদক:ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

দাড়ি রাখা ওয়াজিব, শেভ করা হারাম। এ সংক্রান্ত শরী‘আতের দলীল নিচে বর্ণনা করা হলো,
১- দাড়ি শেভ করলে আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করা হয়, যা করতে তিনি নিষেধ করেছেন। মহান রব আল্লাহ তা‘আলাকে মানবের সেরা শত্রু দুষ্ট ইবলিশ শয়তান বললো:
﴿وَلَأٓمُرَنَّهُمۡفَلَيُغَيِّرُنَّخَلۡقَٱللَّهِۚ﴾ [النساء: ١١٩]
“(শয়তান বলল) আর অবশ্যই আমি তাদেরকে নির্দেশ দেব, ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টি বিকৃত করবে।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১১৯]
‘আল্লাহর সৃষ্টি বিকৃত করা’ দ্বারা বুঝায়: যে সব নারী শরীরে উল্কি আঁকে ও ভ্রু কাটে এবং দাঁত কাটে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য এবং আল্লাহর সৃষ্টিকে পরিবর্তন করে।” আল্লাহ তা‘আলা এটি নিষেধ করেছেন। এ ছাড়া ‘আলেমদের মতে, দাড়ি শেভ করা অথবা কাটছাট করে ষ্টাইল করে রাখাও আল্লাহর সৃষ্টিকে পরিবর্তন করার মতো কাজ, যা হারাম।
২- সহীহ বুখারী ও মুসলিমে রয়েছে, ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«خَالِفُواالمُشْرِكِينَ: وَفِّرُوااللِّحَى،وَأَحْفُواالشَّوَارِبَ».
“মুশরিকদেরবিরোধিতাকরএবংমোচ খুব ছোট করেকাটওদাড়িলম্বা-ঘনকর”।
তাছাড়া অন্য বর্ণনায় এসেছে,
«كانالنبيصلىاللهعليهوسلمكثيرشعراللحية رواهمسلمعنجابر،وفيروايةكثيفاللحية»
জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুথেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাড়ি অধিক ও ঘন ছিল”।
৩- সহীহ মুসলিমে রয়েছে, আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«جُزُّواالشَّوَارِبَ،وَأَرْخُوااللِّحَى , خَالِفُواالْمَجُوسَ».
“তোমরা মোচ ভালো করেকাটওদাড়িরেখে দাও, অগ্নিপূজারীদেরবিরোধিতাকর”।
৪- সহীহ বুখারীর এক বর্ণনায় রয়েছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«انْهَكُواالشَّوَارِبَ،وَأَعْفُوااللِّحَى»
“মোচউত্তমরূপেকাটএবংদাঁড়িলম্বাকর”।
৫- বুখারীর অন্য এক বর্ণনায় আছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«وفروااللحى«
“দাড়ি বাড়াও (লম্বা-ঘন কর)”।
৬- সাহীহ বুখারীতে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন:
«إِنَّاليَهُودَ،وَالنَّصَارَىلاَيَصْبُغُونَ،فَخَالِفُوهُمْ».
“ইয়াহূদী ও নাসারাগণ তাদের চুল বা দাড়ি সাদা হয়ে গেলে সেগুলোকে সাদা রেখে দেয়, তোমরা তাদের বিরোধিতা কর, তোমরা বার্ধক্যকে (কালো ব্যতীত) যে কোনো রং দিয়ে ঢেকে দাও”।
৭- তিরমিযীতে রয়েছে, ‘আমর ইবন শুয়াইব তার বাবা থেকে, আর তার বাবা তার দাদা হতে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«لَيْسَمِنَّامَنْ [ص:57] تَشَبَّهَبِغَيْرِنَا،لَاتَشَبَّهُوابِاليَهُودِوَلَابِالنَّصَارَى….
“যে অন্য সম্প্রদায়ের সাথে সাদৃশ্য বা মিল রেখে চলে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়, তোমরা ইয়াহূদী ও নাসারাদের সাথে সাদৃশ্য রেখো না।” (চাল-চলন, বেশ-ভূষায় তাদের অনুকরণ করোনা)।
আর দাড়ি মুণ্ডানো বা ছাটা উভয়টিই গোনাহের কাজ। আর এটি মজুসী বা অগ্নি পূজাকারীদের কাজ, আর নবী আমাদেরকে বিজাতি, অমুসলিমদের অনুকরণ করতে নিষেধ করেছেন।
৮- অন্য হাদীসে রয়েছে, আবদুল্লাহ ইবনউমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমাথেকেবর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«مَنْتَشَبَّهَبِقَوْمٍفَهُوَمِنْهُمْ».
“যে ব্যক্তি কোনোজাতির সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে ব্যক্তি সেই জাতিরই অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে”।
৯- যারা অমুসলিমদের বেশভূষা বা চাল-চলন, চুল বা দাড়ির কাট-ছাট পছন্দ করে, তারা এটা বিজাতীদেরকে ভালোবেসেই করে, যদি এমনটি হয়, তাহলে তারা নিশ্চয় তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে। এ ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা আল-কুরআনে সুস্পষ্টভাবে ঈমানদেরকে সাবধান করে দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন
﴿وَمَنيَتَوَلَّهُممِّنكُمۡفَإِنَّهُۥمِنۡهُمۡ﴾ [المائ‍دة: ٥١]
“তোমাদেরকেউতাদেরকেবন্ধুহিসেবেগ্রহণকরলে, সেনিশ্চয়তাদেরইএকজন”। [সূরা আল-মায়েদা, আয়াত:৫১]
সম্মানিতভাই! আপনিলক্ষ্যকরুনযে, যে জিনিস বিজাতির প্রতীক, যা দেখলে তাদেরকে বিজাতি বলে সহজে চিহ্নিত করা যায়, কেবল সেই জিনিসেই সাদৃশ্য অবলম্বন নিষেধ।

চলবে……
বিস্তারিত পুরো প্রবন্ধ টি পডতে বা ডাউনলোড করতে লিঙ্কটিতে ক্লিক কুরুন :

https://islamhouse.com/bn/articles/2797464/

সাদা দাড়ি রং করার ব্যাপারে শরী‘আতের বিধান কি?

প্রশ্ন (৭/১২৭) : সাদা দাড়ি রং করার ব্যাপারে শরী‘আতের বিধান কি?
-অধ্যাপক আব্দুল লতীফ
নতুন বিলশিমলা, রাজশাহী।
উত্তর : সাদা দাড়ি বা চুল রং করা সুন্নাত। তবে কালো রং করা নিষিদ্ধ। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই ইহূদী, নাছারারা (চুল-দাড়ি) রং করে না। সুতরাং তোমরা তাদের বিপরীত কর’ (বুখারী হা/৫৮৯৯; মুসলিম হা/২১০৩; মিশকাত হা/৪৪২৩)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ‘তোমরা সাদা চুলকে পরিবর্তন কর, তবে কালো রং থেকে বিরত থাক’ (মুসলিম হা/২১০২; মিশকাত হা/৪৪২৪)। তিনি বলেন, শেষ যামানায় একদল লোক কালো রং দ্বারা খেযাব করবে। তারা জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না
(আবুদাউদ হা/৪২১২)। আবু উমামা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) কিছু আনছার ছাহাবীর সাদা দাড়ি দেখে বললেন, হে আনছারগণ! তোমরা তোমাদের সাদা চুলগুলো লাল অথবা হলুদ রং দ্বারা পরিবর্তন কর এবং আহলে কিতাবদের বিরোধিতা কর (আহমাদ হা/২২৩৩৭; সিলসিলা ছহীহাহ হা/১২৪৫)। উল্লিখিত হাদীছ সমুহ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, সাদা চুলে যে কোন রং করা সুন্নাত। তবে কালো রং ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।

দাড়ি রাখা ওয়াজিব না সুন্নত?

দাড়ি রাখা ওয়াজিব না সুন্নত?

মাঝে মাঝে খুব কাছের কিছু মানুষ ইসলামের খুটিনাটি কিছু বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করেন। তাদের এই জিজ্ঞাসার জবাব দিতে গিয়ে আমাকে পড়াশুনা করতে হয়।

এতে আমারও কিছু বিষয় সম্পর্কে জানা হয়ে যায়। আমি এজন্য তাদের কাছে ঋণি।

ইদানিং একটি প্রশ্ন আমার কাছে বেশি এসেছে তা হলো, দাড়ি রাখা ফরজ?ওয়াজিব? নাকি সুন্নত? এই প্রশ্নের উত্তরেই আজকের বিষয়ের অবতারণা।

প্রথমত, দাড়ি রাখা ফরজ না ওয়াজিব না সুন্নত এই সম্পর্কে কোনো উত্তর দেওয়া সিদ্ধান্তের নামান্তর। কোরআন হাদিসের আলোকে যারা সিদ্ধান্ত দেন আমি সে মাপের নই তাই আমার উত্তরটা সিদ্ধান্ত নয় বরং কেন দাড়ি রাখা উচিত সে সম্পর্কে কিছু যুক্তি ও প্রমাণের সাহায্যে দাড়ি রাখার যৌক্তিকতা প্রমাণের চেষ্টা করছি।

পবিত্র কোরআন একটি জীবন বিধান।মহান আল্লাহর বানী। অপরিবর্তনীয় এবং কোন প্রশ্ন ছাড়া মান্য। অর্থাৎ ফরজ।

আল্লাহর হাবীব মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম যা করেছেন, বলেছেন তাই করণীয়। আর যা বলেননি, করেননি তাই বর্জনীয়। অর্থাৎ এটা হাদিস।

কোরআন হাদিসের বাইরে মানব বিবেক খাটানো কুফরি বা কাফেরের কাজ।অর্থাৎ এখানে মানব বিবেকের কোন মত দেবার সুযোগ নেই।ঈমাম বোখারী (র.) প্রমাণ করেছেন,ইসলামের বিধান শরীয়ত মতে হযরত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে অসাল্লামের নিষেধাবলী হারাম হওয়া অর্থে এবং আদেশাবলী ফরজ ওয়াজিব হওয়া অর্থে পরিগণিত হবে।অবশ্য যদি সেই অর্থ উদ্দেশ্য না হওয়ার অন্য কোনো দলিল পাওয়া যায় তবে তা স্বতন্ত্র কথা।

সেই হিসেবে প্রথমেই পবিত্র কোরআন মহান আল্লাহর একটি নিদর্শন যা তাঁর খালেস বান্দাদের জন্য প্রযোজ্য। যারা কোরআনের কথা বিনা বাক্য ব্যয়ে মেনে নিয়ে মহান আল্লাহর প্রিয়পাত্র তাদের পরিচয় দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন “এটা সেই কিতাব যাতে কোন সন্দেহ নেই-মুত্তাকীদের পথ প্রদর্শক।যারা গায়েবে বিশ্বাস করে,ঠিকভাবে নামায পড়ে ও তাদের যে রিজেক দিয়েছি তা হতে খরচ করে।যারা বিশ্বাস করে তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি এবং তোমার পূর্বে যা অবতীর্ণ করেছি তার প্রতি এবং যারা পরকালের উপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।উহারাই স্বীয় রবের প্রদর্শিত পথে অবস্থিত এবং উহারাই পাবে মুক্তি। “ সুরা বাকারা,আয়াত-২-৫।

আর যারা কোরআনের অনুসারী তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে মহানবী নিশ্চয়তা দিয়েছেন।তারা যে শেষ বিচারের দিনে নিরাপদ এবং সহজ সরল বক্রতা মুক্ত পথে অবস্থিত সে কথা ও বলেছেন।

ইবন আব্বাস(রঃ) হতে বর্ণিত,হযরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে অসাল্লাম বলেছেন,যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব অনুসরন করে চলে,আল্লাহ্‌ তায়ালা তাকে গোমরাহী হতে বাঁচিয়ে সত্যপথে আনয়ন করেন এবং কিয়ামতের দিন তিনি তাকে হিসাব নিকাসের ভয়াবহতা থেকে মুক্ত রাখবেন।ইবন কাছির,১ম খণ্ড-পৃষ্ঠা-১৫৩।

হারিছুল আওয়ার(রঃ) হতে বর্ণিত,তিনি বলেন, একদিন মসজিদে গিয়ে দেখি লোকজন হাদিস নিয়ে তর্ক বিতর্ক করছে।তখন আমি আলী(রঃ) এর কাছে গিয়ে বললাম,হে আমিরুল মুমিনীন!আপনি কি দেখেন না যে,লোকেরা হাদিস নিয়ে তর্ক বিতর্ক করছে?তিনি প্রস্ন করলেন তারা কি সত্যিই তা করেছে?আমি বললাম- হ্যাঁ।তিনি বললেন,নিশ্চয় আমি হযরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে অসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে,শীঘ্রই ফিতনা দেখা দিবে।আমি প্রস্ন করলাম,হে আল্লাহর রাসুল!উহা হতে বাঁচার উপায় কি? তিনি বললেন, আল্লাহর কিতাব।এতে তোমাদের অতীত ও ভবিষ্যতের সব খবরাখবর বিদ্যমান।এটা তোমাদের চূড়ান্ত বিধান।এটা কোন তামাশার বস্তু নয়।যে দাম্ভিক এটা বর্জন করবে, আল্লাহ তাকে চূর্ণ করবেন। এটার বাইরে যে ব্যক্তি হিদায়েত খুঁজবে আল্লাহ্‌ তাকে বিভ্রান্ত করবেন।এটা আল্লাহর মজবুত রশি। এটা বিজ্ঞতম উপদেশগ্রন্থ। এটাই সিরাতুল মুস্তাকিম। এটা মানুষের খেয়াল খুশির নিয়ন্ত্রক। ভাষার বিভিন্নতাও এতে বিভিন্নতা সৃষ্টি করতে পারে না। আলিমগণের কোনোদিনই এটার চাহিদা মিটবে না। হাজার চ্যালেঞ্জ দিয়ে ও এটা সৃষ্টি করা যাবে না। আর এটার বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্যে ও কোনো ঘাটতি দেখা দিবে না। সেই বৈশিষ্টের দূর্বার আকর্ষন জিনকে পর্যন্ত আকৃষ্ট করেছে। ফলে তারা বলতে বাধ্য হল-নিশ্চয় আমরা আশ্চর্য এক কোরআন শ্রবণ করেছি।উহা সঠিক পথের নির্দেশ দেয়। তাই আমরা ঈমান এনেছি।(সুরা জিন)।

তাই যে উহার আলোকে কথা বলে; সত্য বলে। আর যে উহা আমল করে সে পূণ্যলাভ করে। উহার ভিত্তিতে যে রায় দেয় সে ইনসাফ করে। আর যে উহার দিকে ডাকে সে সিরাতুল মুস্তাকিমের দিকেই ডাকে। হে আওয়ার উহা মজবুত করে ধারণ করো। ইবন কাছির, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৩৪।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে অসাল্লাম কর্তৃক কোরআনের ধারকদের মর্যাদা বর্ণনার পরে মহান আল্লাহ্‌ কি বলেছেন পবিত্র কোরআনে? মহান আল্লাহ্‌ বলেন, যে কেহ বিধান অমান্য করবে ব্যর্থ হয়ে যাবে তার নেক ও পরকালে সে ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হবে। (সুরা মায়িদা, আয়াত-৫)।

অর্থাৎ যে কেউ কোরআনের বিধান অমান্য করবে তার নেক আমল নষ্ট হয়ে যাবে এবং শেষ বিচারে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হবে। এটা মহান আল্লাহর একক সিদ্ধান্ত ও তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।

এছাড়াও মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে অসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সন্তুষ্ট চিত্তে আল্লাহ্‌কে নিজের রব, ইসলামকে নিজের দ্বীন এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামকে রাসুল হিসেবে মেনে নিয়েছে সে ঈমানের স্বাদ গ্রহণ করেছে। আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিব (র.) হতে বর্ণিত মুসলিম শরীফ, প্রথম খণ্ড, হাদিস নম্বর-৫৯।

উপরোক্ত আলচনা থেকে এই কথা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত যে ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় কোরআনের আদেশ নিষেধ অবশ্যই মান্য। সেই সূত্রে পবিত্র কোরআনের বানী- হে আহলে কিতাব!নিঃসন্দেহে তোমাদের নিকট আমার রাসুল এসেছে। সে তোমাদের জন্য সুস্পষ্টভাবে সত্য প্রকাশ করছে, অন্যান্য রাসুলের আগমন ধারা বিচ্ছিন্ন থাকার পর যদি তোমরা বল যে, আমাদের নিকট কোনো সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী আসে নি; অনন্তর অবশ্যই তোমাদের নিকট সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী এসেছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। সুরা মায়িদা,আয়াত-১৯।

এখানে মহান আল্লাহ্‌ বলেছেন, অবশ্যই রাসুল সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী। তাঁর মর্যাদা ও গুরুত্ব বোঝাতে মহান আল্লাহ্‌ পবিত্র কোরআনে বলেছেন, আর যখন আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসুল কোনো বিষয়ে আদেশ প্রদান করেন, কোনো মুসলমান পুরুষ ও নারীর ওই কাজে কোনো অধিকার থাকে না। যে আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসুলের আদেশ পালন করবে না সে প্রকাশ্যভাবে পথভ্রষ্ট হবে। (সুরা আহজাব, আয়াত-৩৬)

অর্থাৎ আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসুল কোনো বিষয়ে মত দিলে কোনো মুসলমান নারী বা পুরুষের ওই কাজে কোনো মত থাকবে না। আর যদি কারো মত থাকে তবে সে অবশ্যই ভ্রান্ত। সেজন্যই ভ্রান্তদের দলে না থেকে দাড়ি রেখে মহানবীর আদর্শ অনুসরণ করা আবশ্যক। (অন্তত উপরের আলচনা থেকে আমি নিশ্চিত এই ব্যাপারে। আমার বিবেচনা যদি ভুল হয় তবে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই)। এখানে কি দাড়ি রাখা ফরজ বা ওয়াজিব বা সুন্নত এই ব্যাপারে আলোচনার কোনো অবকাশ রয়েছে?

আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মোচ ভালোরূপে কেটে ফেল ও দাড়ি ঝুলিয়ে রাখ। অগ্নিপূজকদের রীতি বর্জন করে চল। মুসলিম শরীফ।

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম মুসলমানদের দাড়ি বড় করতে ও মোচ যথাসম্ভব কেটে ফেলতে বলেছেন বলে আব্দুল্লাহ ইবন ওমরের (রা.) বর্ণনায় রয়েছে।-(বোখারী শরীফ, ষষ্ট খণ্ড, হাদিস নম্বর-২২৬৭)।

এই হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবী ইবন ওমর (রা.) যখন হজ বা ওমরা সমাপ্ত করতেন তখন চুল কাটার সঙ্গে দাড়ি মুষ্টিবদ্ধ করে মুষ্টির নিচে যা অতিরিক্ত থাকতো তা কেটে ফেলতেন।

আসুন, দাড়ি রাখবো কি রাখবো না এই ব্যাপারে আর সন্দেহে না থেকে দাড়ি রেখে অন্তত একটি হাদিসের শ্রবণকারী ও মান্যকারী হিসেবে এই পাপী ও ফিতনা সংকুল জীবনের অবসান ঘটাই। তাহলে হয়তো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর হাবীবের সুপারিশ আমাদের নসীব হবো। না হলে আমরা শেষ বিচারের দিন অস্বীকারকারী সাব্যস্ত হবো। একটু ভেবে দেখি আল্লাহর রাসুল হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলার পরও আমরা কোনো কাজ করলাম না তা কি ক্ষমার যোগ্য বা তা পালনে কি কোনো সন্দেহ থাকা উচিত?

কারণ আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অস্বীকারকারী ব্যতিত আমার উম্মতের সকলেই বেহেস্তে যেতে পারবে। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, অস্বীকারকারী কে? আল্লাহর হাবীব উত্তরে বললেন, যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য অবলম্বন করে চলবে সে বেহেস্তে যাবে আর যে ব্যক্তি আমার নাফরমানী করবে সে অস্বীকারকারী সাব্যস্ত হবে। (বোখারী শরীফ, ৭ম খণ্ড, হাদিস নম্বর-২৬৯০)। আমীন।

সূত্র: মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

– See more at: http://www.banglanews24.com/beta/fullnews/bn/279599.html#sthash.2wnlx0bf.dpuf

http://gamsetech.com/?p=17

চুল ও দাড়ি কালো রং ব্যবহার করা নিষিদ্ধ (মুসলিম)

beard

প্রশ্ন (৬/৩২৬) : মেহেদী পাতা ব্যতীত চুল-দাড়িতে লাল কলপ বা বগলী ব্যবহার করায় শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?

-নাজমুল হক, ভবানীগঞ্জ, বাগমারা, রাজশাহী।

উত্তর : চুল ও দাড়ি সাদা হয়ে গেলে মেহেদী বা অন্য কোন রং দিয়ে তা পরিবর্তন করা যাবে। তবে কালো রং ব্যবহার করা নিষিদ্ধ (মুসলিম, মিশকাত হা/৪৪২৪)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, শেষ যামানায় কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটবে, যারা কবুতরের বুকের পশমের ন্যায় কালো কলপ দিয়ে চুল-দাড়ি কালো করবে। এরা জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না’ (আবুদাঊদ হা/৪২১২; নাসাঈ, মিশকাত হা/৪৪৫২)। এজন্য উত্তম রং হ’ল মেহেদী (আবুদাঊদ হা/৪২০৫, মিশকাত হা/৪৪৫১)। উল্লেখ্য, স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করা এবং শত্রুর হৃদয়ে ভীতি সঞ্চার করার জন্য কালো খেযাব ব্যবহার করা সম্পর্কে বর্ণিত হাদীছটি ‘মুনকার’ বা ‘যঈফ’ (ইবনু মাজাহ হা/৩৬২৫; সিলসিলা যঈফাহ হা/২৯৭২)

– See more at: http://www.at-tahreek.com/june2015/question.html#sthash.z8Jh5W4p.dpuf