Category Archives: Jummah Prayer

জুম‘আর ছালাত : সূচনা

জুম‘আর ছালাত (صلاة الجمعة)

সূচনা : ১ম হিজরীতে জুম‘আ ফরয হয় এবং হিজরতকালে ক্বোবা ও মদ্বীনার মধ্যবর্তী বনু সালেম বিন ‘আওফ গোত্রের ‘রানূনা’ (رانوناء) উপত্যকায় সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) জুম‘আর ছালাত আদায় করেন।[1] যাতে একশত মুছল্লী শরীক ছিলেন।[2] তবে হিজরতের পূর্বে মদ্বীনার আনছারগণ আপোষে পরামর্শক্রমে ইহুদী ও নাছারাদের সাপ্তাহিক ইবাদতের দিনের বিপরীতে নিজেদের জন্য একটি ইবাদতের দিন ধার্য করেন ও সেমতে আস‘আদ বিন যুরারাহ (রাঃ)-এর নেতৃত্বে মদ্বীনার বনু বায়াযাহ গোত্রের নাক্বী‘উল খাযেমাত (نَقِيعُ الْخَضِمَاتِ) নামক স্থানের ‘নাবীত’ (هَزْمُ النَّبِيْتِ) সমতল ভূমিতে সর্বপ্রথম জুম‘আর ছালাত চালু হয়। যেখানে চল্লিশ জন মুছল্লী যোগদান করেন।[3] অতঃপর হিজরতের পর জুম‘আ ফরয করা হয়।

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, জুম‘আর এই দিনটি প্রথমে ইয়াহূদ-নাছারাদের উপরে ফরয করা হয়েছিল। কিন্তু তারা এ বিষয়ে মতভেদ করে। তখন আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে এই দিনের প্রতি (অহীর মাধ্যমে) হেদায়াত দান করেন। এক্ষণে সকল মানুষ আমাদের পশ্চাদানুসারী। ইহুদীরা পরের দিন (শনিবার) এবং নাছারারা তার পরের দিন (রবিবার)…। [4] যেহেতু আল্লাহ শনিবারে কিছু সৃষ্টি করেননি এবং আরশে স্বীয় আসনে সমুন্নত হন, সেহেতু ইহুদীরা এদিনকে তাদের সাপ্তাহিক ইবাদতের দিন হিসাবে বেছে নেয়। যেহেতু আল্লাহ রবিবারে সৃষ্টির সূচনা করেন, সেহেতু নাছারাগণ এ দিনটিকে পসন্দ করে। এভাবে তারা আল্লাহর নির্দেশের উপর নিজেদের যুক্তিকে অগ্রাধিকার দেয়। পক্ষান্তরে জুম‘আর দিনে সকল সৃষ্টিকর্ম সম্পন্ন হয় এবং সর্বশেষ সৃষ্টি হিসাবে আদমকে পয়দা করা হয়। তাই এ দিনটি হ’ল সকল দিনের সেরা। এই দিনটি মুসলিম উম্মাহর সাপ্তাহিক ইবাদতের দিন হিসাবে নির্ধারিত হওয়ায় বিগত সকল উম্মতের উপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়। [5] কা‘ব বিন মালেক (রাঃ) অন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আযানের আওয়ায শুনে বিগলিত হৃদয়ে বলতেন, ‘আল্লাহ রহম করুন আস‘আদ বিন যুরারাহর উপর, সেই-ই প্রথম আমাদের নিয়ে জুম‘আর ছালাত কায়েম করে রাসূল (ছাঃ)-এর মক্কা থেকে আগমনের পূর্বে। [6]

শহরে হৌক বা গ্রামে হৌক জুম‘আর ছালাত প্রত্যেক বয়স্ক পুরুষ ও জ্ঞানসম্পন্ন মুসলমানের উপরে জামা‘আত সহ আদায় করা ‘ফরযে আয়েন’।[7] তবে গোলাম, রোগী, মুসাফির, শিশু ও মহিলাদের উপরে জুম‘আ ফরয নয়। [8] বাহরায়েন বাসীর প্রতি এক লিখিত ফরমানে খলীফা ওমর (রাঃ) বলেন, جَمِّعُوْا حَيْثُمَا كُنْتُمْ ‘তোমরা যেখানেই থাক, জুম‘আ আদায় কর’।[9] অতএব দু’জন মুসলমান কোন স্থানে থাকলেও তারা একত্রে জুম‘আ আদায় করবে।[10] একজনে খুৎবা দিবে। যদি খুৎবা দিতে অপারগ হয়, তাহ’লে দু’জনে একত্রে জুম‘আর দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করবে। [11] কারাবন্দী অবস্থায় অনুমতি পেলে করবে, নইলে করবে না। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তোমাদের সাধ্যমত আল্লাহকে ভয় কর’ (তাগাবুন ৬৪/১৬)।

গুরুত্ব (أهمية الجمعة) :

(১) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘হে মুসলমানগণ! জুম‘আর দিনকে আল্লাহ তোমাদের জন্য (সাপ্তাহিক) ঈদের দিন হিসাবে নির্ধারণ করেছেন (جَعَلَهُ اللهُ عِيْدًا)। তোমরা এদিন মিসওয়াক কর, গোসল কর ও সুগন্ধি লাগাও’।[12] (২) অতএব জুম‘আর দিন সুন্দরভাবে গোসল করে সাধ্যমত উত্তম পোষাক ও সুগন্ধি লাগিয়ে আগেভাগে মসজিদে যাবে।[13] (৩) মসজিদে প্রবেশ করে সামনের কাতারের দিকে এগিয়ে যাবে[14] এবং বসার পূর্বে প্রথমে দু’রাক‘আত ‘তাহিইয়াতুল মাসজিদ’ আদায় করবে। [15] দুনিয়ার সকল গৃহের ঊর্ধ্বে আল্লাহর গৃহের সম্মান। তাই এ গৃহে প্রবেশ করে বসার পূর্বেই আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের সিজদা করতে হয়। আল্লাহ সবচাইতে খুশী হন বান্দা যখন সিজদা করে। কিন্তু যারা সিজদা না করেই বসে পড়ে, তারা আল্লাহ ও আল্লাহর গৃহের প্রতি অসম্মান করে এবং রাসূল (ছাঃ)-এর অবাধ্যতা করে। (৪) অতঃপর খত্বীব মিম্বরে বসার আগ পর্যন্ত যত রাক‘আত খুশী নফল ছালাতে মগ্ন থাকবে। [16] (৫) এরপর চুপচাপ মনোযোগ সহকারে খুৎবা শুনবে।[17] (৬) খুৎবা চলা অবস্থায় মসজিদে প্রবেশ করলে কেবল দু’রাক‘আত ‘তাহিইয়াতুল মাসজিদ’ সংক্ষেপে আদায় করে বসে পড়বে।[18] (৭) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) জুম‘আ থেকে অলসতাকারীদের ঘর জ্বালিয়ে দিতে চেয়েছিলেন।[19] (৮) তিনি বলেন, জুম‘আ পরিত্যাগকারীদের হৃদয়ে আল্লাহ মোহর মেরে দেন। অতঃপর তারা গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়’।[20] (৯) তিনি আরও বলেন, যে ব্যক্তি অবহেলা ভরে পরপর তিন জুম‘আ পরিত্যাগ করল, সে ব্যক্তি ইসলামকে পশ্চাতে নিক্ষেপ করল’।[21] (১০) অন্য বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি বিনা ওযরে তিন জুম‘আ পরিত্যাগ করল, সে ব্যক্তি ‘মুনাফিক’।[22]

ফযীলত (فضل يوم الجمعة) :

(১) জুম‘আর দিন হ’ল ‘দিন সমূহের সেরা’ (سيد الأيام)। এদিন আল্লাহর নিকটে ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের দিনের চাইতেও মহিমান্বিত। এইদিন নিকটবর্তী ফেরেশতাগণ, আকাশ, পৃথিবী, বায়ু, পাহাড়, সমুদ্র সবই ক্বিয়ামত হবার ভয়ে ভীত থাকে’।[23]

(২) জুম‘আর রাতে বা দিনে কোন মুসলিম মারা গেলে আল্লাহ তাকে কবরের ফিৎনা হ’তে বাঁচিয়ে দেন’।[24]

(৩) এইদিন আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করা হয়। এইদিন তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয় ও এইদিন তাঁকে জান্নাত থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এদিনে তাঁর তওবা কবুল হয় এবং এদিনেই তাঁর মৃত্যু হয়। এইদিন শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে ও ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে।

(৪) এদিন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর উপরে বেশী বেশী দরূদ পাঠ করতে হয়।[25]

(৫) এই দিন ইমামের মিম্বরে বসা হ’তে জামা‘আতে ছালাত শেষে সালাম ফিরানো পর্যন্ত সময়ের মধ্যে[26] এমন একটি সংক্ষিপ্ত সময় (سَاعَةٌ خَفِيْفَةٌ) রয়েছে, যখন বান্দার যেকোন সঙ্গত প্রার্থনা আল্লাহ কবুল করেন।[27] দো‘আ কবুলের এই সময়টির মর্যাদা লায়লাতুল ক্বদরের ন্যায় বলে হাফেয ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, জুম‘আর সমস্ত দিনটিই ইবাদতের দিন। অন্য হাদীছের [28] বক্তব্য অনুযায়ী ঐদিন আছর ছালাতের পর হ’তে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দো‘আ কবুলের সময়কাল প্রলম্বিত। অতএব জুম‘আর সারাটা দিন দো‘আ-দরূদ, তাসবীহ-তেলাওয়াত ও ইবাদতে কাটিয়ে দেওয়া উচিৎ।[29] এই সময় খত্বীব স্বীয় খুৎবায় এবং ইমাম ও মুক্তাদীগণ স্ব স্ব সিজদায় ও শেষ বৈঠকে তাশাহ্হুদ ও দরূদের পরে সালামের পূর্বে আল্লাহর নিকটে প্রাণ খুলে দো‘আ করবেন। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এই সময়ে বেশী বেশী দো‘আ করতেন।[30]

(৬) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুম‘আর দিন গোসল করে সুগন্ধি মেখে মসজিদে এল ও সাধ্যমত নফল ছালাত আদায় করল। অতঃপর চুপচাপ ইমামের খুৎবা শ্রবণ করল ও জামা‘আতে ছালাত আদায় করল, তার পরবর্তী জুম‘আ পর্যন্ত এবং আরও তিনদিনের গোনাহ মাফ করা হয়’।[31]

(৭) তিনি আরও বলেন, ‘জুম‘আর দিন ফেরেশতাগণ মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকেন ও মুছল্লীদের নেকী লিখতে থাকেন। এদিন সকাল সকাল যারা আসে, তারা উট কুরবানীর সমান নেকী পায়। তার পরবর্তীগণ গরু কুরবানীর, তার পরবর্তীগণ ছাগল কুরবানীর, তার পরবর্তীগণ মুরগী কুরবানীর ও তার পরবর্তীগণ ডিম কুরবানীর সমান নেকী পায়। অতঃপর খত্বীব দাঁড়িয়ে গেলে ফেরেশতাগণ দফতর গুটিয়ে ফেলেন ও খুৎবা শুনতে থাকেন’।[32]

(৮) তিনি আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুম‘আর দিন ভালভাবে গোসল করে। অতঃপর সকাল সকাল মসজিদে যায় পায়ে হেঁটে, গাড়ীতে নয় এবং আগে ভাগে নফল ছালাত শেষে ইমামের কাছাকাছি বসে ও মনোযোগ দিয়ে খুৎবার শুরু থেকে শুনে এবং অনর্থক কিছু করে না, তার প্রতি পদক্ষেপে এক বছরের ছিয়াম ও ক্বিয়ামের অর্থাৎ দিনের ছিয়াম ও রাতের বেলায় নফল ছালাতের সমান নেকী হয়’।[33]

জুম‘আর আযান (أذان الجمعة) :

খত্বীব ছাহেব মিম্বরে বসার পরে মুওয়ায্যিন জুম‘আর আযান দিবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ), আবুবকর ও ওমর (রাঃ)-এর যুগে এবং ওছমান (রাঃ)-এর খেলাফতের প্রথমার্ধ্বে এই নিয়ম চালু ছিল। অতঃপর মুসলমানের সংখ্যা ও নগরীর ব্যস্ততা বেড়ে গেলে হযরত ওছমান (রাঃ) জুম‘আর পূর্বে মসজিদে নববী থেকে দূরে ‘যাওরা’ (زوراء) বাজারে একটি বাড়ীর ছাদে দাঁড়িয়ে লোকদের আগাম হুঁশিয়ার করার জন্য পৃথক একটি আযানের নির্দেশ দেন।[34] খলীফার এই হুকুম ছিল স্থানিক প্রয়োজনের কারণে একটি সাময়িক নির্দেশ মাত্র। সেকারণ মক্কা, কূফা ও বছরা সহ ইসলামী খেলাফতের বহু গুরুত্বপূর্ণ শহরে এ আযান তখন চালু হয়নি। হযরত ওছমান (রাঃ) এটাকে সর্বত্র চালু করার প্রয়োজন মনে করেননি বা উম্মতকে বাধ্য করেননি। তাই সর্বদা সর্বত্র এই নিয়ম চালু করার পিছনে কোন যুক্তি নেই। তাছাড়া রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর আচরিত সুন্নাতের অনুসরণই সকল মুমিনের কর্তব্য।

ডাক আযান :

ওমর ইবনু আলী আল-ফাকেহানী (৬৫৪-৭৩৪/১২৫৬-১৩৩৪ খৃঃ) বলেন যে, ডাক আযান প্রথম বছরায় চালু করেন যিয়াদ এবং মক্কায় চালু করেন হাজ্জাজ। আর আমার কাছে এখন খবর পৌঁছেছে যে, নিকট মাগরিবে অর্থাৎ আফ্রিকার তিউনিস ও আলজেরিয়ার পূর্বাঞ্চলের লোকদের নিকট অদ্যাবধি কোন আযান নেই মূল এক আযান ব্যতীত’।[35] হযরত আলী (রাঃ)-এর (৩৫-৪০ হিঃ) রাজধানী কূফাতেও এই আযান চালু ছিল না। [36] ইবনু হাজার আসক্বালানী বলেন, উমাইয়া খলীফা হেশাম বিন আব্দুল মালেক (১০৫-২৫/৭২৪-৭৪৩ খৃঃ) সর্বপ্রথম ওছমানী আযানকে ‘যাওরা’ বাজার থেকে এনে মদ্বীনার মসজিদে চালু করেন।[37] ইবনুল হাজ্জ মালেকী বলেন, অতঃপর হেশাম খুৎবাকালীন মূল আযানকে মসজিদের মিনার থেকে নামিয়ে ইমামের সম্মুখে নিয়ে আসলেন’।[38] ফলে বর্তমানে খুৎবার প্রায় আধা ঘণ্টা পূর্বে ‘ডাক আযান’ হচ্ছে মিনারে বা মাইকে। অতঃপর খুৎবার মূল আযান বা কথিত ‘ছানী আযান’ হচ্ছে মিম্বরের সম্মুখে বা মসজিদের দরজার বাইরে।[39]

এইভাবে হাজ্জাজী ও হেশামী আযান সর্বত্র চালু হয়েছে। অথচ জুম‘আর সুন্নাতী আযান ছিল একটি। ইবনু আব্দিল বার্র বলেন, খত্বীব মিম্বরে বসার পরে সম্মুখ দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে যে আযান দেওয়া হয় (এবং যা ইসলামের স্বর্ণযুগে চালু ছিল), এটাই সঠিক। এর বাইরে মিম্বরের নিকটে খত্বীবের সম্মুখে দাঁড়িয়ে আযান দেওয়া বিষয়ে একটি বর্ণও প্রমাণিত নয়’।[40] অতএব আমাদের উচিৎ হবে সেই হারানো সুন্নাত যেন্দা করা। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন إِنَّ مِنْ وَرَائِكُمْ زَمَانَ صَبْرٍ لِلْمُتَمَسِّكِ فِيْهِ أَجْرُ خَمْسِيْنَ شَهِيْدًا مِّنْكُمْ- ‘তোমাদের পরে এমন একটা কষ্টকর সময় আসছে, যখন সুন্নাতকে দৃঢ়ভাবে ধারণকারী ব্যক্তি তোমাদের মধ্যকার পঞ্চাশ জন শহীদের সমান নেকী পাবে’।[41] তাছাড়া বর্তমানে মাইক, ঘড়ি, মোবাইল ইত্যাদির যুগে ওছমানী আযানের প্রয়োজনীয়তা আছে কি-না, সেটাও ভেবে দেখার বিষয়।

খুৎবা (خطبة الجمعة) :

জুম‘আর জন্য দু’টি খুৎবা দেওয়া সুন্নাত, যার মাঝখানে বসতে হয়।[42] ইমাম মিম্বরে বসার সময় মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে সালাম দিবেন।[43] আবুবকর ও ওমর (রাঃ) এটি নিয়মিত করতেন। আবু হানীফা ও মালেক (রহঃ) প্রমুখ মসজিদে প্রবেশকালে সালাম করাকেই যথেষ্ট বলেছেন।[44] খত্বীব হাতে লাঠি নিবেন। [45] নিতান্ত কষ্টদায়ক না হ’লে সর্বদা দাঁড়িয়ে খুৎবা দিবেন। ১ম খুৎবায় হাম্দ, দরূদ ও ক্বিরাআত ছাড়াও সকলকে নছীহত করবেন, অতঃপর বসবেন। দ্বিতীয় খুৎবায় হাম্দ ও দরূদ সহ সকল মুসলমানের জন্য দো‘আ করবেন।[46] প্রয়োজনে এই সময়ও কিছু নছীহত করা যায়।[47] ইমাম শাফেঈ (রহঃ) হাম্দ, দরূদ ও নছীহত তিনটি বিষয়কে খুৎবার জন্য ‘ওয়াজিব’ বলেছেন। যাতে কুরআন থেকে একটি আয়াত হ’লেও পাঠ করতে হবে। এতদ্ব্যতীত সূরায়ে ক্বাফ-এর প্রথগোশত বা অন্য কিছু আয়াত তেলাওয়াত করা মুস্তাহাব।[48] খুৎবা আখেরাত মুখী, সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ হওয়া বাঞ্ছনীয়। [49] তবে দীর্ঘ হওয়াও জায়েয আছে।[50] খুৎবার সময় কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে সংক্ষিপ্তভাবে দু’রাক‘আত ‘তাহিইয়াতুল মাসজিদ’ ছালাত পড়ে বসবেন’।[51]

মাতৃভাষায় খুৎবা দান (خطبة الجمعة باللغة الأهلية) :

খুৎবা মাতৃভাষায় এবং অধিকাংশ মুছল্লীদের বোধগম্য ভাষায় হওয়া যরূরী। কেননা খুৎবা অর্থ ভাষণ, যা শ্রোতাদের বোধগম্য ভাষায় হওয়াই স্বাভাবিক। আল্লাহ বলেন, وَمَا أَرْسَلْنَا مِن رَّسُوْلٍ إِلاَّ بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ ‘আমরা সকল রাসূলকেই তাদের স্বজাতির ভাষা-ভাষী করে প্রেরণ করেছি, যাতে তিনি তাদেরকে (আল্লাহর দ্বীন) ব্যাখ্যা করে দেন’ (ইবরাহীম ১৪/৪)। অতঃপর আমাদের রাসূল (ছাঃ)-কে খাছ করে বলা হচ্ছে, وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُوْنَ- ‘আর আমরা আপনার নিকটে ‘যিকর’ (কুরআন) নাযিল করেছি, যাতে আপনি লোকদের নিকট ঐসব বিষয়ে ব্যাখ্যা করে দেন, যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে। যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে’ (নাহ্ল ১৬/৪৪)।

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সময়ের চাহিদা অনুযায়ী খুৎবা দিতেন। নবী আর আসবেন না। তাই রাসূলের ‘ওয়ারিছ’ হিসাবে[52] প্রত্যেক আলেম ও খত্বীবের উচিৎ মুছল্লীদের নিজস্ব ভাষায় কুরআন ও ছহীহ হাদীছের বিধান সমূহ খুৎবায় ব্যাখ্যা করে শুনানো। নইলে খুৎবার উদ্দেশ্য বিনষ্ট হবে।

হযরত জাবের বিন সামুরাহ (রাঃ) বর্ণিত হাদীছে এসেছে যে, খুৎবার সময় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর দু’চোখ উত্তেজনায় লাল হয়ে যেত। গলার স্বর উঁচু হ’ত ও ক্রোধ ভীষণ হ’ত। যেন তিনি কোন সৈন্যদলকে হুঁশিয়ার করছেন’।[53] ছাহেবে মির‘আত বলেন, ‘অবস্থা অনুযায়ী এবং মুছল্লীদের বোধগম্য ভাষায় খুৎবা দেওয়ার ব্যাপারে জাবের বিন সামুরাহ (রাঃ) বর্ণিত অত্র হাদীছটিই হ’ল প্রথম দলীল’।[54] মনে রাখা আবশ্যক যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মাতৃভাষায় খুৎবা দিতেন। তাঁর ও তাঁর ছাহাবীগণের মাতৃভাষা ছিল আরবী। তিনি ছিলেন বিশ্বনবী। তাই বিশ্বের সকল ভাষাভাষী তাঁর উম্মতকে স্ব স্ব মাতৃভাষায় খুৎবা দানের মাধ্যমে কুরআন ও হাদীছ ব্যাখ্যা করে দিতে হবে, যা অবশ্য পালনীয়।

যদি বলা হয় যে, রাসূল (ছাঃ) আরবী ভাষায় খুৎবা দিতেন, অতএব আমাদেরও কেবল আরবীতে খুৎবা দিতে হবে, তাহ’লে তো বলা হবে যে, তিনি যেহেতু সর্বক্ষণ আরবী ভাষায় কথা বলতেন, অতএব আমাদেরকেও মাতৃভাষা ছেড়ে সর্বক্ষণ আরবীতে কথা বলতে হবে। আরবী ব্যতীত অন্য ভাষা বলা যদি নিষিদ্ধ হয়, তাহ’লে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) যায়েদ বিন ছাবিত (রাঃ)-কে ইহুদীদের হিব্রু ভাষা শিখতে বললেন কেন? যা তিনি ১৫ দিনেই শিখে ফেলেন ও উক্ত ভাষায় রাসূল (ছাঃ)-এর পক্ষে পত্র পঠন, লিখন ও দোভাষীর কাজ করেন। [55]

নওয়াব ছিদ্দীক হাসান খান ভূপালী (রহঃ) বলেন, শ্রোতামন্ডলীকে জান্নাতের প্রতি উৎসাহ দান ও জাহান্নামের ভয় প্রদর্শন করাই ছিল রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর খুৎবার নিয়মিত উদ্দেশ্য। এটাই হ’ল খুৎবার প্রকৃত রূহ এবং এজন্যই খুৎবার প্রচলন হয়েছে’।[56]

বিভিন্ন মসজিদে স্রেফ আরবী খুৎবা পাঠের যে প্রচলন রয়েছে, তা নিঃসন্দেহে খুৎবার উদ্দেশ্য বিরোধী। এটা বুঝতে পেরে বর্তমানে মূল খুৎবার পূর্বে মিম্বরে বসে মাতৃভাষায় বক্তব্য রাখার মাধ্যমে যে তৃতীয় আরেকটি খুৎবা চালু করা হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে বিদ‘আত। কেননা জুম‘আর জন্য নির্ধারিত খুৎবা হ’ল দু’টি, তিনটি নয়। তাছাড়া মূল খুৎবার পূর্বের সময়টি মুছল্লীদের নফল ছালাতের সময়। তাদের ছালাতের সুযোগ নষ্ট করে বক্তৃতা করার অধিকার ইসলাম কোন খত্বীব ছাহেবকে দেয়নি। অতএব সুন্নাতের উপরে আমল করতে চাইলে মূল খুৎবায় দাঁড়িয়ে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে তাদের বোধগম্য ভাষায় নছীহত করতে হবে। খুৎবার সময় কথা বলা নিষেধ। এমনকি অন্যকে ‘চুপ কর’ একথাও বলা চলবে না।[57]

ক্বিরাআত : জুম‘আর ছালাতে ইমাম প্রথম রাক‘আতে সূরায়ে ‘জুম‘আ’ অথবা সূরায়ে ‘আ‘লা’ এবং দ্বিতীয় রাক‘আতে সূরায়ে ‘মুনা-ফিকূন’ অথবা সূরায়ে ‘গা-শিয়াহ’ পড়বেন। [58] অন্য সূরাও পড়া যাবে।[59] জুম‘আর দিন ফজরের ১ম রাক‘আতে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সূরায়ে ‘সাজদাহ’ ও ২য় রাক‘আতে সূরায়ে ‘দাহর’ পাঠ করতেন।[60]

দো‘আ চাওয়া : মুছল্লীদের নিকটে বিশেষ কোন দো‘আ চাওয়ার থাকলে খত্বীব বা ইমামের মাধ্যমে পূর্বেই সকলকে অবহিত করা উচিৎ। যাতে সবাই উক্ত মুছল্লীর প্রার্থনা অনুযায়ী আল্লাহর নিকটে দো‘আ করতে পারে ও নিজেদের দো‘আর নিয়তের মধ্যে তাকেও শামিল করতে পারে। কেননা সালাম ফিরানোর মাধ্যমে ছালাত শেষ হয়ে যায়। আর ছালাতের মধ্যেই দো‘আ কবুল হয়। বিশেষ করে সিজদার হালতে। কিন্তু সালাম ফিরানোর পর ইমাম ও মুক্তাদী সম্মিলিতভাবে দো‘আ ও ‘আমীন’ ‘আমীন’ বলার প্রচলিত প্রথাটি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সুন্নাতের পরিপন্থী।

দো‘আ কবুলের সময়কাল : বিদ্বানগণ জুম‘আর দিনে দো‘আ কবুলের সঠিক সময়কাল নিয়ে মতভেদ করেছেন। এই মতভেদের ভিত্তি মূলতঃ আমর বিন আওফ (রাঃ) বর্ণিত তিরমিযীর হাদীছ, যেখানে ‘জামা‘আতের শুরু থেকে সালাম ফিরানো পর্যন্ত’ সময়কালকে এবং অপরটি আব্দুল্লাহ বিন সালাম (রাঃ) বর্ণিত হাদীছ, যেখানে ঐ সময়কালকে ‘আছরের ছালাতের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত’ বলা হয়েছে।[61] এবিষয়ে বিদ্বানগণের ৪৩টি মতভেদ উল্লেখিত হয়েছে। [62]

তিরমিযীর ভাষ্যকার আহমাদ মুহাম্মাদ শাকির (রহঃ) বলেন, শেষোক্ত হাদীছের রাবী আব্দুল্লাহ বিন সালাম (রাঃ) এখানে রাসূল (ছাঃ)-এর বক্তব্য وَهُوَ يُصَلِّيْ (ছালাতের অবস্থা)- কে يَنْتَظِرُ الصَّلاَةَ (ছালাতের অপেক্ষারত) বলে ব্যাখ্যা করেছেন।[63] এতেই বুঝা যায় যে, তিনি এটা সরাসরি রাসূল (ছাঃ) থেকে শুনেছেন বলে বর্ণনা করেননি। পক্ষান্তরে আমর বিন আওফ (রাঃ) বর্ণিত তিরমিযী ও ইবনু মাজাহর হাদীছটি মরফূ, যা ইমাম বুখারী ও তিরমিযী ‘হাসান’ বলেছেন, সেটি রাসূল (ছাঃ)-এর বক্তব্য وَهُوَ يُصَلِّيْ (ছালাতরত অবস্থা)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যশীল। আবু মূসা আশ‘আরী (রাঃ) হ’তে ছহীহ মুসলিমে বর্ণিত অপর একটি হাদীছ একে শক্তিশালী করে। যেখানে এই সময়কালকে هِيَ مَا بَيْنَ أَنْ يَّجْلِسَ الْإِمَامُ إِلَى أَنْ تُقْضَى الصَّلاَةُ ‘খত্বীব মিম্বরে বসা হ’তে ছালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত’ বলা হয়েছে।[64] ইবনুল ‘আরাবী বলেন, এই বক্তব্যটিই অধিকতর সঠিক। কেননা এ সময়ের সম্পূর্ণটাই ছালাতের অবস্থা। এতে হাদীছে বর্ণিত ‘ছালাতরত অবস্থায়’ বক্তব্যের সাথে শব্দগত ও অর্থগত উভয় দিক দিয়ে মিল হয়’। বায়হাক্বী, ইবনুল ‘আরাবী, কুরতুবী, নববী প্রমুখ এ বক্তব্য সর্মথন করেন।[65] অতএব ‘খতীব মিম্বরে বসা হ’তে সালাম ফিরানো পর্যন্ত ছালাতরত অবস্থায়’ দো‘আ কবুলের মতটিই ছহীহ হাদীছের অধিকতর নিকটবর্তী।

ঘুমের প্রতিকার : দো‘আ কবুলের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনেক মুছল্লী বিশেষ করে খুৎবার সময় ঘুমে ঢুলতে থাকে। ফলে তারা খুৎবার কিছুই উপলব্ধি করতে পারেনা। এজন্য এর প্রতিকার হিসাবে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, তোমাদের কেউ যখন খুৎবার সময় ঘুমে ঢুলতে থাকে, তখন সে যেন তার অবস্থান পরিবর্তন করে’। [66] এ বিষয়ে মুছল্লীদের পরস্পরকে সাহায্য করা উচিৎ।

এহ্তিয়াত্বী জুম‘আ (صلاة الظهر بعد الجمعة احتياطاً) :

এহ্তিয়াত্বী জুম‘আ বা ‘আখেরী যোহর’ নামে জুম‘আর ছালাতের পরে পুনরায় যোহরের চার রাক‘আত একই ওয়াক্তে পড়ার যে রেওয়াজ এদেশে চালু আছে, তা নিঃসন্দেহে বিদ‘আত। কেননা জুম‘আর পরে যোহর পড়ার কোন দলীল নেই। তাছাড়া যে ব্যক্তি জুম‘আ পড়ে, তার উপর থেকে যোহরের ফরযিয়াত উঠে যায়। কারণ জুম‘আ হ’ল যোহরের স্থলাভিষিক্ত। এক্ষণে যে ব্যক্তি জুম‘আ আদায়ের পর যোহর পড়ে, তার পক্ষে কুরআন, সুন্নাহ এবং কোন বিদ্বানের সমর্থন নেই।[67] গ্রামে জুম‘আ হবে কি হবে না, এই সন্দেহে পড়ে কিছু লোক দু’টিই পড়ে থাকে।

কোন কোন দেশে জুম‘আর ছালাতের পরপরই পুনরায় যোহরের জামা‘আত দাঁড়িয়ে যায়। ভাবখানা এই যে, জুম‘আ কবুল না হ’লে যোহর তো নিশ্চিত। আর যদি জুম‘আ কবুল হয়, তাহ’লে যোহরটা নফল হবে ও বাড়তি নেকী পাওয়া যাবে। অথচ সন্দেহের ইবাদতে কোন নেকী হয় না। বরং স্থির সংকল্প বা নিয়ত হ’ল নেকী পাওয়ার আবশ্যিক পূর্বশর্ত। [68] এই সন্দেহযুক্ত ছালাত এখুনি পরিত্যাজ্য।[69] নইলে বিদ‘আতী আমলের কারণে গোনাহগার হ’তে হবে।

আব্বাসীয় খলীফাদের আমলে শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ভ্রান্ত ফের্কা মু‘তাযিলাগণ এটি চালু করে। যা পরবর্তীকালের কিছু হানাফী আলেমের মাধ্যমে সুন্নীদের অনেকের মধ্যে চালু হয়ে যায়। অথচ জুম‘আ আল্লাহ ফরয করেছেন। আর কোন ফরযে সন্দেহ করা কুফরীর শামিল। অতএব যারা জেনে বুঝে আখেরী যোহরে অভ্যস্ত, তাদের এখুনি তওবা করা উচিৎ ও কেবলমাত্র জুম‘আ আদায় করা কর্তব্য। খোদ হানাফী মাযহাবেও ‘আখেরী যোহর’ না পড়াকে ‘উত্তম’ বলা হয়েছে।[70]

জুম‘আর সুন্নাত (سنن الجمعة) : জুম‘আর পূর্বে নির্দিষ্ট কোন সুনণাত ছালাত নেই। মুছল্লী কেবল ‘তাহিইয়াতুল মাসজিদ’ দু’রাক‘আত পড়ে বসবে। অতঃপর সময় পেলে খত্বীব মিম্বরে বসার আগ পর্যন্ত যত খুশী নফল ছালাত আদায় করবে। জুম‘আর ছালাতের পরে মসজিদে চার রাক‘আত অথবা বাড়ীতে দু’রাক‘আত সুন্নাত আদায় করবে। তবে মসজিদেও চার বা দুই কিংবা দুই ও চার মোট ছয় রাক‘আত সুন্নাত ও নফল পড়া যায়।[71] ইবনু ওমর (রাঃ) চার রাক‘আত সুন্নাত এক সালামে পড়তেন। তবে দুই সালামেও পড়া যায়।[72] জুম‘আর (খুৎবার) পূর্বে এক সালামে চার রাক‘আত পড়ার হাদীছটি ‘যঈফ’। [73]

জুম‘আ বিষয়ে অন্যান্য জ্ঞাতব্য (معلومات أخرى فى الجمعة) :

(১) বাধ্যগত কারণে জুম‘আ পড়তে অপারগ হ’লে যোহর পড়বে।[74] সফরে থাকলে ক্বছর করবে। মুসাফির একাধিক হ’লে জামা‘আতের সাথে ক্বছর পড়বে।[75]
(২) জুম‘আর ছালাত ইমামের সাথে এক রাক‘আত পেলে বাকী আরেক রাক‘আত যোগ করে পূরা পড়ে নিবে।[76]
(৩) কিন্তু রুকূ না পেলে এবং শেষ বৈঠকে যোগ দিলে চার রাক‘আত পড়বে’।[77] অর্থাৎ জুম‘আর নিয়তে ছালাতে যোগদান করবে এবং যোহর হিসাবে শেষ করবে।[78] ‘এর মাধ্যমে সে জামা‘আতে যোগদানের পূরা নেকী পাবে’। [79] অবশ্য রুকূ পাওয়ার সাথে সাথে তাকে ক্বিয়াম ও ক্বিরাআতে ফাতিহা পেতে হবে। কেননা ‘সূরা ফাতিহা ব্যতীত ছালাত সিদ্ধ হয় না’।[80] উল্লেখ্য যে, ‘যে ব্যক্তি তাশাহহুদ পেল, সে ব্যক্তি ছালাত পেল’ মর্মে মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ-তে ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বর্ণিত আছারটি যঈফ।[81]
(৪) খত্বীব মিম্বরে বসার পর মুছল্লীগণ দ্রুত কাছাকাছি চলে আসবে ও খত্বীবের মুখোমুখি হয়ে বসবে। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিয়মিত দূরে বসবে, সে ব্যক্তি জান্নাতে গেলেও দেরীতে প্রবেশ করবে।[82]
(৫) খুৎবার সময় মুছল্লীদের তিনমাথা হয়ে (الْحَبْوَة) অর্থাৎ দু’পা উঁচু করে দু’হাটুতে মাথা রেখে বসা নিষেধ।[83]
(৬) পিছনে এসে সামনের মুছল্লীদের ডিঙিয়ে যাওয়া উচিৎ নয়। বরং সেখানেই বসে পড়বে।[84]
(৭) জুম‘আ সহ কোন বৈঠকেই কাউকে উঠিয়ে দিয়ে সেখানে বসতে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) নিষেধ করেছেন।[85] তবে সকলকে বলবে, إِفْسَحُوْا ‘আপনারা জায়গা ছেড়ে দিন’।[86]
(৮) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, জুম‘আতে তিন ধরনের লোক আসে। (ক) যে ব্যক্তি অনর্থক আসে, সে তাই পায় (খ) যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনার জন্য আসে। আল্লাহ চাইলে তাকে দেন, অথবা না দেন (গ) যে ব্যক্তি নীরবে আসে এবং কারু ঘাড় মটকায় না ও কষ্ট দেয় না, তার জন্য এই জুম‘আ তার পরবর্তী জুম‘আ এমনকি তার পরের তিনদিনের (ছগীরা) গোনাহ সমূহের কাফফারা হয়ে থাকে। এ কারণেই আল্লাহ বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি একটি নেকীর কাজ করে, তার জন্য দশগুণ প্রতিদান রয়েছে’ (আন‘আম ৬/১৬০)।[87]

[1] . মির‘আত ২/২৮৮; ঐ, ৪/৪৫১; ইবনু কাছীর, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ২/২১১। [2] . ইবনু মাজাহ হা/১০৮২; সীরাতে ইবনে হিশাম ১/৪৯৪; যা-দুল মা‘আ-দ ১/৯৮। [3] . ইবনু মাজাহ হা/১০৮২; আবুদাঊদ হা/১০৬৯ সনদ ‘হাসান’। সীরাতে ইবনে হিশাম ১/৪৩৫; যা-দুল মা‘আ-দ ১/৩৬১; নায়ল ৪/১৫৭-৫৮; মির‘আত ৪/৪২০। ১১ নববী বর্ষের হজ্জের মওসুমে (জুলাই ৬২০ খৃ:) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর হাতে সর্বপ্রথম বায়‘আতকারী ৬ জন যুবকের কনিষ্ঠতম নেতা, যার নেতৃত্বে মদীনায় সর্বপ্রথম ইসলাম প্রচারিত হয় এবং পরবর্তী দু’বছরে ৭৩ জন পুরুষ ও ২ জন নারী মক্কায় এসে বায়‘আত গ্রহণ করেন। অতঃপর ১৪শ নববী বর্ষের রবীউল আউয়াল মাসে (সেপ্টেম্বর ৬২২) হিজরত সংঘটিত হয় এবং ১ম হিজরী সনেই শাওয়াল মাসে অল্প বয়সে তাঁর মৃত্যু হয় ও বাক্বী‘ গোরস্থানে ১ম ছাহাবী হিসাবে কবরস্থ হন =আল-ইছাবাহ, ক্রমিক সংখ্যা ১১১। [4] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১৩৫৪ ‘জুম‘আ’ অনুচ্ছেদ-৪২; মির‘আত ৪/৪২১ পৃঃ । [5] . মির‘আত ৪/৪১৯-২১ পৃঃ; ইবনু কাছীর, তাফসীর সূরা আ‘রাফ ৫৪। [6] . ইবনু মাজাহ হা/১০৮২ ‘ছালাতে দাঁড়ানো’ অধ্যায়-৫, ‘জুম‘আ ফরয হওয়া’ অনুচ্ছেদ-৭৮; আবুদাঊদ হা/১০৬৯ ‘ছালাত’ অধ্যায়-২, ‘গ্রামে জুম‘আ’ অনুচ্ছেদ-২১৬। [7] . জুম‘আ ৬২/৯; ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২২৫। [8] . আবুদাঊদ, দারাকুৎনী, মিশকাত হা/১৩৭৭, ১৩৮০ ‘জুম‘আ ওয়াজিব হওয়া’ অনুচ্ছেদ-৪৩; ইরওয়া হা/৫৯২, ৩/৫৪, ৫৮; আর-রওযাতুন নাদিইয়াহ ১/৩৪১ পৃঃ। [9] . মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ হা/৫১০৮; ইরওয়া ৩/৬৬, হা/৫৯৯-এর শেষে; ফাৎহুল বারী হা/৮৯২-এর আলোচনা দ্র: ২/৪৪১, ‘জুম‘আ’ অধ্যায়-১১, অনুচ্ছেদ-১১। [10] . নায়লুল আওত্বার ৪/১৫৯-৬১; মির‘আত ২/২৮৮-৮৯; ঐ, ৪/৪৪৯-৫০। [11] . ছিদ্দীক্ব হাসান খান ভূপালী, আর-রওযাতুন নাদিইয়াহ ১/৩৪২ পৃঃ। [12] . মুওয়াত্ত্বা, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/১৩৯৮ ‘ছালাত’ অধ্যায়-৪, ‘পরিচ্ছন্নতা অর্জন ও সকাল সকাল মসজিদে গমন’ অনুচ্ছেদ-৪৪। [13] . বুখারী, মিশকাত হা/১৩৮১, অনুচ্ছেদ-৪৪। [14] . নাসাঈ হা/৬৬১; আহমাদ, মিশকাত হা/১১০৪; ছহীহুল জামে‘ হা/১৮৩৯, ৪২। [15] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৭০৪ ‘মসজিদ ও ছালাতের স্থানসমূহ’ অনুচ্ছেদ-৭। [16] . মুসলিম, মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/১৩৫৮, ১৩৮৪, ৮৭। [17] . বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৩৮১-৮২; ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২৩৬। [18] . মুসলিম, মিশকাত হা/১৪১১ ‘খুৎবা ও ছালাত’ অনুচ্ছেদ-৪৫; আবুদাঊদ হা/১১১৬। [19] . মুসলিম, মিশকাত হা/১৩৭৮ ‘জুম‘আ ওয়াজিব হওয়া’ অনুচ্ছেদ-৪৩। [20] . মুসলিম, মিশকাত হা/১৩৭০, অনুচ্ছেদ-৪৩। [21] . আবু ইয়া‘লা, ছহীহ আত-তারগীব হা/৭৩৩; আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/১৩৭১। [22] . ছহীহ ইবনু খুযায়মা হা/১৮৫৭; ছহীহ আত-তারগীব হা/৭২৬-২৮; মির‘আত ৪/৪৪৬। [23] . ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/১৩৬৩ ‘জুম‘আ’ অনুচ্ছেদ-৪২। [24] . আহমাদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/১৩৬৭ ‘জুম‘আ’ অনুচ্ছেদ-৪২। [25] . আবুদাঊদ, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/১৩৬১, ১৩৬৩। [26] . মুসলিম, আবুদাঊদ, মুওয়াত্ত্বা, মিশকাত হা/১৩৫৬-৫৯ ও ১৩৬১ ‘জুম‘আ’ অনুচ্ছেদ-৪২; তিরমিযী হা/৪৯০-৯১, শরহ আহমাদ মুহাম্মাদ শাকির (বৈরূত ছাপা ১৪০৮/১৯৮৭) ২/৩৬১ ও ৩৬৩-৬৪ পৃঃ। [27] . মুসলিম, মিশকাত হা/১৩৫৭, ‘জুম‘আ অনুচ্ছেদ-৪২। [28] . তিরমিযী হা/৪৮৯; মিশকাত হা/১৩৬০, ‘জুম‘আ’ অনুচ্ছেদ-৪২। [29] . ইবনুল ক্বাইয়িম, যা-দুল মা‘আদ ১/৩৮৬। [30] . মুসলিম, মিশকাত হা/৮৯৪ ‘সিজদা ও তার ফযীলত’ অনুচ্ছেদ-১৪; ঐ, হা/৮১৩ ‘তাকবীরের পর যা পড়তে হয়’ অনুচ্ছেদ-১১; মুসলিম, রিয়াযুছ ছালেহীন হা/১৪২৪/১৭, (বৈরূত ছাপা ১৪০৯/১৯৮৯) পৃঃ ৫৩৭। [31] . বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৩৮১-৮২, পরিচ্ছন্নতা অর্জন ও সকাল সকাল মসজিদে যাওয়া, অনুচ্ছেদ-৪৪। [32] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১৩৮৪, অনুচ্ছেদ-৪৪। [33] . তিরমিযী, আবুদাঊদ, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/১৩৮৮; ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২৩৬; মির‘আত ৪/৪৭১। [34] . বুখারী, মিশকাত হা/১৪০৪ ‘খুৎবা ও ছালাত’ অনুচ্ছেদ-৪৫; ফাৎহ ২/৪৫৮। ‘যাওরা বাজার’ বর্তমানে মসজিদে নববীর আঙিনার অন্তর্ভুক্ত। [35] . মির‘আত ২/৩০৭; ঐ, ৪/৪৯২। উল্লেখ্য যে, যিয়াদ বিন আবীহি ছিলেন মু‘আবিয়া (৪১-৬০/৬৬১-৬৮০ খৃঃ)-এর আমলে বছরার গভর্ণর। অন্যদিকে উমাইয়া খলীফা আব্দুল মালেক ইবনে মারওয়ানের আমলে (৬৫-৮৬/৬৮৫-৭০৫ খৃঃ) তার সেনাপতি হাজ্জাজ বিন ইউসুফের হাতে হেজায, ইরাক, মিসর ও সিরিয়ার কিছু অঞ্চলের ধর্মপ্রাণ খলীফা (৬৪-৭৩ হিঃ) আব্দুল্লাহ ইবনু যুবায়ের (১-৭৩ হিঃ) মক্কায় শহীদ হ’লে হাজ্জাজ (৪০-৯৫/৬৬০-৭১৪ খৃঃ) মক্কার শাসক নিযুক্ত হন। [36] . তাফসীরে জালালায়েন, ৪৬০ পৃঃ, টীকা ১৯; কুরতুবী ১৮/১০০ পৃঃ, তাফসীর সূরা জুম‘আ, ৯ আয়াত। [37] . মির‘ক্বাত শরহ মিশকাত (দিল্লী ছাপা : তাবি) ৩/২৬৩। [38] . ‘আওনুল মা‘বূদ শরহ আবুদাঊদ (কায়রো : ১৪০৭/১৯৮৭) ৩/৪৩৩-৩৪ পৃঃ, হা/১০৭৪-৭৫-এর ব্যাখ্যা দ্রঃ। [39] . ‘মিম্বরের সম্মুখে দাঁড়িয়ে আযান দেওয়ার রেওয়াজ রাসূলের যামানা থেকে নিয়মিতভাবে (بذلك جرى التوارث) চলে আসছে’ বলে প্রসিদ্ধ হানাফী ফিক্বহ গ্রন্থ ‘হেদায়া’-র লেখক যে দাবী করেছেন, তা একেবারেই বাতিল ও ভিত্তিহীন। দ্রঃ ‘আওনুল মা‘বূদ হা/১০৭৫-এর আলোচনা, ৩/৪৩৪-৩৭। [40] . ولم يثبت حرف واحد فى الأذان مستقبل الإمام محاذيًا به عند المنبر ‘আওনুল মা‘বূদ ৩/৪৩৭, হা/১০৭৫-এর ব্যাখ্যা, ‘জুম‘আর দিনে আহবান’ অনুচ্ছেদ-২২২। [41] . ত্বাবারাণী কাবীর হা/১০২৪০; ছহীহুল জামে‘ হা/২২৩৪। [42] . মুসলিম, মিশকাত হা/১৪০৫; আর-রওযাতুন নাদিইয়াহ ১/৩৪৫। [43] . ইবনু মাজাহ হা/১১০৯; ছহীহাহ হা/২০৭৬। [44] . ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২৩০; নায়ল ৪/২০১। [45] . আবুদাঊদ হা/১০৯৬; ইরওয়া হা/৬১৬, ৩/৭৮, ৯৯; নায়ল ৪/২১২। [46] . জুম‘আ ৬২/১১; মুসলিম, মিশকাত হা/১৪০৫, ১৫, ১৬ ‘খুৎবা ও ছালাত’ অনুচ্ছেদ-৪৫; নাসাঈ হা/১৪১৮, ‘২য় খুৎবায় ক্বিরাআত ও যিকর’ অনুচ্ছেদ-৩৫; আহমাদ, ত্বাবারাণী, ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২৩৪; মির‘আত ২/৩০৮; ঐ, ৪/৪৯৪, ৫০৮-০৯। [47] . নাসাঈ হা/১৪১৭-১৮, তিরমিযী হা/৫০৬, ‘জুম‘আ’ অধ্যায়-৪, অনুচ্ছেদ-১১। [48] . মির‘আত ২/৩০৮, ৩১০; ঐ, ৪/৪৯৪, ৪৯৮-৯৯; মুসলিম, মিশকাত হা/১৪০৯, অনুচ্ছেদ-৪৫। [49] . মুসলিম, মিশকাত হা/১৪০৫-০৬ ‘খুৎবা ও ছালাত’ অনুচ্ছেদ-৪৫। [50] . মুসলিম হা/৭২৬৭ (২৮৯২), ‘ফিতান’ অধ্যায়-৫২, অনুচ্ছেদ-৬; মির‘আত ৪/৪৯৬। [51] . মুসলিম, মিশকাত হা/১৪১১; ‘খুৎবা ও ছালাত’ অনুচ্ছেদ-৪৫; নায়ল ৪/১৯৩। [52] . তিরমিযী, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/২১২ ‘ইলম’ অধ্যায়-২। [53] . মুসলিম, মিশকাত হা/১৪০৭; মির‘আত ২/৩০৯; ঐ, ৪/৪৯৬-৯৭। [54] . মুসলিম, মিশকাত হা/১৪০৫; মির‘আত হা/১৪১৮-এর আলোচনা দ্রঃ, ৪/৪৯৪-৯৫। [55] . তিরমিযী, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৬৫৯ ‘শিষ্টাচার’ অধ্যায়-২৫, ‘সালাম’ অনুচ্ছেদ-১। [56] . নওয়াব ছিদ্দীক হাসান খান ভূপালী, আর-রওযাতুন নাদিইয়াহ ১/৩৪৫। [57] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১৩৮৫ ‘পরিচ্ছন্নতা অর্জন ও সকাল সকাল মসজিদে গমন’ অনুচ্ছেদ-৪৪। [58] . মুসলিম, মিশকাত হা/৮৩৯-৪০ ‘ছালাতে ক্বিরাআত’ অনুচ্ছেদ-১২। [59] . আবুদাঊদ হা/৮১৮, ৮২০, ৮৫৯। [60] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৮৩৮। [61] . তিরমিযী হা/৪৮৯; ঐ, মিশকাত হা/১৩৬০; তুহফা হা/৪৮৮-৮৯। [62] . শাওকানী, নায়লুল আওত্বার ৪/১৭২-৭৬। [63] . তিরমিযী হা/৪৯১; আবুদাঊদ হা/১০৪৬; মুওয়াত্ত্বা, নাসাঈ, মিশকাত হা/১৩৫৯ ‘জুম‘আ’ অনুচ্ছেদ-৪২। [64] . মুসলিম, মিশকাত হা/১৩৫৮, ‘জুম‘আ’ অনুচ্ছেদ-৪২। [65] . আহমাদ মুহাম্মাদ শাকির, শরহ তিরমিযী ২/৩৬৩-৬৪, হা/৪৯০-৯১। [66] . তিরমিযী, মিশকাত হা/১৩৯৪ ‘ছালাত’ অধ্যায়-৪, অনুচ্ছেদ-৪৪। [67] . সাইয়িদ সাবিক্ব, ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২২৭। [68] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মুক্বাদ্দামা মিশকাত হা/১। [69] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, আহমাদ প্রভৃতি, মিশকাত হা/২৭৬২, ২৭৭৩ ‘ক্রয়-বিক্রয়’ অধ্যায়-১১। [70] . দ্রঃ দুর্রে মুখতার ১/৩৬৭; হাক্বীক্বাতুল ফিক্বহ (বোম্বাই : তাবি; সংশোধনে : দাঊদ রায), ২৫৩ পৃঃ; ফাতাওয়া নাযীরিয়াহ (দিল্লী : ১৪০৯/১৯৮৮), ১/৫৭৫-৮০। [71] . মুসলিম, মিশকাত হা/১১৬৬ ‘সুন্নাত ছালাত সমূহ ও তার ফযীলত’ অনুচ্ছেদ-৩০; তিরমিযী হা/৫২২-২৩ ‘জুম‘আ’ অধ্যায়-৪, অনুচ্ছেদ-২৪; মির‘আত ২/১৪৮; ঐ, ৪/১৪২-৪৩। [72] . মির‘আত ৪/২৫৭-৫৮। [73] . ইবনু মাজাহ হা/১১২৯ ‘ছালাত’ অধ্যায়-২, ‘জুম‘আর পূর্বে ছালাত’ অনুচ্ছেদ-৯৪। [74] . ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২২৬-২৭। [75] . ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২২৬; মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১৩৩৪, ‘সফরে ছালাত’ অনুচ্ছেদ-৪১। [76] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১৪১২, ‘ছালাত’ অধ্যায়-৪, ‘খুৎবা ও ছালাত’ অনুচ্ছেদ-৪৫। [77] . মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ, বায়হাক্বী ৩/২০৪; ত্বাবারাণী কাবীর, সনদ ছহীহ; ইরওয়া ৩/৮২। [78] . ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২৩৫, টীকা দ্র:। [79] . বায়হাক্বী, ইরওয়া হা/৬২১; ৩/৮১-৮২। [80] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৮২২; আলোচনা দ্রষ্টব্য : ‘সূরা ফাতিহা পাঠ’ অধ্যায়। [81] . আলবানী, ইরওয়াউল গালীল ৩/৮২। [82] . আবুদাঊদ হা/১১০৮; ঐ, মিশকাত হা/১৩৯১, অনুচ্ছেদ-৪৪; তিরমিযী, মিশকাত হা/১৪১৪, অনুচ্ছেদ-৪৫। [83] . তিরমিযী, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/১৩৯৩ ‘ছালাত’ অধ্যায়-৪, অনুচ্ছেদ-৪৪। [84] . আবুদাঊদ হা/১১১৮ ‘ছালাত’ অধ্যায়-২, অনুচ্ছেদ-২৩৮। [85] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১৩৯৫ ‘ছালাত’ অধ্যায়-৪, অনুচ্ছেদ-৪৪। [86] . মুসলিম, মিশকাত হা/১৩৮৬ ‘ছালাত’ অধ্যায়-৪, অনুচ্ছেদ-৪৪। [87] . আবুদাঊদ, মিশকাত হা/১৩৯৬, অনুচ্ছেদ-৪৪।


জুম’আর সলাতের খুৎবার পূর্বে মিম্বরে বসে বয়ান বা বক্তব্য দেয়া বিদ’আত

জুম’আর সলাতের খুৎবার পূর্বে মিম্বরে বসে বয়ান বা বক্তব্য দেয়া বিদ’আত। শারঈতে এর কোন ভিত্তি নেই।

নিম্নে সহীহ মুসলিম থেকে কিছু হাদিস উল্লেখ করা হলো। যেখানে বলা হয়েছে আল্লাহ রসূল দাড়িয়ে দুটি খুৎবা দিতে মাঝে বসতেন।

وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ، وَأَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ جَمِيعًا عَنْ خَالِدٍ، – قَالَ أَبُو كَامِلٍ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، – حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ قَائِمًا ثُمَّ يَجْلِسُ ثُمَّ يَقُومُ . قَالَ كَمَا يَفْعَلُونَ الْيَوْمَ .

অধ্যায়: জুমু‘আর স্বলাত | অনুচ্ছেদ: জুমআর স্বলাতের আগে দুটি খতবা এবং তার মাঝখানে বৈঠক
সহিহ মুসলিম :: হাদিস ১৮৭৯
ইবনু উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) জুমু‘আর দিন দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন, অতঃপর বসতেন, অতঃপর দাঁড়াতেন, যেমন আজকাল তোমরা করে থাক।
তাখরীজঃ ই.ফা. ১৮৬৪ , ই.সে. ১৮৭১

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَحَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ كَانَتْ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم خُطْبَتَانِ يَجْلِسُ بَيْنَهُمَا يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَيُذَكِّرُ النَّاسَ

অধ্যায়: জুমু‘আর স্বলাত | অনুচ্ছেদ: জুমআর স্বলাতের আগে দুটি খতবা এবং তার মাঝখানে বৈঠক
সহিহ মুসলিম :: হাদিস ১৮৮০
জাবির ইবনু সামুরা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) দু’টি খুতবা দিতেন, উভয় খুতবার মাঝখানে বসতেন এবং (খুতবায়) কুরআন পড়তেন এবং জনগণকে উপদেশ দিতেন।
তাখরীজঃ ই.ফা. ১৮৬৫ , ই.সে. ১৮৭২

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، عَنْ سِمَاكٍ، قَالَ أَنْبَأَنِي جَابِرُ بْنُ، سَمُرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَخْطُبُ قَائِمًا ثُمَّ يَجْلِسُ ثُمَّ يَقُومُ فَيَخْطُبُ قَائِمًا فَمَنْ نَبَّأَكَ أَنَّهُ كَانَ يَخْطُبُ جَالِسًا فَقَدْ كَذَبَ فَقَدْ وَاللَّهِ صَلَّيْتُ مَعَهُ أَكْثَرَ مِنْ أَلْفَىْ صَلاَةٍ.

অধ্যায়: জুমু‘আর স্বলাত | অনুচ্ছেদ: জুমআর স্বলাতের আগে দুটি খতবা এবং তার মাঝখানে বৈঠক
সহিহ মুসলিম :: হাদিস ১৮৮১
জাবির ইবনু সামুরা থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) দাঁড়ানো অবস্থায় খুতবা দিতেন, অতঃপর বসতেন, অতঃপর দাঁড়িয়ে আবার (দ্বিতীয়) খুতবা দিতেন। যে ব্যাক্তি তোমাকে অবহিত করেছে যে, তিনি বসা অবস্থায় খুতবা দিতেন, সে মিথ্যা বলেছে। আল্লাহর শপথ! আমি নিশ্চয়ই তাঁর সাথে দুই হাজারেরও অধিকবার স্বলাত পড়েছি।
তাখরীজঃ ই.ফা. ১৮৬৬ , ই.সে. ১৮৭৩

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، كِلاَهُمَا عَنْ جَرِيرٍ، – قَالَ عُثْمَانُ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، – عَنْ حُصَيْنِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ جَابِرِ، بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَخْطُبُ قَائِمًا يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَجَاءَتْ عِيرٌ مِنَ الشَّامِ فَانْفَتَلَ النَّاسُ إِلَيْهَا حَتَّى لَمْ يَبْقَ إِلاَّ اثْنَا عَشَرَ رَجُلاً فَأُنْزِلَتْ هَذِهِ الآيَةُ الَّتِي فِي الْجُمُعَةِ { وَإِذَا رَأَوْا تِجَارَةً أَوْ لَهْوًا انْفَضُّوا إِلَيْهَا وَتَرَكُوكَ قَائِمًا}

অধ্যায়: জুমু‘আর স্বলাত | অনুচ্ছেদ: জুমআর স্বলাতের আগে দুটি খতবা এবং তার মাঝখানে বৈঠক
সহিহ মুসলিম :: হাদিস ১৮৮২
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্ থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) দাঁড়ানো অবস্থায় জুমু‘আর দিন খুতবা দিতেন। একদা জুমু‘আর স্বলাতের খুতবা চলাকালে সিরিয়ার একটি বণিকদল এসে পৌঁছলে বারোজন লোক ব্যাতিত সকলে তাদের নিকট ছুটে চলে গেল। তখন সূরা জুমু‘আর এই আয়াত নাযিল হয় (অনুবাদ): { وَإِذَا رَأَوْا تِجَارَةً أَوْ لَهْوًا انْفَضُّوا إِلَيْهَا وَتَرَكُوكَ قَائِمًا } “যখন তারা দেখলো ব্যবসা ও কৌতুকের বিষয় তখন তারা তোমাকে দাঁড়ানো অবস্থায় সেদিকে ছুটে গেল” (সূরা জুমু‘আ ৬২ : ১১)।
তাখরীজঃ ই.ফা. ১৮৬৭ , ই.সে. ১৮৭৪

وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ حُصَيْنٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ قَالَ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ . وَلَمْ يَقُلْ قَائِمًا .

অধ্যায়: জুমু‘আর স্বলাত | অনুচ্ছেদ: জুমআর স্বলাতের আগে দুটি খতবা এবং তার মাঝখানে বৈঠক
সহিহ মুসলিম :: হাদিস ১৮৮৩
হুসাইন ইবনু আবদুর রাহমান (র) থেকে এই সনদে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে। তবে এতে আছে: “এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খুতবা দিচ্ছিলেন”। এতে “দাঁড়ানো অবস্থায়” কথাটুকু উল্লেখ নাই।
তাখরীজঃ ই.ফা. ১৮৬৮ , ই.সে. ১৮৭৫

وَحَدَّثَنَا رِفَاعَةُ بْنُ الْهَيْثَمِ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، – يَعْنِي الطَّحَّانَ – عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ سَالِمٍ، وَأَبِي، سُفْيَانَ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَقَدِمَتْ سُوَيْقَةٌ قَالَ فَخَرَجَ النَّاسُ إِلَيْهَا فَلَمْ يَبْقَ إِلاَّ اثْنَا عَشَرَ رَجُلاً أَنَا فِيهِمْ – قَالَ – فَأَنْزَلَ اللَّهُ { وَإِذَا رَأَوْا تِجَارَةً أَوْ لَهْوًا انْفَضُّوا إِلَيْهَا وَتَرَكُوكَ قَائِمًا} إِلَى آخِرِ الآيَةِ .

অধ্যায়: জুমু‘আর স্বলাত | অনুচ্ছেদ: জুমআর স্বলাতের আগে দুটি খতবা এবং তার মাঝখানে বৈঠক
সহিহ মুসলিম :: হাদিস ১৮৮৪
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জুমু‘আর দিন নবী (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম। এমতাবস্থায় কিছু ছাতুর চালান এসে পৌঁছলো। রাবী বলেন, লোকজন সেদিকে চলে গেল এবং বারোজন ব্যতীত আর কেউ ছিল না। আমি এদের সাথে ছিলাম। রাবী বলেন, তখন আল্লাহ নাযিল করেন (অনুবাদ) : { وَإِذَا رَأَوْا تِجَارَةً أَوْ لَهْوًا انْفَضُّوا إِلَيْهَا وَتَرَكُوكَ قَائِمًا } “যখন তারা দেখলো ব্যবসা ও কৌতুকের বিষয়, তখন তারা তোমাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে সেদিকে ছুটে গেল…” (সূরা জুমু’আ : ৬২:১১) আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
তাখরীজঃ ই.ফা. ১৮৬৯ , ই.সে. ১৮৭৬

وَحَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ سَالِمٍ، أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا حُصَيْنٌ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، وَسَالِمِ، بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ بَيْنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَائِمٌ يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِذْ قَدِمَتْ عِيرٌ إِلَى الْمَدِينَةِ فَابْتَدَرَهَا أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى لَمْ يَبْقَ مَعَهُ إِلاَّ اثْنَا عَشَرَ رَجُلاً فِيهِمْ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ – قَالَ – وَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ { وَإِذَا رَأَوْا تِجَارَةً أَوْ لَهْوًا انْفَضُّوا إِلَيْهَا}

অধ্যায়: জুমু‘আর স্বলাত | অনুচ্ছেদ: জুমআর স্বলাতের আগে দুটি খতবা এবং তার মাঝখানে বৈঠক
সহিহ মুসলিম :: হাদিস ১৮৮৫
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক জুমু‘আর দিন নবী (ﷺ) দাঁড়ানো অবস্থায় ছিলেন (জুমু‘আর খুতবা দিচ্ছিলেন)। এমতাবস্থায় একটি বণিকদল মদীনায় এসে পৌঁছল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর সাহাবীগণ সেদিকে ছুটে গেলেন। এমনকি বারোজন ব্যতীত আর কেউ অবশিষ্ট ছিলেন না। আবু বকর ও উমার -ও এদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। রাবী বলেন, তখন এই আয়াত নাযীল হয় (অনুবাদ) : “যখন তারা দেখলো ব্যবসা ও কৌতুকের বিষয়, তখন তারা তোমাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে সেদিকে ছুটে গেল” (জুমআ ৬২ : ১১)
তাখরীজঃ ই.ফা. ১৮৭০ , ই.সে. ১৮৭৭

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، قَالَ دَخَلَ الْمَسْجِدَ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أُمِّ الْحَكَمِ يَخْطُبُ قَاعِدًا فَقَالَ انْظُرُوا إِلَى هَذَا الْخَبِيثِ يَخْطُبُ قَاعِدًا وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى { وَإِذَا رَأَوْا تِجَارَةً أَوْ لَهْوًا انْفَضُّوا إِلَيْهَا وَتَرَكُوكَ قَائِمًا}

অধ্যায়: জুমু‘আর স্বলাত | অনুচ্ছেদ: জুমআর স্বলাতের আগে দুটি খতবা এবং তার মাঝখানে বৈঠক
সহিহ মুসলিম :: হাদিস ১৮৮৬
আবু উবায়দা থেকে বর্ণিত কাব ইবনু উজরা -এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি মাসজিদে প্রবেশ করলেন এবং তখন আবদুর রাহমান ইবনুল হাকমা বসা অবস্থায় খুতবা দিচ্ছিলেন। কাব বলেন, তোমরা এই নরাধমের প্রতি লক্ষ করো, সে বসে বসে খুতবা দিচ্ছে। অথচ আল্লাহ বলেছেন : “এবং যখন তারা দেখলো ব্যবসা ও কৌতুকের বিষয় তখন তারা তোমাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে সেদিকে ছুটে গেল” (জুমআ ৬২ :১১)
তাখরীজঃ ই.ফা. ১৮৭১ , ই.সে. ১৮৭

নবী(স:) কখনও বসে বসে বয়ান করেননি।

মাতৃভাষায় খুতবা দেয়াটা শরীয়ত সম্মত এবং যুক্তি সংগত

a

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমার খুতবায় আল্লাহর তারীফ করতেন, দরুদ পড়তেন, কুরআন থেকে তেলাওয়াত করতেন এবং কিছু ওয়াজ-নছীহত ও করতেন। নবীদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:
وَمَا أَرْسَلْنَا مِن رَّسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ
“আমি সব নবীকেই তাদের স্বজাতির ভাষাভাষী করেই প্রেরণ করেছি, যাতে তাদেরকে পরিষ্কার বোঝাতে পারে।” (সূরা ইবরাহীম: ৪)
রসুলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাতৃভাষা যেহেতু আরবী ছিল এবং সাহাবীদেরও ভাষা আরবী ছিল, তাই তিনি আরবীতেই তাদেরকে নসীহত করতেন। এখন যারা নবীজির নায়েব হয়ে জুমার খুতবা দিবেন তাদেরকেও উল্লেখিত আয়াত ও হাদীস অনুসারে তাদের শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে মাতৃভাষায় খুতবা দেয়াটা শরীয়ত সম্মত এবং যুক্তি সংগত।

TWO RAKATS DUKHLUL MASJID EVEN KHUTBAH RUNNING,ITS WAJIB.STOP RED LIGHT:হুজুর যে লাল বাতি জ্বালিয়ে রেখেছে, তাহলে এ সুন্নত পালন করবে কে?

1W

মসজিদে গিয়ে যারা তাহ্যিয়াতুল মসজিদ নামায না পড়ে বসে পড়ে, তারা মূলতঃ রাসূল সা. এর নির্দেশ মান্য করলো না। বেপরোয়া মনোভাবের অধিকারী।
.
.
দেশের মহামান্য প্রেসিডেন্টের কিংবা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্যকারীর শাস্তি কি?
তাহলে রাসূল সা. এর নির্দেশ অমান্যকারীর পরিণতি কেমন হওয়া উচিত?
.
ভাবুন, আমলটি কষ্ট করে হলেও তামিল করা জরুরী নয় কি? আখেরাতের প্রভূত লাভের জন্য যারা পাগলপারা, তারা এ সকল গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের মাধ্যমে নিজেকে লাভবান করবে আশা করা যায়। আল্লাহ আমাদের খাঁটি বুজ দান করুন।

LOG ON FOR ORI COMMENTS- LAL-BATTI ..STOP IT
++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++
aa

হুজুর যে লাল বাতি জ্বালিয়ে রেখেছে, তাহলে এ সুন্নত পালন করবে কে?

সহিহ মুসলিম :: হাদিস ১৫৩৯
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসলামা (র) ইবনু কা-নাব (র), কুতায়বা ইবনু সাঈদ ও ইয়াহিয়া ইবনু ইয়াহিয়া (র) আবু কাতাদা (র) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ মাসজিদে প্রবেশ করে, তখন বসার আগে দু-রাক’আত স্বলাত আদায় করবে ।
তাখরীজঃ ই.ফা. ১৫২৪ , ই.সে. ১৫৩১আবূ কাতাদাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ মসজিদ প্রবেশ করবে, তখন সে যেন দু’ রাকআত নামায না পড়া অবধি না বসে।” (বুখারী ও মুসলিম)
তাখরীজ :: সহীহুল বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন ও সফটওয়ার) ৪৪৪, ১১৬৭, মুসলিম ৭১৪, তিরমিযী ৩১৬, নাসায়ী ৭৩০, আবূ দাউদ ৪৬৭, ইবনু মাজাহ ১০২৩, আহমাদ ২২০১৭, ২২০৭২, ২২০৮৮, ২২১৪৬, দারেমী ১৩৯৩

জাবের হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-এর নিকট এলাম, তখন তিনি মসজিদে ছিলেন। তিনি বললেন, “দু’ রাকআত নামায পড়।” (বুখারী, মুসলিম)
তাখরীজ :: সহীহুল বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন ও সফটওয়ার) ৪৪৩, ১৮০১, ২০৯৭, ২৩০৯, ২৩৯৪, ২৪৭০, ২৬০৩, ২৬০৪, ২৭১৮, ২৮৬১, ২৯৬৭, ৩০৮৭, ৩০৯০, ৫০৭৯, ৫২৪৫-৫২৪৭, মুসলিম ৭১৫, তিরমিযী ১১০০, ১১৭২, ২৭১২, নাসায়ী ৩২১৯, ৩২২০, ৩২২৬, ৪৫৯০, ৪৫৯১, ৪৬৩৭-৪৬৪১, আবূ দাউদ ২০৪৮, ২৭৭৬-২৭৭৮, ৩৩৪৭, ইবনু মাজাহ ১৮৬০, আহমাদ ১৩৭১৮, ১৩৭৬৪, ১৩৭৭২, ১৩৭৮০, ১৩৮১৪, ১৩৮২০, ১৩৮২২, দারেমী ২২১৬, ২৬৩১

আবূ হুরাইরা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিলাল -কে উদ্দেশ্য করে বললেন, “হে বিলাল! আমাকে সর্বাধিক আশাপ্রদ আমল বল, যা তুমি ইসলাম গ্রহণের পর বাস্তবায়িত করেছ। কেননা, আমি (মি’রাজের রাতে) জান্নাতের মধ্যে আমার সম্মুখে তোমার জুতার শব্দ শুনেছি।” বিলাল বললেন, ‘আমার দৃষ্টিতে এর চাইতে বেশী আশাপ্রদ এমন কোন আমল করিনি যে, আমি যখনই রাত-দিনের মধ্যে যে কোন সময় পবিত্রতা অর্জন (ওযু, গোসল বা তায়াম্মুম) করেছি, তখনই ততটুকু নামায পড়েছি, যতটুকু নামায পড়া আমার ভাগ্যে লিপিবদ্ধ ছিল।’ (বুখারী ও মুসলিম, এ শব্দগুলি বুখারীর)
তাখরীজ :: সহীহুল বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন ও সফটওয়ার) ১১৪৯, মুসলিম ২৪৫০৮, আহমাদ ৮১৯৮, ৯৩৮০

সহীহুল বুখারী :: হাদিস : ১১৬৩
মাক্কী ইবনু ইব্রাহীম (র)….. আবূ কাতাদা ইবনু রিব’আ আনসারী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের কউ মাসজিদে প্রবেশ করলে দু’ রাকা’আত স্বলাত (তাহিয়্যাতুল-মাসজিদ) আদায় করার আগে বসবে না।
তাহক্বীক:: মারফু হাদিস।
তাখরীজ :: ( বুখারীঃ তা.পা ৪৪৪) ( আ.প্র. ১০৮৯, ই.ফা. ১০৯৪)

সহিহ মুসলিম :: হাদিস ১৫৩৯
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসলামা (র) ইবনু কা-নাব (র), কুতায়বা ইবনু সাঈদ ও ইয়াহিয়া ইবনু ইয়াহিয়া (র) আবু কাতাদা (র) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ মাসজিদে প্রবেশ করে, তখন বসার আগে দু-রাক’আত স্বলাত আদায় করবে ।
তাখরীজঃ ই.ফা. ১৫২৪ , ই.সে. ১৫৩১

সহিহ মুসলিম :: হাদিস ১৯০৩
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী (ﷺ) জুমু‘আর দিন খুতবা দিচ্ছিলেন। তখন এক ব্যক্তি উপস্থিত হলে নবী (ﷺ) তাকে বলেন: হে অমুক! তুমি কি স্বলাত পড়েছ? সে বললো, না। তিনি বলেন, উঠে দাঁড়িয়ে স্বলাত পড়ো (তাহিয়্যাতুল মাসজিদ)।
তাখরীজঃ ই.ফা. ১৮৮৮ , ই.সে. ১৮৯৫

@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@

প্রশ্ন :অনেক মসজিদে দেখা য়ায় লাল বাতি থাকে এবং লিখা থাকে বাতি জ্বলার সময় নামাজ পড়া যাবে না!?
একথার সত্যতা কতটুকু?
উওর: আবু কাতাদাহ (রাঃ) হতে
বর্ণিত । তিনি বলেন ,রাসূলুল্লাহ (সাঃ)
বলেছেন ,যখন তোমাদের কেউ মসজিদে
প্রবেশ করবে ,তখন সে যেন দু’রাকাত
সালাত আদায় করা ব্যতীত না বসে ।
( বুখারী হা/৪৪৪ , ১১৬৭ ; মুসলিম হা/ ৭১৪ ;
তিরমিযী হা/ ৩১৬ ; নাসাঈ হা/ ৭৩০ ; আবু
দাউদ হা/ ৪৬৭ ; ইবনু মাজাহ হা/ ১১২৩ ;
আহমাদ হা/ ২২০১৭ , ২২০৭২ , ২২০৮৮ ,
২২১৪৬ ;দারেমী হা/ ১৩৯৩ ; রিয়াদুস
সালেহীন হা/ ১১৫১)
হাদীস:২: জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত ।
তিনি বলেন ,নবী করীম (সাঃ) এর খুৎবা
দানকালে সেখানে এক ব্যক্তি আগমন
করেন । তিনি তাকে বলেন , হে অমুক !
তুমি কি ( তাহিয়াতুল মাসজিদ ) সালাত
পড়েছ ? ঐ ব্যক্তি বলেন , না । নবী
( সাঃ ) বলেন , তুমি দাঁড়িয়ে সালাত
আদায় কর । অন্য হাদীসে বলা হয়েছে
তুমি সংক্ষিপ্ত ভাবে দুই রাকাআত
( তাহিয়াতুল মাসজিদ ) সালাত আদায়
কর ।
( বুখারী হা/৮৮৩ , ৮৮৪ ; মুসলিম হা/১৮৯৫ ,
১৮৯৬ , ১৮৯৭ , ১৮৯৮ , ১৮৯৯ , ১৯০০ ;
তিরমিযী ; ইবনে মাজাহ ; নাসাঈ
হা/১৪০৩ ; আবু দাউদ হা/১১১৫ , ১১১৬ ,
১১১৭)
প্রথম হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)
তাহিয়াতুল মাসজিদ সালাতের গুরুত্ব
বুঝিয়েছেন এবং এই সালাত না আদায়
করে বসতে নিষেধ করেছেন ।
দ্বিতীয় হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)
নিজে খুৎবা চলাকালীন অবস্থায় আগত
ব্যক্তিকে দাঁড় করিয়ে দুই রাকাত
তাহিয়াতুল মাসজিদ সালাত আদায়
করিয়ে এই সালাতের গুরুত্বের প্রমাণ
দিয়েছেন ।
আল্লাহ আপনাদের অন্ধ অনুসরণ থেকে
মুক্ত করে সহীহ হাদীসের উপর আমল
করার তাওফিক দিন।আমিন

লাল বাতি জালিয়েছে

06

এরাই আমাদের আলেম সমাজ।
এরা আল্লাহ ও রাসূল সাঃ-এর বিধানের লাল বাতি জালিয়েছে। (তাহিয়াতুল মসজিদের)

আসলে এরা তো এদের আমলের লাল বাতি জালিয়েছে, তা মুটেও অনুভব করছে না।
আল্লাহ্‌ বলেছেনঃ
وَاتَّبِعْ مَا يُوحَى إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا
আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়, আপনি তার অনুসরণ করুন। নিশ্চয় তোমরা যা কর, আল্লাহ সে বিষয়ে খবর রাখেন।
(সূরা আল আহযাব: ৩৩/০২)
এই ছবির কথা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়নি।
এরা সঠিক কথা বলে না, আল্লাহ্‌ বলেছেনঃ
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا
হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল।
(সূরা আল আহযাব: ৩৩/৭০)
.
১। আল্-কানাবী ………. আবূ কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসা সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তোমাদের কেউ মসজিদে পৌছে বসার পূর্বেই যেন দুই রাকাত (তাহিয়্যাতুল-মাসজিদ) নামায আদায় করে- (আবু দাউদ ইফাঃ ৪৬৭)
(বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

২। কুতায়বা (রহঃ) …… জাবির ইবনু আবদিল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ একবার জুমুআর দিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিচ্ছিলেন এমন সময় এক ব্যক্তি মসজিদে এসে উপস্থিত হ’ল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি কি (তাহিয়্যাতুল মসজিদের দু’রাকআত) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছ? সে বলল, না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ উঠ এবং সালাত (নামায/নামাজ) আদায় কর।
(তিরমিযী ইফাঃ ৫১০)
– ইবনু মাজাহ ১১১২, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫১০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

৩। মাক্কী ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) আবূ কাতাদা ইবনু রিব’আ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে দু’ রাকা’আত সালাত (নামায/নামাজ) (তাহিয়্যাতুল-মাসজিদ) আদায় করার আগে বসবে না।
(সহীহ বুখারী ইফাঃ ১০৯৪)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

৪। আবূ কাতাদাহ ইবনু রিব’আ আনসারী (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে দু’ রাক‘আত সালাত (তাহিয়্যাতুল-মাসজিদ) আদায় করার পূর্বে বসবে না।
(সহীহুল বুখারী তাওহীদ প্রঃ ১১৬৩)
(৪৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৮৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১০৯৪)

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

আল্লাহ বলেছেনঃ
وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنزَلَ اللَّهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ آبَاءنَا أَوَلَوْ كَانَ الشَّيْطَانُ يَدْعُوهُمْ إِلَى عَذَابِ السَّعِيرِ
তাদেরকে যখন বলা হয়, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তোমরা তার অনুসরণ কর, তখন তারা বলে, বরং আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে যে বিষয়ের উপর পেয়েছি, তারই অনুসরণ করব। শয়তান যদি তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তির দিকে দাওয়াত দেয়, তবুও কি?
(সূরা লোকমান: ৩১/২১)

[[Quraneralo কোর’আনের আলো]]

FRIDAY (JUMA) PRAYER[as per madhabi-sgis]

Image

FRIDAY (JUMA) PRAYER

Our scholars have said that saying the khutba is like saying “Allahu akbar” when beginning the namaz, which implies that both must be said only in Arabic. There are also savants who have said that it can be said in Persian or that it is permissible to say it in any language, but then it is tahrimi makruh according to those savants. It is makruh for the khatib to say things other than amr-i maruf in the khutba, even in Arabic. The Khatib first says the “A’udhu” silently, then says the “hamd-u-thena,” the kalima-i shahadat, and the salat-u-salam loudly. Afterwards he preaches, that is, sermonizes about things that bring rewards and torment, and then says an ayat. He sits down and stands up again. After saying the second khutba, he prays for the Muslims instead of preaching. It is necessary (mustahab) for him to mention the names of the four Khalifas (Hadrat Abu Bakr. Hadrat ‘Umar, Hadrat ‘Uthman, Hadrat Ali). It is not permissible to mention the names of the Sultan and the state authorities. It is haram to praise them with attributes they do not actually have. It has been said by savants that it is permissible to say prayers for them so that they will be just, benevolent, and victorious over their enemies, but when praying nothing must be said that might cause disbelief or haram. It is haram to insert a worldly speech into the khutba. The khutba must not be turned into a speech, a conference. He who praises cruel rulers and says that they are just, or who prays for enemies of religion when they are dead or alive, becomes a disbeliever. Also it is haram to praise a Muslim by lying. To preach in the khutba means to perform amr-i maruf and nahy-i anilmunkar. It does not mean to tell stories or to talk about politics, economics, or other worldly affairs. [Our Prophet (sallallahu alaihi wasallam) declared: “There will come such a time that monkey-natured, human- figured people will climb the minbar and teach you what is against the religion and their irreligiousness in the name of the religion.”] Khatibs, preachers, must be careful not to be among those people who are described in this hadith and not to serve as means for irreligiousness. Muslims must not listen to the khutbas and preachings of such people. It is written on the two hundred and eighty-first page of the explanatory book of Nur-al-izah, Tahtawi: “It is sunnat to say a short khutba, and it is makruh to say a long one.”

While explaining the khutba, the takbir of iftitah, and saying prayers in namaz, Ibni ‘Abidin says: “Saying the khutba in any language other than Arabic is like saying the takbir of iftitah in another language when beginning namaz. And this, in its turn, is like the other dhikrs of namaz. It is tahrimi makruh to say the dhikrs and the prayers within namaz in any language other than Arabic. It was prohibited by Hadrat ‘Umar.” He also says while explaining the wajibs of namaz: “Committing tahrimi makruh is a small sin, but a person who keeps doing it loses his justice.” It is written in Tahtawi: “A person who keeps committing small sins becomes sinful. We must not perform namaz behind those imams who are sinful or who commit bidats; instead, we must perform namaz in another mosque.” The Sahaba and the Tabiin always said the khutbas in Arabic both in Asia and in Africa. For it is bidat and makruh to say the khutba in another language. This was done even when those who listened did not know Arabic and did not understand the khutbas. Nor did they have any religious information. It was necessary to teach them. But still they said the khutbas in Arabic. It is said in the book Al-adillatul-kawati’ written by Muhammad Viltori, an Indian scholar and published in 1395 [1975]: “It is bidat to say the khutbas of Friday and ‘Iyd in any language except Arabic, either completely or partially. It is tahrimi makruh. An imam who continuously does so should not be followed when performing namaz in jamaat.” This fatwa is in Arabic. It was printed in Istanbul in 1396 [1976]. For six hundred years, Islamic savants in Turkey had been desiring to have the khutba said in Turkish so that the people could understand it, yet apprehending that the khutba might not be accepted, they did not allow it. Instead, they appointed Friday preachers who explained the meaning of the khutba before or after the namaz. Thus the jamaat learned what was said during the khutba.

Hadrat Sayyid Abdulhakim Arwasi (Quddisa sirruh) said: “To worship means to do the commandments. It is worship to read the Qur’an al-karim and to say the khutba. We have not been commanded to understand their meanings. Therefore, it is not an act of worship to understand them. Understanding the Qur’an al-karim requires learning the seventy-two subsidiary branches of knowledge along with its eight main branches. It is only after this that one begins to have the aptitude for understanding the Qur’an al-karim. And still, one can only understand it if Allahu ta’ala graces one with the lot. To say that everyone must understand the Qur’an al-karim is to belittle the religion. For understanding the Qur’an al- karim, a person with great talents has to work for ten years and one with average talents has to work for fifty years. Therefore, we with little ability can not understand it even if we study for a hundred years. In the Shariat, what is called knowledge is useful information. Useful information is the information that serves as a means for obtaining endless bliss, that is, for receiving Allah’s love. This information is called Islamic knowledge.”

The fifth condition is to say the khutba before the namaz. It must be said in the presence of discreet men who have reached the age of puberty. But it is not a condition for the jamaat to under stand it.

[It is written in Hindiyya, in Durr-ul-mukhtar, and in Imdad: “One man’s presence during the khutba is sufficient. If the entire jamaat is deaf or asleep, the khutba will be accepted. But the khutba listened by women without a man being present is not accepted.” As we have discussed earlier, it is not necessary for the jamaat to understand the khutba, and it is not even necessary for them to hear it. It is written in Durr-ul-mukhtar: “Saying the khutba in any other language is like saying Allahu akbar (in another language) when beginning namaz. The same applies to the prayers and tasbihs in namaz.” Ibni ‘Abidin, says, “According to Imam-i Azam, it is permissible for an imam who can recite them in Arabic to recite them in any other language. [It is written in Majma’ul-anhur that Imam-i Azam’s latest ijtihad was the same as that of the Imamayn.] It is written in Walwaljiyya that it is an act of worship to say the takbir of namaz and that Allahu ta’ala does not like its being said in another language. Therefore, even if it is permissible to say it wholly or partially in another language, it is tahrimi makruh within worships and tanzihi makruh outside of worships. It is unanimously reported that during salat to recite the ayat-i karima in other languages is not jaiz (permissible). The fatwa has also been given accordingly.” Writing their ijtihad agreeably with that of our Imamayn, the imams of the other three Madhhabs said that the khutba said in another language by a person who can read Arabic is not accepted. It is written in Badayi: “Saying the khutba partly in Arabic and partly in another language spoils the Arabic verse, which is makruh.” A person who says it in another language has deviated from the way of the Salaf-i-salihin and has committed a bidat. It is declared in the hundred and fourteenth (114) ayat of Nisa sura that the deviated people will go to Hell. And those who use a television or a loudspeaker in their worships should take this into account].

According to Imam-i Azam, by only saying “Alhamdu lillah” or “Subhanallah” or “La ilaha il-lal-lah” the khutba will have been completed. However, it is tanzihi makruh. According to the Imamayn, it is necessary to prolong it long enough to say the prayer of Attahiyyatu. It is sunnat to make two short khutbas. It is sinful not to sit between the two khutbas. Our Prophet (sallallahu alaihi wasallam) would say an ayat or a sura in the Friday khutba. In the khutba or for any other occasion the A’udhu and the Basmala is said before saying a sura. According to the majority of the ‘ulama, only the A’udhu is said before saying an ayat. The Basmala is not said. It is sunnat for the Khatib to wear a black robe and to perform the sunnat on the right hand side of the minbar before the khutba. It is sunnat to say the khutba standing.

The sixth condition is to perform the Friday prayer in jamaat. Three men other than the imam in Hanafi, forty in Shafi’i, and twelve in Maliki, are sufficient. It is acceptable if the entire jamaat listening to the khutba leave and other people come and perform the namaz. The jamaat may also be formed by musafirs or by the invalid in Hanafi Madhhab.

The seventh condition is for the mosque to be open for everybody. If the door is locked and the namaz is performed inside the mosque it will not be accepted. However, it does not hurt the namaz not to allow women into the mosque in order to prevent fitna.

There are nine conditions of wujub for the Friday prayer. That is, for it to be fard for a person requires the existence of the nine conditions that follow: 1- To live in a city or town. It is not fard for musafirs or for villagers. It is fard for a villager who is in a city and who hears the adhan. It is fard for a person whose house is one fersah, that is, one hour [six kilometers], from the outskirts of the city. 2- To be healthy. It is not fard for a sick person, for a person who looks after a sick person when he cannot leave, or for a very old person. 3- To be free. Friday prayer is fard for workers, for civil servants, for soldiers. Their bosses and directors cannot prohibit them from namaz. If the way is long so that they cannot work for a few hours, they can cut their wages. 4- To be a man. Friday prayer is not fard for women. 5- To be discreet and at the age of puberty. 6- Not to be blind. It is not fard for a blind person even if he has someone to lead him. But it is fard for a blind person who can walk along streets without anyone to help him and for a sick or squint-eyed person. 7- To be able to walk. Even if there are vehicles, it is not fard for a paralyzed person or for a person without feet. 8- Not to be in prison, not to have fear of an enemy, the government, or the cruel. 9- There must not to be too much rain, snow, or mud. And the weather must not to be too cold.

A man who does not have one of these conditions may perform Friday prayer if he wants to. The hadith ash-Sharifs declaring that Friday prayer is not fard for women are written in Tafsir-i Mazhari and in Mishkat-ul-masabih.

A musafir or a sick person may conduct Friday prayer. It is haram for a person who has neglected a Friday prayer without a good excuse to perform the early afternoon prayer in a city before the Friday prayer is performed. But later it becomes fard for him to perform the early after noon prayer. It is makruh for those who have omitted the Friday prayer with a good excuse to perform the early afternoon prayer in a jamaat in the city.

A person who arrives while the imam is sitting or making the sajda-i sahw begins to follow the imam. When the imam makes the salam he stands up and completes the two rakats of Friday prayer. The same applies for a person who arrives late for the namaz of ‘Iyd.

After the imam climbs the minbar, it becomes haram for the jamaat to perform namaz or to talk. As the Khatib prays the jamaat must not say “amin” loudly. They say it silently. Also, they say the salawat not loudly but silently through their hearts. In short, everything that is haram to do while performing namaz is haram while listening to the khutba, too. It is haram also for those who are far behind and cannot hear the khutba. It is permissible to warn and save those who are in danger of a scorpion, a thief, or a well. It is good to warn such people by signaling with the hand or head. It is makruh for muazzins to shout prayers during the khutba.

It is fard for every Muslim who hears the first adhan for the Friday prayer to stop his work, shop ping, or whatever he is doing, and to go to the mosque for the namaz. The first adhan did not exist during the time of our Prophet (sallallahu alaihi wasallam). The adhan used to be said only in front of the minbar. Hadrat ‘Uthman (radiallahu anh) ordered the first adhan during his caliphate. Rasulullah’s minbar was on the left hand side of the mihrab and had three steps. [A person who stood towards the qibla in front of the mihrab would have had the minbar on his right hand side and the Hujra-i saadat on his left.] It is an unpleasant bidat to say the second part of the khutba after descending on the lower step and then to ascend back to the higher step.

It is tahrimi makruh for the Khatib to talk about worldly affairs between the khutba and the namaz. He may advise to follow the commandments and to avoid the prohibitions. If he delays the namaz by talking about things that are not a part of the khutba, his khutba will not be accepted. He will have to say the khutba again. It is permissible for a child to say the khutba, yet the namaz must be conducted by the imam. On Friday it is permissible to set out on a journey before noon. However, after noon it is makruh before performing the Friday prayer.

In cities conquered by warfare, such as the blessed Mecca and Bursa, the Khatib holds a sword in his left hand when he mounts the minbar. He says the khutba leaning on the sword.

If the adhan is said while a person is eating, he stops eating if otherwise the prayer time will expire. If he will only be late for the jamaat he does not stop eating. He performs namaz alone. But he must not miss the jamaat if it is a Friday prayer.

If a villager comes to the city for Friday prayer and to shop, if his intention for the namaz is stronger (than his intention for shopping) he attains the blessings of coming for the Friday prayer. The blessings of namaz are other than that. He will likely attain those blessings. Likewise is the case with every kind of worship mixed with some worldly intentions. [See the beginning of Hajj in the fifth fascicle.]

Before the khutba begins, it is permissible to pass through the lines (of Muslims) in order to be closer to the minbar and the mihrab, provided that you will not step on others’ shoulders and clothes. While the khutba is being said, it is haram to change your place or to vex those sitting beside you by pressing against them. It is haram to beg among the jamaat or to give alms to a person who does so. Such a beggar must be sent out of the mosque.

On Friday there is a moment at which any dua (prayer) will be accepted. There are many savants who say that that moment is between the khutba and the Friday prayer. During the khutba all prayers must be sent through the heart. It is not permissible to say them aloud. That moment is different for every city. Friday itself is more valuable than Friday night. During the day or at night there are many blessings in reciting Sura-i kahf. [Tafsir-i Mazhari].

It is sunnat to make a ghusl ablution, to put on fragrant scents (alcohol-free), to put on new, clean clothes, to have a haircut, to cut the nails, to burn incense in the mosque, to make Tabkir [to come to the mosque early] for Friday prayer. It is written in the fifth volume of Durr-ul-mukhtar: “It is sunnat for every Muslim to have a haircut and to cut his nails before or after Friday prayer on Fridays. It is better to do these after the prayer. As a matter of fact, these are done after the hajj. He who does not cut them on Friday has to cut them some other day. He must not wait until next Friday to cut them. In war time it is mustahab to grow the nails and moustache. It is mustahab to get clean by bathing and shaving the hairs in the arm-pits and pubes every Friday. It is permissible to clean the hairs with a chemical [with a razor blade, or Rosma powder] or by plucking. It is permissible to clean them every fifteen days, too. It is tahrimi makruh not to clean them for more than forty days.” It is written in the Imdad explanation of Tahtawi that it is mustahab to remove the hairs around the anus.

The sustenance of a person with long nails comes with difficulty, with trouble. A hadith declares: “A person who cuts his nails on Friday becomes safe from calamities for one week.”

It is bidat to shave the moustache. It is sunnat to clip the moustache so as to shorten it to the length of the eye-brows. It is sunnat to grow the beard as long as a small handful and to cut the parts longer than that. It is permissible to pull out the white hairs among the beard and moustache. It has been said by savants that the beard longer than one small handful is a sign of a weak mind.

[It is written within the subject concerning the fards of ghusl in [Tabyin], and in its explanation of Shilbi ‘rahmatullahi ta’ala ‘alaih’: “A hadith ash-Sharif, which exists in Muslim, declares, ‘Ten acts are sunnat: To clip the moustache, to grow the beard, to use miswak, madmada, (or mazmaza, to rinse out the mouth with water when making an ablution), istinshaq. (snuffing up water into the nostrils when making an ablution), to cut the nails, to wash the toes, to clean the arm-pits, to clean the pubes, and istinja with water.’ ” It is declared clearly in the hadith ash-Sharif that it is sunnat to grow a beard. It is sunnat to grow a beard as long as one handful and to cut it when it is longer than one handful. To shave the cheeks and to grow a beard only on the chin, as some people do, is to change the sunnat. Nor is it compatible with the sunnat to grow a beard less than a handful.

Maintaining a short beard with the intention of following the sunnat is bidat. It is haram. It becomes wajib to grow such a short beard as long as a handful. It is makruh to shave a beard just because it is customary and in order to do as all other people do. But when you live among disbelievers it is permissible and even necessary to shave it altogether for fear you will be mocked, oppressed, or lest you will commit an act of disbelief or haram, in order to carry out the commandments, earn your living, perform amr-i maruf and nahy-i anilmunkar to youngsters, serve Islam, help the oppressed, or to prevent fitna. These reasons above are excuses for not doing the sunnat. But they are not excuses for committing bidat.

It is written in the book Al-halal wal-haram: “A hadith ash-Sharif declares, ‘Act contrary to polytheists. Grow your beard!’ [The author of this book, Yusuf Qardawi, proclaims himself to be a laMadhhabi in its preface. Therefore, his statements cannot be witnesses. Yet he explains this hadith ash-Sharif correctly and compatibly with the Ahl-as-sunnat.] Ibni Taymiyya said that this hadith shows that it is haram to shave a beard. The book Fath, quoting from Iyad, says that it is makruh. There are also those who say that it is mubah. The truth is that the hadith ash-Sharif does not show that it is wajib to grow a beard. No savant has inferred that it is wajib to dye the beard from the hadith: ‘Jews and Christians do not dye their beard. Act contrary to them and dye (your beard)!’ These hadith ash-Sharifs show that it is mustahab. The Salaf-i salihin did not shave their beards; at that time it was customary to grow a beard.” He who slights the beard becomes a disbeliever. It is haram to shave in order to look pretty or to make your face bright like that of a woman or to shave the chin and grow hair on the cheeks. For it is haram for men to imitate women and for women to imitate men. It is written in Kimya-i saadat, at the end of the chapter dealing with wudu that it is makruh to shave the beard in order to look young and beautiful, without thinking of resembling a woman. It is makruh for women to shave their hair without an ‘udhr (excuse). It is haram for women to cut their hair like a man’s hair. Women have been prohibited by a hadith ash-Sharif to shave their heads or to gather their hair together to make a knot like the lump of a camel on top of the head or on the neck. This hadith ash- Sharif is quoted in Bariqa and Hadiqa, and in Yusuf Qardawi’s Al-halal wal-haram fil- Islam. If it is difficult for a woman to cover her long hair, or if it would cause fitna, it is permissible for her to have it cut and shorten it up to the ear lobes.

It is written in Hadiqat-un-nadiyya, on the hundred and forty-first page: “Sunnats are of two kinds: sunnat-i huda and sunnat-i zawaid. Sunnat-i huda are like i’tikaf in a mosque, calling the adhan or iqamat, and performing salat in jamaat. They are the characteristic traits of Islam, properties peculiar to this Ummat. [It is written in Ibni Abidin, at the end of the last volume that circumcision of children is also a sunnat of this kind.] If the inhabitants of a city abandon any one of these sunnats, they are to be fought against. The rawatib, that is, the muakkad sunnats, of three of the fard five daily prayers are of this kind, too. Sunnat-i zawaid involve doing the customs which Rasulullah, (sallallahu ‘alaihi wa sallam), habitually did in clothing, eating, drinking, sitting, housing, sleeping, walking, beginning the good deeds with the right-hand side, eating, and drinking with the right hand.” It is written in the second volume, page five hundred and eighty-two, “In some hadiths, dyeing the beard has been ordered. In some others, it has been prohibited. It has been declared: “Christians dye. You must not dye. Do not be like them!” This is why some of the salaf-i salihin dyed and some others did not. For, it is not wajib to obey this order or prohibition. Therefore, in this respect, the custom of the city in which one is living is to be followed. It is an act of notoriety not to follow the local customs and usage. It is makruh.” In the second volume, page three hundred and twenty-four of the book At-tafhimat by Shah Waliyyullah-i Dahlawi, an alim from India, the great alim Muhammad Thanaullah PaniPuti declares; “Rasulullah (sallallahu ‘alaihi wa sallam) used to cover his head with a head-scarf, wear an antari (loose long robe), strapped shoes and the like. The Khalifa ‘Umar (radiallahu ‘anh) also ordered his soldiers in Azarbaijan to clothe themselves in this way. But, today, it is not customary to clothe one’s self in this way. It brings notoriety not to wear things customary in a country. It causes one to be pointed out, fitna. A hadith ash-Sharif declares: “Being singled out is an evil enough for any person.” Therefore, it is necessary to follow the Muslims’ customary usage in clothing. It was customary among believers in the time of Hadrat ‘Umar to wear loose long robes, head-scarfs and strapped shoes. Wearing them in this way did not cause distinction, fame or being singled out.” But it would cause trouble today. Imam-i Rabbani states in his three hundred and thirteenth letter: “It is understood from valuable Hanafi books that Muslim women used to wear antaris (long robes) open in the front. It is necessary for men to wear antaris closed in the front in places where women wear them open, and open in the front where women wear them closed. Fame brings calamities. It causes disasters.” In the two hundred and eighty-eighth letter, he states: ” ‘May Allah’s curse be upon the one who arouses mischief!’ is a hadith ash-Sharif.”

This is why Abdulhak-i Dahlawi (rahmatullahi ta’ala ‘alaih) in the first volume, page two hundred and twelve of Ashi’at-ul-lama’at, has said it is wajib to grow a beard as long as a handful in his explanation of the hadith ash-Sharif, “Ten beautiful things are Prophets’ sunnats.” The reason why he says wajib about growing a beard, separating it from the others while these ten things are clearly classified as sunnats in the hadith ash-Sharif, is because it will cause fitna to shave or to grow a beard shorter than a handful in places where it is customary to grow a beard. For, a person who incites fame or arouses fitna has been cursed in a hadith ash-Sharif. As shaving the beard will cause fitna in a place where it is a custom to grow a beard, so it may arouse fitna to grow a beard in places where it has become customary to shave the beard. Growing a beard shorter than a handful, however, is a bidat. In order not to cause this fitna or bidat, it becomes wajib for a Muslim to shave his beard to follow the custom of the country in which he lives. It is written on the one hundred and forty-eighth page of Al-Hadiqa: “Committing a bidat is more harmful than abandoning a sunnat. A bidat should be avoided while a sunnat need not be done.” It is necessary to follow the custom of a country in order not to cause fitna concerning the mubahs and the things that are permissible, and in the sunnat-i-zawaids. But, in doing things that are fard, wajib, sunnat-i huda, and in keeping away from harams, makruhs and bidats, customs are not to be followed. These may be altered only in cases involving appropriate excuses and to the extent prescribed in the fiqh books. This hadith ash-Sharif shows clearly that growing a beard is not Islam’s characteristic sign, that it is not peculiar to the din of Islam, and therefore, that it is not sunnat-i huda. Hence, it is seen that growing a beard is sunnat-i zawaid. For the professional men of the din, it is never permissible, that is, not even with an excuse to follow the customs, to omit the sunnat-i zawaid or the mustahabs. Such people should always grow a beard as long as a handful. It is an alteration of the sunnat to keep a beard shorter than a handful. Calling the short beard a sunnat is bidat, which is a grave sin. It is written in fiqh books that no savant said it is mubah to keep a beard shorter than a handful. A handful is four fingers in width. Measuring it is done by beginning from the lower lip. It is fard for a person who keeps a beard to wet the skin under the beard when performing a ghusl. If he does not wet it, his ghusl and his ablution and consequently his namaz will not be sahih.

It is permissible for men to dye their hair or beard any color except black. Also there are those savants who have said that it is permissible to dye it black, too. It is not permissible for them to dye their hands, feet, or nails. For it would be an act of imitating a woman. It is permissible for a woman to dye those parts with a dye, provided that it will not prevent them from being washed in an ablution and in a ghusl, and provided they will not show them to men.

It is written on the twelve hundred and twenty-ninth page of the second volume of the 1284 – Istanbul edition of the book Bariqa by hadrat Muhammad Hadimi (rahmatullahi ta’ala ‘alaih): “It is not permissible for women to shave their hair and for men to shave their beard. If a woman has a beard she is permitted to shave it. A hadith ash-Sharif declares: “Shorten your moustache! Grow your beard.” According to this command, it is against the sunnat to shave the beard. If this hadith ash-Sharif denoted wujub, it would be haram to shave the beard. The book Tatarhaniyya says, borrowing from Tajnis, that this hadith ash- Sharif means: ‘Do not shave your beard, nor grow it shorter than a small handful’. Such statements as, ‘A person who shaves his beard or who grows it shorter than a handful is not permitted to be the imam. Also the namaz which he performs alone becomes makruh. He is accursed and refused both in this world and in the next,’ which are said to have been derived from Tahtawi, or words like them that are said to have been derived from Tafsir-i Qurtubi, do not have any foundation, nor have they been proven to be true.” It is written on the thirteen hundred and thirty-sixth page, “It is also haram for women to slenderize their eye-brows by plucking them, and it is permissible for them to pull out or to shave the hairs growing on their foreheads, cheeks, and chins.” After cutting the hair, the beard or other hairs, the hairs cut must be buried or put on a grave or on a place that is not trodden upon, or in the sea. It is not sinful to throw them away. It is makruh to throw them into toilets or into wash-basins where kitchen utensils are washed. It is makruh to cut the nails with the teeth. It causes the disease called speckles. It is haram for women to show their cut parts to men.

It is sunnat for men to shave their head or to grow their hair and comb it by parting it into two. It is makruh for them to curl or plait their hair. It is written in the book Bahr-ur-raiq, in the chapter Al-karihiyya: “It is permissible for a man to shave the top of his head and grow the surrounding hair. Yet it is makruh to curl and plait it. To plait the hair is to be like some kafirs (disbelievers.)” Also it is seen that it is makruh, not haram to do something forbidden because it is like the customs of disbelievers. Therefore, the hadith ash-Sharifs “Do not be like mushriks (polytheists). Grow a beard!” and “Perform your salat with na’ls on. Do not be like the Jews!” shows that it is makruh, not haram to shave the beard and to perform salat with bare feet. See the chapter on the makruhs of namaz, article 25!

It is makruh to fast only on Fridays or to perform the namaz of tahajjud (the namaz performed after midnight) only on Friday nights. It is haram to perform any namaz when the sun is right on top, [that is, during the time beginning from the moment as long before the time of early afternoon prayer as the time called Tamkin till the noon prayer.] A more dependable word is that of those savants who say that it is haram to perform any namaz during that time even on Fridays.

On Fridays souls come together and meet one another. Graves are visited. Torment in graves is stopped on that day. According to some savants, believers’ torment does not begin again. But a disbeliever’s torment continues until Rising Day except on Fridays and in Ramadan. Those believers who die on that day or during that night are never tormented in their graves. Hell is not very hot on Friday. Hadrat Adam (alaihissalam) was created on Friday. He was taken out of Paradise on Friday. Those who will be in Paradise will see Allahu ta’ala on Fridays.

The following passage is translated from Riyad-un-nasihin:

Allahu ta’ala has assigned Friday to Muslims. He declares at the end of Juma sura: “O my slaves who have been honored with iman! When the adhan (adhan) of early afternoon prayer is said on Friday run to the mosque to listen to the khutba and to perform Friday prayer. Stop buying and selling! Friday prayer and the khutba are more useful to you than your other affairs. After performing Friday prayer you may leave the mosque and disperse so that you can do your worldly affairs. You work, and expect your sustenance from Allahu ta’ala. Remember Allahu ta’ala very often so that you will be saved!” After the namaz those who want to work may go out to work, and those who want to spend their time reading the Qur’an al-karim and praying may stay in the mosque. Buying and selling is sahih during the prayer time, yet it is sinful. Rasulullah (sallallahu alaihi wasallam) declared: “If a Muslim makes a ghusl and goes to the mosque for Friday prayer, his week’s sins will be forgiven and he will be given blessings for each step.” A hadith ash-Sharif declares: “The most valuable of days is Friday. Friday is more valuable than the days of ‘Iyd and the day of Ashura (the tenth day of Muharram). Friday is the believers’ day of feast in this world and in the next.” Another hadith ash-Sharif declares: “Allahu ta’ala seals the hearts of those who do not perform the Friday prayer. They become unaware.” Another hadith declares: “If a person does not perform three Friday prayers though there is no hindrance, Allahu ta’ala seals his heart. That is, he can never do any good.” A person who does not perform a series of three Friday prayers without a good excuse becomes a munafiq. Abu Ali Daqqaq advised three things as he died: “On Friday perform a ghusl! Every night go to bed with an ablution! Remember Allahu ta’ala every moment!” A hadith ash-Sharif declares: “On Fridays there is a moment when any prayer a believer sends is not refused.” Some savants said that that moment is between the late afternoon and evening adhans. Another hadith ash- Sharif declares: “If you say a certain prayer, (which exists in the original hadith and in the Turkish original of Endless Bliss), before the morning prayer of Friday all your sins will be forgiven.” [But this is conditioned upon your having paid all your (material and spiritual) debts which you owe to creatures, performed the prayers of namaz which you have omitted, and ceased from committing harams.] Another hadith declares: “If a person says the sura of Ikhlas and the suras of Mu’awwazatayn seven times after Friday prayer Allahu ta’ala protects him against calamities, troubles and evil deeds for one week.” Worships done on Friday are given at least twice as many blessings as those that are given for worships done on other days. And sins committed on Friday are registered two-fold. A hadith ash-Sharif declares: “As Saturday was given to Jews and Sunday to Christians, Friday was given to Muslims. On this day there are uses, barakats and goodness for Muslims.”

[NOTE:-This page for Print copies of the information for my personal use.
Store the files on my own computer for my personal use;
Reference this server from my own documents. ]