Category Archives: Q-Ans

আমরা কেন আরব আলেমদের অনুসরণ করব, বিশেষ করে সৌদি আলেমদের

a

আমরা কেন আরব আলেমদের অনুসরণ করব, বিশেষ করে সৌদি আলেমদের:

এ বিষয়ে বলতে গেলে আমাদের প্রথমে জানতে হবে আমাদের ভারত উপমহাদেশের ইসলাম আগমনের ইতিহাস। ইসলামের ইতিহাসে পাওয়া যায় রাসূল এর যুগে ইরান বা পারস্য (ইরাক হতে আমু দরিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত বর্তমান ইরান নিয়ে পারস্য) এর অধিবাসীরা অগ্নিপূজা করত তারা অগ্নির দেবতাকে ‘খোদা’ বলত এবং তাকে পূজা বা উপাসনা করাকে বলত ‘নামায’। সেই সঙ্গে ঐ দেবতার উদ্দেশ্যে না খেয়ে থাকাকে বলত ‘রোযা’। পরবর্তীতে খলীফা আবু বকর (রাঃ) এর সময় খালিদ বিন ওয়ালিদ এর নেতৃত্বে ১৩ হিজরী ৬৩৩ খ্রিষ্টাব্দে পারস্য বিজয় করেন। এবং ঐ সময় ঐ এলাকার অধিবাসীগণ দ্বীনের হক সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে না বুঝে ইসলামের মহত্ব আর মুসলমানদের আদর্শে মুগ্ধ হয়ে ইসলাম গ্রহন করতে থাকে। দ্বীনের হক সম্বন্ধে আক্বিদা পরিষ্কার না হওয়ায় তারা আল্লাহকে ‘খোদা’ সালাহকে সালাহ না বলে ‘নামায’ ও সওমকে ‘রোযা’ বলতে শুরু করে। কিন্তু তাদের অগ্নিপূজার আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে যে বিষয়গুলো ছিলনা যেমন, হজ্জ, যাকাত এরকম কিছুকে তারা পরিবর্তন করতে পারেনি।
এখন প্রশ্ন হল ভারত উপমহাদেশে এগুলো কোথা থেকে প্রচলন হয়েছে? ইসলামের ইতিহাসের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় এই উপমহাদেশের ইসলাম এসেছে সরাসরি মক্কা মদীনার মধ্যে দিয়ে নয় পারস্য সম্রাজ্যের ভিতর দিয়ে। এবং আসার সময় পারস্যের কৃষ্টি কালচার ও সংস্কৃতি নিয়ে এই উপমহাদেশে প্রবেশ করে, ফলে আমরাও ‘খোদা’ ‘নামায’ ‘রোযা’ শব্দগুলো শিখে ফেলেছি। এছাড়াও আরও অনেক কিছু শিখেছি যার কারণে মদীনার সঙ্গে অনেক কিছুতেই আমদের অমিল রয়ে গেছে। কুফা ও দামেস্কের জাল যঈফ আবর্জনা ও বানোয়াটি হাদীসের কারখানা থেকে অনেক হাদীস আমাদের ভারত উপ মহাদেশে প্রবেশ করেছে। অনেকটা এরকম যে,কোন এলাকায় বন্যা হলে তা যখন বিস্তার লাভ করে ঐ বন্যার পানি ধাওয়া করে তা শুধু পরিষ্কার পানি আসেনা ময়লা আর্বজনা সহ ভাল মন্দ সবই আসে। তাই সঠিক বেঠিক বিষয়গুলো জেনে আমাদের সংশোধন হওয়া উচিত। ( বিঃদ্রঃআর বিষয়ে সৌদী হক্কানি আলেমরা পরিষ্কার বলতে পারবে। তবে এর বাইরের অলেমরা ও বলতে পারবে যদি সে প্রকৃত আলেম হয়।) এর হুশিয়ারী রাসূল এর এক বর্ণনায় এসেছে পূর্বের দিকে ইরাক থেকে ফেৎনা শুরু হবে।(আহমাদ হা/৬৩০২ সহীহ সনদে) কুফা ইরাকের একটা শহর। (উল্লেখ্য ৭১৭ ও ৭২০ খ্রিষ্টাব্দে খলিফা দ্বিতীয় উমরের খিলাফতকালে তার প্রেরিত একদল ধর্ম প্রচারকের প্রভাবে ভারত উপমহাদেশের অনেক হিন্দু ইসলাম গ্রহন করে)।

নাবী (ছাঃ) বলেছেন,জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্নিত, তিনি বলেছেন যে, একদা আমরা নাবী (ছাঃ) এর নিকট ছিলাম,তিনি একটি সরল রেখা আকলেন এবং ডান দিকে দুটি এবং বাম দিকে দুটি রেখা আকলেন । অতঃপর তিনি তাঁর হাতকে মধ্য রেখায় রেখে বললেনঃ এটাই আল্লাহর পথ। অতঃপর এই আয়াত পাঠ করলেন ” এটাই আমার সোজা পথ, তোমরা এই পথেরই অনুসরন কর এবং অন্য পথ সমূহের অনুসরন করোনা। যদি কর তবে তা আল্লাহর সোজা পথ হতে তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করে দিবে ।”( আহমাদ, নাসাঈ, দারেমী ।)
আর আমরা যারা মাযহবের মানি তাদেরকে জানতে হবে। মাযহাব ‘ইসমে যরফ’এর সীগা। যার অর্থ যাওয়ার স্থান বা যাওয়ার সময় অর্থাৎ মুসলিমদের যাওয়ার তথা নাবী (ছাঃ) এর সময় যেভাবে ইসলাম ছিল সেভাবে অনুসরন করার দিকে যাওয়া এবং যাওয়ার স্থান তথা ইসলাম যেখানে প্রসার লাভ করেছিল অর্থাৎ মাক্কাহ ওমাদীনার আলেমদের থেকে প্রকৃত ইসলাম শিক্ষা করা ও তাদেরকে অনুসরণ করা, সেটাই মুসলিমদের যাওয়ারস্থান প্রকৃত ইসলাম শিক্ষা নেওয়ার স্থান অথবা বাইরে থেকে শিক্ষা গ্রহণের পর নিজ ইলমের মাক্কাহ ও মাদীনার বিজ্ঞ আলেমগণের স্বিকৃত প্রাপ্ত হওয়া। কেননা ইসলাম সমস্ত পৃথিবীতে পরিবর্তন হয়ে গেলেও মাক্কাহ ও মাদীনায় সঠিক অবস্থায় থাকবে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, «إِنَّ الإِيمَانَ لَيَأْرِزُ إِلَى الْمَدِينَةِ كَمَا تَأْرِزُ الْحَيَّةُ إِلَىجُحْرِهَا. “ঈমান মদীনার দিকে ফিরে আসবে, যেভাবে সাপ তার গর্তের দিকে ফিরে আসে’’। [সহীহ বুখারী – ১৮৭৬ ও মুসলিম – ৩৭২]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, «يَضْرِبُونَ أَكْبَادَ الإِبِلِ يَطْلُبُونَ الْعِلْمَ فَلاَ يَجِدُونَ عَالِمًا أَعْلَمَ مِنْعَالِمِ الْمَدِينَة ‘‘মানুষ হন্যে হয়ে ইলম অনুসন্ধান করবে, তবে মদীনার আলেমের চেয়ে অধিক বিজ্ঞ কোন আলেম তারা খুঁজে পাবে না।’’[ নাসায়ী: ৪২৭৭ ও হাকেম: ৩০৭ সহীহ]
عَن أبي هُرَيْرَة رِوَايَةً: «يُوشِكُ أَنْ يَضْرِبَ النَّاسُ أَكْبَادَ الْإِبِلِ يَطْلُبُونَ الْعِلْمَ فَلَا يَجِدُونَ أَحَدًا أَعْلَمَ مِنْ عَالم الْمَدِينَة»
হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। ইলমের সন্ধানে মানুষ হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াবে। তখন তারা মদীনার আলেমের তুলনায় বড় কোন আলেম তারা দেখতে পাবে না। {মিশকাতুল মাসাবীহ,হাদীস নং-২৪৬}
এই হাদীছের ব্যাখায় অনেকেই বলেছেন এটি সাহাবীগণ ও তাবেয়ীগণের জমানা। এরপর মদীনায় থাকা উলামায়ে কেরাম অধিকাংশ ইসলামী সম্রাজ্যের প্রতিটি শহরে শহরে ছড়িয়ে পড়েছেন।[তাই ইযাফতটি জিনসী]
কেউ কেউ বলেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল রাসূল সাঃ। [তাই ইযাফতটি আ’হদী] রাসূল (ছাঃ) ভবিষৎ বাণী দ্বারা রাসূল সাঃ কে উদ্দেশ্য!kemon alem!kemon bujlen mathy ase kee!!!
( এ বিষয়ে বলতে হয়ঃ উলামায়ে কেরাম অধিকাংশ ইসলামী সম্রাজ্যের প্রতিটি শহরে শহরে ছড়িয়ে পড়েছেন। কথাটা ১০০% ঠিক কিন্তু যখন আমাদের মাঝে ভুল বুঝিাবুঝি হবে তখন আমরা কোর‘আন–হাদসি এবং মদীনর আলেমদের শরনাপন্ন অবশ্যই হতে হবে।)
হযরত উম্মিহানী বিনতে আবী তালিব রা:)হতে বর্ণিত আছে যে,রাসূলুল্লাহ্(ছাঃ)বলেছেন:“ আল্লাহ তা’আলা কুরায়েশদেরকে সাতটি ফযীলত প্রদান করেছেন। ১.আমি তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।২. নবুওয়াত তাদের মধ্যে রয়েছে। ৩.তারা আল্লাহর ঘরের তত্ত্বাবধায়ক। ৪.তারা যমযম কূপের পানি পরিবেশনকারী। ৫.আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে হস্তী অধিপতিদের উপর বিজয় দান করেছেন। ৬.দশবছর পর্যন্ত তারা আল্লাহর ইবাদত করেছে যখন অন্য কেউ ইবাদত করতো না। ৭. তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা কুরআন করীমের একটি সূরা অবতীর্ণ করেছেন”[বায়হাকী]হাদিসটির সনদ দুর্বল হলেও, এটি সত্য যে আল্লাহ তা’আলা কুরায়েশদেরকে অন্য সকল জাতি থেকে বেশি সম্মানিত করেছেন। কাবা শরীফ হওয়ার কারনে এবং রাসূল (ছাঃ),কে সেখানে পাঠানোর কারনে। বলা হয়ে থাকে আরবেরা সব থেকে জাহেলিয়তে বসবাস করত, তাই সেখানে আল্লাহ রাসূল (ছাঃ)-কে পাঠিয়েছেন, সেখানে নবজাতক কন্যা সন্তানকে মেরে ফেলা হত। সেই দিক থেকে ভারতও কম জাহেলিয়েতে ছিল না। ভারতে এমন কি আমাদের দেশের হিন্দুরা মারাগেলে তার জীবিত স্ত্রীকেও পুড়িয়ে ফেলত, ইতিহাস তার সাক্ষী। তারাও আরবদের মত একাধিক দেব-দেবীর পূজা করত, এমন কি ভারতে এখনও তা হচ্ছে। আল্লাহ চাইলে সেখানে রাসূল (ছাঃ)-কে পাঠাতে পারতেন। কিন্তু আল্লাহ আরবদের কাছেই রাসূল (ছাঃ)কে পাঠালেন এবং আরব জাতিকে সম্মানিত করলেন
## নবুয়াতের পর আরবের অবস্থা কি রুপ হবে:
যখন হুদাইফা(রা:)জিজ্ঞাসা করল, ও আল্লাহর রাসূল (ছাঃ),আমরা জাহিলীয়াত এবং খারাপ অবস্থায় ছিলাম, এরপর আল্লাহ আমাদের ভালোর দিকে নিয়েএসেছে। এই ভালোর পর কি কোনো খারাপ আসবে? রাসূল (ছাঃ) বললেন: “হাঁ”,হুদায়ফা জিজ্ঞাসা করল,খারাপের পর কি কোনো ভাল অবস্থা আসবে? তিনি বললেন,“হাঁ,কিন্তু তাতে কিছু দাখান (স্বল্প খারাপ অবস্থা) বিদ্যমান থাকবে”,আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এর খারাপ অবস্থা কি হবে? তিনি বললেন, “কিছু সংখ্যক লোক থাকবে যারা (মানুষকে) পথ দেখাবে আমার নির্দেশিত পথ ব্যতীত অন্য কিছু দ্বারা এবং তাদের পরিচালন করবে আমার সুন্নত ব্যতীত অন্য কিছু দ্বারা। তুমি তাদের কাজ দেখবে এবং সমর্থন করবে না”হুদায়ফা বলল, “ঐ ভালর পর কি খারাপ হবে? তিনি বললেন, “হাঁ, কিছু মানুষ থাকবে যারা অন্যদের জাহান্নামের দিকে আহব্বান করবে, এবং যারা তাদের দাওয়াত গ্রহন করবে তাদের তাতে নিক্ষেপ করা হবে (তাদের দারাই),হুদাইফা বললেন,ও আল্লাহর রাসূল(ছাঃ)আমাদেরকে তাদের সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন,তারা আমাদের মধ্য থেকেই হবে এবং আমাদের ভাষা বলবে (আরবীয়রা), হুদায়ফা জিজ্ঞাসা করল, “সেই ক্ষেত্রে আপনি আমাদের কি করতে বলেন?” তিনি বললেন,মুসলিম দল এবং নেতাদের সাথে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করবে”, হুদাইফা জিজ্ঞাসা করল, কোনো (হক্ক) দল বা নেতা যদি না থাকে? তিনি বললেন, অন্য সব ভিন্ন দল থেকে দূরে থাকবে, যদিও তোমাদের গাছের শিকড় কামড়াতে হয়,যতখন পর্যন্ত তুমি ঐ অবস্থায় থাকো আর তোমার মৃত্যু হয় [বুখারী, মুসলিম]
পরিস্থিতি যখন খারাপ হবে তখন আল্লাহ মুজাদ্দেদীন পাঠিয়ে আবার তৌহীদ প্রতিষ্ঠা করবেন,যেভাবে নবুয়াতের পর সৌদি আরবে আবার শির্ক প্রবেশ করেছিল এবং আব্দুল ওহ্হাবকে দিয়ে আল্লহ্ সৌদি আরবকে শির্ক থেকে মুক্ত করেন। আর এখন পর্যন্ত আল্লাহর রহমতে সৌদি আরব শির্ক মুক্ত আছে। সেখানে কোন কবর পূজা হয় না, কোন পীর নেই যারা বিভিন্ন কেরামতি দেখিয়ে থাকেন ইত্যাদি।
আল্লাহ প্রত্যেক শতাব্দীতে এই উম্মত থেকে একজন মুজাদ্দিদ পাঠাবেন যিনি ধর্মকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করবে
[সুনানে আবুদাউদ]
ইমাম মাহদি হবে রাসূল (ছাঃ) এর বংশধর, আল্লাহ তাকে কিয়ামতের পূর্বে পাঠাবেন: ইবনে মাসউদ (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ছাঃ) বলেন: পৃথিবীর জীবন সায়াহ্নে যদি একটি মাত্র দিন অবশিষ্ট থাকে, তবে সেই দিনটিকে আল্লাহ দীর্ঘ করে আমার পরিবারস্থ একজন ব্যক্তিকে প্রেরন করে ছাড়বেন, তার নাম আমার নাম এবং তার পিতার নাম আমার পিতার নাম সদৃশ হবে ৃ[তিরমিযী, আবুদাউদ]
আবু সাঈদ (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ছাঃ) বলেন, মাহদী আমার বংশধর। উজ্জ্বল ললাট ও নত নাসিকা বিশিষ্ট। ন্যায় নিষ্ঠায় পৃথিবী ভরে দেবে, ঠিক যেমন ইতিপূর্বে অত্যাচার-অবিচার ভরে গিয়েছিল। সাত বৎসর রাজত্ব করবে” ৃ[আবুদাউদ]
আল্লাহ এভাবেই আরবদের মধ্যে দ্বীন প্রতিষ্ঠিত রাখবেন, আর আমাদের কাজ হচ্ছে তাদের পথ অনুস্মরণ করা, যেহেতু তারা হক্ক পথে আছে এবং কিয়ামতের আগ পর্যন্ত থাকবে ইনশাআল্লাহ।
মক্কা এবং মদিনা যেহেতু সৌদিদের হাতে তাই এটা হতে পারে না যে আল্লাহ তাদের থেকে দ্বীনের এলেম উঠিয়ে নিবেন। অন্য সকল স্থান থেকে দ্বীনের এলেম উঠে গেলেও সৌদি আরবে আল্লাহ দ্বীন প্রতিষ্ঠিত রাখবেন। পৃথিবীর সব থেকে বড় ফিতনা যা হচ্ছে দাজ্জালের ফিতনা তা কখনোই মক্কা এবং মদিনাতে প্রবেশ করতে পারবে না।
আনাস(রা:)থেকে বর্ণিত: নবী করীম (ছাঃ)বলেন,মক্কা-মদিনা ব্যতীত পৃথিবীর এমন কোন শহর নেই, যেখানে দাজ্জাল গিয়েপৌছবে না ৃ[বুখারী, মুসলিম]

আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ছাঃ) বলেন: এমন এক সময় আসবে, যখন মদিনার লোক নিকটাত্মীয়কে ডেকে বলতে থাকবে চল! উন্নত শহরে চলে যাই! আধুনিক নগরীতে গিয়ে বসবাস করি! অথচ মদিনাই তাদের জন্য সর্বোত্তম স্থান ছিল। আল্লাহর শপথ করে বলছি মদিনা বিরাগী হয়ে যখনই এখান থেকে কেউ চলে যাবে, আল্লাহ তার চেয়ে উত্তম মানুষ দিয়ে মদিনা আবাদ করে দেবেন। মদিনা একটি পবিত্র ভুমি, কপট বিশ্বাসীদের এখানে কোন স্থান নেই। কেয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষন না মদিনা সকল অনিষ্টকে বের করে দেবে, ঠিক যেমন কামারের হাপর লোহার আবর্জনাকে বের করে দেয় [মুসলিম]
তথা কথিত আলেম ও কিছু সংখ্যক লোক না জেনে সৌদি আলেম ও সৌদীদের সম্পর্কে নানান উক্তি করে থাকে, যা মোটেই ঠিক নয়। তারা বলে থাকে সৌদি আরবের মানুষেরা খারাপ। হাঁ,অবশ্যই কিছু সংখ্যক লোক খারাপ,কিন্তু তার থেকেও কি অধিক সংখ্যক লোক ভাল নয়। যদি পরিসংখ্যান নেয়া হয় তবে দেখা যাবে ভাল মানুষের অনুপাত বিশ্বের অন্যান্য দেশ অপেক্ষা সৌদি আরবে অনেক বেশি। আরবে এখনও হক্কানী আলেমগণের সহযোগীতায় কোরআন-হাদসি অনুসারণের মাধ্যমে শরীয়া আইন দ্বারা আইন ব্যবস্থা পরিচালিত হয়।
তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব। যারা আমরা এবাদতে অহংকার করে তারা সত্বরই জাহান্নামে প্রবেশ করবে অপমানিত অবস্থায় ৃ[সূরা গাফের,আয়াত-৬০]
এসকল ভ্রান্ত দল থেকে আমাদের আলেমেরা সাবধান করেছে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে প্রত্যেক ভ্রান্ত দলেও বড় মাপের আলেম থাকে যারা মানুষকে জাহান্নামের পথে ধরে রাখে। নিজ দলের কাছে তারা বড় আলেম কিন্তু আরব আলেমদের কাছে তারা বড় আলেম নন, বরং তারা পথভ্রষ্ট।
তাই বলা যাবে না যে উনি আমাদের বড় আলেম এবং আসুন আমরা তাকে অন্ধ ভাবে মানি।আর আমরা যদি অন্ধ ভাবে কাউকে অনুস্মরণ করি তবে আমরা পথভ্রষ্ট হব এতে কোনো সন্দেহ নেই। কারন সাধারন মানুষ বুঝতে পারবে না কোন আলেমের আকিদা সঠিক এবং কোন আলেমের আকিদা ভুল।
মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ্ ক্বাহতানী। সৌদি আরবের রিয়াদে আত্মপ্রকাশ করে। স্বপ্নযোগে মাহদীত্ব (ইমাম মাহাদী) পেয়েছে বলে দাবী করলে একদল লোক তার হাতে বায়াআত গ্রহন করে। ১৯৮০ ইং সনে মক্কার মসজিদে হারামে তাকে অবরোধ করা হয় । হত্যার মধ্যদিয়ে অবরধের সমাপ্তি ঘটে। ঘটনাটি ফেতনায়ে হারাম নামে প্রসিদ্ধ।
আমাদের দেশের অনেকেই বিশ্বাস করে স্বপ্নের মাধ্যমে কোন কিছু হাছিল করলে নিশ্চয়ই তা ভাল।কিন্তু তারা এটা ভাবে না যে তা ভাল নাও হতে পারে। যা আমরা উপরের ঘটনা থেকে বুঝতে পারি। একজন দাবি করল সে স্বপ্নযোগে মাহদীত্ব পেয়েছে কিন্তু তা হচ্ছে সম্পূর্ণ একটি মিথ্যা বা শয়তানের ধোঁকা ছাড়া অন্য কিছু নয়। ঘটনাটি ফেতনায়ে হারাম নামে প্রসিদ্ধ।
আমাদের দেশের অনেকেই বিশ্বাস করে স্বপ্নের মাধ্যমে কোন কিছু হাছিল করলে নিশ্চয়ই তা ভাল।কিন্তু তারা এটা ভাবে না যে তা ভাল নাও হতে পারে। যা আমরা উপরের ঘটনা থেকে বুঝতে পারি। একজন দাবি করল সে স্বপ্নযোগে মাহদীত্ব পেয়েছে কিন্তু তা হচ্ছে সম্পূর্ণ একটি মিথ্যা বা শয়তানের ধোঁকা ছাড়া অন্য কিছু নয়।

main sourse- https://www.facebook.com/groups/islamicask/permalink/1283230778396404/

প্রশ্ন-উত্তরে: তাওহীদ ,ঈমান,ইস্ লাম,মালাইকা

q

*** প্রশ্ন-উত্তরে —- তাওহীদ ,ঈমান,ইস্ লাম,মালাইকা

৭. প্রশ্নঃ তাওহীদ কাকে বলে?
উত্তরঃ তাওহীদ অর্থ একত্ববাদ। পরিভাষায়ঃ ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক নির্দিষ্ট করার নাম তাওহীদ।
৮. প্রশ্নঃ তাওহীদ কত প্রকার?
উত্তরঃ তাওহীদ ৩ প্রকার।
৯. প্রশ্নঃ তিন প্রকার তাওহীদ কি কি?
উত্তরঃ (১) তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ্‌ বা কর্ম ও পরিচালনার একত্ববাদ (২) তাওহীদে উলূহিয়্যাহ্‌ বা দাসত্বের একত্ববাদ (৩) তাওহীদে আসমা ওয়া ছিফাত বা নাম ও গুণাবলীর একত্ববাদ।
১০. প্রশ্নঃ তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ্‌ কাকে বলে?
উত্তরঃ আল্লাহ্‌ তাঁর কর্ম সমূহে একক- তাঁর কোন শরীক নেই, একথা মেনে নেয়ার নাম তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ্‌
১১. প্রশ্নঃ তাওহীদে উলূহিয়্যাহ্‌ কাকে বলে?
উত্তরঃ বান্দার ইবাদত-বন্দেগী ও দাসত্ব এককভাবে আল্লাহর জন্যে নির্দিষ্ট করার নাম তাওহীদে উলূহিয়্যাহ্‌।
১২. প্রশ্নঃ তাওহীদে আসমা ওয়াস্‌ সিফাত কাকে বলে?
উত্তরঃ কুরআন ও হাদীছে আল্লাহর অনেক সুন্দর সুন্দর নাম ও গুণাবলী উল্লেখ রয়েছে, যা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও পরিপূর্ণতার প্রমাণ বহন করে, সেগুলোকে কোন প্রকার ধরণ-গঠন নির্ধারণ না করে বা অস্বীকার না করে সেভাবেই মেনে নেয়ার নাম তাওহীদে আসমা ওয়াস্‌ সিফাত।
১৩. প্রশ্নঃ তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ্‌র উদাহরণ কি?
১৪. প্রশ্নঃ তাওহীদে উলূহিয়্যাহ্‌র উদাহরণ কি?
উত্তরঃ ঈমান, ভয়-ভীতি, আশা-আকাঙ্খা, ভালবাসা, দু’আ-প্রার্থনা, সাহায্য কামনা, উদ্ধার কামনা, রুকূ-সিজদা ইত্যাদি।
১৫. প্রশ্নঃ তাওহীদে আসমা ওয়া ছিফাতের উদাহরণ কি?
উত্তরঃ الرحمن আর্‌ রাহমান, السميع আস্‌ সামী’ (শ্রবণকারী) البصير আল বাছীর (মহাদ্রষ্টা), العلو আল ঊলু (সুউচ্চ) ইত্যাদি।
১৬. প্রশ্নঃ আল্লাহর ৯৯টি নাম মুখস- করার ফযীলত কি?
উত্তরঃ মুখস- করে আমল করলে বিনিময় জান্নাত।
১৭. প্রশ্নঃ ‘মুমিনের কলব আল্লাহর আরশ’ এটা কার কথা?
উত্তরঃ এটা মানুষের বানানো কথা। আল্লাহ বা রাসূলের কথা নয়। (জাল হাদীছ)
১৮. প্রশ্নঃ আল্লাহ কি নিরাকার?
উত্তরঃ না। কেননা তাঁর অসি-ত্ব ও সত্তা আছে। যার সত্তা ও অসি-ত্ব থাকে তাকে নিরাকার বলা যায় না।
১৯. প্রশ্নঃ “আল্লাহ সর্বস’ানে বিরাজমান নন, তিনি সপ্তকাশের উপর আরশে থাকেন।” একটি যুক্তি দিয়ে কথাটি বুঝিয়ে দাও।
উত্তরঃ “আল্লাহ্‌ কোথায় আছেন?” এ প্রশ্নটি ছোট্ট একটি শিশুকে জিজ্ঞেস করলে, তার নিষ্পাপ মুখ থেকে জবাব আসবে ‘তিনি উপরে বা আকাশে আছেন’- সে কখনোই বলবে না ‘আল্লাহ্‌ সবজায়গায় আছেন’।
২০. প্রশ্নঃ আল্লাহ যদি নিরাকার না হন, তবে তাঁকে কি দেখা সম্ভব?
উত্তরঃ হ্যাঁ, তাঁকে দেখা সম্ভব। তবে এ দুনিয়ায় চর্ম চোখে সম্ভব নয়। আখেরাতে জান্নাতীগণ আল্লাহকে দেখবেন। (সূরা ক্বিয়ামাহ্‌ঃ ২২-২৩, বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)
২১. প্রশ্নঃ ঈমান কাকে বলে?
উত্তরঃ ঈমান মানে বিশ্বাস। পরিভাষায়ঃ অন-রে বিশ্বাস, মুখে স্বীকার ও কর্মে বাস-বায়নকে ঈমান বলে।
২২. প্রশ্নঃ ঈমান কি কমে ও বাড়ে?
উত্তরঃ হ্যাঁ, ঈমান কমে ও বাড়ে।
২৩. প্রশ্নঃ কিভাবে ঈমান কমে বাড়ে?
উত্তরঃ সৎকাজের মাধ্যমে ঈমান বাড়ে, আর অসৎ কাজ করলে ঈমান কমে।
২৪. প্রশ্নঃ ঈমানের শাখা কতটি?
উত্তরঃ সত্তরের অধিক।
২৫. প্রশ্নঃ ঈমানের সর্বোচ্চ স-র কি?
উত্তরঃ কালেমা ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ পাঠ করা।
২৬. প্রশ্নঃ ঈমানের সর্বনিম্ন শাখা কি?
উত্তরঃ রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা।
২৭. প্রশ্নঃ ঈমানের স্তম্ভ কয়টি? কি কি?
উত্তরঃ ঈমানের স্তম্ভ ৬টি। সেগুলো হচ্ছেঃ (১) আল্লাহ (২) ফেরেশতাকুল (৩) আসমানী কিতাব (৪) নবী-রাসূল (৫) শেষ দিবস ও (৬) তক্বদীরের ভাল-মন্দের প্রতি ঈমান
২৮. প্রশ্নঃ ইসলাম কাকে বলে?
উত্তরঃ ইসলাম অর্থ, আত্মসমর্পন। পরিভাষায়ঃ তাওহীদ ও আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পন করা এবং শির্ক ও মুশরিকদের সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করা।
২৯. প্রশ্নঃ ইসলামের স-ম্ভ কয়টি ও কি কি?
উত্তরঃ ইসলামের স-ম্ভ ৫টি। সেগুলো হচ্ছেঃ (১) কালেমায়ে শাহাদাত উচ্চারণ করা, (২) নামায প্রতিষ্ঠা করা, (৩) যাকাত প্রদান করা (৪) রামাযান মাসে রোযা রাখা (৫) সামর্থ থাকলে আল্লাহর ঘরের হজ্জ আদায় করা।
৩০. প্রশ্নঃ আল্লাহর ফেরেশতাগণ কিসের তৈরী?
উত্তরঃ তাঁরা নূরের তৈরী?
৩১. প্রশ্নঃ ফেরেশতাদের সংখ্যা কত?
উত্তরঃ তাঁদের সংখ্যা কত তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।
৩২. প্রশ্নঃ প্রধান চার ফেরেশতার নাম কি?
উত্তরঃ জিবরাঈল, ইসরাফীল, মীকাঈল ও মালাকুল মওত (আঃ)।
৩৩. প্রশ্নঃ ওহী নাযিল করার দায়িত্ব কোন ফেরেশতার ছিল?
উত্তরঃ জিবরাঈল (আঃ) এর।
৩৪. প্রশ্নঃ কোন ফেরেশতাকে সকল ফেরেশতার সরদার বলা হয়?
উত্তরঃ জিবরাঈল (আঃ) কে।
৩৫. প্রশ্নঃ ইসরাফীল (আঃ) এর দায়িত্ব কি?
উত্তরঃ আল্লাহর নির্দেশ ক্রমে শিংগায় ফুৎকার দেয়া।
৩৬. প্রশ্নঃ মীকাঈল ফেরেশতার কাজ কি?
উত্তরঃ তিনি বৃষ্টি বর্ষণ, উদ্ভিদ উৎপাদন প্রভৃতি কাজে নিয়োজিত।
৩৭. প্রশ্নঃ প্রাণীকুলের জান কবজের কাজে নিয়োজিত ফেরেশতার নাম কি?
উত্তরঃ মালাকুল মওত। (আজরাঈল নাম বিশুদ্ধ নয়)
৩৮. প্রশ্নঃ কোন ফেরেশতা কি মানুষের কল্যাণ-অকল্যাণ করতে পারে?
উত্তরঃ না, আল্লাহ্‌ ছাড়া কেউ কারো কোন কল্যাণ-অকল্যাণের মালিক নয়- ফেরেশতা, জিন, মানুষ- নবী, ওলী কেউ না।