Category Archives: Jannati Women

বিবাহে প্রচলিত কু-প্রথা

বিবাহে প্রচলিত কু-প্রথা:
১. চন্দ্র বর্ষের কোন মাসে বা কোন দিনে অথবা বর/কনের জন্ম তারিখে বা তাদের পূর্ব পুরুষের মৃত্যুর তারিখে বিবাহ শাদী হওয়া অথবা যে কোন শুভ সৎ কাজ করার জন্য ইসলামী শারী’য়াতে বা ইসলামী দিন তারিখের কোন বিধি নিষেধ নেয়। বরং উপরিউক্ত কাজগুলো বিশেষ কোন মাসে বা যে কোন দিনে করা যাবে না মনে করাই গুনাহ।

২. বিবাহ উৎসবে অথবা অন্য যে কোন উৎসবে পটকা-আতশবাজি ফুটান, অতিরিক্ত আলোকসজ্জা করা, রংবাজী করা বা রঙ দেওয়ার ছড়াছড়ি ইসলামের দৃষ্টিতে অবৈধ ও অপচয়। আল্লাহু-তা’য়ালা বলেনঃ
إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ ۖ وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِرَبِّهِ كَفُورًا
“নিশ্চয় অপচয়কারী শয়তানের ভাই। আর শয়তান হচ্ছে তার প্রভুর প্রতি বড় অকৃতজ্ঞ।” (বানী ইসরাঈল-২৭)

৩. বাঁশের কুলায় চন্দন, মেহদি,হলুদ, কিছু ধান-দূর্বা ঘাস কিছু কলা, সিঁদুর ও মাটির চাটি নেওয়া হয়। মাটির চাটিতে তেল নিয়ে আগুন জ্বালানো হয়। স্ত্রী ও বরের কপালে তিনবার হলুদ লাগায় এমনকি মূর্তিপূজার ন্যায় কুলাতে রাখা আগুন জ্বালানো চাটি বর-কনের মুখের সামনে ধরা হয় ও আগুনের ধুঁয়া ও কুলা হেলিয়ে-দুলিয়ে বাতাস দেওয়া হয়। এসব হিন্দুয়ানী প্রথা ও অনৈসলামিক কাজ।

৪. বরের আত্মীয়রা কনেকে কোলে তুলে বাসর ঘর পর্যন্ত পৌছে দেওয়া অথবা বরের কোলে করে মুরুব্বীদের সামনে স্ত্রীর বাসর ঘরে গমনের নীতি একটি বেহায়াপনা, নিরলজ্জতা ও অনৈসলামিক কাজ।

৫. বরের ভাবী ও অন্য যুবতী মেয়েরা বরকে সমস্ত শরীরে হলুদ মাখিয়ে গোসল করিয়ে দেওয়া নির্লজ্জ কাজ যা ইসলাম সমর্থন করে না।

৬. বর ও কনেকে হলুদ বা গোসল করতে নিয়ে যাওয়ার সময় মাথার উপর বড় চাদর এর চার কোনা চার জনের ধরা হিন্দুয়ানী প্রথা।

৭. বিবাহ করতে যাওয়ার সময় বরকে পিড়িতে বসিয়ে বা সিল-পাটাই দাড় করিয়ে দই-ভাত খাওয়ান ইসলামিক প্রথা নয়।

৮. বিবাহ কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর বরকে দাড় করিয়ে সালাম দেওয়ানোর প্রথা রাসুল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তার সাহাবীদের (রাযি আল্লাহু আনহুম) দ্বারা প্রমানিত নয়।

৯. বর ও কনের মুরুব্বীদের কদমবুসি করা একটি মারাত্মক কু-প্রথা। বিয়ে তো নয় এমনকি যে কোন সময় কদমবুসি করা রাসুল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তার সাহাবীদের (রাদ্বি আল্লাহু আনহুম) দ্বারা কোন কালে প্রমানিত নয়। কদমবুসি করার সময় স্বলাতের রুকু-সিজদার মত অবস্থা হয়। বেশি সম্মান প্রদর্শন করতে গিয়ে হিন্দুয়ানী প্রণামকে প্রথা হিসেবে নিয়ে আসা মুমিনদের বৈশিষ্ট্য নয়।


আমাদের বর্তমান প্রচলিত বিয়েশাদী ও এইসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ কতটা শরীয়তসম্মত। বিশেষ করে নিম্নের বিষয়গুলির বেপ্যারে শরীয়ত কি বলে?
১. গায়ে হলুদ ও এর কার্যাবলী
২. বিয়ের কয়েকদিন আগে থেকেই অতসবাতি, গানবাজনা, আলোকসজ্জা
৩. বিয়ের অনুষ্ঠানে গানবাজনা, ছেলেমেয়ের মেলামেশা (শেজেশুজে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন), একসাথে (ছেলেমেয়ে) টেবিলে বসে খাওয়াদাওয়া
৪. এইরূপ অনুষ্ঠানে যোগদানের বেপারে শরীয়তের দৃষ্টিভঙ্গি কি?

ans- http://www.hadithbd.com/share-qa.php?qid=197

দরিদ্র শ্রেণী জান্নাতে / জাহান্নামে প্রবেশ করেছে অধিকাংশই মহিলা জাতি

ax

সহিহ মুসলিম/৬৮৩০

‘উসামাহ্‌ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (মি‘রাজের রাতে) আমি জান্নাতের প্রবেশদ্বারে দাঁড়ালাম। প্রত্যক্ষ করলাম, যারা জান্নাতে প্রবেশ করছে তাদের অধিকাংশই দরিদ্র শ্রেণী, মিস্‌কীন আর ধনীদেরকে দেখলাম বন্দী অবস্থায়। যারা জাহান্নামবাসী হিসেবে পরিগণিত হয়েছে তাদেরকে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার আদেশ করা হয়েছে। আর আমি জাহান্নামের প্রবেশদ্বারে দাঁড়িয়ে দেখলাম যে, যারা জাহান্নামে প্রবেশ করেছে তাদের অধিকাংশই মহিলা জাতি। (ই.ফা. ৬৬৮৬, ই.সে. ৬৭৪১)

মুসলিম মহিলাদের পর্দা এবং মুখ ঢাকার অপরিহার্যতা : হাদীছ থেকে দলীল

ww

মুসলিম মহিলাদের পর্দা এবং মুখ ঢাকার অপরিহার্যতা :

হাদীছ থেকে দলীল :
প্রথম দলীল : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,
ﺇِﺫَﺍ ﺧَﻄَﺐَ ﺃَﺣَﺪُﻛُﻢُ ﺍﻣْﺮَﺃَﺓً ﻓَﻼَ ﺟُﻨَﺎﺡَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺃَﻥْ ﻳَّﻨْﻈُﺮَ ﺇِﻟَﻴْﻬَﺎ ﺇِﺫَﺍ ﻛَﺎﻥَ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻳَﻨْﻈُﺮُ ﺇِﻟَﻴْﻬَﺎ ﻟِﺨِﻄْﺒَﺘِﻪِ ﻭَﺇِﻥْ ﻛَﺎﻧَﺖْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻢُ –
‘যখন তোমাদের কেউ কোন মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিবে, তখন তাকে দেখাতে কোন গুনাহ হবে না। তবে কেবল বিয়ে করার উদ্দেশ্যেই দেখতে হবে, যদিও মেয়ে জানতে না পারে’।[1]
অত্র হাদীছে দলীল গ্রহণের দিক হ’ল নবী করীম (ছাঃ) বিশেষভাবে বিয়ের প্রস্তাব দানকারীর জন্য প্রস্তাবিত মেয়ের প্রতি তাকানোকে অপরাধ হিসাবে গণ্য করেননি। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, বিয়ের প্রস্তাবকারী ব্যতীত অন্য কেউ কোন অপরিচিতার দিকে তাকালে সর্বাবস্থায় পাপী হবে। অনুরূপভাবে প্রস্তাবকারী বিয়ের প্রস্তাব ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে তাকালে যেমন আনন্দ ও মজা পাওয়া বা অনুরূপ কোন কারণে তাকালে পাপী হিসাবে গণ্য হবে। যদি কেউ বলে কোন্ অঙ্গের প্রতি তাকাবে এটা তো হাদীছে বর্ণিত হয়নি। সুতরাং এর দ্বারা মেয়ের গ্রীবা ও বক্ষদেশের প্রতি তাকানো অর্থ হ’তে পারে? উত্তরে বলব, এ কথা সকলে জানে যে প্রস্তাবকারীর মূল উদ্দেশ্য মেয়ের সৌন্দর্য দেখা। আর সেটা হ’ল চেহারার সৌন্দর্য। এছাড়া তার অনুগামী অন্যান্য অঙ্গগুলির প্রতি অধিকাংশ সময় লক্ষ্য করা হয় না। প্রস্তাবকারী কেবল চেহারার দিকে তাকায়; কারণ সৌন্দর্য পিয়াসীর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সন্দেহাতীতভাবে সেটাই। (অতএব মুখমন্ডল পর্দার অন্তর্গত)।
২য় দলীল :
ﻋَﻦْ ﺃُﻡِّ ﻋَﻄِﻴَّﺔَ ﻗَﺎﻟَﺖْ ﺃَﻣَﺮَﻧَﺎ ﺭَﺳُﻮْﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺃَﻥْ ﻧُﺨْﺮِﺟَﻬُﻦَّ ﻓِﻰْ ﻳَﻮْﻡِ ﺍﻟْﻔِﻄْﺮِ ﻭَﺍﻟﻨَّﺤْﺮِ . ﻗَﺎﻝَ ﻗَﺎﻟَﺖْ ﺃُﻡُّ ﻋَﻄِﻴَّﺔَ ﻓَﻘُﻠْﻨَﺎ ﺃَﺭَﺃَﻳْﺖَ ﺇِﺣْﺪَﺍﻫُﻦَّ ﻻَ ﻳَﻜُﻮْﻥُ ﻟَﻬَﺎ ﺟِﻠْﺒَﺎﺏٌ ﻗَﺎﻝَ ﻓَﻠْﺘُﻠْﺒِﺴْﻬَﺎ ﺃُﺧْﺘُﻬَﺎ ﻣِﻦْ ﺟِﻠْﺒَﺎﺑِﻬَﺎ –
উম্মে আতিয়া (রাঃ) বলেন, যখন নবী করীম (ছাঃ) নারীদেরকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার ছালাতে বের হওয়ার নির্দেশ দিলেন। উম্মু সালমা বলেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! যদি আমাদের মধ্যে কারো চাদর না থাকে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, তার বোন তাকে চাদর পরাবে’।[2]
অত্র হাদীছ প্রমাণ বহন করে যে, মহিলা ছাহাবীদের অভ্যাস ছিল যে, তাঁরা বড় চাদর না পরে বাইরে বের হ’তেন না। চাদর না থাকলে বের হওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভবও হ’ত না। আর এজন্য তাঁরা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট তাঁদের প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করলেন, যখন তাদের ঈদের ছালাতে বের হ’তে বলা হ’ল। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) অন্য মুসলিম বোনের চাদর পরে ঈদগাহে গমন করতে বলে এ প্রশ্নের সমাধান দিলেন। কিন্তু তাঁদেরকে চাদর ছাড়া বের হওয়ার অনুমতি দেননি, যদিও ঈদগাহে ছালাত আদায়ের জন্য বের হওয়া নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য শরী‘আত সম্মত।
অতএব যখন নারীদের চাদর পরিধান ব্যতীত শরী‘আত সম্মত স্থানে যাবার অনুমতি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) দিলেন না, তখন চাদর পরিধান ছাড়া শরী‘আত অননুমোদিত স্থানে যাওয়ার অনুমতি তিনি কি করে দিতে পারেন, যেখানে যেতে তারা বাধ্য নয়? বরং তা হ’ল কেবল বাজারে ঘুরা-ফিরা, পুরুষদের সাথে মিলা-মিশা ও সৌন্দর্য প্রদর্শন করা, যাতে কোন উপকারিতা নেই। আর চাদর পরার নির্দেশই মুখমন্ডল পর্দা করার প্রমাণ বহন করে। আল্লাহই অধিক অবগত।
৩য় দলীল :
ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ ﻗَﺎﻟَﺖْ ﻟَﻘَﺪْ ﻛَﺎﻥَ ﺭَﺳُﻮْﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳُﺼَﻠِّﻰ ﺍﻟْﻔَﺠْﺮَ، ﻓَﻴَﺸْﻬَﺪُ ﻣَﻌَﻪُ ﻧِﺴَﺎﺀٌ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨَﺎﺕِ ﻣُﺘَﻠَﻔِّﻌَﺎﺕٍ ﻓِﻰْ ﻣُﺮُﻭْﻃِﻬِﻦَّ ﺛُﻢَّ ﻳَﺮْﺟِﻌْﻦَ ﺇِﻟَﻰ ﺑُﻴُﻮْﺗِﻬِﻦَّ ﻣَﺎ ﻳَﻌْﺮِﻓُﻬُﻦَّ ﺃَﺣَﺪٌ –
আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ফজরের ছালাত পড়াতেন। আর মুমিন মহিলাগণ সর্বাঙ্গ চাদরে ঢেকে নবী করীম (ছাঃ)-এর সাথে ফজরের ছালাতে উপস্থিত হ’তেন। অতঃপর ছালাত শেষ করে তারা যার যার বাড়িতে ফিরে যেতেন, আধারের কারণে তাদেরকে চেনা যেত না।[3] আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমরা এখন নারীদের যে অবস্থায় দেখছি, যদি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এ অবস্থায় তাদের দেখতেন, তাহ’লে তাদেরকে মসজিদে যেতে নিষেধ করতেন, যেভাবে বনু ইসরাঈলের নারীদের নিষেধ করা হয়েছিল।[4] ইবনে মাসঊদ (রাঃ) থেকেও এরূপ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীছ দ্বারা দু’ভাবে দলীল গ্রহণ করা যায়-
(ক) পর্দা করা মহিলা ছাহাবীদের অভ্যাস ছিল, যাঁরা ছিলেন উত্তম যুগের, আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানী, শিষ্টাচারী, সৎচরিত্রবান, পূর্ণ ঈমানদার ও সৎআমলকারিণী। তাঁরা সৎ ও শ্রেষ্ঠ ছিলেন, যাঁদের প্রতি ও তাঁদের উত্তম অনুসারীদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়েছেন। যেমন আল্লাহ বলেন,
ﻭَﺍﻟﺴَّﺎﺑِﻘُﻮْﻥَ ﺍﻷَﻭَّﻟُﻮْﻥَ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤُﻬَﺎﺟِﺮِﻳْﻦَ ﻭَﺍﻷَﻧﺼَﺎﺭِ ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳْﻦَ ﺍﺗَّﺒَﻌُﻮْﻫُﻢْ ﺑِﺈِﺣْﺴَﺎﻥٍ ﺭَّﺿِﻲَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨْﻬُﻢْ ﻭَﺭَﺿُﻮﺍْ ﻋَﻨْﻪُ ﻭَﺃَﻋَﺪَّ ﻟَﻬُﻢْ ﺟَﻨَّﺎﺕٍ ﺗَﺠْﺮِﻱْ ﺗَﺤْﺘَﻬَﺎ ﺍﻷَﻧْﻬَﺎﺭُ ﺧَﺎﻟِﺪِﻳْﻦَ ﻓِﻴْﻬَﺎ ﺃَﺑَﺪﺍً ﺫَﻟِﻚَ ﺍﻟْﻔَﻮْﺯُ ﺍﻟْﻌَﻈِﻴْﻢُ –
‘মুহাজির ও আনছারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করে, আল্লাহ তাদের প্রতি প্রসন্ন এবং তারাও তাতে সন্তুষ্ট এবং তিনি তাদের জন্য প্রস্ত্তত করেছেন জান্নাত, যার নিম্নদেশে নদী প্রবাহিত, যেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে, এটা মহা সাফল্য’ (তওবাহ ১০০) ।
মহিলা ছাহাবীদের পথ চলা যদি এমনটি হয়, তাহ’লে আমাদের জন্য কী করে সমীচীন হবে উক্ত পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া? যে পথের পথিক ও তাদের একনিষ্ঠ অনুসারীদের জন্য আল্লাহর সন্তোষ রয়েছে। অথচ আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
ﻭَﻣَﻦْ ﻳُّﺸَﺎﻗِﻖِ ﺍﻟﺮَّﺳُﻮْﻝَ ﻣِﻦْ ﺑَﻌْﺪِ ﻣَﺎ ﺗَﺒَﻴَّﻦَ ﻟَﻪُ ﺍﻟْﻬُﺪَﻯ ﻭَﻳَﺘَّﺒِﻊْ ﻏَﻴْﺮَ ﺳَﺒِﻴْﻞِ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴْﻦَ ﻧُﻮَﻟِّﻪِ ﻣَﺎ ﺗَﻮَﻟَّﻰ ﻭَﻧُﺼْﻠِﻪِ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ ﻭَﺳَﺎﺀَﺕْ ﻣَﺼِﻴْﺮﺍً – ‘কারো নিকট সৎ পথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ব্যতীত অন্য পথ অনুসরণ করে, তবে যে দিকে সে ফিরে যায় সে দিকেই তাকে ফিরিয়ে দিব এবং জাহান্নামে তাকে দগ্ধ করব, আর তা কত মন্দ আবাস’ (নিসা ১১৫) ।
(খ) উম্মুল মুমিনীন আয়েশা ও আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) যাঁরা ইলম ও ফিক্বহে ছিলেন দক্ষ, ধর্মীয় জ্ঞানে ছিলেন দূরদৃষ্টি সম্পন্ন এবং আল্লাহর বান্দাদের ব্যাপারে ছিলেন নছীহতকারী। তাঁরা বলছেন যে, বর্তমান নারীদের অবস্থা দেখলে রাসূল (ছাঃ) তাদেরকে মসজিদে ছালাত আদায় করতে যেতে অবশ্যই নিষেধ করতেন।[5] অথচ সেটা ছিল উত্তম যুগ, সে যুগেও নবী করীম (ছাঃ)-এর যামানায় যে অবস্থা ছিল তা পরিবর্তিত হয়ে মাহিলাদের মসজিদে গমন নিষিদ্ধের পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। তাহ’লে ১৩ শতাব্দী পরে এসে আমাদের যুগের অবস্থা কেমন হয়েছে? এযুগে সবকিছুর ব্যাপক প্রসার ঘটেছে, লজ্জাশীলতা কমে গেছে এবং অধিকাংশ মানুষের অন্তরে ধর্মীয় অনুভূতি দুর্বল হয়ে পড়েছে। আর আয়েশা ও ইবনে মাসঊদ (রাঃ) উভয়ে শরী‘আতের দলীল যে বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছে তা পূর্ণাঙ্গরূপে বুঝেছিলেন যে, প্রত্যেক কাজ যা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে তা নিষিদ্ধ।
৪র্থ দলীল :
ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻋُﻤَﺮَ ﻗَﺎﻝَ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮْﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣَﻦْ ﺟَﺮَّ ﺛَﻮْﺑَﻪُ ﺧُﻴَﻼَﺀَ ﻟَﻢْ ﻳَﻨْﻈُﺮِ ﺍﻟﻠﻪُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ . ﻓَﻘَﺎﻟَﺖْ ﺃُﻡُّ ﺳَﻠَﻤَﺔَ ﻓَﻜَﻴْﻒَ ﻳَﺼْﻨَﻌْﻦَ ﺍﻟﻨِّﺴَﺎﺀُ ﺑِﺬُﻳُﻮْﻟِﻬِﻦَّ ﻗَﺎﻝَ ﻳُﺮْﺧِﻴْﻦَ ﺷِﺒْﺮًﺍ . ﻓَﻘَﺎﻟَﺖْ ﺇِﺫًﺍ ﺗَﻨْﻜَﺸِﻒَ ﺃَﻗْﺪَﺍﻣُﻬُﻦَّ . ﻗَﺎﻝَ ﻓَﻴُﺮْﺧِﻴْﻨَﻪُ ﺫِﺭَﺍﻋًﺎ ﻻَ ﻳَﺰِﺩْﻥَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ –
ইবনে ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি গর্বভরে তার কাপড় হেঁচড়িয়ে চলে ক্বিয়ামত দিবসে আল্লাহ তার দিকে (রহমতের দৃষ্টিতে) তাকাবেন না’। উম্মে সালমা বললেন, তাহ’লে মহিলারা তাদের অাঁচল কী করবে? রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ‘এক বিঘত ঝুলিয়ে পরবে’। উম্মে সালমা বললেন, তবে তো তাদের পা প্রকাশ হয়ে পড়বে। নবী করীম (ছাঃ) বললেন, ‘এক হাত ঝুলিয়ে দিবে, তার থেকে বেশি করবে না’।[6]
এ হাদীছ মহিলাদের পা ঢেকে রাখা ওয়াজিব হওয়ার দলীল। আর এটা মহিলা ছাহাবীদের নিকট খুবই পরিচিত ও জানা ছিল। নিঃসন্দেহে দু’পায়ের গোড়ালী খোলা রাখার ফিতনা, মুখমন্ডল ও দু’কব্জি খোলা রাখার তুলনায় নগণ্যতর। সুতরাং নগণ্য ফিতনার ক্ষেত্রে হুঁশিয়ার করার মাধ্যমে বড় ফিতনা ও হুকুমের দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠতর বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। আর শরী‘আতের হেকমত হচ্ছে ছোট বা হালকা ফিতনায় বিধান হালকা করা এবং গুরুতর ফিতনার ক্ষেত্রে কঠিন করা। এর বিপরীত করলে সেটি হবে আল্লাহর হেকমত ও শরী‘আতের মধ্যে দন্দ্ব সৃষ্টি করা।
৫ম দলীল :
ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰُّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺇِﺫَﺍ ﻛَﺎﻥَ ﻹِﺣْﺪَﺍﻛُﻦَّ ﻣُﻜَﺎﺗَﺐٌ ﻭَﻛَﺎﻥَ ﻋِﻨْﺪَﻩُ ﻣَﺎ ﻳُﺆَﺩِّﻯ ﻓَﻠْﺘَﺤْﺘَﺠِﺐْ ﻣِﻨْﻪُ –
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যদি কোন নারীর নিকট চুক্তিবদ্ধ দাস থাকে আর তার চুক্তিকৃত অর্থ পরিশোধের সামর্থ্য থাকে, তাহ’লে সে নারী তার থেকে পর্দা করবে’।[7] এ হাদীছ থেকে দলীল গ্রহণের দিক হ’ল, মনিব নারী তার দাসের সামনে ততক্ষণ মুখ খোলা রাখতে পারবে, যতক্ষণ সে তার মালিকানাধীন থাকবে। যখন তার মালিকানার বাইরে চলে যাবে, তখন তার থেকে পর্দা করা ওয়াজিব হবে। কারণ সে তখন পরপুরুষে পরিণত হয়ে গেল। অতএব পরপুরুষ থেকে নারীর পর্দা করা আবশ্যক সাবস্ত হ’ল।
৬ষ্ঠ দলীল :
ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ ﻗَﺎﻟَﺖْ ﻛَﺎﻥَ ﺍﻟﺮُّﻛْﺒَﺎﻥُ ﻳَﻤُﺮُّﻭْﻥَ ﺑِﻨَﺎ ﻭَﻧَﺤْﻦُ ﻣَﻊَ ﺭَﺳُﻮْﻝِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻣُﺤْﺮِﻣَﺎﺕٌ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺣَﺎﺫَﻭْﺍ ﺑِﻨَﺎ ﺳَﺪَﻟَﺖْ ﺇِﺣْﺪَﺍﻧَﺎ ﺟِﻠْﺒَﺎﺑَﻬَﺎ ﻣِﻦْ ﺭَﺃْﺳِﻬَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﻭَﺟْﻬِﻬَﺎ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺟَﺎﻭَﺯُﻭْﻧَﺎ ﻛَﺸَﻔْﻨَﺎﻩُ –
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের নিয়ে আরোহী অতিক্রম করছিল, আর আমরা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সাথে মুহরিম ছিলাম। যখন আরোহী আমাদের বরাবর হ’ত, তখন আমাদের প্রত্যেকে স্ব স্ব চাদর মাথার দিক দিয়ে চেহারার উপর ঝুলিয়ে দিত। অতঃপর যখন তারা আমাদের অতিক্রম করত, তখন আমরা চাদর সরিয়ে ফেলতাম।[8]
আয়েশা (রাঃ)-এর উক্তি ‘আরোহীরা যখন আমাদের বরাবর হ’ত তখন আমাদের প্রত্যেকে মুখমন্ডলের উপর তার চাদর ঝুলিয়ে দিত’। এটি চেহারা ঢাকা আবশ্যক হওয়ার বড় দলীল। কেননা ইহরাম অবস্থায় চেহারা খুলে রাখা শরী‘আত সম্মত। যদি মুখ খুলে রাখার ব্যাপারে শক্তিশালী নিষেধাজ্ঞা না থাকত, তাহ’লে চেহারা খুলে রাখা ওয়াজিব হ’ত আরোহীদের সামনেও।
উপরোক্ত আলোচনা সুস্পষ্ট। অধিকাংশ আলেমের নিকটে ইহরাম অবস্থায় নারীর চেহারা খুলে রাখা ওয়াজিব। আর ওয়াজিব বিষয়ই কেবল অন্য ওয়াজিব বিষয়ের মুকাবেলা করতে পারে। সুতরাং যদি পরপুরুষের নিকট নারীর পর্দা করা ও চেহারা ঢাকা ওয়াজিব না হ’ত, তাহ’লে ইহরাম অবস্থায় মুখমন্ডল খোলার মতো ওয়াজিব কাজ ত্যাগ করার অনুমোদন দেওয়া হ’ত না।
বুখারী ও মুসলিম সহ অন্যান্য হাদীছ গ্রন্থে আছে, ﺇِﻥَّ ﺍﻟْﻤَﺮْﺃَﺓَ ﺍﻟﻤُﺤْﺮِﻣَﺔَ ﺗُﻨْﻬَﻰ ﻋَﻦْ ﺍﻟﻨِّﻘَﺎﺏ ﻭَﺍﻟْﻘُﻔَّﺎﺯَﻳْﻦِ ‘মুহরিম নারীগণকে হাতমোযা ও নিকাব পরা থেকে নিষেধ করা হয়েছে’। শায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়া (রহঃ) বলেন, এটা প্রমাণ করে যে, নিকাব ও হাতমোযার ব্যবহার মহিলাদের মধ্যে খুবই প্রসিদ্ধ ছিল, যারা মুহরিম ছিলেন না। এর দ্বারা তাদের চেহারা ও হাতসমূহ ঢেকে রাখার যৌক্তিকতা প্রমাণ করে।[9] হাদীছের উল্লিখিত এ ছয়টি দলীল মহিলাদের পর্দা করা ও পরপুরুষ থেকে মুখমন্ডল ঢাকা ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ। এর সাথে আমি কুরআনের চারটি দলীল সংযুক্ত করেছি। যাতে কিতাব ও সুন্নাতের দশটি দলীল হ’ল।
[এতদসঙ্গে হাদীছ থেকে আরো কিছু দলীল অনুবাদক কর্তৃক সংযোজিত হ’ল।
( 1 ) ﻋَﻦْ ﺃَﺳْﻤَﺎﺀَ ﺑِﻨْﺖِ ﺃَﺑِﻲْ ﺑَﻜْﺮٍ ﺍﻟﺼِّﺪِّﻳْﻖِ ﻗَﺎﻟَﺖْ ﻛُﻨَّﺎ ﻧُﻐَﻄِّﻲْ ﻭُﺟُﻮْﻫَﻨَﺎ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺮِّﺟَﺎﻝِ، ﻭَﻛُﻨَّﺎ ﻧَﻤْﺘَﺸِﻂُ ﻗَﺒْﻞَ ﺫَﻟِﻚَ ﻓِﻲ ﺍﻻِﺣْﺮَﺍﻡ-ِ
Text Box: আসুন! শিরক ও বিদ‘আত মুক্ত ইসলামী
জীবন যাপন করি। -আহলেহাদীছ আন্দোলন
(১) আসমা বিনতে আবুবকর (রাঃ) বলেন, আমরা পুরুষদের হ’তে আমাদের চেহারা ঢেকে রাখতাম এবং ইহরামের পূর্বে চিরুনী করতাম।[10]
( ২ ) ﻋَﻦْ ﺻَﻔِﻴَّﺔَ ﺑِﻨْﺖِ ﺷَﻴْﺒَﺔَ ﻗَﺎﻟَﺖْ ﺭَﺃَﻳْﺖُ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ ﻃَﺎﻓَﺖْ ﺑِﺎﻟْﺒَﻴْﺖِ ﻭَﻫِﻲَ ﻣُﻨْﺘِﻘَﺒَﺔٌ –
(২) ছাফিয়্যাহ বিনতে শায়বাহ বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-কে নিকাব পরিহিত অবস্থায় কা‘বা ঘর তওয়াফ করতে দেখেছি।[11]
( 3 ) ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺑْﻦِ ﻋُﻤَﺮَ ﻗَﺎﻝَ ﻟَﻤَّﺎ ﺍﺟْﺘَﻠَﻰ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺻَﻔِﻴَّﺔَ ﺭَﺃَﻯ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ ﻣُﻨْﺘَﻘِﺒَﺔً ﻭَﺳْﻂَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﻓَﻌَﺮَﻓَﻬَﺎ –
(৩) ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন নবী করীম (ছাঃ) ছাফিয়্যাহকে পর্যবেক্ষণ করছিলেন, তখন তিনি আয়েশা (রাঃ)-কে মানুষের মাঝে নিকাব পরিহিত দেখে চিনতে পারলেন।[12]
( 4 ) ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﺯَﻭْﺝِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻟَﺖْ …. ﻓَﺒَﻴْﻨَﺎ ﺃَﻧَﺎ ﺟَﺎﻟِﺴَﺔٌ ﻓِﻰْ ﻣَﻨْﺰِﻟِﻰْ ﻏَﻠَﺒَﺘْﻨِﻰْ ﻋَﻴْﻨِﻰْ ﻓَﻨِﻤْﺖُ، ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺻَﻔْﻮَﺍﻥُ ﺑْﻦُ ﺍﻟْﻤُﻌَﻄَّﻞِ ﺍﻟﺴُّﻠَﻤِﻰُّ ﺛُﻢَّ ﺍﻟﺬَّﻛْﻮَﺍﻧِﻰُّ ﻣِﻦْ ﻭَﺭَﺍﺀِ ﺍﻟْﺠَﻴْﺶِ، ﻓَﺄَﺩْﻟَﺞَ ﻓَﺄَﺻْﺒَﺢَ ﻋِﻨْﺪَ ﻣَﻨْﺰِﻟِﻰْ، ﻓَﺮَﺃَﻯ ﺳَﻮَﺍﺩَ ﺇِﻧْﺴَﺎﻥٍ ﻧَﺎﺋِﻢٍ، ﻓَﺄَﺗَﺎﻧِﻰْ ﻓَﻌَﺮَﻓَﻨِﻰْ ﺣِﻴْﻦَ ﺭَﺁﻧِﻰْ، ﻭَﻛَﺎﻥَ ﻳَﺮَﺍﻧِﻰْ ﻗَﺒْﻞَ ﺍﻟْﺤِﺠَﺎﺏِ، ﻓَﺎﺳْﺘَﻴْﻘَﻈْﺖُ ﺑِﺎﺳْﺘِﺮْﺟَﺎﻋِﻪِ ﺣِﻴْﻦَ ﻋَﺮَﻓَﻨِﻰْ ﻓَﺨَﻤَّﺮْﺕُ ﻭَﺟْﻬِﻰْ ﺑِﺠِﻠْﺒَﺎﺑِﻰْ
(৪) আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি আমার তাবুতে ছিলাম, আমার চক্ষু আমার উপর প্রভাবিত হ’ল, আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। ছাফওয়ান বিন মু‘আত্তাল আস-সুলামী সৈন্যদের পিছনে লক্ষ্য রাখছিল। সৈন্যরা রাত্রের প্রথম প্রহরে চলে আসল। তিনি আমার তাবুর নিকট সকাল করলে দেখতে পেলেন ঘুমন্ত কালো একজন মানুষ। অতঃপর তিনি আমার নিকট আসলেন এবং আমাকে দেখে চিনতে পারলেন। তিনি আমাকে পর্দার বিধানের পূর্বে দেখেছিলেন। তিনি আমাকে চিনতে পেরে ‘ইন্নালিল্লাহ’ পড়লে আমি জাগ্রত হই। আমি (তাকে দেখে) আমার চাদর দ্বারা মুখমন্ডল আবৃত করলাম। অন্য বর্ণনায় আছে, পর্দা করলাম (দীর্ঘ হাদীছের অংশ) ।
[13] আলোচ্য হাদীছগুলি প্রমাণ বহন করে যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর যামানায় মহিলা ছাহাবীগণ চেহারা ঢেকে পর্দা করতেন।]
(চলবে)
* সহকারী শিক্ষক, আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়া, রাজশাহী।
[1] . মুসনাদ আহমাদ হা/২৩৬৫০-৫১; সিলসিলা ছহীহাহ হা/৯৭।
[2] . মুসলিম হা/৮৯০; ইবনু মাজাহ হা/১৩০৭।
[3] . বুখারী হা/৩৭২।
[4] . মুসলিম হা/৪৪৫; আহমাদ হা/২৪৬৪৬।
[5] . মুসলিম হা/৪৪৫; আহমাদ হা/২৪৬৪৬।
[6] . তিরমিযী হা/১৮৩৫; নাসাঈ হা/৫৩৩৬।
[7] . ইবনু মাজাহ হা/২৬১৬; আবু দাউদ হা/৩৯২৮।
[8] . আবু দাঊদ হা/১৫৬২; মিশকাত হা/২৬৯০।
[9] . বুখারী ৪/৪২, নাসাঈ ২/৯-১০, বায়হাক্বী ৫/৪৬-৪৭, আহমাদ ৬০০৩।
[10] . হাকিম ১/৪৫৪; ইরওয়া হা/১০২৩; ছহীহ ইবনু খুযাইমা হা/২৬৯০।
[11] . ইবনু সা‘দ ৮/৪৯।
[12] . ইবনে সা‘দ ৮/৯০, ইবনে আসাকির।
[13] . বুখারী হা/৪৭৫০; মুসলিম হা/২৭৭০; ইবনে সাদ ১৮/৬২-৬৬, আহমাদ ৬/১৯৪-১৯৭।

হিজাব কোন ফ্যাশন নয়

 

The holy Quran said – “Udow illa be selme kaffa”. You enter into the Islam fully.

——————————————–

Assalamu Alaikum Wa Rahmatullah Wa Barakatuhu
✔✔হিজাব কোন ফ্যাশন নয়।হিজাবের নাম করে
মাথার উপর আইফেল টাওয়ার বানিয়ে রাখলেই হিজাবী হয়ে গেলাম? হিজাব-নিকাব মুসলিম নারীদের জন্য আল্লাহর বিধান।আর সেই আল্লাহর বিধান নিয়ে ফাজলামি করার সাহস আমরা দেখাচ্ছি! কি দুঃসাহস আমাদের ভাবা যায়!

.
মেয়েটি কত সুন্দর হিজাবী! হিজাব ছাড়া চলেই না।অথচ এমনই হিজাব যে,দুনিয়ার যত কাপড় সব মাথার উপর।অবশ্য শরীরও কাপড় দিয়ে আবৃত তবে সেই কাপড়রের বাইরে থেকে বোঝা যায় শরীরে কোথায় মাংসের স্তুপ আর কোথায় হাড্ডির স্তুপ!

.
মেয়েটি খুব সুন্দর হিজাবী! অথচ লম্বা লম্বা নখ,কতই না বাহারী নেইল আর্ট! রুচি আছে বলতে হবে! আর হিজাবের রং,পাথরের ছড়াছড়ি, ডিজাইনের বাহারে তো চক্ষু চড়কগাছ!দেখলে চোখের পলক পড়তেই চায় না!

.
মেয়েটি কত সুন্দর হিজাবী! অথচ লিপিস্টিকের এমনই ঝলক যে,আমার মুসলিম ভাইয়েরাও দুইবার তাকিয়ে দেখতে বাধ্য হয়। আর চোখের কত রকম সাঁজ!সে চোখের দৃষ্টিতে কোন পুরুষের দিক তাকানো মানেই সেই পুরুষের রাতের ঘুম হারাম! শুরু হবে আপনাকে নিয়ে নোংরা চিন্তার খেলা।

.
মেয়েটি খুব সুন্দর হিজাবী! অথচ মুখের বুলি এতই চমৎকার আর নরম যে,তার কথার জোরালো কর্কশ শব্দে পাশে থাকা ঘুমন্ত ব্যক্তি এক লাফে উঠে বলবে, ভূমিকম্প হচ্ছে নাকি!

.
মেয়েটি খুব সুন্দর হিজাবী! অথচ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা বিশাল ঝামেলার ব্যাপার! বারবার অজু করার মানে বার বার মেকাপ করার আর সাজগুজ করার ঝামেলা! কি দরকার!

ইসলাম নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান। নারী কোন পন্য নয় যে,তাকে শো’রুমে সাজানো জিনিসের মত করে সেজে ঘুরতে হবে। নারী মানে মা,মেয়ে ,বোন,স্ত্রী ইত্যাদি। নারীদেরকে ইসলামে এমন ভাবেই চলতে বলা হয়েছে যে, দেখলেই সবাই সম্মান করবে। কু-চিন্তার তো সুযোগই পাবে না।
.
হিজাব-নিকাবের বিধান শুধুই একটি বিধান নয়। এই বিধানই চিনিয়ে দেয়, সমাজে কারা মুসলিম নারী। এই বিধান একটি মুসলিম মেয়েকে নম্র-ভদ্র বানায়,যাতে সবাই বোঝে কোনটা শান্তির।এই বিধানই মুসলিম মেয়েদের হেফাজত করে পুরুষের লালসার দৃষ্টি থেকে। এই বিধানের জন্যই মুসলিম মেয়েদের জান্নাতের পথ সহজ হবে। আলহামদুলিল্লাহ!
.
হিজাবকে ফ্যাশন করার আগে জানতে হবে এই হিজাব কি? মুসলিম নারীরা এমনভাবে পর্দা করবে যেন তার চোখও দেখা না যায় আর এমনই ঢিলেঢালা বোরখা পরবে যাতে করে তার শরীরের সামান্য গঠনও বোঝা না যায়। আল্লাহর আদেশ সঠিকভাবে না মানলে আমাদের জন্য নিঃসন্দেহে রয়েছে জ্বলন্ত আগুন।
.
একটা কথা মনে রাখতে হবে, পরিবারে যদি ঐরকম কেউ থাকে যে পর্দা করে না তাকে বোঝাতে হবে আল্লাহর এই বিধান মানার জন্য। আর যদি সে না বোঝে তাকে বাধ্য করতে হবে কারণ তার পর্দা না করার জন্য আপনিও হাশরের ময়দানে জিজ্ঞাসিত হবেন।

——পর্দার বিধান—-collected

Mahbubul Islam Khokon ঃপর্দা-নারীঃ
নারীদেরকে আল্লাহতালা নিখুঁত ও বেশী সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন বিধায় তাদের জন্য পর্দা ফরজ করে দিয়েছেন! তাই নারীরা আবৃত থাকারই জন্য!
আল্লাহ্‌ বলেন,”হে নবী(স) তুমি তোমার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে, মুমিন নারীদেরকে বলে দাও যে,তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজতর হবে। তাদেরকে উত্ত্যক্ত করা হবে না”(সুরা আহযাব:৫৯)
আল্লাহর নিষেধ, তোমরা(নারীগন) (যথাসম্ভব) ঘরের মধ্যে অবস্হান কর এবং নিজের সাজ্ব-সজ্জা অপরকে দেখিয়ে বেড়িও না(সুরা আহযাব:৩৩)
আল্লাহ বলেন, তুমি মুমিন নারীদেরকে বল,তারাও যেন নিজেদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্হান সমূহের হিফাজত করে এবং নিজেদের সৌন্দর্য্যকে প্রকাশ না করে(সুরা নূর:৩২)।

পর্দা মানতে চায় না শয়তান ও লুইচ্ছারা। যেমন, “সব শিয়ালই মুরগীর স্বাধীনতা চায়,কারণ মুরগী স্বাধীন হলে, শিয়াল ভাল খাবার পায়, তেমনি ভাবে সব লুইচ্ছারাই নারীর স্বাধীনতা চায়, কারণ নারী স্বাধীন হলে, লুইচ্ছারা লুইচ্ছামির সুযোগ পায়।”

খৃষ্টপূর্ব ১৩শ শতাব্দী থেকে বিভিন্ন ধর্মে হিজাব বা চুল আবৃত করার পোষাক ব্যবহৃত হয়ে আসছে!