Category Archives: Zikr

তাসবিহতে নয়; ডান হাতের আংগুলের দাগে। এটি সুন্নাহ।

a

জিকির করুন, সহীহ পদ্ধতিতে।
.
.
তাসবিহতে নয়; ডান হাতের আংগুলের দাগে।
এটি সুন্নাহ।
মনে রাখবেন, রাসূল সা. এমন কোন সংখ্যক তাসবিহ শিখান নি, যার প্রয়োজনে আপনাকে তাসবিহ ছড়া কিংবা মেশিন বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করতে হবে। এগুলো আজকাল সৃষ্ট কিছু বিদাতী তাসবিহ। এগুলোকে ‘না’ বলুন।

রাসূল সা. এর শেখানো পদ্ধতির বাইরে দ্বীন নেই। যা আছে, সব বাতিল। বাতিল। বাতিল।

link-sourse

Effective Du’as against enemies

1]-কোনো সম্প্রদায়কে ভয় করলে যা বলবে:-
– «اللَّهُمَّ اكْفِنِيهِمْ بِمَا شِئْتَ».

(আল্লা-হুম্মাকফিনীহিম বিমা শি’তা)।

– “হে আল্লাহ! আপনি যা ইচ্ছে তা দ্বারাই এদের মোকাবিলায় আমার জন্য যথেষ্ট হোন।”[1]

ফুটনোটঃ[1] মুসলিম ৪/২৩০০, নং ৩০০৫।

———————————————————————-

2]-Against an enemy:-

رَبِّ انصُرْنِي عَلَى الْقَوْمِ الْمُفْسِدِينَ

(Rabbi annsurni alal qawmil mufsideen)

My Lord! Help me against people who practise corruption and spread disorder.
[surah al-Ankabut; 29: 30]

————

Recite every just after fard salat while making  zikr….-sgis

ফরজ ছালাতে সালামের পর কি কি দু’আ ও যিক্‌র করতে হয়?

জেনে নিন- ইসলামিক প্রশ্ন উত্তর's photo.

ফরজ ছালাতে সালামের পর কি কি দু’আ ও যিক্‌র করতে হয়?
___________________________
ফরয ছালাতের পর এ দু’আ যিকির আযকার গুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফাযীলাত পূর্ণ । যা মানব জীবনে দুনিয়া ও আখেরাতের মহা কল্যাণ নিহিত রয়েছে ।

তাই আমাদের অবশ্যই উচিত এ সমস্ত দু’আ যিকির আযকার সমূহ গুরুত্ব সহকারে মুখস্ত করা যা ছহীহ হাদীছ দ্বারা সুপ্রমানিত।
আল্লাহ্ তাআলা সবাইকেই তাওফীক্ব দান করুন আমীন ।

ফরয ছালাতের সালাম ফিরানোর পরঃ

«استغفر الله استغفر الله استغفر الله»

«اللهم أنت السلام ومنك السلام تباركت يا ذا الجلال والإكرام» (رواه مسلم)

উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহ (তিনবার)

আল্লাহুম্মা আন্তাস সালামু ওয়া মিনকাস সালামু, তাবারাকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম। (মুসলিম)

অর্থ: আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

হে আল্লাহ! তুমি শান্তিময়, আর তুমিই শান্তির উৎস। হে মহামহিম ও সম্মানের অধিকারী মহিমান্বিত তুমি।

«لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد وهو على كل شيءٍ قدير»

উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারীকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়্যিন কাদীর। (বুখারী – মুসলিম)

অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্যিকার ইলাহ বা উপাস্য নেই। তিনি এক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই, তাঁর জন্যই সকল প্রশংসা ও রাজত্ব আর তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

«لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد وهو على كل شيئ قدير، اللهم لا مانع لما أعطيت، ولا معطي لما منعت، ولا ينفع ذا الجد منك الجد» (رواه البخاري ومسلم)

উচ্চারণ: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওলাহুল হামদু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়্যিন ক্বদীর। আল্লাহুম্মা লা মানি‘য়া লিমা আ‘ত্বইতা ওয়ালা মু‘ত্বিয়া লিমা মানা‘তা ওয়ালা ইয়ানফা‘উ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু। (বুখারী – মুসলিম)

অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্যিকার ইলাহ বা উপাস্য নেই। তিনি এক তাঁর কোনো অংশীদার নেই, তাঁর জন্যই সকল প্রশংসা ও রাজত্ব আর তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

হে আল্লাহ্! তুমি যে দান কর তা বন্ধ করার কেউ নেই আর তুমি যা বন্ধ রাখ তা দানকারী কেউ নেই। কোনো সম্মানিত ব্যক্তির সম্মান কাজে আসবে না, তোমার নিকটেই প্রকৃত সম্মান।

«لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك، وله الحمد وهو على كل شيء قدير، لا حول ولا قوّة إلا بالله، لا إله إلا الله، ولا نعبد إلا إيّاه، له النعمة وله الفضل وله الثناء الحسن، لا إله إلا الله مخلصين له الدين ولو كره الكافرون» (رواه مسلم)

উচ্চারণ: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারীকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়্যিন কাদীর। লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহি, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়ালা না‘বুদু ইল্লা ইয়্যাহু, লাহুন নি‘মাতু ওয়ালাহুল ফাদলু ওয়ালাহুস সানাউল হাসানু, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুখলিসীনা লাহুদদ্বীনা ওয়ালাউ কারিহাল কাফিরূন। (মুসলিম)

অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্যিকার ইলাহ বা উপাস্য নেই। তিনি এক তাঁর কোনো অংশীদার নেই, তাঁর জন্যই সকল প্রশংসা ও রাজত্ব আর তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

আল্লাহ তা‘আলার সাহায্য ব্যতীত স্বীয় অবস্থা থেকে পরিবর্তনের ক্ষমতা কারো নেই। আল্লাহ্ ব্যতীত সত্যিকার মা‘বূদ নেই, আমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করি, তাঁর পক্ষ থেকে যাবতীয় নেয়ামত ও অনুগ্রহ তাই তাঁর জন্যই সকল উত্তম প্রশংসা। আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্রিকার মা‘বূদ নেই, তাঁর দ্বীন আমরা একনিষ্ঠভাবে মান্য করি যদিও কাফেরগণ তা অপছন্দ করে।

«سبحان الله»

‘‘সুবহানাল্লাহ’’ ৩৩ বার

অর্থ: আমি আল্লাহর জন্য যাবতীয় দোষ হতে পবিত্রতা ঘোষণা করছি।

الحمد لله

‘‘আহামদু লিল্লাহ’’ ৩৩ বার

অর্থ: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

الله أكبر

‘‘আল্লাহু আকবার’’ ৩৩ বার

অর্থ: আল্লাহ্ সবার বড়। অতঃপর এক বার বলবেঃ

“لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير” (رواه البخاري و مسلم)

উচ্চারণ: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারীকালাহু, লাহুল মুলক ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়্যিন কাদীর। (বুখারী – মুসলিম)

অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্যিকার ইলাহ বা উপাস্য নেই। তিনি এক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই, তাঁর জন্যই সকল প্রশংসা ও রাজত্ব আর তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

অথবাঃ সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার, আলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বার ও আল্লাহু আকবার ৩৪ বার। (তিরমিযী, নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ)

আয়াতুল কুরসী একবারঃ

﴿ ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلۡحَيُّ ٱلۡقَيُّومُۚ لَا تَأۡخُذُهُۥ سِنَةٞ وَلَا نَوۡمٞۚ لَّهُۥ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۗ مَن ذَا ٱلَّذِي يَشۡفَعُ عِندَهُۥٓ إِلَّا بِإِذۡنِهِۦۚ يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ أَيۡدِيهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيۡءٖ مِّنۡ عِلۡمِهِۦٓ إِلَّا بِمَا شَآءَۚ وَسِعَ كُرۡسِيُّهُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَۖ وَلَا يَ‍ُٔودُهُۥ حِفۡظُهُمَاۚ وَهُوَ ٱلۡعَلِيُّ ٱلۡعَظِيمُ ٢٥٥ ﴾ [البقرة: ٢٥٥]

উচ্চারণ: (আল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যূল কাইয়্যূমু লা তা’খুযুহু সিনাতুঁও ওয়ালা নাউম। লাহূ মা-ফিসসামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ্বি। মান যাল্লাযী ইয়াশফা‘উ ‘ইনদাহূ ইল্লা বিইযনিহী। ইয়া‘লামু মা বাইনা আইদীহিম ওয়ামা খালফাহুম। ওয়ালা ইয়ুহীতূনা বিশাইইম মিন্ ইলমিহী ইল্লা বিমা শাআ। ওয়াসি‘আ কুরসিয়্যুহুস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্ব। ওয়ালা ইয়াউদুহূ হিফযুহুমা ওয়া হুয়াল ‘আলিয়্যূল ‘আযীম)।

অর্থ: “আল্লাহ্, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ্ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রাও নয়। আসমানসমূহে যা রয়েছে ও যমীনে যা রয়েছে সবই তাঁর। কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পিছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন। আর যা তিনি ইচ্ছে করেন তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুকেই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না। তাঁর ‘কুরসী’ আসমানসমূহ ও যমীনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে; আর এ দুটোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁর জন্য বোঝা হয় না। আর তিনি সুউচ্চ সুমহান।”

ফরয নামাযের পর উক্ত আয়াতুর কুরসী পড়বে কেননা হাদীসে বর্ণিত হয়েছেঃ ‘‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয নামাযের শেষে আয়াতুল কুরসী পড়বে তার জন্য মৃত্যু ব্যতীত জান্নাতে যাওয়ার আর কোনো বাধা নেই। (নাসায়ী)

‘‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’’, ‘‘কুল আঊযু বিরাবিবল ফালাক’’ ও ‘‘কুল আঊযু বিরাবিবন্ নাস’’ প্রত্যেক ফরয নামাযের শেষে পড়বে।

(আবু দাঊদ, নাসায়ী ও তিরমিযী)

সূরা ইখলাস একবারঃ
70-(5) بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ ۝ ﴿قُلْ هُوَ اللّٰهُ اَحَدٌ Ǻ۝ۚ اَللّٰهُ الصَّمَدُ Ą۝ۚ لَمْ يَلِدْ ڏ وَلَمْ يُوْلَدْ Ǽ۝ وَلَمْ يَكُنْ لَّهٗ كُفُوًا اَحَدٌ Ć۝ۧ﴾،

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম (ক্বুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ। আল্লাহুস্ সামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ)।

রহমান, রহীম আল্লাহর নামে। “বলুন, তিনি আল্লাহ্, এক-অদ্বিতীয়। আল্লাহ্ হচ্ছেন ‘সামাদ’ (তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী)। তিনি কাউকেও জন্ম দেন নি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয় নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।”

সূরা ফালাক একবারঃ

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ ۝ ﴿قُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ Ǻ۝ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ Ą۝ وَمِنْ شَرِّ غَاسِقٍ اِذَا وَقَبَ Ǽ۝ وَمِنْ شَرِّ النَّفّٰثٰتِ فِي الْعُقَدِ Ć۝ وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ اِذَا حَسَدَ Ĉ۝﴾،

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম (ক্বুল আ‘উযু বিরব্বিল ফালাক্ব। মিন শাররি মা খালাক্ব। ওয়া মিন শাররি গা-সিক্বিন ইযা ওয়াক্বাব। ওয়া মিন শাররিন নাফফা-সা-তি ফিল ‘উক্বাদ। ওয়া মিন শাররি হা-সিদিন ইযা হাসাদ)।

রহমান, রহীম আল্লাহর নামে। “বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঊষার রবের। তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে। ‘আর অনিষ্ট হতে রাতের অন্ধকারের, যখন তা গভীর হয়। আর অনিষ্ট হতে সমস্ত নারীদের, যারা গিরায় ফুঁক দেয়। আর অনিষ্ট হতে হিংসুকের, যখন সে হিংসা করে।”

সূরা নাস একবারঃ

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ ۝ ﴿قُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ Ǻ۝ مَلِكِ النَّاسِ Ą۝ اِلٰهِ النَّاسِ Ǽ۝ مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ ڏ الْخَنَّاسِ Ć۝ الَّذِيْ يُوَسْوِسُ فِيْ صُدُوْرِ النَّاسِ Ĉ۝ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ Č۝ۧ﴾

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম (ক্বুল ‘আউযু বিরাব্বিন্না-স। মালিকিন্না-সি, ইলা-হিন্নাসি, মিন শাররিল ওয়াসওয়া-সিল খান্না-স, আল্লাযি ইউওয়াসউইসু ফী সুদূরিন না-সি, মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-স।)।

রহমান, রহীম আল্লাহর নামে। “বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের, মানুষের অধিপতির, মানুষের ইলাহের কাছে, আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট হতে; যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে, জিনের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকে।”

«اللهم إنّي أسألك علما نافعا، ورزقا طيبا، وعملا متقبلا» (رواه إبن ماجه)

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী আসয়ালুকা ইলমান নাফিয়ান ওয়া রিযকান ত্বইয়্যিবান ওয়া আমালান মুতাকাব্বালান। (ইবনে মাজাহ)

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকটে উপকারী বিদ্যা, পবিত্র রিযিক এবং গ্রহণযোগ্য আমল কামনা করি।

«رب قني عذابك يوم تبعث عبادك» (رواه مسلم)

উচ্চারণ: রব্বি ক্বিনী আযাবাকা ইয়াওমা তুব‘য়াসু ইবাদুকা। (মুসলিম)

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে তুমি তোমার আযাব হতে বাঁচাও যেদিন তোমার বান্দারা উত্থিত হবে।

ফজর ও মাগরিবের নামাযের পর পড়বেঃ

«لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد وهو على كلّ شيء قدير» (رواه البخاري و مسلم)

উচ্চারণ: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারীকালাহু, লাহুল মুলক ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলাকুল্লি শাইয়্যিন কাদীর। (১০ বার)

অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্যিকার ইলাহ বা উপাস্য নেই। তিনি এক তাঁর কোনো অংশীদার নেই, তাঁর জন্যই সকল প্রশংসা ও রাজত্ব আর তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান। (তিরমিযী, আহমাদ ও নাসায়ী)

[[Mission Tawheed shared জেনে নিন- ইসলামিক প্রশ্ন উত্তর‘s photo.

জেনে নিন- ইসলামিক প্রশ্ন উত্তর]]

ফযরের ফরয সালাত আদায় করার পর যিকির,2salat-একটি হজ্জ ও একটি ওমরার সমান সওয়াব

1z

একটি হজ্জ ও একটি ওমরার সমান সওয়াব
পেতে চাইলে,
ð ফযরের ফরয সালাত আদায় করার পর
জায়নামাযেই বসে থাকতে হবে, কোন
প্রয়োজন ছাড়া উঠা যাবেনা। পুরুষদেরকে
সালাত জামাতে পড়ে মসজিদে বসতে হবে,
আর নারীদেরকে ঘরে সালাত আদায় করার পর
জায়নামাযেই বসতে হবে।
ð জায়নামাযে বসা অবস্থাতে যিকর-আযকার,
ক্বুরান তেলাওয়াত, দুয়া, দুরুদ ইত্যাদি নফল
ইবাদত করতে হবে। উল্লেখ্য, এসময়
মসজিদে জোরে জোরে সম্মিলিত যিকির
করা যাবেনা, কারণ সেটা বিদাত। তাবলীগ
জামাতের ফাযায়েলে আমল বা বেহেশতি
জেওর, মুকসুদুল মুমিনিন, নেয়ামুল কুরান,
বানোয়াট ওযীফা সহ কোন ধরণের শিরকি,
বিদাতী কিতাব বা জাল হাদীসের বয়ান ও
বানোয়াট কিচ্ছা পড়া যাবেনা বা শোনা
যাবেনা। তবে যেকোন ক্বুরান হাদীসের
বই বা সহীহ হাদীস ভিত্তক বই-পত্র পড়া
যাবা বা সেইগুলো শিক্ষা দেওয়া হয় এমন
কোন দারসে বসা যাবে।
ð এইভাবে যতক্ষন পর্যন্ত না বেলা উঠে
সালাতের জন্য নিষিদ্ধ ওয়াক্ত শেষ হচ্ছে,
ততক্ষণ পর্যন্ত এইভাবে অপেক্ষা করতে
হবে। এই সময়টা হচ্ছে ফযরের ওয়াক্ত
শেষ হয়ে বেলা উঠা শুরু হলে সূর্যোদয় শুরু
হওয়ার সময় থেকে প্রায় ২০-২৫ মিনিট
পর্যন্ত হচ্ছে সালাতের জন্য নিষিদ্ধ
সময়। মোবাইলে সফটওয়ার দেখে বা
নিউজপেপার থেকে ফযরের ওয়াক্তের শেষ
সময়ের সাথে ২০-২৫ মিনিট সময় যোগ করে
সহজেই এই সময়টা বের করা যায়।
ð বেলা উঠে সালাতের জন্য নিষিদ্ধ ওয়াক্ত
শেষ হলে ২ রাকাত নফল সালাত পড়তে
হবে। এই সালাতের আলাদা কোন নিয়ত না
নিয়ম নেই, সাধারণ নফল সালাতের নিয়ত
করে স্বাভাবিক নিয়মেই ২ রাকাত নফল
সালাত পড়তে হবে। এই সালাতকে
“ইশরাকের সালাত” বলা হয়।
ð এই নিয়মে ২ রাকাত ইশরাকের সালাত
আদায় করলে পূর্ণ একটি হজ্জ ও পূর্ণ একটি
উমরার সমান সওয়াব পাওয়া যায়।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া
সাল্লাম বলেছেন, এর প্রতিদান হিসেবে পূর্ণ
একটি হজ্জ ও পূর্ণ একটি ওমরার সমান
সওয়াব তার আমলনামায় লেখা হবে।
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহ আনহু হতে
বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম
বলেছেন, “যে ব্যক্তি ফজরের সালাত
জামাআতে আদায় করে, তারপর সূর্য উঠা
পর্যন্ত বসে বসে আল্লাহ তাআ’লার যিকর
করে, তারপর দুই রাকাত সালাত আদায় করে,
তার জন্য একটি হজ্জ ও একটি উমরার সমান
সওয়াব রয়েছে।” আনাস রাদিয়াল্লাহ
আনহু আরো বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “পূর্ণ,
পূর্ণ, পূর্ণ (হাজ্জ ও উমরার সাওয়াব)।”
[তিরমিযী, হাদীস নং- ৫৮৬] হাদীসটিকে
ইমাম ইবনে বাজ রাহিমাহুল্লাহ ‘হাসান
লিগাইরি’ এবং শায়খ আলবানী
রাহিমাহুল্লাহ ‘হাসান সহীহ’
বলেছেন। তাআ’লীকুর রাগীবঃ ১/১৬৪,
১৬৫, মিশকাতঃ ৯৭১।

ইসলামী জিজ্ঞাসা এবং জবাব to আপনার জিজ্ঞাসা–> জেনে নিন–> দ্বীনি প্রশ্নোত্তর

zikr at the time of sleep-ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ

৯৯-(১) দুই হাতের তালু একত্রে মিলিয়ে নিম্নোক্ত সূরাগুলো পড়ে তাতে ফুঁ দিবে:

99-(1) بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ ۝ ﴿قُلْ هُوَ اللّٰهُ اَحَدٌ ۝ۚ اَللّٰهُ الصَّمَدُ ۝ۚ لَمْ يَلِدْ ڏ وَلَمْ يُوْلَدْ ۝ وَلَمْ يَكُنْ لَّهٗ كُفُوًا اَحَدٌ ۝ۧ﴾،

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম (ক্বুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ। আল্লাহুস্ সামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ)।

রহমান, রহীম আল্লাহর নামে। “বলুন, তিনি আল্লাহ্, এক-অদ্বিতীয়। আল্লাহ্ হচ্ছেন ‘সামাদ’ (তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী)। তিনি কাউকেও জন্ম দেন নি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয় নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।”

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ ۝ ﴿قُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ۝ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ ۝ وَمِنْ شَرِّ غَاسِقٍ اِذَا وَقَبَ ۝ وَمِنْ شَرِّ النَّفّٰثٰتِ فِي الْعُقَدِ ۝ وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ اِذَا حَسَدَ ۝﴾،

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম (ক্বুল আ‘উযু বিরব্বিল ফালাক্ব। মিন শাররি মা খালাক্ব। ওয়া মিন শাররি গা-সিক্বিন ইযা ওয়াক্বাব। ওয়া মিন শাররিন নাফফা-সা-তি ফিল ‘উক্বাদ। ওয়া মিন শাররি হা-সিদিন ইযা হাসাদ)।

রহমান, রহীম আল্লাহর নামে। “বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঊষার রবের। তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে। ‘আর অনিষ্ট হতে রাতের অন্ধকারের, যখন তা গভীর হয়। আর অনিষ্ট হতে সমস্ত নারীদের, যারা গিরায় ফুঁক দেয়। আর অনিষ্ট হতে হিংসুকের, যখন সে হিংসা করে।”

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ ۝ ﴿قُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ ۝ مَلِكِ النَّاسِ ۝ اِلٰهِ النَّاسِ ۝ مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ ڏ الْخَنَّاسِ ۝ الَّذِيْ يُوَسْوِسُ فِيْ صُدُوْرِ النَّاسِ ۝ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ ۝ۧ﴾

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম (ক্বুল ‘আউযু বিরাব্বিন্না-স। মালিকিন্না-সি, ইলা-হিন্নাসি, মিন শাররিল ওয়াসওয়া-সিল খান্না-স, আল্লাযি ইউওয়াসউইসু ফী সুদূরিন না-সি, মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-স।)।

রহমান, রহীম আল্লাহর নামে। “বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের, মানুষের অধিপতির, মানুষের ইলাহের কাছে, আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট হতে; যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে, জিনের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকে।”

তারপর দুই হাতের তালু দ্বারা দেহের যতোটা অংশ সম্ভব মাসেহ করবে। মাসেহ আরম্ভ করবে তার মাথা, মুখমণ্ডল ও দেহের সামনের দিক থেকে। (এভাবে ৩ বার করবে।)[1]

100-(2) ﴿ اَللّٰهُ لَآ اِلٰهَ اِلَّا ھُوَ ۚ اَلْـحَيُّ الْقَيُّوْمُ ڬ لَا تَاْخُذُهٗ سِـنَةٌ وَّلَا نَوْمٌ ۭ لَهٗ مَا فِي السَّمٰوٰتِ وَمَا فِي الْاَرْضِ ۭ مَنْ ذَا الَّذِيْ يَشْفَعُ عِنْدَهٗٓ اِلَّا بِاِذْنِهٖ ۭ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ اَيْدِيْهِمْ وَمَا خَلْفَھُمْ ۚ وَلَا يُحِيْطُوْنَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهٖٓ اِلَّا بِمَا شَاۗءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِـيُّهُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ ۚ وَلَا يَـــــُٔـــوْدُهٗ حِفْظُهُمَا ۚ وَھُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيْمُ ٢٥٥؁ ﴾.

(আল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যূল কাইয়্যূমু লা তা’খুযুহু সিনাতুঁও ওয়ালা নাউম। লাহূ মা-ফিসসামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ্বি। মান যাল্লাযী ইয়াশফা‘উ ‘ইনদাহূ ইল্লা বিইযনিহী। ইয়া‘লামু মা বাইনা আইদীহিম ওয়ামা খালফাহুম। ওয়ালা ইয়ুহীতূনা বিশাইইম মিন্ ইলমিহী ইল্লা বিমা শাআ। ওয়াসি‘আ কুরসিয়্যুহুস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্ব। ওয়ালা ইয়াউদুহূ হিফযুহুমা ওয়া হুয়াল ‘আলিয়্যূল ‘আযীম)।

১০০-(২) “আল্লাহ্, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ্ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রাও নয়। আসমানসমূহে যা রয়েছে ও যমীনে যা রয়েছে সবই তাঁর। কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পিছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন। আর যা তিনি ইচ্ছে করেন তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুকেই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না। তাঁর ‘কুরসী’ আসমানসমূহ ও যমীনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে; আর এ দুটোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁর জন্য বোঝা হয় না। আর তিনি সুউচ্চ সুমহান।”[2]

101-(3) ﴿اٰمَنَ الرَّسُوْلُ بِمَآ اُنْزِلَ اِلَيْهِ مِنْ رَّبِّهٖ وَالْمُؤْمِنُوْنَ ۭ كُلٌّ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَمَلٰۗىِٕكَتِهٖ وَكُتُبِهٖ وَرُسُلِهٖ ۣلَا نُفَرِّقُ بَيْنَ اَحَدٍ مِّنْ رُّسُلِهٖ ۣ وَقَالُوْا سَمِعْنَا وَاَطَعْنَا ڭ غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَاِلَيْكَ الْمَصِيْرُ ٢٨٥؁لَا يُكَلِّفُ اللّٰهُ نَفْسًا اِلَّا وُسْعَهَا ۭ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ ۭرَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَآ اِنْ نَّسِيْنَآ اَوْ اَخْطَاْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَآ اِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهٗ عَلَي الَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهٖ ۚ وَاعْفُ عَنَّا ۪ وَاغْفِرْ لَنَا ۪ وَارْحَمْنَا ۪ اَنْتَ مَوْلٰىنَا فَانْــصُرْنَا عَلَي الْقَوْمِ الْكٰفِرِيْنَ ٢٨٦؀ۧ ﴾.

(আ-মানার রাসূলু বিমা উনযিলা ইলাইহি মির রব্বিহী ওয়াল মু’মিনূন। কুল্লুন আ-মানা বিল্লা-হি ওয়া মালা-ইকাতিহী ওয়াকুতুবিহী ওয়া রুসুলিহ, লা নুফাররিক্বু বাইনা আহাদিম মির রুসুলিহ, ওয়া ক্বালু সামি‘না ওয়া আতা‘না গুফ্‌রা-নাকা রব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাসীর। লা ইয়ুকাল্লিফুল্লাহু নাফ্‌সান ইল্লা উস‘আহা লাহা মা কাসাবাত ওয়া আলাইহা মাক্তাসাবাত রব্বানা লা তুআখিয্‌না ইন নাসীনা আও আখ্‌ত্বা’না। রব্বনা ওয়ালা তাহ্‌মিল ‘আলাইনা ইসরান কামা হামালতাহু ‘আলাল্লাযীনা মিন ক্বাবলিনা। রব্বনা ওয়ালা তুহাম্মিলনা মা-লা ত্বা-ক্বাতা লানা বিহী। ওয়া‘ফু আন্না ওয়াগফির লানা ওয়ারহামনা আনতা মাওলা-না ফানসুরনা ‘আলাল ক্বাউমিল কাফিরীন)।

১০১-(৩) “রাসূল তার প্রভুর পক্ষ থেকে যা তার কাছে নাযিল করা হয়েছে তার উপর ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশ্তাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের উপর। আমরা তাঁর রাসূলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা বলে, আমরা শুনেছি ও মেনে নিয়েছি। হে আমাদের রব! আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল। আল্লাহ্ কারো উপর এমন কোন দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না যা তার সাধ্যাতীত। সে ভাল যা উপার্জন করে তার প্রতিফল তারই, আর মন্দ যা কামাই করে তার প্রতিফল তার উপরই বর্তায়। ‘হে আমাদের রব! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি তবে আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব! আমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর যেমন বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিলেন আমাদের উপর তেমন বোঝা চাপিয়ে দিবেন না। হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে এমন কিছু বহন করাবেন না যার সামর্থ আমাদের নেই। আর আপনি আমাদের পাপ মোচন করুন, আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আমাদের প্রতি দয়া করুন, আপনিই আমাদের অভিভাবক। অতএব কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন।”[3]

102-(4) «بِاسْمِكَ رَبِّي وَضَعْتُ جَنْبِي، وَبِكَ أَرْفَعُهُ، فَإِن أَمْسَكْتَ نَفْسِي فارْحَمْهَا، وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا، بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِينَ».

(বিইসমিকা[4] রব্বী ওয়াদা‘তু জাম্বী, ওয়া বিকা আরফা‘উহু। ফাইন্ আম্‌সাক্তা নাফ্‌সী ফারহামহা, ওয়াইন আরসালতাহা ফাহ্‌ফায্‌হা বিমা তাহ্‌ফাযু বিহী ‘ইবা-দাকাস সা-লিহীন)।

১০২-(৪) “আমার রব! আপনার নামে আমি আমার পার্শ্বদেশ রেখেছি (শুয়েছি) এবং আপনারই নাম নিয়ে আমি তা উঠাবো। যদি আপনি (ঘুমন্ত অবস্থায়) আমার প্রাণ আটকে রাখেন, তবে আপনি তাকে দয়া করুন। আর যদি আপনি তা ফেরত পাঠিয়ে দেন, তাহলে আপনি তার হেফাযত করুন যেভাবে আপনি আপনার সৎকর্মশীল বান্দাগণকে হেফাযত করে থাকেন।”[5]

103-(5) «اللَّهُمَّ إِنَّكَ خَلَقْتَ نَفْسِي وَأَنْتَ تَوَفَّاهَا، لَكَ مَمَاتُهَا وَمَحْياهَا، إِنْ أَحْيَيْتَهَا فَاحْفَظْهَا، وَإِنْ أَمَتَّهَا فَاغْفِرْ لَهَا. اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ العَافِيَةَ».

(আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা খালাক্তা নাফসী ওয়া আন্তা তাওয়াফ্‌ফাহা। লাকা মামা-তুহা ওয়া মাহ্‌ইয়া-হা। ইন্ আহ্ইয়াইতাহা ফাহ্‌ফায্‌হা ওয়াইন আমাত্তাহা ফাগফির লাহা। আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকাল ‘আ-ফিয়াতা)।

১০৩-(৫) “হে আল্লাহ! নিশ্চয় আপনি আমার আত্মাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আপনি তার মৃত্যু ঘটাবেন। তার মৃত্যু ও তার জীবন আপনার মালিকানায়। যদি তাকে বাঁচিয়ে রাখেন তাহলে আপনি তার হেফাযত করুন, আর যদি তার মৃত্যু ঘটান তবে তাকে মাফ করে দিন। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে নিরাপত্তা চাই।”[6]

104-(6) «اللَّهُمَّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ».

(আল্লা-হুম্মা ক্বিনী ‘আযা-বাকা ইয়াওমা তাব‘আছু ‘ইবা-দাকা)।

১০৪-(৬) “হে আল্লাহ![7] আমাকে আপনার আযাব থেকে রক্ষা করুন, যেদিন আপনি আপনার বান্দাদেরকে পুনর্জীবিত করবেন।”[8]

105-(7) «بِاسْمِكَ اللَّهُمَّ أَمُوتُ وَأَحْيَا».

(বিস্‌মিকাল্লা-হুম্মা আমূতু ওয়া আহ্ইয়া)।

১০৫-(৭) “হে আল্লাহ ! আপনার নাম নিয়েই আমি মরছি (ঘুমাচ্ছি) এবং আপনার নাম নিয়েই জীবিত (জাগ্রত) হবো।”[9]

106-(8) «سُبْحَانَ اللَّهِ (ثلاثاً وثلاثين) وَالْحَمْدُ لِلَّهِ (ثلاثاً وثلاثين) وَاللَّهُ أَكْبَرُ (أربعاً وثلاثينَ»

(সুবহা-নাল্লাহ, (৩৩ বার) আলহামদুলিল্লা-হ (৩৩ বার) আল্লা-হু আকবার (৩৪ বার)-)

১০৬-(৮) আল্লাহ অতি-পবিত্র (৩৩ বার), সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য (৩৩ বার), আল্লাহ অতি-মহান (৩৪ বার)। [10]

107-(9) «اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَرَبَّ الأَرْضِ، وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ، فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى، وَمُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ، وَالْفُرْقَانِ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ شَيْءٍ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ. اللَّهُمَّ أَنْتَ الأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الآخِرُ فَلَيسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ، اقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ وَأَغْنِنَا مِنَ الْفَقْرِ».

(আল্লা-হুম্মা রব্বাস্ সামা-ওয়া-তিস্ সাব‘ই ওয়া রব্বাল ‘আরশিল ‘আযীম, রব্বনা ওয়া রব্বা কুল্লি শাই’ইন্, ফা-লিক্বাল হাব্বি ওয়ান-নাওয়া, ওয়া মুনযিলাত্-তাওরা-তি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল ফুরক্বা-ন, আ‘ঊযু বিকা মিন শাররি কুল্লি শাই’ইন্ আনতা আ-খিযুম-বিনা-সিয়াতিহি। আল্লা-হুম্মা আনতাল আউওয়ালু ফালাইসা ক্বাবলাকা শাইউন। ওয়া আনতাল আ-খিরু ফালাইসা বা‘দাকা শাইউন। ওয়া আনতায যা-হিরু ফালাইসা ফাওক্বাকা শাইউন। ওয়া আনতাল বা-ত্বিনু ফালাইসা দূনাকা শাইউন। ইক্বদ্বি ‘আন্নাদ্-দাইনা ওয়া আগনিনা মিনাল ফাক্বরি)।

১০৭-(৯) হে আল্লাহ! হে সপ্ত আকাশের রব্ব, যমিনের রব্ব, মহান ‘আরশের রব্ব, আমাদের রব্ব ও প্রত্যেক বস্তুর রব্ব, হে শস্য-বীজ ও আঁটি বিদীর্ণকারী, হে তাওরাত, ইনজীল ও কুরআন নাযিলকারী, আমি প্রত্যেক এমন বস্তুর অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি, যার (মাথার) অগ্রভাগ আপনি ধরে রেখেছেন (নিয়ন্ত্রণ করছেন)। হে আল্লাহ! আপনিই প্রথম, আপনার পূর্বে কিছুই ছিল না; আপনি সর্বশেষ, আপনার পরে কোনো কিছু থাকবে না; আপনি সব কিছুর উপরে, আপনার উপরে কিছুই নেই; আপনি সর্বনিকটে, আপনার চেয়ে নিকটবর্তী কিছু নেই, আপনি আমাদের সমস্ত ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাদেরকে অভাবগ্রস্ততা থেকে অভাবমুক্ত করুন।”[11]

108-(10) «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا، وَكَفَانَا، وَآوَانَا، فَكَمْ مِمَّنْ لاَ كَافِيَ لَهُ وَلاَ مُؤْوِيَ».

(আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আত‘আমানা, ওয়া সাক্বা-না, ওয়া কাফা-না, ওয়া আ-ওয়ানা, ফাকাম্ মিম্মান লা কা-ফিয়া লাহু, ওয়ালা মু’উইয়া)।

১০৮-(১০) “সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য, যিনি আমাদেরকে আহার করিয়েছেন, পান করিয়েছেন, আমাদের প্রয়োজন পূর্ণ করেছেন এবং আমাদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন। কেননা, এমন বহু লোক আছে যাদের প্রয়োজনপূর্ণকারী কেউ নেই এবং যাদের আশ্রয়দানকারীও কেউ নেই।”[12]

109-(11) «اللَّهُمَّ عَالِمَ الغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ، رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَهُ، أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي، وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطانِ وَشِرْكِهِ، وَأَنْ أَقْتَرِفَ عَلَى نَفْسِي سُوءاً، أَوْ أَجُرَّهُ إِلَى مُسْلِمٍ».

(আল্লা-হুম্মা ‘আ-লিমাল গাইবি ওয়াশ শাহা-দাতি, ফা-ত্বিরাস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্বি, রাব্বা কুল্লি শাই’ইন ওয়া মালীকাহু, আশহাদু আল্লা ইলা-হা ইল্লা আনতা, আ‘উযু বিকা মিন শাররি নাফসী, ওয়ামিন শাররিশ শাইত্বা-নী ওয়াশিরকিহী/ওয়াশারাকিহী, ওয়া আন আক্বতারিফা ‘আলা নাফসী সূ’আন আউ আজুররাহু ইলা মুসলিম)

১০৯-(১১) “হে আল্লাহ! হে গায়েব ও উপস্থিতের জ্ঞানী, হে আসমানসমূহ ও যমীনের স্রষ্টা, হে সব কিছুর রব্ব ও মালিক! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই আমার আত্মার অনিষ্ট থেকে, শয়তানের অনিষ্টতা থেকে ও তার শির্ক বা তার ফাঁদ থেকে, আমার নিজের উপর কোনো অনিষ্ট করা, অথবা কোনো মুসলিমের দিকে তা টেনে নেওয়া থেকে।”[13]

১১০-(১২) আলিফ লাম মীম তানযীলায সাজদাহ ও তাবারাকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুলক’ সূরাদ্বয় পড়বে।[14]

111-(13) «اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ، وَوَجَّهْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ، لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ، آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ، وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ».

(আল্লা-হুম্মা আস্‌লামতু নাফ্‌সী ইলাইকা, ওয়া ফাউওয়াদ্বতু আমরী ইলাইকা, ওয়া ওয়াজ্জাহ্‌তু ওয়াজহিয়া ইলাইকা, ওয়াআলজা’তু যাহ্‌রী ইলাইকা, রাগবাতান ওয়া রাহবাতান ইলাইকা। লা মালজা’আ ওয়ালা মান্‌জা মিনকা ইল্লা ইলাইকা। আ-মানতু বিকিতা-বিকাল্লাযী আনযালতা ওয়াবিনাবিয়্যিকাল্লাযী আরসালতা)।

১১১-(১৩) “হে আল্লাহ![15] আমি নিজেকে আপনার কাছে সঁপে দিলাম। আমার যাবতীয় বিষয় আপনার কাছেই সোপর্দ করলাম, আমার চেহারা আপনার দিকেই ফিরালাম, আর আমার পৃষ্ঠদেশকে আপনার দিকেই ন্যস্ত করলাম; আপনার প্রতি অনুরাগী হয়ে এবং আপনার ভয়ে ভীত হয়ে। একমাত্র আপনার নিকট ছাড়া আপনার (পাকড়াও) থেকে বাঁচার কোনো আশ্রয়স্থল নেই এবং কোনো মুক্তির উপায় নেই। আমি ঈমান এনেছি আপনার নাযিলকৃত কিতাবের উপর এবং আপনার প্রেরিত নবীর উপর।”[16]

[1] বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ৯/৬২, নং ৫০১৭; মুসলিম ৪/১৭২৩, নং ২১৯২। [2] সূরা আল-বাকারাহ্‌-২৫৫। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ‘যে কেউ যখন রাতে আপন বিছানায় যাবে এবং ‘আয়াতুল কুরসী’ পড়বে, তখন সে রাতের পুরো সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য হেফাযতকারী থাকবে; আর সকাল হওয়া পর্যন্ত শয়তান তার নিকটেও আসতে পারবে না’। বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ), ৪/৪৮৭, নং ২৩১১। [3] সূরা আল-বাকারা ২৮৫-২৮৬। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: যে ব্যক্তি রাতের বেলা সূরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত পড়বে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে। বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ৯/৯৪, ৪০০৮; মুসলিম ১/৫৫৪, নং ৮০৭। [4] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ‘তোমাদের কোনো ব্যক্তি তার বিছানা ত্যাগ করলো, আবার ঘুমাতে ফিরে এলো সে যেনো তার চাদর বা লুঙ্গির আঁচল দিয়ে তিনবার বিছানাটি ঝেড়ে নেয়। আর যেন সে বিসমিল্লাহ পড়ে, (আল্লাহর নাম নেয়); কেননা সে জানে না যে, তার চলে যাবার পর এতে কী পতিত হয়েছে। তারপর সে যখন শোয়, তখন যেনো এ দো‘আটি বলে। (হাদীসে বর্ণিত صنفة إزاره শব্দের অর্থ হচ্ছে, চাদরের পার্শ্বদিকস্থ অংশ। এর জন্য দেখুন, নিহায়া ফী গারিবিল হাদীস ওয়াল আসার’ ‘صنف’।) [5] বুখারী, ফাতহুল বারীসহ ১১/১২৬, নং ৬৩২০; মুসলিম ৪/২০৮৪, নং ২৭১৪। [6] মুসলিম ৪/২০৮৩, নং ২৭১২; আহমাদ, তাঁর শব্দে ২/৭৯, নং ৫৫০২। [7] “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘুমানোর ইচ্ছা করতেন তখন তাঁর ডান হাত তাঁর গালের নীচে রাখতেন, তারপর এ দো‘আটি বলতেন।” [8] আবূ দাউদ, শব্দ তাঁরই, ৪/৩১১, নং ৫০৪৫; তিরমিযী, নং ৩৩৯৮; আরও দেখুন, সহীহুত তিরমিযী, ৩/১৪৩; সহীহ আবী দাঊদ, ৩/২৪০। [9] বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ১১/১১৩, নং ৬৩২৪; মুসলিম ৪/২০৮৩, নং ২৭১১। [10] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী এবং ফতেমাকে বলেন: আমি কি তোমাদেরকে এমন কিছু বলে দিবো না যা তোমাদের জন্য খাদেম অপেক্ষাও উত্তম হবে? যখন তোমরা তোমাদের বিছানায় যাবে, তখন তোমরা দু’জনে ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদু লিল্লাহ, এবং ৩৪ বার বলবে, যা তা খাদেম অপেক্ষাও তোমাদের জন্য উত্তম হবে’’। বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ৭/৭১, নং ৩৭০৫; মুসলিম ৪/২০৯১, নং ২৭২৬। [11] মুসলিম ৪/২০৮৪, নং ২৭১৩। [12] মুসলিম ৪/২০৮৫, নং ২৭১৫। [13] আবূ দাউদ, ৪/৩১৭, নং ৫০৬৭; তিরমিযী, নং ৩৬২৯; আরও দেখুন, সহীহুত তিরমিযী, ৩/১৪২। [14] রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা সাজদা এবং সূরা মুলক না পড়ে ঘুমাতেন না। তিরমিযী, নং ৩৪০৪; নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, নং ৭০৭। আরও দেখুন, সহীহুল জামে‘ ৪/২৫৫। [15] রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তুমি বিছানা গ্রহণ করবে, তখন নামাযের মত ওযু করবে, তারপর তোমার ডান পার্শ্বদেশে শুয়ে পড়বে। তারপর বল, ….. আল-হাদীস। [16] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে এ দো‘আটি শিক্ষা দিলেন, তাকে বলেন: যদি তুমি ঐ রাতে মারা যাও তবে ‘ফিতরাত’ তথা দীন ইসলামের উপর মারা গেলে। বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ১১/১১৩, নং ৬৩১৩; মুসলিম ৪/২০৮১, নং ২৭১০।

[[courtesy-Razib Ahmed Abu Samiha]]

জিকির কি? জিকির কোন তরীকায় করব? : শয়তান খুব খুশি হয় কেউ যদি বিদ’আত করে

জিকির কি? জিকির কেন করব? জিকির কোন তরীকায় করব? কোনটা মুহাম্মাদ (সঃ) এর তরীকার জিকির তাহা কিভাবে বুঝব?

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
আসসালামুআলাইকুম,
সলাত ওসালাম বর্ষিত হক মুহাম্মাস(সঃ) ও তার সাহাবাগনের উপর।
জিকিরকি?
জিকির কিঃ আভিধানিক অর্থ:-স্বরণ করা, মনে করা, উল্লেখকরা,
বর্ণনা করা।
পারিভাষিকঅর্থঃ জিকির বলা হয়, মুখে বা অন্তরেআল্লাহর পবিত্রতা ওমহিমা ঘোষণা এবং প্রশংসা করা, পবিত্র কুরআনপাঠ করা, আল্লাহর নিকটপ্রার্থনা করা, তার আদেশ-নিষেধপালন করা, আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত ও সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা।
ইসলামি শরিয়াতে পরিভাষায় জিকিরঃ আল্লাহর মহত্ত্ব , বড়ত্ব ঘোষণা সেই ভাবে, যেই ভাবে আল্লাহ বর্ণনা করেছেন ও তার রসুল(সঃ) শিখিয়েছেন।
জিকির কেন করব?
মহান আল্লাহ্ বলেন, তোমরা ডাকবে নিজের প্রভুকে নম্র ভাবে ওগোপনে, নিশ্চয়ই সীমালংঘনকারীদেরকেআল্লাহ্ পছন্দ করেন না। -[সুরা -আ’রাফ৫৫।]
মহান আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, তোমরাপ্রতিপালকের জিকির কর, সকাল/সন্ধ্যায়, বিনয় ও নম্রতার সাথে ,অনুচ্চস্বরে, মনে মনে , আরতুমি গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। সুরা আল আ-রাফ ২০৫।
আল্লাহ তাআলা বলেন : ‘হে আমার বান্দারা, তোমরা আমাকে ডাকো। আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব’।
-[সূরা আল-মু’মিন : ৬০।]
‘তোমরাডাকবে নিজের প্রভুকে নম্র ভাবে ও গোপনে, নিশ্চয়ই সীমালংঘনকারীদেরকে আল্লাহ্ পছন্দ করেন না।’
-[সুরা -আ’রাফ ৫৫।]
আল্লাহ্ বলেন, ”আল্লাহর জন্যই যাবতীয় সুন্দর নাম।সুতরাং সে সব নাম ধরেই তাঁকে ডাকো।”
-[সুরাআ’রাফ ১৮০।]
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, ”তোমরা কোন বধির ও অনুপস্থিত সত্তাকেডাকছোনা, বরং এমন এক সত্তাকেডাকছো যিনিসব দেখেন ও শুনেন।”
– [বুখারী(আধুনিক প্রঃ) ৫৯৩৬ নং হাদিস। ]
রাসুল (সাঃ) বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর এমন ৯৯টি নাম রয়েছে যেকেউ তা মুখস্তকরবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
-[-বুখারি ও মুসলিম।]
জিকির কোন তরীকায় করব?
আল্লাহ্ বলেন, তোমরা আল্লাহর জিকির কর (ঐভাবে) যেভাবে আল্লাহ্জিকিরের পদ্ধতি শিক্ষা দিয়েছেন।
-[সুরা বাক্বারাহ ১৯৮।]
আল্লাহ বলেন“আজআমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে (ধর্ম বা জীবন ব্যাবস্থাকে) পরিপূর্ণকরলাম, তোমাদেরপ্রতি আমার নিয়ামতকে সম্পুর্ন করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য একমাত্র জীবন ব্যাবস্থাহিসেবে মনোণীত করলাম”।
-[(সুরা-মায়িদা, আয়াত-৩ )]
সুতারং শরীয়তের প্রত্তেকটি বিধান আল্লাহ মুহাম্মাদ (সঃ) এর মাধ্যমে পুরনাঙ্গ করে দিয়েছেন।
আবার অন্যত্র আল্লাহ্ বলেন, রসূল তোমাদেরকে যা দেন, তাগ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর।”
-[সুরা হাশর ৭।]
মুহাম্মাদ (সঃ) বলেছেন……….. “নিশ্চয়ইসর্বোত্তম বাণী আল্লাহ্র কিতাব এবংসর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মদের আদর্শ। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয়হল (দ্বীনের মধ্যে)নব উদ্ভাবিত বিষয়। আর নব উদ্ভাবিত প্রত্যেক বিষয় বিদআত এবং প্রত্যেক বিদআত হলভ্রষ্টতা এবং প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।” – [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং১৫৩৫ ও সুনানআন-নাসায়ী, হাদীসনং ১৫৬০]
মুহাম্মাদ (সঃ) বলেছেন…………“তোমরা(দ্বীনের) নব প্রচলিত বিষয়সমূহ থেকেসতর্ক থাক। কেননাপ্রত্যেক নতুন বিষয় বিদআ‘ত এবং প্রত্যেক বিদআত ভ্রষ্টতা”।
– [সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং৩৯৯১ ও সুনানআত-তিরমিযী, হাদীসনং ২৬৭৬ তিরমিযীহাদীসটিকে হাসান ও সহীহ বলেছেন।]
হাদীসের শব্দ চয়ন নাসায়ী থেকে, শয়তান খুব খুশি হয় কেউ যদি বিদ’আত করে। কারন,কেউ যদি ভুলবশত কোনগুনাহেরকাজ করে ফেলে তবে তার মধ্যে একসময় পাপবোধ কাজ করে এবংপরে সে হয়তো তউবাকরে আল্লাহপাকের কাছে মাফ চেয়ে নিতে পারে। কিন্তু বিদ’আত করার সময়কোন মানুষ ভাবে যে সে একটা ভাল আমলকরছে। কাজেই বিদ’আতেরজন্যসেই ব্যক্তিরতউবা করার কোন সম্ভাবনা থাকে না। এই জন্যই শয়তান খুব বেশি খুশি হয়।
আমার বিন সালামাহবলেন , ফজরেরসালাতের পূর্বে আমরা আব্দুল্লাহবিন মাসউদ (রাঃ) এর বাড়ির সামনে বসে ছিলাম, এমন সময় আবু মুসাআশাআরি(রাঃ) আমাদেরনিকট এসে বললেন, এখনওকি আব্দুর রহমান (আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ(রাঃ))বের হননি?আমরা বললাম না । অতঃপর তিনি (আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) বাড়িহতে বের হলেন। আবু মুসা আশাআরি তার উদ্দেশে বললেন (আবু মুসা আশাআরি রাঃ), ‘’হে আব্দুর রহমান! আমিমসজিদে এমন জিনিস দেখলাম যা অদ্ভুত বাঅভূতপূর্ব । তবে আল-হামদুলিল্লাহ আমি তা ভালই মনে করি। তিনিবললেন কি সেটা? বললেন(আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ) , যদি জীবিত থাকেন তবে তা দেখতে পাবেন, আমি মসজিদে একসম্প্রদায় কে দেখলাম, তাদেরহাতে রয়েছে কাকর, প্রত্তেক মজলিসেকোন এক ব্যাত্তি অন্যান্য বাক্তিদের উদ্দেশ্য করে বলছে, এক শতবার আল্লাহুআকবর পড় , তাশুনেই সকলে বার তাকবীর পরছে। লোকটি আবার বলছে ,একশতবার লা-ইলাহ ইল্লল্লাহ পড় ,তা শুনেই সকলে এক শতবার লা-ইলাহ ইল্লল্লাহ পড়ছে।লোকটি আবার বলছে, একশতবার সুবহান আল্লাহ পড় , তাশুনেই সকলে এক শতবারসুবহান আল্লাহ পড়ছে। তিনি (আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ) বললেন, আপনি ওঁদেরকেকি বললেন? আবুমুসা বললেন, আপনাররায়ের অপেক্ষায় আমি ওদেরকে কিছুইবলিনি, তিনিবললেন, আপনিওদেরকে নিজেদের পাপ গননা করতে কেন আদেশ করলেন না এবং ওদের পুণ্য বিনষ্ট হবার উপর যামানতকেন নিলেন না? আমরবললেন, অতঃপর আমরাতার সহিত চলতে লাগলাম। তিনি ঐ সমস্ত বৈঠকের কোন এক বৈঠকের সামনে দণ্ডায়মানহয়ে বললেন, আমিতোমাদেরকে একি করতে দেখছি? ওরাবলল হে আবু আব্দুর রহমান! আমরা কাকর দ্বারা তাকবীর,তাহলিল ও তাসবিহ গননা করছি। তিনি বললেন(আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ), তোমরা তোমাদেরপাপরাশি গননা কর, আমি তোমাদেরজন্য জামিন হচ্ছি যে, তোমাদেরকোন পুণ্য বিনষ্ট হবে না। ধিক্কারতোমাদের প্রতি হে উম্মাতে মুহাম্মাদ! কি সত্বর তোমরা ধ্বংসেরপথে এলে, তোমাদেরনবীর সাহাবাবৃন্দ এখনও যথেষ্ট রয়েছেন। এই দেখ (তার গায়ের পোশাক দেখিয়ে)তার বস্ত্র এখন বিনষ্ট হয়নি, তার পাত্র সমুহ এখনও ভগ্ন হয়নি। তার শপথ যার হাতে আমার প্রান, তোমরা এমন মিল্লাতেআছো যা মুহাম্মাদ (সঃ) এরমিল্লাত অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর অথচ তোমরা ভ্রষ্টতার ধার উদঘাটনকারি? ওরা বলল, আল্লাহর কসম, হে আবু আব্দুর রহমান!আমরা ভালোরই ইচ্ছা করছি। তিনি বললেন,কিন্তু কত ভালোর অভিলাষী ভালোর নাগালই পায় না। অবশ্যই আল্লাহররাসুল (সঃ) আমাদেরহাদিস বর্ণনা করেছেন যে, একসম্প্রদায় কুরআন পাঠ করবে , কিন্তুঐ পাঠ(তেলায়াত) তাদের কণ্ঠ নালির নীচে নামবে না। আর আল্লাহর কসম! জানি না সম্ভাবততাদের অধিকাংশই তোমাদের মধ্য হতে। অতঃপর তিনি সেখান হতে প্রস্থান করলেন।আমর বিন সালামাহ বলেন , নহরওয়ানেরদিন ঐ বৈঠকসমূহের অধিকাংশ লোকেইখাওয়ারেজদের সহিত দেখে ছিলাম। যারা আমাদের (আলী ও অনন্য সাহাবারাঃ দের) বিরুদ্ধেযুদ্ধে লড়ছিল।
– [সিলসিলাহ২০০৫ নং হাদিস]
সুতরাং জিকিরের বিধানআল্লাহ সুবাহানু তায়ালা মুহাম্মাদ (সঃ) এর মাধ্যমে আমাদের জানিয়েছেন এবং সেটাইচূড়ান্ত । যদিকেউ নুতান তরীকার জিকির উদ্ভাবন করে ,সে যত বড়ই মুফতি ,মুহাদ্দেস , শাইখুল হাদিস,শাইখই হোক না কেন তাহা প্রত্যাখ্যাত হবে ।
কারনঃ মুহাম্মাদ (সঃ) বলেছেন, …… “নিশ্চয়ই সর্বোত্তমবাণী আল্লাহ্র কিতাব এবংসর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মদের আদর্শ। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয়হল (দ্বীনের মধ্যে)নব উদ্ভাবিত বিষয়। আর নব উদ্ভাবিত প্রত্যেক বিষয় বিদআত এবং প্রত্যেকবিদআত হলভ্রষ্টতা এবং প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।”
– [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং১৫৩৫ ও সুনানআন-নাসায়ী, হাদীসনং ১৫৬০]
আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ(রাঃ) থেকে বর্ণিত… রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,” আল্লাহ্ বলেছেন, তোমারা সাহাবীগণেরহুবহু অনুসরন করবে, মনগড়াইবাদত উদ্ভাবন করবে না। তোমাদেরএইদায়িত্ব পালন করে দেওয়া হয়েছে। দীন পালনের জন্য নতুনকোনপদ্ধতি উদ্ভাবনেরকোন প্রয়োজন তোমাদের নেই; কারনদীন শিক্ষা দেওয়া ও তা পালনকরারপদ্ধতিসমূহ রাসূল (সাঃ) ও তাঁর সাহাবীগণ পুরোপুরি আদায়করে গিয়েছেন।তোমাদেরদায়িত্ব হল হুবহু তাঁদের অনুকরন ও অনুসরন করা।”
-[বুখারী ও মুসলিম]
কিন্তু কোনটা মুহাম্মাদ (সঃ) এর তরীকার জিকির তাহা কিভাবে বুঝব?
হ্যাঁ , আপনি প্রত্যেকহাদিস এর গ্রন্থে ”কিতাবুসঃ জিকির” এর অধ্যায় পাবেন। আপনি সেই হাদিসগুলো পড়ুন ও সেখান থেকে বিশুদ্ধ হাদিস গুলো গ্রহন করুন।

courtesy-সহীহ্ ইসলামী জিজ্ঞাসা ভিডিও