Category Archives: Iman & Aqidah

1.for-‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ বলা কি শির্ক? 2.against-

1.for-‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ বলা কি শির্ক?

108. Kalema Taiyeba ki Shirk

প্রশ্ন : ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ’ তথা ‘কালেমা ত্বাইয়েবা’ বলা কি শির্ক?

জবাব : না। এটি শির্ক নয়। বরং একটি তাওহীদী বাক্য। জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে আমাদের অনেকেই এই বাক্যটিকে শির্ক রূপে অনুধাবন করেছেন যা দুঃখজনক। নিম্নে আমরা কতিপয় দলীল পেশ করলাম যা আমাদের মাঝে বিদ্যমান ভুল ধারণার অপনোদন করবে ইনশা আল্লাহ।

দলীল-১ : ইমাম মুসলিম (রহঃ) রচিত বিশ্ববিখ্যাত হাদীছ গ্রন্থ ‘ছহীহ মুসলিম’-এ কিতাবুল ঈমানের অষ্টম অনুচ্ছেদে এই কালিমাটির উল্লেখ আছে- بَابُ الْأَمْرِ بِقِتَالِ النَّاسِ حَتَّى يَقُولُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللهِ লোকদের সাথে ততক্ষণ যুদ্ধ করতে থাকা যতক্ষণ না তারা বলে যে, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ {ছহীহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, অধ্যায়-১, অনুচ্ছেদ-৮, ১/৫১, (মাকতাবা শামেলা) ২০ নং হাদীছের পূর্বে, ফুয়াদ আব্দুল বাক্বীর হাদীছ নং ৩২; ছহীহ মুসলিম খন্ড-১, পৃঃ ৬২, আহলেহাদীছ লাইব্রেরী, ঢাকা হ’তে প্রকাশিত, প্রথম প্রকাশ : নভেম্বর ২০০২ইং}।

দলীল-২ : ইমাম ত্বাবারাণী (রহঃ) লিখেছেন, لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ‘কালোমায়ে তাক্বওয়া হ’ল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ’ (ইমাম ত্বাবারাণী, আদ-দু‘আ হা/১৬১৮)।

দলীল-৩ : ইমাম বায়হাক্বী (রহঃ) লিখেছেন, أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ , رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَخْبَرَهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” أَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى فِي كِتَابِهِ فَذَكَرَ قَوْمًا اسْتَكْبَرُوا فَقَالَ: {إِنَّهُمْ كَانُوا إِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ يَسْتَكْبِرُونَ} [الصافات: ৩৫] وَقَالَ تَعَالَى: {إِذْ جَعَلَ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي قُلُوبِهِمُ الْحَمِيَّةَ حَمِيَّةَ الْجَاهِلِيَّةِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ سَكِينَتَهُ عَلَى رَسُولِهِ وَعَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَأَلْزَمَهُمْ كَلِمَةَ التَّقْوَى وَكَانُوا أَحَقَّ بِهَا وَأَهْلَهَا} [الفتح: ২৬] وَهِيَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ ” اسْتَكْبَرَ عَنْهَا الْمُشْرِكُونَ يَوْمَ الْحُدَيْبِيَةِ يَوْمَ كَاتَبَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي قَضِيَّةِ الْمُدَّةِ ইমাম আবূ বকর আহমাদ ইবনুল হুসায়েন আল-বায়হাক্বী রহেমাহুল্লাহ (মৃঃ ৪৫৪ হিঃ) বলেছেন, আমাদেরকে আবূ আব্দুল্লাহ আল-হাফেয (ইমাম হাকেম, আল-মুসতাদরাক-এর প্রণেতা) সংবাদ প্রদান করেছেন…….অবশ্যই আবূ হুরায়রা (রাঃ) নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হ’তে বর্ণনা করেছেন যে, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা স্বীয় কিতাবে নাযিল করেছেন এবং একটি গোত্রের উল্লেখ করেছেন যারা অহংকার করেছিল। তিনি (আল্লাহ তা‘আলা) বলেছেন, নিশ্চয়ই তাদেরকে যখন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা হ’ত, তখন তারা অহংকার করত (সূরা আছ-ছফ্ফাত, আয়াত-৩৫)। এবং আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, যখন কাফেরগণ তাদের অন্তরে জাহেলিয়াতের জিদ রেখেছিল, তখন আল্লাহ তার শান্তি তার রাসূল এবং মুমিনদের উপরে নাযিল করেছিলেন। আর তাদের জন্য ‘কালেমায়ে তাক্বওয়া’-কে অপরিহার্য করে দিয়েছিলেন। আর তারা এর অধিক হক্বদার এবং গ্রহণকারী ছিলেন (সূরা আল-ফাৎহ, আয়াত-২৬)। আর সেটি (কালেমায়ে তাক্বওয়া) হ’ল ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ’। হুদায়বিয়ার সন্ধির দিনে যখন রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মেয়াদের (নির্দিষ্ট করার জন্য) ফায়ছালাতে মুশরিকদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হ’লেন তখন মুশরিকগণ এই কালেমা হ’তে অহংকার করেছিল {বায়হাক্বী, আল-আসমা ওয়াছ ছিফাত হা/১৯৫}।

মুহাক্কিক্ব শায়খ যুবায়ের আলী যাঈ (রহঃ) এই হাদীছটির সনদকে ‘হাসান লি-যাতিহী’ বলেছেন। হাসান লি-যাতিহী হাদীছ সনদের দৃষ্টিকোণ থেকে ছহীহ হাদীছের সামান্য নিম্ন স্তরে থাকে। তবে দলীল গ্রহণে এটি ছহীহ হাদীছের সমপর্যায়ের হয়ে থাকে (যদি এর কোন বিপরীত ছহীহ হাদীছ না থাকে)। মুহতারাম পাঠক এবং পাঠিকাদের উপকারার্থে আমরা শায়খের পুরো বক্তব্যটুকু প্রশ্নত্তোরসহ হুবহু অনুবাদ করে দিলাম-

প্রশ্ন : কালেমায়ে ত্বাইয়েবা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ এর প্রমাণ কোন ছহীহ হাদীছে পাওয়া যায় কি? (হাবীব মুহাম্মাদ)

জবাব : (বায়হাক্বীর উপরোল্লিখিত হাদীছটি বর্ণনা করার পরে শায়খ বলেন) এই রেওয়াতটির সনদ হাসান লি-যাতিহী।

হাকেম, আছম, মুহাম্মাদ বিন ইসহাক্ব আছ-ছাগানী, যুহরী এবং সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব সবাই উচ্চ স্তরের আস্থাভাজন রাবী।

রাবী-১ : ইয়াহ্ইয়া বিন ছালেহ উহাযী ছহীহ বুখারী এবং ছহীহ মুসলিমের রাবী। এবং জমহুর তথা অধিকাংশ মুহাদ্দিছদের নিকটে ছিক্বাহ (আস্থাভাজন) ছিলেন। ইমাম আবূ হাতিম আর-রাযী বলেছেন, صدوق তিনি সত্যবাদী। ইমাম ইয়াহ্ইয়া বিন মাঈন বলেছেন, ثقة তিনি ছিক্বাহ (ইবনে আবী হাতিম, আল-জারহু ওয়াত-তা‘দীল ৯/১৫৮, সনদ ছহীহ)।

ইমাম বুখারী বলেছেন, ويحي ثقة এবং ইয়াহইয়া হ’লেন ছিক্বাহ রাবী (কিতাবুয যুআফা আছ-ছাগীর, রাবী নং ১৪৫, হিন্দী ছাপা)।

‘ইয়াহ্ইয়া বিন ছালেহ’-এর বিরুদ্ধে নি¤েœাক্ত আলেমদের ‘র্জাহ’ তথা সমালোচনামূলক বক্তব্য পাওয়া যায়- (১) আহমাদ বিন হাম্বল। (২) ইমাম ইসহাক্ব বিন মানছূর। (৩) ইমাম উক্বায়লী। (৪) ইমাম আবূ আহমাদ আল-হাকেম।

ইমাম আহমাদের সমালোচনার ভিত্তি হ’লেন একজন ‘মাজহূল’ ব্যক্তি (দেখুন : উক্বায়লী, আয-যু‘আফা ৪/৪০৮)।

[আর ‘মাজহূল’ শব্দটি দ্বারা উদ্দেশ্য হ’ল ঐ রাবী, যার ইলমী অবস্থা, ন্যায়পরায়ণতা ও স্মরণশক্তি সম্পর্কে মুহাদ্দিছগণ অবগত নন। মাজহূল রাবী দু’প্রকার। (১) মাজহূলুল ‘আইন : যার নাম জ্ঞাত হ’লেও অন্যান্য বিষয়াদি অজ্ঞাত এবং তার নিকট থেকে মাত্র একজনই হাদীছ বর্ণনা করেছেন, এমন রাবীকে ‘মাজহূলুল ‘আইন’ বলা হয়। তাওছীক না করা হলে এমন রাবীর বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়। (২) মাজহূলুল হাল : যে রাবী থেকে দুই কিংবা দু’জনের অধিক ব্যক্তি হাদীছ বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তার তাওছীক করা হয়নি তাকে মাজহূলুল হাল বা ‘মাসতূর’ বলা হয়। জমহূরের নিকটে এমন রাবীর বর্ণনা প্রত্যাখ্যাত (বিস্তারিত দ্রষ্টব্য: ড. মাহমূদ আত-তহহান, তায়সীরু মুছত্বালাহিল হাদীছ, পৃঃ ১২০-১২১; ডক্টর সুহায়েল হাসান, মু‘জামু ইছতিলাহাতিল হাদীছ পৃঃ ৩০৪-৩০৬)।-অনুবাদক}]।

এই সমালোচনাটি ইমাম আহমাদের তাওছীক্বের সাথে সাংঘর্ষিক।

আবূ যুর‘আহ আদ-দিমাশক্বী বলেছেন, لم يقل يعني أحمد بن حنبل في يحيى بن صالح إلا خيرا আহমাদ বিন হাম্বল ইয়াহ্ইয়া বিন ছালেহ-সম্পর্কে ¯্রফে ভালই বলতেন (ইবনে আসাকির, তারীখে দিমাশক্ব ৬৮/৭৮, সনদ ছহীহ)।

[ কোন রাবীকে ছিক্বাহ তথা আস্থাভাজন বলাকে ‘তাওছীক্ব’ বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ইমাম বুখারী (রহঃ) আব্দুর রহমান নামী একজন রাবীকে ছিক্বাহ বলেছেন। বুখারীর এই ছিক্বাহ দানের বিষয়টিকে সংক্ষেপে এভাবে বলা হবে যে, আব্দুর রহমানের তাওছীক্ব রয়েছে ইমাম বুখারীর পক্ষ্য হ’তে। -অনুবাদক]

ইসহাক্ব বিন মানছূরের ‘জারহ’-এর বর্ণনাকারী হ’লেন আব্দুল্লাহ বিন আলী (উক্বায়লী, আয-যু‘আফা ৪/৪০৯)।

আব্দুল্লাহ বিন আলীর ছিক্বাহ (আস্থাভাজন) এবং ছদূক্ব (সত্যবাদী) হওয়া প্রমাণিত নয়। সুতরাং এই ‘র্জাহ’ তথা সমালোচনামূলক বক্তব্যটি প্রমাণিতই নয়।

ইমাম উক্বায়লীর সমালোচনাটি ‘আয-যু‘আফা আল-কাবীর’ গ্রন্থে পাওয়া যায় নি। তবে ‘তারীখে দিমাশক্ব’ গ্রন্থে (৬৮/৭৯) এই সমালোচনাসূচক বক্তব্যটি অবশ্যই বিদ্যমান আছে। কিন্তু এই ‘র্জাহ’-এর বর্ণনাকারী ইউসূফ বিন আহমাদ আস্থাভাজন নন (মাজহূলুল হাল)। সুতরাং এই সমালোচনাটিও প্রমাণিত নয়।

আবূ আহমাদ হাকেম (এবং আহমাদ, ইসহাক্ব বিন মানছূর এবং উক্বায়লীর বিশুদ্ধতার শর্তে)-এর ‘জারহ’ জমহুর মুহাদ্দিছদের তাওছীক্বের মোকাবেলায় প্রত্যাখ্যাত। হাফেয যাহাবী বলেছেন, ثقة في نفسه تكلم فيه لرايه তিনি স্বয়ং ছিক্বাহ। কিন্তু তার (ভুল) অভিমতের কারণে (আবূ আহমাদ হাকেম এবং অন্যদের পক্ষ্য হ’তে) তাতে সমালোচনা করা হয়েছে (মা‘রিফাতুর রুওয়াত আল-মুতাকাল্লাম ফীহিম বিমা লা য়ূজিবুর রাদ্দ, রাবী নং ৩৬৭)।

হাফেয ইবনে হাজার বলেছেন, খালেদ (বিন মাখলাদ) এবং ইয়াহ্ইয়া বিন ছালেহ উভয়ই ছিক্বাহ (ফাৎহুল বারী ৯/৫২৪, হা/৫৩৭৮-এর আলোচনা, ‘খাদ্য’ অধ্যায়, ‘নিকটবর্তী খাদ্য হ’তে খাওয়া’ অনুচ্ছেদ)।

এবং তিনি বলেছেন, صدوق من اهل الراي তিনি আহলে রায়দের মধ্য হ’তে একজন সত্যবাদী (তাক্বরীবুত তাহযীব, রাবী নং ৭৫৬৮)। ‘তাক্বরীবুত তাহযীব’-এর মুহাক্কিক্বগণ লিখেছেন, بل ثقة বরং তিনি ছিক্বাহ ছিলেন (আত-তাহরীর ৪/৮৮)।

তাহক্বীক্বের সারাংশ : ইয়াহ্ইয়া বিন ছালেহ ছিক্বাহ এবং ছহীহুল হাদীছ বা ছহীহ হাদীছ বর্ণনাকারী।

রাবী-২ : ইসহাক্ব বিন ইয়াহইয়া বিন আলক্বামা আল-কালবী আল-হিমছী ছহীহ বুখারীর (সাক্ষীমূলক বর্ণনাসমূহ বা শাওয়াহেদ-এর) রাবী (দেখুন : ছহীহুল বুখারী হা/৬৮২, ১৩৫৫, ৩২৯৯, ৩৪৪৩, ৩৯২৭, ৬৬৪৭, ৭০০০, ৭১৭১, ৭৩৮২)।

হাফেয ইবনে হিব্বান তাকে ‘কিতাবুছ ছিক্বাহ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন (৬/৪৯)। এবং ‘ছহীহ ইবনে হিব্বান’ গ্রন্থে তার থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন (আল-ইহসান হা/৬০৭৪)। দারাকুৎনী বলেছেন, أَحَادِيثه صَالِحَة وَالْبُخَارِيّ يستشهده وَلَا يعتمده فِي الْأُصُول তার হাদীছগুলি ‘ছালেহ’। এবং বুখারী তার দ্বারা সাক্ষীমূলক বর্ণনা করেন। এবং উছূলের মধ্যে তার উপর নির্ভর করেন না (সুওয়ালাতুল হাকেম লিদ-দারাকুৎনী, ক্রমিক নং ২৮০)। [গ্রহণযোগ্য হাদীছকে ছালেহ বলা হয়। ছহীহ এবং হাসান-উভয় হাদীছতেই ছালেহ বলা হয়ে থাকে (তাদরীবুর রাবী ১/১৭৮)। -অনুবাদক]

সতর্কীকরণ : ইমাম বুখারী যার থেকে ‘শাওয়াহেদ’-এ যেই রাবী থেকে রেওয়াত গ্রহণ করতেন, তিনি তার নিকটে ছিক্বাহ হ’তেন (তবে কোন বিশেষ রাবীর তাখছীছ বা বিশেষভাবে যঈফ হওয়া প্রমাণিত হওয়া ব্যতিত)। [দেখুন : মুহাম্মাদ বিন ত্বাহের আল-মাক্বদেসী, শুরূতুল আয়িম্মাতিস সিত্তাহ পৃঃ ১৮, অন্য সংস্করণ পৃঃ ১৪]।

আবূ আওয়ানা ‘ছহীহ আবী আওয়ানা’ গ্রন্থে (আল-মুসতাখরাজ আলা ছহীহ মুসলিম) তার থেকে রেওয়াত গ্রহণ করেছেন (২/২৯৩)।

হাফেয ইবনে হাজার বলেছেন, صدوق قيل انه قتل اباه তিনি সত্যবাদী। বলা হয়, তিনি তার পিতাকে হত্যা করেছেন (তাক্বরীবুত তাহযীব, রাবী নং ৩৯১)।

পিতাকে হত্যা করার ঘটনাটি ‘তাহযীবুল কামাল’ (মুআস্সাসাতুর রিসালাহ ১/২০২) গ্রন্থে অসম্পূর্ণ সনদ ‘ابو عوانة الاسفرائني عن ابي بكر الجذامي عن ابن عوف قال يقال ’ দ্বারা বর্ণিত আছে।

এই ঘটনাটি কতিপয় কারণে প্রত্যাখ্যাত-

(১) আবূ আওয়ানা পর্যন্ত সনদটি গায়েব।

(২) আবূ বকর আল-জুযামী হ’লেন অজ্ঞাত ব্যক্তি।

(৩) ‘ يقال ’ (বলা হয়) এর উক্তিকারী অজ্ঞাত রয়েছেন। ‘তাহযীবুল কামাল’ গ্রন্থের লেখক (হাফেয মিয্যী) কোন সনদ ব্যতিরেকেই মুহাম্মাদ বিন ইয়াহ্ইয়া আয-যুহলী (রহঃ) হ’তে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইসহাক্ব বিন ইয়াহ্ইয়াকে ‘ত্বাবাক্বায়ে ছানিয়া’র মধ্যে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, مجهول، لم أعلم له رواية غير يحيى بْن صالح الوحاظي، فإنه أخرج إلي له أجزاء من حديث الزُّهْرِيّ، فوجدتها مقاربة، فلم أكتب منها إلا شيئا يسيرا তিনি মাজহূল। আমার জানা মতে ইয়াহ্ইয়া বিন ছালেহ আল-উহাযী ব্যতিত আর কেউই তার থেকে বর্ণনা করেন নি। তিনি আমার সম্মুখে তার যুহরী হ’তে বর্ণিত হাদীছসমূহ থেকে ‘আজযা’ পেশ করেছেন। তখন আমি দেখেছি যে, এই বর্ণনাটি ‘মুক্বারাব’ (ছহীহ, গ্রহণযোগ্য এবং ছিক্বাহ রাবীদের কাছাকাছি) হয়েছে। আমি তার থেকে সামান্য রেওয়াত লিপিবদ্ধ করেছি (১/২০২)। [ স্রেফ একটি বিষয়ের উপর হাদীছসমূহ একত্রিত করে রচিত গ্রন্থকে ‘জুয’ বলা হয়। ‘জুয’ এর বহুবচন হ’ল ‘আজযা’। যেমন বুখারীর রফউল ইদায়েনের উপর লিখিত গ্রন্থ জুযউ রফইল ইদায়েন ইত্যাদি।-অনুবাদক]

হাফেয আবূ বকর মুহাম্মাদ বিন মূসা আল-হাযিমী (মৃঃ ৫৯১ হিঃ) ইমাম যুহরীর ছাত্রদেরকে ‘ত্বাবাক্বায়ে ছানিয়া’ সম্পর্কে বলেছেন যে, তারা মুসলিমের শর্তের উপরে আছেন (শুরূতুল আয়িম্মাতিস সিত্তাহ পৃঃ ৫৭)।

প্রতীয়মাণ হ’ল যে, এই রাবী ইমাম ইয়াহ্ইয়া আয-যুহলীর নিকটে মাজহূল হওয়ার সাথে আস্থাভাজন, সত্যবাদী এবং মুক্বারিবুল হাদীছ (!)। অন্য কথায়, এই সমালোচনাটি জমহুর মুহাদ্দিছদের মোকাবেলায় প্রত্যাখ্যাত।

তাহক্বীক্বের সারাংশ : ইসহাক্ব বিন ইয়াহইয়া আল-কালবী ‘হাসানুল হাদীছ’ তথা হাসান হাদীছ বর্ণনাকারী।

জ্ঞাতব্য : ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ এর এই রেওয়াতটিই শু‘আইব বিন আবী হামযা عن الزهري عن سعيد بن المسيب عن ابي هريرة ‘যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব হ’তে, তিনি আবূ হুরায়রা হতে’ সনদে বর্ণনা করেছেন (ইবনু মান্দাহ, কিতাবুল ঈমান হা/৯৯, ১/৩৫৯, এর সনদ ‘শু‘আইব বিন আবী হামযাহ’ পর্যন্ত ছহীহ)। এই সাক্ষীমূলক বর্ণনাটির দ্বারা ইসহাক্ব বিন ইয়াহইয়ার রেওয়াতটি আরো শক্তিশালী হয়ে যায়। আল-হামদুলিল্লাহ।

দ্বিতীয় দলীল : ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ (বাক্যটি বিশুদ্ধ হওয়ার) -এর পক্ষ্যে মুসলমানদের ইজমা আছে। হাফেয ইবনে হাযম লিখেছেন, فَهَذَا إجْمَاعٌ صَحِيحٌ، كَالْإِجْمَاعِ عَلَى قَوْلِ: لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ অতএব এই ইজমাটি ছহীহ। যেমনটি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ-এর উপর আছে (আল-মুহাল্লা ১০/৪২৩, আল-আইন, মাসআলা-৩০২৫)।

হাফেয ইবনে হাযম আরো লিখেন, وَكَذَلِكَ مَا اتّفق عَلَيْهِ جَمِيع أهل الْإِسْلَام بِلَا خلاف من أحد مِنْهُم من تلقين موتاهم لَا إِلَه إِلَّا الله مُحَمَّد رَسُول الله আর এভাবেই সমস্ত আহলে ইসলাম কোন রকম মতানৈক্য ছাড়াই এর উপর একমত আছেন যে, মৃত্যুপথ যাত্রীকে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ-এর ‘তালক্বীন’ দেয়া উচিৎ (আল-ফাছলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়া-ই ওয়ান নিহাল ১/১৬২, ‘আর-রাদ্দু আলা মান যা‘আমা আন্নাল আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম লায়সূ আম্বিয়া আল-ইয়াওম’)।

প্রতীয়মাণ হ’ল যে, ‘কালোমায়ে ইখলাছ’ : কালোমায়ে তাইয়েবা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ’ এর বিশুদ্ধ হওয়া ছহীহ হাদীছ এবং ইজমা দ্বারা প্রমাণিত আছে। ওয়াল-হামদুল্লিাহি ওয়া ছাল্লাল্লাহু আলা নাবিইয়িহি ওয়া সাল্লাম।

সতর্কীকরণ : “মুফতী” মুহাম্মাদ ইসমাঈল তূরূ দেওবন্দী ‘ষাষ কালমে’ (ছয়টি কালেমা) এর অধীনে লিখেছেন, কালিমা ত্বাইয়েবাহ : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ’ (অনুবাদ) নেই কোন মা‘বূদ আল্লাহ ব্যতিত। এবং হযরত মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল (বুখারী ও মুসলিম)” (মুখতাছার নিছাব পৃঃ ২৪, প্রকাশ : ২০০৫ইং, দারুল ইফতা জামে‘আ ইসলামিয়া, ছদর কামরান মার্কেট, রাওয়াল পিন্ডি )।

এই পূর্ণাঙ্গ কালিমাটি না ছহীহ বুখারীর কোন হাদীছে লেখা হয়েছে আর না ছহীহ মুসলিমের কোন হাদীছে এভাবে বিদ্যমান আছে। মুফতী বনে যাওয়া আলেমদেরকে নিজেদের লেখনীতে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এবং ভুল উদ্ধৃতি হ’তে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকতে হবে।

অমা আলায়না ইল্লাল বালাগ। [ফাতাওয়া ইলমিইয়া ১/৭৫-৮০]।

(১৬ই ফেব্রুয়ারী, ২০০৭ইং)।

শেষ কথা, এর পক্ষ্যে আরো দলীল পেশ করা যায়। তবে আমরা আশা করছি, এটুকুই হক পিপাসুদের পিপাসা মেটাতে সক্ষম হবে ইনশা আল্লাহ। সেই সাথে যারা ভ্রান্তিতে ডুবে আছেন তাদের জন্যও আলোকবর্তিকা হবে। এবং তাদেরকে এই অন্ধকারাচ্ছন্ন আক্বীদা হ’তে টেনে দিবাকরের ন্যায় উদ্ভাসিত, মসৃণ পথের সন্ধান দিবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়ার দান করুন। আমীন।

‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ’ তথা ‘কালেমা ত্বাইয়েবা’ কি বলা যাবেনা? এটি কি একটি ভুল বা শির্কি বাক্য? নাকি এটি একটি হানাফিদের কালিমা?

এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে শাইখ আকরামুযযামান এর ‘কালিমার মর্মকথা’ বইটি পড়ুন। বইটি ডাউনলোড করতে নিচের লিঙ্ক টি ক্লিক করুনঃ

f2685e19349c38%26domain%3Dwww.shottanneshi.com%26origin%3Dhttp%253A%252F%252Fwww.shottanneshi.com%252Fff8250b3fcd3f%26relation%3Dparent.parent&container_width=0&href=http%3A%2F%2Fwww.shottanneshi.com%2Fkalema-taiyeba-ki-shirk%2F&locale=en_US&sdk=joey&type=button_count&width=110

Follow me!

Related Post

banner ad

Powered by WordPress | Designed by Shottanneshi Research Team

https://accounts.google.com/o/oauth2/postmessageRelay?parent=http%3A%2F%2Fwww.shottanneshi.com&jsh=m%3B%2F_%2Fscs%2Fapps-static%2F_%2Fjs%2Fk%3Doz.gapi.en.J-c8y3Dm3Kw.O%2Fm%3D__features__%2Fam%3DAQ%2Frt%3Dj%2Fd%3D1%2Frs%3DAGLTcCOE77c2gNA4q04ToXMvt7SF4LTS6w#rpctoken=324672506&forcesecure=1

=======================================================

2.Against-

https://m.facebook.com/notes/shakil-talukder/-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A7%9F%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B9-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%9F%E0%A6%BF-/10200274802006742/

https://m.facebook.com/notes/shakil-talukder/-কালেমায়ে-তাইয়্যিবাহ-কোনটি-/10200274802006742/

Shakil Talukder

নাজাত প্রাপ্ত দলের আকীদাহ

প্রশ্ন এবং তাঁর উত্তরসমুহ

সূচীপত্র

তাওহীদ সম্পর্কে প্রশ্ন এবং উত্তর

সূচীপত্র
৬১: নিম্নবর্ণিত হাদীসগুলি কি সহীহ নাকি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর সেগুলি মিথ্যারোপ? “তোমরা যখন সংকীর্ণ অবস্থায় পতিত হও, তখন কবর যিয়ারত কর”, “যে ব্যক্তি হজ্জ করল অথচ আমার কবর যিয়ারত করল না, সে আমার সাথে শত্রুতা পোষণ করল”, “যে ব্যক্তি একই বছরে আমাকে এবং আমার পিতা ইবরাহীমকে যিয়ারত করে, আমি তার জন্য জান্নাতের যিম্মাদার হয়ে যাবো”, “যে ব্যক্তি আমার মৃত্যুর পর আমার কবর যিয়ারত করল, সে যেন আমার জীবদ্দশায় আমার সাথে সাক্ষাত করল”, “আল্লাহ্‌র কোনো অলী যদি কোনো কিছুকে বলে, ‘হও’, তাহলে তা হয়ে যায়”, “কোনো ব্যক্তি যদি কিছুতে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করে, তবে তা তার উপকারে আসে।”

ঈমানের রুকন কয়টি ও কি কি?fm quran & s.hadith

ঈমানের রুকন কয়টি ও কি কি?

ঈমানের রুকন ৬টি। সেগুলি হচ্ছে, আল্লাহ্‌র প্রতি ঈমান, তাঁহার ফেরেশতামণ্ডলীর প্রতি ঈমান, তাঁহার কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান, তাঁহার রাসূলগণের প্রতি ঈমান, আখেরাতের প্রতি ঈমান এবং তাক্বদীরের ভাল-মন্দের প্রতি ঈমান। কুরআনুল কারীম এবং সহীহ হাদীসের বক্তব্য অনুযায়ী উক্ত রুকনসমূহের প্রত্যেকটির প্রতি ঈমান না আনা পর্যন্ত কারো ঈমান পূর্ণ হবে না। যে ব্যক্তি এগুলির কোনো একটিকে অস্বীকার করবে, সে ঈমানের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যাবে। মহান আল্লাহ বলেন,

﴿ ءَامَنَ ٱلرَّسُولُ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيۡهِ مِن رَّبِّهِۦ وَٱلۡمُؤۡمِنُونَۚ كُلٌّ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَمَلَٰٓئِكَتِهِۦ وَكُتُبِهِۦ وَرُسُلِهِۦ لَا نُفَرِّقُ بَيۡنَ أَحَدٖ مِّن رُّسُلِهِۦۚ وَقَالُواْ سَمِعۡنَا وَأَطَعۡنَاۖ غُفۡرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيۡكَ ٱلۡمَصِيرُ ٢٨٥ ﴾ [البقرة: ٢٨٥]

“রাসূলের নিকট তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যে অহি অবতীর্ণ হয়েছে, তাকে তিনি এবং মুমিনগণ মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেছেন। তাঁরা সবাই ঈমান এনেছেন আল্লাহ্‌র প্রতি, তাঁর ফেরেশতামণ্ডলীর প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি। (তাঁরা বলে,) আমরা তাঁর রাসূলগণের মধ্যে কোন তারতম্য করি না। তাঁরা বলে, আমরা শুনেছি এবং মেনে নিয়েছি। হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা আপনার কাছে ক্ষমা চাই এবং আপনারই নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হবে” (বাক্বারাহ ২৮৫)।

তাছাড়া রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন,

«أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلاَئِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ»

“ঈমান হচ্ছে, আল্লাহ্‌র প্রতি, তাঁর ফেরেশতামণ্ডলীর প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি এবং তাক্বদীরের ভাল-মন্দের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা” (মুসলিম)।

আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করুন, তিনি আপনাকে ভালোবাসবেন

আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করুন, তিনি আপনাকে ভালোবাসবেন। অনুবাদ : সিরাজুল ইসলাম আলী আকবর, সম্পাদনা: মুহাম্মদ শামছুল হক ছিদ্দিক।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ- قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمّ : إنَّ اللهَ تَعَالَى قَالَ : مَنْ عَادَى لِيْ وَلِيًّا فَقَدْ آذَنْتُهُ بِالْحََرْبِ، وَمَا تَقَرَّبَ إلَيَّ عَبْدِي بِشَيْءٍ أَحَبَّ إِلَيَّ مِمَّا افْتَرَضْتُهُ عَلَيْهِ، وَلَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتّى أُحِبَّهُ، فَإذَا أحْبَبْتُهُ كُنْتُ سَمْعُهُ الّذِيْ يَسْمَعُ بِهِ، وَبَصَرُهُ الّذِي يُبْصِرُ بِهِ، وَيَدَهُ الَّتِيْ يُبْطِشُ بِهَا، وَرِجْلُهُ الَّتِيْ يَمْشِيْ بِهَا، وَلَئِنْ سَأَلَنِيْ لَأُعْطِيَنّهُ، وَلَئِنْ اسْتَعَاذَنِيْ لَأُعِيْذَنَّهُ
আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহ তাআলা বলেন: যে ব্যক্তি আমার কোনো বন্ধুর সঙ্গে কোনো প্রকার শত্রুতা পোষণ করে, আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দেই। আমার বান্দা যে এবাদত বন্দেগির মাধ্যমে আমার সান্নিধ্য লাভ করে সে সবের মাঝে তার প্রতি আরোপিত ফরজ কাজই আমার নিকট অধিকতর প্রিয় এবং আমার বান্দা নফল কার্যাবলীর মাধ্যমে অব্যাহত ভাবে আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে, এক সময় সে আমার ভালোবাসা লাভে সক্ষম হয়। আর যখন আমি তাকে ভালোবাসি তখন আমি হয়ে যাই তার কর্ণ, যার মাধ্যমে সে শ্রবণ করে। এবং হয়ে যাই তার চক্ষু, যার মাধ্যমে সে দর্শন করে, এবং তার হস্ত, যার দ্বারা সে হস্তগত করে, এবং তার চরণ হয়ে যাই যা দিয়ে বিচরণ করে। সে যদি আমার কাছে কিছু চায় আমি তাকে অবশ্যই তা প্রদান করি। যদি আমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে তবে আমি তাকে অবশ্যই আশ্রয় দান করি। (বোখারি- ৬৫০২)

হাদিস বর্ণনাকারী : হাদিসটি বর্ণনাকারী আবু হুরাইরা (রাঃ), তিনি ছিলেন হাদিস কণ্ঠস্থকারী সাহাবিদের অন্যতম শীর্ষস্থানীয়। তার ও তার পিতার নাম বিষয়ে বিজ্ঞ উলামা মহলে রয়েছে মতদ্বৈধতা। তবে প্রসিদ্ধ মতানুসারে তার এবং তার পিতার নাম হলো আব্দুর রহমান, ইবনে ছখর, আদ দাওসী। তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন খায়বার যুদ্ধের বছরে, সপ্তম হিজরির প্রারম্ভে।
ইমাম জাহাবী বলেন :
حمل عن النبي صلى الله عليه وسلم علما طيبا كثيرا مباركا فيه، لم يلحق فى كثرته.
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে তিনি প্রভূত, বরকতময় জ্ঞান বহন করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অতুলনীয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিরবচ্ছিন্ন সংস্রবের বরকতে পবিত্র হাদিসের বর্ণনায় তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ রাবী। যে কারণে তার বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা পাঁচ হাজার তিন শত চুয়াত্তর (৫,৩৭৪)-এ পৌঁছেছে। ইমাম বোখারি রহ. আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন :
إنكم تقولون: إن أبا هريرة يكثر الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وتقولون: ما بال المهاجرين والأنصار لا يحدثون عن رسول الله- صلى الله عليه وسلم- بمثل حديث أبي هريرة ؟ وإن إخوتي من المهاجرين كان يشغلهم الصفق بالأسواق، وكنت ألزم رسول الله صلى الله عليه وسلم على ملء بطني، فأشهد إذا غابوا، وأحفظ إذا نسوا، وكان يشغل إخوتي من الأنصار عمل أموالهم، وكنت امرأ مسكينا من مساكين الصفة، أعي حين ينسون.
‘তোমরা পরস্পর বলাবলি কর যে, আবু হুরাইরা রাসূল (ﷺ) হতে অসংখ্য হাদিস বর্ণনা করেন এবং তোমাদের পারস্পরিক মন্তব্য হচ্ছে যে, মুহাজির ও আনসারগণ আবু হুরাইরার মত হাদিস বর্ণনায় অংশ নেন না কেন? আমার মুহাজির ভাইরা বাজারে ব্যবসায় নিয়োজিত থাকত। আর আমি উদরপূর্তির চিন্তা বাদ দিয়ে রাসূলের সঙ্গ যাপনেই বেশি গুরুত্ব প্রদান করতাম। যখন তারা চলে যেত, তখন আমি উপস্থিত থাকতাম, আর তারা বিস্মৃত হলে আমি ব্যাপৃত হতাম কণ্ঠস্থ করণে। আমার আনসার ভাইদের ব্যস্ত রাখত সহায় সম্পত্তির ব্যস্ততা। আমি ছিলাম সুফ্ফার অসহায় কপর্দকশূন্য একজন। তারা বিস্মৃত হলে আমি মনে রাখতাম।’

একদিন রাসূল (ﷺ) হাদিস বর্ণনা করতে গিয়ে বললেন:
إنه لن يبسط أحد ثوبه حتى أقضي جميع مقالتي هذه ثم يجمع إليه ثوبه إلا وعى ما أقول. فبسطت نمرة علي ّ، حتى إذا قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم مقالته جمعتها إلى صدري، فما نسيت من مقالة رسول الله صلى الله عليه وسلم تلك من شيء
‘আমি যতক্ষণ না আমার যাবতীয় কথা শেষ করছি ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ যদি তার কাপড় বিছিয়ে রেখে দেয় এবং কথা শেষ হলে তা নিজের দিকে টেনে এনে জড়িয়ে ধরে, তাহলে আমার উপস্থাপিত সব কথাই তার মনে থাকবে।’তৎক্ষণা আমি আমার সাদা-কালো দাগযুক্ত পশমি চাদর পেতে দিলাম এবং যখন তিনি যাবতীয় কথা বলে শেষ করলেন, তখনি আমি আমার পাতা চাদরটি টেনে নিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরলাম। তাই, রাসূলের বলা সেই কথাগুলোর কিছুই আমি ভুলিনি।

সাতান্ন হিজরিতে তিনি পরলোক গমন করেন।

শাব্দিক আলোচনা:
إنَّ اللهَ تَعَالَى قَالَ
হাদিসের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত এ ধরণের বাক্যরূপ প্রমাণ করে হাদিসট ‘হাদিসে কুদসী’। হাদিসে কুদসী হল:
هو ما أضيف إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وأسنده إلى ربه عز وجل.
রাসূল (ﷺ) যা নিজের সাথে সংশ্লিষ্ট করে বর্ণনা করেন, কিন্তু বরাত দেন আল্লাহ তাআলার কালাম হিসেবে।
مَنْ عَادَى لِيْ وَلِيًّا
(যে আমার কোনো ওলি (বন্ধু)- এর সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করল) ভিন্ন বর্ণনায় এসেছে:
من أهان لي وليّا فقد بارزني بالمحاربة
যে আমার কোনো প্রিয় বান্দাকে অপমাণিত করল সে আমার সঙ্গে লড়াইয়ের ঘোষণা দিল। ‘ওয়ালিয়্যুন’ শব্দটি ‘মুওয়ালাত’ থেকে উৎপন্ন, যার অর্থ নৈকট্য। ওলি কাকে বলে ?
الولي : هو القريب من الله بعمل الطاعات والكف عن المعاصي
ওলি তাকেই বলে যে যথার্থ এবাদত বন্দেগি ও সর্বপ্রকার পাপাচার পরিহারে দৃঢ়তার স্বাক্ষর রেখে মহান আল্লাহ পাকের নৈকট্যে উপনীত হতে সক্ষম ও সফল হয়েছে।

فَقَدْ آذَنْتُهُ بِالْحََرْبِ
অর্থাৎ, যেহেতু আমার নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে সেহেতু আমিও তার সঙ্গে যুদ্ধের ঘোষণা দিলাম।

وَمَا تَقَرَّبَ إلَيَّ عَبْدِي بِشَيْءٍ أَحَبَّ إِلَيَّ مِمَّا افْتَرَضْتُهُ عَلَيْهِ
‘আমার বন্ধুদের সাথে শত্রুতা প্রকারান্তরে আমার সাথে যুদ্ধ ঘোষণারই অনুরূপ’—এ আলোচনার অবতারণার পর আল্লাহ তাআলা তার বন্ধুদের গুণ বর্ণনা করেছেন, যাদের সাথে শত্রুতা নিষিদ্ধ, এবং যাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ আল্লাহর কাম্য। আল্লাহর প্রিয় বান্দা তারাই, যারা নৈকট্যদানকারী বিষয়কে অবলম্বন করে, বলাবাহুল্য এর শীর্ষে অবস্থান করে শরিয়তের অবশ্য পালনীয় বিধান বা ফরজ সমূহ।

فَإذَا أحْبَبْتُهُ كُنْتُ سَمْعُهُ الّذِيْ يَسْمَعُ بِهِ، وَبَصَرُهُ الّذِي يُبْصِرُ بِهِ، وَيَدَهُ الَّتِيْ يُبْطِشُ بِهَا، وَرِجْلُهُ الَّتِيْ يَمْشِيْ بِهَا
বাক্যাংশের উদ্দেশ্য এই যে, প্রথমত: ফরজ, দ্বিতীয়ত: নফল-ইত্যাদির মাধ্যমে সে নিরত হবে আল্লাহ তাআলার নৈকট্যলাভের অধ্যবসায়, আল্লাহ তাকে আপন করে নিবেন, ঈমানের স্তর হতে তাকে উন্নীত করবেন এহসানের স্তরে। ফলে সে এমনভাবে আল্লাহ পাকের এবাদতে লিপ্ত হবে; যেন সে আল্লাহর দর্শন লাভ করছে, তার হৃদয় পূর্ণ হবে আল্লাহর মারেফাতে, তার মহববত ও মহত্ত্বে। তার আত্মা কম্পিত হবে আল্লাহর ভীতি ও মাহাত্ম্যে। তার হৃদয় কোন্দর বিগলিত হবে তার সংশ্লিষ্টতা ও তার প্রতি প্রবল ব্যগ্রতায়। এক সময় তার মনে হবে, অন্তরদৃষ্টি দ্বারা সে আল্লাহকে দর্শন করছে তার কথন হবে আল্লাহর কথন, শ্রবণ হবে তারই শ্রবণ, দৃষ্টি হবে তারই দৃষ্টি।

وَلَئِنْ سَأَلَنِيْ لَأُعْطِيَنّهُ، وَلَئِنْ اسْتَعَاذَنِيْ لَأُعِيْذَنَّهُ.
অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাকের সে-রূপ নৈকট্যশালী সৌভাগ্যবান বান্দার বিশিষ্ট মর্যাদা রয়েছে তাঁর সমীপে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে সে যদি তাঁর সকাশে কিছু চায় তবে তিনি তাকে তা দিয়ে দেন। কোনো বিষয় থেকে আশ্রয় কামনা করলে তিনি তা থেকে তাকে আশ্রয় দেন। তাঁকে ডাকলে তিনি সাড়া দেন। অতএব আল্লাহ পাকের সকাশে তার এহেন সম্মান থাকায় সে
الدَّعْوَةِ مُسْتَجَابُ
(যার দোয়া কবুল করা হয়) বান্দায় পরিণত হয়।

বিধান ও উপকারিতা:
ওয়াজিব-মোস্তাহাব, বা আবশ্যক-অনাবশ্যক সর্বস্তরের এবাদত বন্দেগির অভ্যন্তরে বিচরণ, এবং ছোট বড় সর্বশ্রেণীর পাপাচার অনাচারের ভয়ংকর বৃত্ত থেকে সম্পূর্ণ ভাবে আত্মরক্ষা এ দু’টি বিষয়ই মানব-মানবীর ভিতরে অলিত্বের প্রতিভা সৃষ্টি করে। শামিল করে তাদের সেই শ্রেষ্ঠ অলিদের কাতারে যারা মহববত করে আল্লাহকে। আল্লাহ পাকও তাদের মহববত করেন কেবল তাই নয়, বরং যারা তাদের মহববত করে তিনি তাদেরকেও ভালোবাসেন। অধিকন্তু, যে সমস্ত লোক আল্লাহ তাআলার এমন বন্ধুদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে, অথবা তাদের কষ্ট দেয়, কিংবা ঘৃণা করে, অথবা তাদের সাথে প্রতারণা ও প্রবঞ্চনা মূলক দুরাচার, অথবা কোনোরূপ অনিষ্ট ও ক্ষতি সাধনের কুটিল মতলব নিয়ে তাদের পিছু নেয়, তিনি সে সমস্ত দুষ্টদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। কেননা, আল্লাহ তাআলা তাদের সাহায্য সহযোগিতার জিম্মাদার হন। বিধায় তিনি তাদের সহায়তা করেন।

আল্লাহর বন্ধুদের প্রতি মহববত পোষণ আবশ্যক, অপরদিকে তাদের প্রতি শত্রুতা পোষণ অবৈধ। এমনিভাবে, যারা তার সাথে শত্রুতায় লিপ্ত তাদের সাথে শত্রুতার মনোভাব ও তাদের বন্ধুত্ব বর্জন আবশ্যক।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন;
لَا تَتَّخِذُوا عَدُوِّي وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَاءَ
যারা আমার ও তোমাদের শত্রু, তাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না।

অপর এক স্থানে তিনি বলেন—
وَمَنْ يَتَوَلَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالَّذِينَ آَمَنُوا فَإِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْغَالِبُونَ . (المائدة: ৫৬)
যারা আল্লাহ, তার রাসূল ও মোমিনদের সাথে বন্ধুতা করে, তারাই আল্লাহর দল, আর আল্লাহর দলই বিজয়ী।

আল্লাহ তার প্রিয় বান্দাদের গুণ বর্ণনা প্রসঙ্গে আরো বলেছেন, তারা মোমিনদের প্রতি সদয় এবং কাফেরদের প্রতি কঠোর।

হাদিসটি প্রমাণ করে, আল্লাহর বন্ধু দু শ্রেণীতে বিভক্ত।

প্রথমত: যারা ফরজ আদায়ের মাধ্যমে তার নৈকট্য হাসিল করে। এরা আসহাবে ইয়ামিন বা মধ্যপন্থী। ফরজ আদায়, নি:সন্দেহ, সর্বোত্তম এবাদত, যেমন বলেছেন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)
أفضل الأعمال أداء ما افترض الله، والورع عما حرم الله، وصدق النية فيما عند الله.
‘সর্বোত্তম এবাদত হল যা আল্লাহ তাআলা ফরজ করেছেন, অত:পর আল্লাহ কর্তৃক নিষিদ্ধ বিষয় পরিহার এবং যা আল্লাহর কাছে রক্ষিত, তা লাভের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ নিয়ত।’

দ্বিতীয়ত: ফরজ আদায়ের পর যারা নফল এবাদত, মাকরূহ বিষয়াদি পরিহার—ইত্যাদির অধ্যবসায়ের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করে। আল্লাহ তাদের প্রতি ভালোবাসা আবশ্যক করে নেন। উল্লেখিত হাদিসে এ দ্বিতীয় প্রকার অলিদের প্রতি বিশেষ আলোকপাত করে বলা হয়েছে—
وَلَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتّى أُحِبَّهُ
নফল এবাদত বন্দেগির মধ্য দিয়ে আমার বান্দা আমার নৈকট্য লাভ অব্যাহত রাখে এমনকি এ পর্যায়ে আমি তাকে ভালোবাসি।

আল্লাহ তাআলা যে বান্দাকে ভালোবাসেন, সে বান্দার হৃদয়ে তার বাস্তব ভালোবাসা জাগিয়ে তোলেন এবং স্মরণ ও এবাদত-বন্দেগিতে আত্ম-নিমগ্ন থাকতে পারে; এরূপ শক্তি-সামর্থ্য ও হিম্মত তাকে দান করেন। তদুপরি, আল্লাহ পাকের সান্নিধ্য ও নৈকট্য বয়ে আনে এমন ধর্ম কর্ম বা ধর্ম-পরায়ণতায় সে তার অন্তরঙ্গতা ও নিবিড় আন্তরিকতা খুঁজে পায়। ফলে ওই সব সু-কর্ম নিশ্চিত করে মহান আল্লাহর নিকটবর্তিতা এবং সাব্যস্ত করে ওই সংরক্ষিত অনন্ত নেয়ামত রাজি যা তাঁরই সকাশে সংরক্ষিত। আল্লাহ তাআলা বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا مَنْ يَرْتَدَّ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ يُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا يَخَافُونَ لَوْمَةَ لَائِمٍ ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ (المائدة :৫৪)
হে মোমিনগণ, তোমাদের মধ্য থেকে যে স্বীয় ধর্ম থেকে ফিরে যাবে, অচিরে আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন যাদেরকে তিনি ভালোবাসবেন এবং তারা তাঁকে ভালোবাসবে। তারা মুসলিমদের প্রতি বিনয়-বিনম্র হবে, এবং কাফেরদের প্রতি হবে কঠোর। তারা আল্লাহর পথে জেহাদ করবে, এবং কোন তিরস্কারকারীর তিরস্কারে ভীত হবে না। এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি তা দান করেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় সর্বজ্ঞ।

বান্দার জন্য আল্লাহর মহববত অন্যতম মুখ্য বিষয়। যে ব্যক্তি তা প্রাপ্ত হবে, প্রাপ্ত হবে দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় কল্যাণ ও সৌভাগ্য। প্রকৃত মোমিন সেই, যে আল্লাহর অলি হওয়ার আকাঙ্খায় ব্যাগ্র-কাতর হবে। এ লক্ষ্যে নিজেকে নিয়োজিত করবে চূড়ান্ত অধ্যবসায়। আল্লাহর অলি হওয়ার লক্ষ্য অর্জিত হয় নানাভাবে;

(ক) যা পালন আল্লাহ তাআলা বান্দার জন্য ফরজ করেছেন, তা সুচারুরূপে পালন করা। হাদিসে এসেছে’

وَمَا تَقَرَّبَ إلَيَّ عَبْدِي بِشَيْءٍ أَحَبَّ إِلَيَّ مِمَّا افْتَرَضْتُهُ عَلَيْهِ

আমার বান্দা যে সমস্ত উপায়ে আমার নৈকট্য পায়, তন্মধ্যে তার প্রতি আমার আরোপিত ফরজ কর্ম সমূহই আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয়।

কিছু ফরজ কর্মের উদাহরণ নিম্নরূপ :

তাওয়াহ্‌য়ীদ বা একত্ববাদের বাস্তবিক রূপায়ণ, ফরজ স্বলাত আদায়, জাকাত প্রদান, এবং মাহে-রমজানের সিয়াম পালন, ও বায়তুল্লাহর হজ পালন, এবং পিতা-মাতার সঙ্গে সদাচার ও আত্মীয়ের হক আদায়। তদুপরি সততা, নিষ্ঠা, উদারতা, সহানুভূতি, অনুনয়-বিনয় এবং উ কৃষ্ট কথন-বলন ও উত্তম ব্যবহার; প্রভৃতির ন্যায় শ্রেষ্ঠ চরিত্রে চরিত্রবান হওয়া।

(খ) ছোট বড় সকল হারাম বস্ত্ত সহ মাকরূহ বা অপছন্দনীয় বিষয়াদি থেকে যথা সাধ্য দূরত্ব বজায় রাখা।

(গ) নানাবিধ নফল স্বলাত, সদকা, সিয়াম, জিকির, কোরআন তেলাওয়াত, সৎ কর্মের আদেশ, অসৎ কর্মের নিষেধসহ ইত্যাদি নফল বা ঐচ্ছিক নেক কর্মে নিয়োজিত হয়ে মহান আল্লাহ পাকের সান্নিধ্য অর্জনে ব্রতী হওয়া।

উল্লেখযোগ্য কিছু নফল-কর্ম :

এক : অনুধাবন ও চিন্তা-গবেষণাসহ কোরআন তেলাওয়াত, এবং সে অনুসারে চিন্তা-ভাবনা করে তা শ্রবণ, যথাসাধ্য তার মুখস্থ এবং কণ্ঠস্থকৃত অংশগুলোর বারংবার পুনরাবৃত্তি এবং উক্ত আবৃত্তির মাধ্যমে আন্তরিক প্রশান্তি উপভোগ করা। কেননা মাহবুবের কথন-বলন ও শ্রবণে যে মধুরতা নিহিত, মহববত পোষণকারী মহলে তার চেয়ে তীব্রতর মধুরতা ও মিষ্টতা আর কিছুই নেই। খুঁজে পায় সেখানে তারা চরম ও পরম তৃপ্তি। কোরআন কারীমের পাঠ সংক্রান্ত উক্ত স্বাদ উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে সহায়তা করে—এমন কিছু উপায় নিম্নে উল্লেখ করা হলো :

এক—উক্ত বিষয়ে দৃঢ় সংকল্প করা।

দুই—উক্ত বিষয়ে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা।

তিন—উক্ত বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ।

চার—উপরোক্ত তিনটি কাজ শেষ করার পর যে মূল কর্মটি হাতে নিতে হবে তা হলো দৈনন্দিন কোরআন করীমের একটি পারার তেলাওয়াত নিয়মতান্ত্রিকভাবে চালিয়ে যাবে এবং যথাসাধ্য উক্ত নিয়মানুবর্তিতা ও ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলবে। কিছুতেই তা ভঙ্গ করবে না।

দুই : আত্মিক ও মৌখিকভাবে আল্লাহর স্মরণে অধিকহারে ব্যাপৃত হওয়া। বিশুদ্ধ হাদিসে কুদসীতে এসেছে যে;
يقول الله تعالي : أنا عند ظن عبدى بى، وأنا معه حين يذكرني، فان ذكرني في نفسه ذكرته في نفسي، وان ذكرني في ملأ ذكرته في ملأ خير منهم.

আল্লাহ তাআলা বলেন : আমার প্রতি আমার বান্দা যেরূপ ধারণা পোষণ করে আমি তার সে-রূপ ধারণা অনুযায়ী কাজ করি। আমি তার সাথে থাকি যখন সে আমায় স্মরণ করে। অতএব সে যদি আমাকে নির্জনে স্মরণ করে আমি তাকে নির্জনে স্মরণ করি। আর যদি সে আমাকে ভরা মজলিসে স্মরণ করে তবে আমি তাদের চেয়ে উত্তম সমাবেশে তাকে স্মরণ করি। এবং আল্লাহ তাআলা বলেন :
فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ (البقرة: ১৫২)

তোমরা আমার স্মরণ কর আমি তোমাদের স্মরণ করব।

তিন : আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তার পরম বন্ধুদের ভালোবাসা। পাশাপাশি উক্ত উদ্দেশ্যে তাঁর শত্রুদের সঙ্গে বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব পোষণ করা। উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন : নবী করীম (ﷺ) বলেছেন:
إن من عباد الله لأناسا ما هم بأنبياء ولا شهداء، يغبطهم الأنبياء والشهداء يوم القيامة بمكانهم من الله ةعالى، يوم القيامة بمكانهم من الله ةعالي، قالوا: يا رسول الله، ةخبرنا من هم ؟ قال: هم قوم ةحابوا بروح الله علي غير أرحام بينهم، ولا أموال يةعاطونها، فوالله إن وجوههم لنور، وإنهم علي منابر من نور لا يخافون إذا خاف الناس، ولا يحزنون إذا حزن الناس، وقرأ هذه الآية : أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ [يونس: ৬২]
আল্লাহর বান্দাদের মাঝে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা নবী কিংবা শহীদ নয়। আল্লাহর পক্ষ হতে প্রাপ্ত বিশেষ মর্যাদার কারণে নবী ও শহীদগণ কেয়ামত দিবসে তাদের প্রতি ঈর্ষান্বিত হবেন। তারা বললেন : হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তারা কারা, আপনি আমাদের তা অবহিত করবেন কী ? তিনি বললেন : তারা হল সে সমস্ত লোক যারা একে অপরকে ভালো বেসেছিল শুধু আল্লাহর ইচ্ছা বাস্তবায়নে, কোন আত্মীয়তার বন্ধনের তাগিদে নয়, কিংবা তাদের পারস্পরিক সম্পদের আদান-প্রদানের কারণেও নয়। আল্লাহর শপথ ! নিশ্চয় তাদের মুখমন্ডল হবে আলোময় (ঝলমলে) তারা উপবিষ্ট থাকবে জ্যোতির তৈরি মিম্বার (মঞ্চ) সমূহে। লোকেরা যখন শঙ্কায় কাতর হবে, তখন তারা হবে নি:শঙ্কচিত্ত। মানুষ যখন শোকে কাতর হবে, তখন তারা হবে আনন্দচিত্ত।

অত:পর তিনি এ আয়াত পাঠ করলেন :—
أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ [يونس: ৬২]
আল্লাহর বন্ধুদের কোন ভয়-ভীতি কিংবা শোক-দু:খ নেই।

পাঁচ : হাদিসটি প্রমাণ করে; রাসূল (ﷺ)-এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তার আনুগত্য ও বন্ধুত্বের যে বিধান দিয়েছেন, তা ব্যতীত ভিন্ন কোন পথ-পদ্ধতির মাধ্যমে তা লাভের দাবি খুবই অসাড়, মিথ্যা তাই সর্বার্থে বর্জনীয়। মুশরিকরা আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের ভিন্ন উপায় হিসেবে গায়রুল্লাহর এবাদত করত কোরআনে প্রসঙ্গটি উত্থাপন করে আল্লাহ তাআলা বলেন
مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى (الزمر ৩)আমরা তাদের উপাসনা শুধু এ জন্যই করি যাতে তারা আমাদের আল্লাহর নিকটস্থ করে দেয়।

এমনিভাবে আল্লাহ তাআলা ইহুদি খ্রিস্টানদের সম্বন্ধে তাদের উক্তি তুলে ধরে বলেন:
نَحْنُ أَبْنَاءُ اللَّهِ وَأَحِبَّاؤُهُ (المائدة : ১৭)
আমরা আল্লাহর পুত্র ও তাঁর বন্ধু।

অথচ তারা সমস্ত রাসূলদেরই মিথ্যা প্রতিপন্ন করে উদ্ধতভাবে এবং তাদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অমান্য ও ফরজ-কর্মসমূহ পরিহারে তারা থাকে অটল ও অনড়।

ছয় : মুসলিম মাত্র আশা রাখে যে তার দোয়া কবুল করা হবে, গ্রহণ করা হবে তার কর্মগুলো, দান করা হবে তাকে তার প্রার্থিত বিষয়। যা থেকে সে পরিত্রান প্রার্থনা করবে, তা থেকে তাকে পরিত্রান দেয়া হবে। এগুলো মানুষের খুবই আন্তরিক ও আত্মিক বাসনা, যার সঠিক সন্ধান দিতে পারে একমাত্র ওলায়াত বা বন্ধুত্বের পথ। যে পথের পুরোটাই জুড়ে থাকবে ফরজ ও শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত-সমর্থিত নফল এবাদত; যার পিছনে কাজ করবে বিশুদ্ধ নিয়ত ও রাসূলের আনুসরণ এবং তার নির্দেশিত পথের অনুবর্তন।

Main link…

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1414220528591474&id=100000106201797

ঈমান পরীক্ষা করা হবে

Bismillahir Rahmanir Rahim.

﴿ اَحَسِبَ النَّاسُ اَنۡ يُّتۡرَكُوۡۤا اَنۡ يَّقُوۡلُوۡۤا اٰمَنَّا وَهُمۡ لَا يُفۡتَنُوۡنَ﴾

২.) লোকেরা কি মনে করে রেখেছে, “আমরা ঈমান এনেছি” কেবলমাত্র একথাটুকু বললেই তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে, আর পরীক্ষা করা হবে না?
(সুরা আনকাবুত)

আসুন এই আয়াতটিৰ ব্যাখা জেনে নেই।

” যে অবস্থায় একথা বলা হয় তা ছিল এই যে, মক্কা মু’আযযমায় কেউ ইসলাম গ্রহণ করলেই তার ওপর বিপদ আপদ ও জুলুম-নিপীড়নের পাহাড় ভেঙ্গে পড়তো। কোন গোলাম বা গরীব মানুষ ইসলাম গ্রহণ করলে তাকে ভীষণভাবে মারপিট এবং কঠোর নির্যাতন-নিপীড়নের যাঁতাকলে নিষ্পেষিত করা হতো। সে যদি কোন দোকানদার বা কারিগর হতো তাহলে তার রুজি-রোজগারের পথ বন্ধ করে দেয়া হতো। সে যদি কোন প্রভাবশালী পরিবারের কোন ব্যক্তি হতো, তাহলে তার নিজের পরিবারের লোকেরা তাকে নানাভাবে বিরক্ত করতো ও কষ্ট দিতো এবং এভাবে তার জীবনকে দুর্বিসহ করে তুলতো। এ অবস্থা মক্কায় একটি মারাত্মক ভীতি ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করে দিয়েছিল। এ কারণে লোকেরা নবী (সা.) এর সত্যতার স্বীকৃতি দেয়া সত্ত্বেও ঈমান আনতে ভয় করতো এবং কিছু লোক ঈমান আনার ভয়াবহ শাস্তিরও সম্মুখীন হলে সাহস ও হিম্মতহারা হয়ে কাফেরদের সামনে নতজানু হয়ে যেতো। এ পরিস্থিতি যদিও দৃঢ় ঈমানের অধিকারী সাহাবীগণের অবিচল নিষ্ঠার মধ্যে কোনো প্রকার দোদুল্যমানতা সৃষ্টি করেনি তবুও মানবিক প্রকৃতির তাগিদে অধিকাংশ সময় তাদের মধ্যেও একটা মারাত্মক ধরনের চিত্তচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়ে যেতো। এ ধরনের অবস্থার একটা চিত্র পেশ করে হযরত খাব্বাব ইবনে আরাত বর্ণিত একটি হাদীস। হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন বুখারী, আবু দাউদ ও নাসাঈ তাদের গ্রন্থে। তিনি বলেন, যে সময় মুশরিকদের কঠোর নির্যাতনে আমরা ভীষণ দুরবস্থার সম্মুখীন হয়ে পড়েছিলাম সে সময় একদিন আমি দেখলাম নবী (সা.) কা’বাঘরের দেয়ালের ছায়ায় বসে রয়েছেন। আমি সেখানে উপস্থিত হয়ে নিবেদন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাদের জন্য দোয়া করেন না? একথা শুনে তার চেহারা আবেগে-উত্তেজনায় রক্তিমবর্ণ ধারণ করলো এবং তিনি বললেন, “তোমাদের পূর্বে যেসব মু’মিনদল অতিক্রান্ত হয়েছে তারা এর চাইতেও বেশি নিগৃহীত হয়েছে। তাদের কাউকে মাটিতে গর্ত করে তার মধ্যে বসিয়ে দেয়া হতো এবং তারপর তার মাথার ওপর করাত চালিয়ে দু’টুকরা করে দেয়া হতো। কারো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সন্ধিস্থলে লোহার চিরুনী দিয়ে আঁচড়ানো হতো, যাতে তারা ঈমান প্রত্যাহার করে। আল্লাহর কসম, এ কাজ সম্পন্ন হবেই, এমনকি এক ব্যক্তি সান’আ থেকে হাদ্বারামাউত পর্যন্ত নিশঙ্ক চিত্তে সফর করবে এবং আল্লাহ‌ ছাড়া আর কারো ভয় তার মনে থাকবে না।”
এ চিত্তচাঞ্চল্যকে অবিচল ধৈর্য ও সহিষ্ণুতায় রূপান্তরিত করার জন্য মহান আল্লাহ‌ মু’মিনদেরকে বুঝান, ইহকালীন ও পরকালীন সাফল্য অর্জনের জন্য আমার যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি রয়েছে কোন ব্যক্তি নিছক মৌখিক ঈমানের দাবীর মাধ্যমে তার অধিকারী হতে পারে না। বরং প্রত্যেক দাবীদারকে অনিবার্যভাবে পরীক্ষার চুল্লী অতিক্রম করতে হবেই। তাকে এভাবে নিজের দাবির সত্যতা পেশ করতে হবে। আমার জান্নাত এত সস্তা নয় এবং দুনিয়াতেও আমার বিশেষ অনুগ্রহ এত আয়াসলব্ধ নয় যে, তোমরা কেবলি মুখে আমার প্রতি ঈমান আনার কথা উচ্চারণ করবে আর অমনিই আমি তোমাদেরকে সেসব কিছুই দান করে দেবো। এসবের জন্য তো পরীক্ষার শর্ত রয়েছে। আমার জন্য কষ্ট বরদাশত করতে হবে। বিভিন্ন ধরনের নিপীড়ন-নির্যাতন সহ্য করতে হবে, বিপদ-মুসিবত ও সংকটের মুকাবিলা করতে হবে। ভীতি ও আশঙ্কা দিয়ে পরীক্ষা করা হবে এবং লোভ-লালসা দিয়েও। এমন প্রত্যেকটি জিনিস যা ভালোবাসো ও পছন্দ করো, আমার সন্তুষ্টির জন্য তাকে উৎসর্গ করতে হবে। আর এমন প্রত্যেকটি কষ্ট যা তোমাদের অনভিপ্রেত এবং তোমরা অপছন্দ করে থাকো, আমার জন্য তা অবশ্যই বরদাশত করতে হবে। তারপরেই তোমরা আমাকে মানার যে দাবী করেছিলে তার সত্য-মিথ্যা যাচাই হবে। কুরআন মজীদের এমন প্রত্যেকটি জায়গায় যেখানে বিপদ-মুসিবত ও নিগ্রহ-নিপীড়নের সর্বব্যাপী আক্রমণে মুসলমানদের মধ্যে ভীতি সঞ্চারের অবস্থা হয়ে গেছে সেখানেই একথা বলা হয়েছে। হিজরাতের পরে মদিনায় মুসলমানদের জীবনের প্রথমাবস্থায় যখন অর্থনৈতিক সংকট, বাইরের বিপদ এবং ইহুদী ও মুনাফিকদের ভিতরের দুষ্কৃতি মু’মিনদেরকে ভীষণভাবে পেরেশান করে রেখেছিল তখন আল্লাহ‌ বলেনঃ

————————————–

“তোমরা কি মনে করেছো তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করে যাবে, অথচ এখনো তোমরা সে অবস্থার সম্মুখীন হওনি, যে অবস্থার সম্মুখীন হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী (ঈমানদার) গণ? তারা সম্মুখীন হয়েছিল নির্মমতা ও দুঃখ-ক্লেশের এবং তাদেরকে অস্থির করে তোলা হয়েছিল। এমনকি রসূল ও তাঁর সাথে যারা ঈমান এনেছিল তারা চিৎকার করে বলে উঠেছিল আল্লাহর সাহায্য কবে আসবে? (তখনই তাদেরকে সুখবর দেয়া হয়েছিল এই মর্মে যে) জেনে রাখো, আল্লাহর সাহায্য নিকটেই।” (আল বাকারাহঃ ২১৪)

অনুরূপভাবে ওহোদ যুদ্ধের পর যখন মুসলমানদের ওপর আবার বিপদ-মুসিবতের একটি দুর্যোগপূর্ণ যুগের অবতারণা হয় তখন বলা হয়ঃ

——————————–

“তোমরা কি মনে করে নিয়েছো, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করে যাবে, অথচ এখনো আল্লাহ‌ দেখেনইনি যে, তোমাদের মধ্য থেকে কে জিহাদে প্রাণ উৎসর্গকারী এবং কে সবরকারী? ” (আল ইমরানঃ ১৪২)

প্রায় একই বক্তব্য সূরা আলে ইমরানের ১৭৯, সূরা তাওবার ১৬ এবং সূরা মুহাম্মাদের ৩১ আয়াতে বলা হয়েছে। এসব বক্তব্যের মাধ্যমে মহান আল্লাহ‌ মুসলমানদের মনে এ সত্যটি গেঁথে দিয়েছেন যে, পরীক্ষাই হচ্ছে এমন একটি মানদণ্ড যার মাধ্যমে ভেজাল ও নির্ভেজাল যাচাই করা যায়। ভেজাল নিজে নিজেই আল্লাহর পথ থেকে সরে যায় এবং নির্ভেজালকে বাছাই করে নিয়ে নেয়া হয়। এভাবে সে আল্লাহর এমনসব পুরস্কার লাভের যোগ্য হয়, যেগুলো কেবলমাত্র সাচ্চা ঈমানদারদের জন্য নির্ধারিত।”

(courtesy-Rizwuwanur rahman  mohammadi )