Category Archives: Duas & Istighfar

জান্নাতে যাওয়ার সহজ ১৩ টি আমল

জান্নাতে যাওয়ার সহজ মাধ্যমগুলো জেনে নিনঃ ★★★ প্রত্যেক ওযুর পর কালেমা শাহাদত পাঠ করুণ(আশ্হাদু আল্লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা- শারীকা লাহূ ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আব্দুহূ ওয়া রাসূলুহূ) এতে জান্নাতের ৮টি দরজার যে কোন দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। ☞ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ২৩৪) ★★★ প্রত্যেক ফরজ সলাত শেষে আয়াতুল কুরসি পাঠ করুণ এতে মৃত্যুর […]

via জান্নাতে যাওয়ার সহজ ১৩ টি আমল!! — এসো আল্লাহর পথে

Grouping dua bidath:ফরয নামাযের পর মুনাজাত করার প্রায় সহীহ দলীল আছে , যদিও এতে হাত তুলে দুআর কথা নেই

sgis.zikr.duas.ref

নামাযী যখন নামায পড়ে তখন সে আল্লাহর নিকট মুনাজাত করে। আল্লাহর সাথে নিরালায় যেন কানে কানে কথা বলে। (মুঅত্তা, মুসনাদে আহ্‌মদ ২/৩৬, ৪/ ৩৪৪)

নামাযের মাঝেই আব্দ (দাস) মাবুদের (প্রভুর) ধ্যনে ধ্যানমগ্ন থাকে। যেন সে তাকে দেখতে পায়। যতক্ষণ সে নামাযে থাকে ততক্ষণ সে আল্লাহর সাথে কথা বলে। তিনি তার প্রতি মুখ ফিরান এবং সালাম না ফিরা পর্যন্ত তিনি মুখ ফিরিয়ে নেন না। (বাইহাকী, সহীহুল জামে’১৬১৪ নং)

পরক্ষণে যখনই সে সালাম ফিরে দেয় তখনই সে মুনাজাতের অবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, দূর হয়ে যায় নৈকট্যের বিশেষ যোগসূত্র। বান্দা সরে আসে সেই মহান বিশ্বাধিপতির খাস দরবার থেকে। সুতরাং তার নিকট কিছু চাওয়া তো সেই সময়ে অধিক শোভনীয় যে সময়ে ভিখারী বান্দা তাঁর ধ্যনে তার নিকটে ও তাঁর খাস দরবারে থাকে। অতএব সেই নৈকট্যের ধ্যান ভঙ্গ করে এবং মহানবী (সাঃ) এর নির্দেশিত মুনাজাত থেকে বেরিয়ে এসে পুনরায় মুনাজাত সঙ্গত ও যুক্তিযুক্ত নয়।

অবশ্য সহীহ হাদীসে বর্ণিত যে,
একদা সাহাবাগণ আল্লাহর রসূল (সাঃ) কে…

View original post 3,398 more words

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) যে সকল স্থানে হাত উঠিয়ে দুআ করেছেনঃ[not grouping]

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) যে সকল স্থানে হাত উঠিয়ে দুআ করেছেনঃ
► বৃষ্টির জন্য ও বন্ধের জন্য।
(বুখারী ৯৩২, ৯৩৩, ১০১৩, ১০১৯, ১০২১, ১০২৯, ১০৩৩, ১০৩৫, ৩৫৮২, ৬০৯৩, ৬৩৪২; মুসলিম ৮৯৭, আহমাদ ১৩৬৯৪, বুখারী ১/১২৭ ও ১৪০ পৃঃ ফাতহুল বারী ৮/৫৩৮ পৃঃ)
► সূর্যগ্রহণের সময়।
(মুসলিম ১/২৯৯ পৃঃ, হাঃ নং ৯১৩)।
► উম্মতের জন্য রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর দুআ।
(মুসলিম ১/১১৩, ২০২)
► বীরে মাউনা, রাযী ও অন্যান্য ঘটনার প্রেক্ষীতে কুনূতে নাযিলার সময়। (বুখারী ১০০১, ৬৩৯৪; মুসলিম ৬৭৭; আহমাদ ১২১৫৩)
→বুখারী ও মুসলিমের হাদীসে হাত উঠানোর কথা উল্লেখ নেই, কিন্তু আনাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত অন্যান্য হাদীসে বলা হয়েছে যে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) ফরয ছালাতের শেষ রাকআতে রুকু থেকে উঠে হাত তুলে দুআ কুনুত পাঠ করতেন এবং তাঁর শ্রদ্ধেয় সাহাবীরা পিছনে হাত উঠিয়ে আমীন আমীন করতেন। (মুসনাদ আহমাদ ১২৩৪২, বাইহাকী ২/২২১, আবু আওয়ানা ৪/৪৬২, তাবরানী সাগীর ১১১ পৃঃ, হিলি আতুল আওলিয়া ১/১২১-১২২ পৃঃ, ইরওয়াউল গালীল ২/১৮১ পৃঃ, ৮৩৮; সিফাতু সলাতিন নাবী ১৫৫ পৃঃ, মিশকাত ১১৩-১১৪ পৃঃ।)
► কবর যিয়ারতের সময়। (মুসলিম ১/৩১৩ পৃঃ ৯৭৪, নাসাঈ ২০৩৯)।
► কারো জন্য ক্ষমা চাওয়ার জন্য দুআ।
(বুখারী ২/৯৪৪ পৃঃ ২৮৮৪, ৪৩২৩, ৬৩৮৩, মুসলিম ২৪৯৮, আহমাদ ১৯৭১৩)
► মক্কা বিজয়ের পর বায়তুল্লাহকে দেখে।
(আবূ দাঊদ ১৮৭২, মিশকাত ২৫৭৫ সনদ ছহীহ, হজ্জ অধ্যায়)
► হজ্জে পাথর নিক্ষেপের সময়।
(বুখারী ১/২৩৬ পৃঃ, হাঃ ১৭৫১, ১৭৫২, ১৭৫৩, আবূ দাঊদ ১৯৭৩, নাসাঈ ৩০৮৩, মিশকাত ২৫৫৫)
► যুদ্ধক্ষেত্রে রাসুল (সাঃ) এর দুআ। (মুসলিম ২/৯৩, হাঃ ১৭৬৩)
► খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ)-এর কাজ অপছন্দ হওয়ার জন্য দুআ। (বুখারী ২/৬২২ পৃঃ, হাঃ ৪৩৩৯, ৭১৮৯)।
► মুমিনকে কষ্ট বা গালি দেয়ার প্রতিকারের দুআ। (ছহীহ আদাবুল মুফরাদ ৬১০, ২০৯ পৃঃ; ছহীহাহ ৮২-৮৩, ছনদ ছহীহ)
► ইসতিসকা ছাড়া রাসুল (সাঃ) অন্য কোথাও জামাআতী দুআর জন্য হাত উঠাতেন না। (বুখারী ১০৩১, ৩৫৬৫, ৬৩৪১; মুসলিম ৮৯৫)।
এই স্থানগুলি ছাড়া অন্য কোন জায়গায় হাত তুলে দুআ চাওয়া বৈধ নয়।

Nil Odhora Tutul very nice post.
Sanaulla Salafi
Sogood Islam Syeds
Write a reply…
 
Miraj Hossain
Miraj Hossain উত্তরের জন্য একটু ইন্তজার করি।
Sanaulla Salafi
Sanaulla Salafi Miraj Hossain@অপেক্ষায় থাকলাম
Shakil Talukder
Shakil Talukder Sanaulla Salafi: রাসূলুল্লাহ (সা:) কবর যিয়ারতের সময় হাত উঠিয়ে একাকী দুয়া করেছেন না কি সম্মিলিত ভাবে হাত উঠিয়ে দুয়া করেছেন?
Md Aamir Hossain
Md Aamir Hossain একাকি দুয়া করেছেন
Like · Reply · 2 · 21 hrs
Sanaulla Salafi
Sanaulla Salafi Shakil Talukder@ রাসূলুল্লাহ (সা:) কবর যিয়ারতের সময় হাত উঠিয়ে দুয়া করেছেন। [মুসলিম: ১/৩১৩ পৃঃ ৯৭৪, নাসাঈ: ২০৩৯]। কিন্তু সম্মেলিত ভাবে হাত তুলে দুআ নয়
Shakil Talukder
Shakil Talukder কবর জিয়ারতের সময় রাসূলুল্লাহ (সা:)-এর সাথে যারা ছিলেন তারা কি তার সাথে হাত উঠিয়েছিলেন?
Sanaulla Salafi
Sanaulla Salafi এ ধরনের বর্ণনা কেবল রাসূল সাঃ এর হাত তুলার সাথে সম্পর্কীত, সাহাবাদের হাত তুলার বিষয়টি আদৌ প্রমাণিত নেই।
Shakil Talukder
Shakil Talukder Sanaulla Salafi অতএব, পোষ্টের সময় হাদিসে অবশ্যই উল্লেখ করবেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা:) কবর জিয়ারতের সময় একাকী হাত উঠিয়ে দুয়া করেছেন। তা না হলে মানুষ বিভ্রান্তিতে পড়বে।
হাদীসটি অনেক বছর আগেই জানা ছিলো।
Sogood Islam Syeds
Write a reply…
 
محمد عرفان
محمد عرفان যতটুকু জানি, রাসুল সাঃ শুধুমাত্র বিতর সালাতে ও বৃষ্টি কামনার জন্য সন্মিলিত দোয়া করতেন।

সম্মিলিত মুনাজাত,বিদ’আত

zx

short assamese-

–সালাতৰ(নামাজ) পিছত এই ভাবে সম্মিলিত মুনাজাতৰ প্রমাণ ৰাসূল (সাঃ) অথবা কোনো তাবেঈ বা কোনো মাযহাবৰ ঈমামৰ পৰা পোৱা নাযায় , মূল কথা হ’ল এই পন্থাটোৱেই হল কোৰআন- সুন্নাহৰ বিপৰীত কাম। (আহকামে দুয়া পৃঃ১৩)

–এই ভাবে মুনাজাত কৰাৰ নিয়ম
শাৰীয়তত নাই আৰু নাই কোনো সাহীহ হাদিছত বা কোনো জাল অথবা দূর্বল হাদিছত ! আৰু নাই কোনো ফিকাহৰ কিতাপত ! এই দুওয়া অবশ্যেই বিদ’আত। (আহকামে দুয়া ২১ পৃঃ) !!!

++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++
MAIN-

ফরজ নামাজ শেষে ইমামগন মুসুল্লীদের কে নিয়ে যে সম্মিলিত মুনাজাত করে থাকেন,
এই ব্যাপারে উপমহাদেশের উলামারা কি বলেছেন:
————— ————— ————————–
* আল্লামা আঃ হাই লখনভী রহ. বলেন: বর্তমান সময়ে প্রচলিত প্রথা যে ঈমাম সালাত
শেষে সম্মিলিত ভাবে হাত তুলে দুয়া করেন সবাই কে নিয়ে এবং মুসুল্লীগন আমীন আমীন বলেন ! এ প্রথা রাসূল (সাঃ) এর যুগে ছিল না। (ফৎয়ায়ে আঃ হাই, ১ম খন্ড, ১০০ পৃঃ)* আল্লামা আবুল কাসেম নানুতুবী বলেনঃ ফরজ নামাজের শেষে সম্মিলিত মুনাজাত করা একটি নিকৃষ্ট বিদ’আত। (এমাদুদ্দিন পৃঃ৩৯৭)

* আশরাফ আলী থানভী রহ. বলেনঃ সালাতের পর এই সম্মিলিত মুনাজাত সম্পর্কে ঈমাম আরফাহ এবং ঈমাম গাবরহিনী বলেন, এই মুনাজাত কে মুস্তাহাব মনে করাও না-জায়েজ।( ইস্তিহবাবুদ দাওয়াহ পৃঃ৮)

* আল্লামা মুফতী শফী রহ. বলেনঃ সালাতের পর এই ভাবে সম্মিলিত ভাবে মুনাজাতের প্রমান রাসূল (সাঃ) অথবা কোন তাবেঈ বা কোন মাযহাবের ঈমাম এর নিকট হতেও পাওয়া যায় না, মূল কথা হলো এই পন্থাটা-ই হলো কুরান- সুন্নাহর বিপরীত কাজ। (আহকামে দুয়া পৃঃ১৩)

* মুফতী আযম ফয়জুল্লাহ হাটহাজারি রহ.বলেনঃ এই ভাবে মুনাজাত করার নিয়ম
শারীয়তে নেই আর না আছে কোন সাহীহ হাদিছে বা না কোন জাল অথবা দূর্বল
হাদিছে ! আর না কোন ফিকাহের কিতাবে ! এ দুয়া অবশ্য-ই বিদ’আত। (আহকামে দুয়া ২১ পৃঃ) !!!

এর পরেও আমার বুঝে আসেনা আমাদের দেশের মসজিদ গুলোতে ঈমামগনেরা কিভাবে এই বিদ’আতটির নেতৃত্ব তাদের মসজিদে দিয়ে যাচ্ছেন ! আর বর্তমানে আমার দেশে ইলমের চর্চা কত নিম্নে পৌছেছে যে হাজার হাজার আলেম-মুফতি, তারাও এ ব্যাপারে নীরব!!!

আল্লাহপাক আমাদের সকলকে কোরান-সুন্নাহর পথে চলার তৌফিক দান করুক আমীন
——————
[কপি]

দরূদ ও সালাম পেশ করার আদেশ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি দরূদ ও সালাম পেশ করার আদেশ, তার মাহাত্ম্য ও শব্দাবলী।

ফাযালা ইবনে উবাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি লোককে নামাযে প্রার্থনা করতে শুনলেন। সে কিন্তু তাতে আল্লাহর প্রশংসা করেনি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর দরূদও পড়েনি। এ দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “লোকটি তাড়াহুড়ো করল।” অতঃপর তিনি তাকে ডাকলেন ও তাকে অথবা অন্য কাউকে বললেন, “যখন কেউ দো‘আ করবে, তখন সে যেন তার পবিত্র প্রতিপালকের প্রশংসা বর্ণনা যোগে ও আমার প্রতি দরূদ ও সালাম পেশ করে দো‘আ আরম্ভ করে, তারপর যা ইচ্ছা (যথারীতি) প্রার্থনা করে।” (আবু দাউদ, তিরমিযী) [1]

[1] আবূ দাউদ ১৪৮১, তিরমিযী ৩৪৭৬, ৩৪৭৭, নাসায়ী ১২৮৪, আহমাদ ২৩৪১৯ হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

বইঃ রিয়াযুস স্বা-লিহীন, অধ্যায়ঃ ১৫/ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর দরূদ ও সালাম প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বরঃ ১৪১২

sahih many duas

ফরয ছালাত বাদে সম্মিলিত দো‘আ,bidath

ফরয ছালাত বাদে সম্মিলিত দো‘আ

ফরয ছালাত বাদে সম্মিলিত দো‘আ (الدعاء الجماعي بعد الصلاة المكةوبة) :

ফরয ছালাত শেষে সালাম ফিরানোর পরে ইমাম ও মুক্তাদী সম্মিলিতভাবে হাত উঠিয়ে ইমামের সরবে দো‘আ পাঠ ও মুক্তাদীদের সশব্দে ‘আমীন’ ‘আমীন’ বলার প্রচলিত প্রথাটি দ্বীনের মধ্যে একটি নতুন সৃষ্টি। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরাম হ’তে এর পক্ষে ছহীহ বা যঈফ সনদে কোন দলীল নেই। বলা আবশ্যক যে, আজও মক্কা-মদ্বীনার দুই হারাম-এর মসজিদে উক্ত প্রথার কোন অস্তিত্ব নেই।

প্রচলিত সম্মিলিত দো‘আর ক্ষতিকর দিক সমূহ :
(১) এটি সুন্নাত বিরোধী আমল। অতএব তা যত মিষ্ট ও সুন্দর মনে হৌক না কেন সূরায়ে কাহ্ফ-এর ১০৩-৪ নং আয়াতের মর্ম অনুযায়ী ঐ ব্যক্তির ক্ষতিগ্রস্ত আমলকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
(২) এর ফলে মুছল্লী স্বীয় ছালাতের চাইতে ছালাতের বাইরের বিষয় অর্থাৎ প্রচলিত ‘মুনাজাত’কেই বেশী গুরুত্ব দেয়। আর এজন্যেই বর্তমানে মানুষ ফরয ছালাতের চাইতে মুনাজাতকে বেশী গুরুত্ব দিচ্ছে এবং ‘আখেরী মুনাজাত’ নামক বিদ‘আতী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বেশী আগ্রহ বোধ করছে ও দলে দলে সেখানে ভিড় জমাচ্ছে।
(৩) এর মন্দ পরিণতিতে একজন মুছল্লী সারা জীবন ছালাত আদায় করেও কোন কিছুর অর্থ শিখে না। বরং ছালাত শেষে ইমামের মুনাজাতের মুখাপেক্ষী থাকে।
(৪) ইমাম আরবী মুনাজাতে কী বললেন সে কিছুই বুঝতে পারে না। ওদিকে নিজেও কিছু বলতে পারে না। এর পূর্বে ছালাতের মধ্যে সে যে দো‘আগুলো পড়েছে, অর্থ না জানার কারণে সেখানেও সে অন্তর ঢেলে দিতে পারেনি। ফলে জীবনভর ঐ মুছল্লীর অবস্থা থাকে ‘না ঘরকা না ঘাটকা’।
(৫) মুছল্লীর মনের কথা ইমাম ছাহেবের অজানা থাকার ফলে মুছল্লীর কেবল ‘আমীন’ বলাই সার হয়। (৬) ইমাম ছাহেবের দীর্ঘক্ষণ ধরে আরবী-উর্দূ-বাংলায় বা অন্য ভাষায় করুণ সুরের মুনাজাতের মাধ্যমে শ্রোতা ও মুছল্লীদের মন জয় করা অন্যতম উদ্দেশ্য থাকতে পারে। ফলে ‘রিয়া’ ও ‘শ্রুতি’-র কবীরা গোনাহ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ‘রিয়া’-কে হাদীছে الشرك الأصغر বা ‘ছোট শিরক’ বলা হয়েছে। [204] যার ফলে ইমাম ছাহেবের সমস্ত নেকী বরবাদ হয়ে যাওয়ার নিশ্চিত সম্ভাবনা সৃষ্টি হ’তে পারে।

ছালাতে হাত তুলে সম্মিলিত দো‘আ :

(১) ‘ইস্তিসক্বা’ অর্থাৎ বৃষ্টি প্রার্থনার ছালাতে ইমাম ও মুক্তাদী সম্মিলিতভাবে দু’হাত তুলে দো‘আ করবে। এতদ্ব্যতীত
(২) ‘কুনূতে নাযেলাহ’ ও ‘কুনূতে বিতরে’ও করবে।

একাকী দু’হাত তুলে দো‘আ :

ছালাতের বাইরে যে কোন সময়ে বান্দা তার প্রভুর নিকটে যে কোন ভাষায় দো‘আ করবে। তবে হাদীছের দো‘আই উত্তম। বান্দা হাত তুলে একাকী নিরিবিলি কিছু প্রার্থনা করলে আল্লাহ তার হাত খালি ফিরিয়ে দিতে লজ্জা বোধ করেন।[205] খোলা দু’হস্ততালু একত্রিত করে চেহারা বরাবর সামনে রেখে দো‘আ করবে।[206] দো‘আ শেষে মুখ মাসাহ করার হাদীছ যঈফ। [207] বরং উঠানো অবস্থায় দো‘আ শেষে হাত ছেড়ে দিবে।

(১) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) স্বীয় উম্মতের জন্য আল্লাহর নিকট হাত উঠিয়ে একাকী কেঁদে কেঁদে দো‘আ করেছেন।[208]
(২) বদরের যুদ্ধের দিন তিনি ক্বিবলামুখী হয়ে আল্লাহর নিকটে একাকী হাত তুলে কাতর কণ্ঠে দো‘আ করেছিলেন। [209]
(৩) বনু জাযীমা গোত্রের কিছু লোক ভুলক্রমে নিহত হওয়ায় মর্মাহত হয়ে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একাকী দু’বার হাত উঠিয়ে আল্লাহর নিকটে ক্ষমা চেয়েছিলেন।[210]
(৪) আওত্বাস যুদ্ধে আবু মূসা আশ‘আরী (রাঃ)-এর নিহত ভাতিজা দলনেতা আবু ‘আমের আশ‘আরী (রাঃ)-এর জন্য ওযূ করে দু’হাত তুলে একাকী দো‘আ করেছিলেন।[211]
(৫) তিনি দাওস কওমের হেদায়াতের জন্য ক্বিবলামুখী হয়ে একাকী দু’হাত তুলে দো‘আ করেছেন।[212]

এতদ্ব্যতীত
(৬) হজ্জ ও ওমরাহ কালে সাঈ করার সময় ‘ছাফা’ পাহাড়ে উঠে কা‘বার দিকে মুখ ফিরিয়ে দু’হাত তুলে দো‘আ করা।[213]
(৭) আরাফার ময়দানে একাকী দু’হাত তুলে দো‘আ করা।[214]
(৮) ১ম ও ২য় জামরায় কংকর নিক্ষেপের পর একটু দূরে সরে গিয়ে ক্বিবলামুখী হয়ে দু’হাত তুলে দো‘আ করা। [215]
(৯) মুসাফির অবস্থায় হাত তুলে দো‘আ করা।[216]

তাছাড়া জুম‘আ ও ঈদায়েনের খুৎবায় বা অন্যান্য সভা ও সম্মেলনে একজন দো‘আ করলে অন্যেরা (দু’হাত তোলা ছাড়াই) কেবল ‘আমীন’ বলবেন। [217] এমনকি একজন দো‘আ করলে অন্যজন সেই সাথে ‘আমীন’ বলতে পারেন।

উল্লেখ্য যে, দো‘আর জন্য সর্বদা ওযূ করা, ক্বিবলামুখী হওয়া এবং দু’হাত তোলা শর্ত নয়। বরং বান্দা যে কোন সময় যে কোন অবস্থায় আল্লাহর নিকটে প্রার্থনা করবে। যেমন খানাপিনা, পেশাব-পায়খানা, বাড়ীতে ও সফরে সর্বদা বিভিন্ন দো‘আ করা হয়ে থাকে। আর আল্লাহ যে কোন সময় যে কোন অবস্থায় তাঁকে আহবান করার জন্য বান্দার প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।[218]

কুরআনী দো‘আ :

রুকূ ও সিজদাতে কুরআনী দো‘আ পড়া নিষেধ আছে।[219] তবে মর্ম ঠিক রেখে সামান্য শাব্দিক পরিবর্তনে পড়া যাবে। যেমন রববানা আ-তিনা ফিদ্দুন্ইয়া … (বাক্বারাহ ২/২০১)-এর স্থলে আল্লা-হুম্মা রববানা আ-তিনা অথবা আল্লা-হুম্মা আ-তিনা ফিদ্দুন্ইয়া …বলা।[220] অবশ্য শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের পরে সালাম ফিরানোর পূর্বে কুরআনী দো‘আ সহ ছহীহ হাদীছ ভিত্তিক সকল প্রকারের দো‘আ পাঠ করা যাবে।

[204] . আহমাদ, মিশকাত হা/৫৩৩৪ ‘হৃদয় গলানো’ অধ্যায়-২৬, ‘লোক দেখানো ও শুনানো’ অনুচ্ছেদ-৫। [205] . আবুদাঊদ, মিশকাত হা/২২৪৪, ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯। [206] . আবুদাঊদ হা/১৪৮৬-৮৭, ৮৯; ঐ, মিশকাত হা/২২৫৬। [207] . আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/২২৪৩, ৪৫, ২২৫৫ ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯; আলবানী বলেন, দো‘আর পরে দু’হাত মুখে মোছা সম্পর্কে কোন ছহীহ হাদীছ নেই। মিশকাত, হাশিয়া ২/৬৯৬ পৃঃ; ইরওয়া হা/৪৩৩-৩৪, ২/১৭৮-৮২ পৃঃ। [208] . মুসলিম হা/৪৯৯, ‘ঈমান’ অধ্যায়-১, ‘উম্মতের জন্য রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর দো‘আ করা’ অনুচ্ছেদ-৮৭। [209] . মুসলিম হা/৪৫৮৮ ‘জিহাদ’ অধ্যায়-৩২, অনুচ্ছেদ-১৮, ‘বদরের যুদ্ধে ফেরেশতাগণের দ্বারা সাহায্য প্রদান’। [210] . বুখারী, মিশকাত হা/৩৯৭৬ ‘জিহাদ’ অধ্যায়-১৯, অনুচ্ছেদ-৫; বুখারী হা/৪৩৩৯ ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৮০, ‘দো‘আয় হাত উঁচু করা’ অনুচ্ছেদ-২৩। [211] . এটি ছিল ৮ম হিজরীতে সংঘটিত ‘হোনায়েন’ যুদ্ধের পরপরই। বুখারী হা/৪৩২৩, ‘যুদ্ধ-বিগ্রহ সমূহ’ অধ্যায়-৬৪, ‘আওত্বাস যুদ্ধ’ অনুচ্ছেদ-৫৬। [212] . বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ হা/৬১১; মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৫৯৯৬। [213] . আবুদাঊদ হা/১৮৭২; মুসলিম, মিশকাত হা/২৫৫৫। [214] . নাসাঈ হা/৩০১১। [215] . বুখারী হা/১৭৫১-৫৩, ‘হজ্জ’ অধ্যায়-২৫, ‘জামরায় কংকর নিক্ষেপ ও হাত উঁচু করে দো‘আ’ অনুচ্ছেদ-১৩৯-৪২। [216] . মুসলিম, মিশকাত হা/২৭৬০। [217] . ছহীহ আল-আদাবুল মুফরাদ হা/৪৬১; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ৮/২৩০-৩১; ফাতাওয়া আরকানিল ইসলাম পৃঃ ৩৯২। [218] . বাক্বারাহ ২/১৮৬, মুমিন/গাফের ৪০/৬০; বুখারী ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৮০, অনুচ্ছেদ-২৪, ২৫ ও অন্যান্য অনুচ্ছেদ সমূহ। [219] . মুসলিম, মিশকাত হা/৮৭৩ ‘ছালাত’ অধ্যায়-৪, ‘রুকূ’ অনুচ্ছেদ-১৩ ; নায়ল ৩/১০৯ পৃঃ। [220] . বুখারী হা/৪৫২২; মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/২৪৮৭, ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, ‘সারগর্ভ দো‘আ’ অনুচ্ছেদ-৯।

মোনাজাত

Muktabul Hussain

মোনাজাত ( المناخاة )

সাধাৰণ অৰ্থত আমি মোনাজাত বা দো’আ বুলি কলে কেৱল দোয়ো হাত দাঙি আল্লাহৰ ওচৰত কৰা প্ৰাৰ্থনাকেই বুজি পাওঁ !! কিন্তু শ্বৰীয়তৰ দৃষ্টিভংগীত এই মোনাজাত বা দো’আই প্ৰকৃততে কি অৰ্থ বহন কৰিছে আৰু এই দো’আৰ উত্তম পদ্ধতি বা শ্ৰেষ্ঠ সময় কোনটো সেই দিশটোৰ প্ৰতি আমি গৰিষ্ঠ সংখ্যকেই নাজানোঁ বা উদাসীন হৈ থাকো।

মোনাজাত শব্দৰ অৰ্থ হৈছে পৰস্পৰে গোপনে কথা পতা । ৰাছূল চল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লামে কৈছে : إِنٌَ أَحَدَكُمْ إأذَا صَلٌَى بُناَخِى رَبًٌهُ – অৰ্থাৎ তোমালোকৰ কোনোবাই যেতিয়া চালাতৰত অৱস্থাত থাকে, তেতিয়া তেওঁ আল্লাহৰ লগত মোনাজাত কৰে বা গোপনে কথা পাতে ( মিশকাত হাঃ/৭১০ )।চালাত শব্দৰ অৰ্থ হৈছে দো’আ , ক্ষমা প্ৰাৰ্থনা ইত্যাদি । তকবীৰে তহৰীমাৰ পৰা আৰম্ভ কৰি চালাম ফিৰোৱাৰ লৈকে সমগ্ৰ চালাতেই কেৱল দো’আ আৰু দো’আ ।। অৰ্থ বুজি চালাত আদায় কৰা সকলৰ বাবে প্ৰকৃততে ইয়াতকৈ আৰু বিশেষ দো’আ কৰিবলগা নাথাকেই । নবী চল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লামে কৈছে : চিজদাহৰ সময়ত বান্দা তাৰ ৰব্বৰ সৰ্বনিম্ন কাষ চাপি যায় । সেয়েহে এই সময়ত সাধ্যানুসৰি বেছিকৈ দো’আ কৰিব লাগে ( মুচলীম , মিশকাত হাঃ/৮৯৪ )। ইয়াৰ ওপৰিও শেষ বৈঠকত তাশ্বাহুদ আৰু চালামৰ মধ্যৱৰ্ত্তী সময়খিনিত ৰাছূল চল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লামে বেছিকৈ দো’আ কৰিছিল ( মুচলীম , মিশকাত হাঃ/৮১৩ )।

নবী চল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লামে আৰু কৈছে : الْدٌُعاَوُ هُوَ اَلْعِبَادةُ – দো’আ হল ইবাদত ( মিশকাত হাঃ/২২৩০ )। দো’আ যিহেতু এক ইবাদত , সেয়েহে এই ইবাদতৰ পদ্ধতি বা সময় নবী চল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লামে দেখুৱাই যোৱা চুন্নত অনুসৰি হোৱাটো একান্তই বাঞ্চনীয় । উল্লেখযোগ্য যে আমাৰ ইয়াত প্ৰচলিত ফৰজ চালাতৰ পাছত ইমামৰ সৈতে কৰা সন্মিলিত মোনাজাতৰ সপক্ষে ৰাছূল চল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লাম বা চাহাবায়ে কেৰাম সকলৰ পৰা কোনো চহীহ বা জয়ীফ চনদৰ দলীল নাই । নিশ্চিত ভাবে এনে ইবাদত দ্বীনৰ নতুন সৃষ্টি , যাক শ্বৰীয়তৰ দৃষ্টিত বিদআত বোলা হয় ! বিদআতী ইবাদতৰ পৰিণতি হৈছে জাহান্নাম । সেয়েহে আমি ত্বথ্যবিহীন এনে ইবাদতৰ পৰা সাৱধান হোৱা উচিত । কোৱা বাহুল্য যে, মক্কা মদিনাৰ মছজিদত এনে সন্মিলিত মোনাজাতৰ আজিও কোনো অস্তিত্ব নাই । অৱশ্যে ব্যক্তিগত ভাবে অকলে দো’আ কৰাত শ্বৰীয়তৰ কোনো বাধা নাই ।

চালাতৰ মাধ্যমত শ্ৰেষ্ঠ দো’আ হৈছে চুৰাতুল ফাতিহাৰ জৰিয়তে ” আলহামদুলিল্লাহ ” আৰু ” ইহদিনাচ্ ছিৰাতাল মুছতাকিম ” বুলি দো’আ কৰা ।

আল্লাহে আমাক সকলোকে সঠিক চুন্নতি পদ্ধতিৰে দো’আ আৰু ক্ষমা প্ৰাৰ্থনা কৰি আমাৰ গোণাহ সমূহ মাফ বিচৰাৰ তৌফিক দান কৰক । । । আমীন । । । । ।

When should the hands be raised in du’aa’, and when do we make du’aa’ without raising our hands?

11543: When should the hands be raised in du’aa’, and when do we make du’aa’ without raising our hands?


My question refers to one of your previous answere in which you stated that it is a bida to raise one’s hands in supplication after a fard prayer or after the Friday prayer. Could you please tell me that when is it a good to raise one’s hands in duaa? Could we raise our hands after a supererogatory prayer?

Published Date: 2000-12-05

Praise be to Allaah.

It is important to note that du’aa’ is an act of worship, and every act of worship should only be done on the basis of evidence (daleel). The basic principle here is that the hands should be raised when making du’aa’, except when the du’aa’ is part of another act of worship, in which case raising the hands is regarded as an additional action (and should not be done). Examples of such acts of worship include salaah (prayer), khutbah (sermon), tawaaf (circumambulation of the Ka’bah), sa’ee (running between al-Safaa and Marwah), etc. Salaah includes du’aa’ at the beginning of the prayer, in rukoo’ (bowing), when standing up from rukoo’, in the two sajdahs (prostrations) and in the sitting between the two prostrations – but whoever raises his hands in these places is considered to have committed an act of bid’ah (reprehensible innovation). The same applies to raising the hands when making du’aa’ on the minbar, except in the case of istisqaa’ (praying for rain). And the same applies when making du’aa’ when doing tawaaf or sa’ee.

When there is evidence to show that it is permissible to raise the hands in certain situation, then there is no dispute. Any du’aa’ which has not been narrated in a report and which is not part of another act of worship is regarded as general du’aa’; in this case there is nothing wrong with raising the hands. It was narrated that the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) spoke of a man who raised his hands to the sky and said, “O Lord, O Lord,” whilst his food was haraam, his drink was haraam, his clothing was haraam, he had been nourished with haraam, so how could his du’aa’ be answered?

And the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) said: “Allaah feels shy to let His slave raise his hands to Him and bring them back empty.” – and other ahaadeeth.

With regard to raising the hands after a naafil prayer, if that is not a du’aa’ that is regularly offered, such as when a man is faced with some emergency, and he calls upon Allaah at that moment, there is nothing wrong with that. But if he regularly makes du’aa’ and raises his hands after praying an obligatory prayer, there is no clear daleel to support doing so.

Shaykh Sa’d al-Humayd
Create Comments
 https://islamqa.info/en/11543

evil eye is true

প্রশ্নঃ মানুষের উপর ও কি বদ নজর লাগে? লাগলে তার চিকিৎসা কি? এর থেকে বেঁচে থাকা কি আল্লাহর উপর ভরসার পরিপন্থী

?***************************************************************************************
বদ নজরের প্রভাব সত্য। আল্লাহ বলেনঃ
“কাফেরেরা তাদের দৃষ্টির মাধ্যমে আপনাকে আছাড় দিয়ে ফেলে দিতে চায়।” (সূরা আল-কলমঃ ৫১) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
“বদ নজরের প্রভাব সত্য। কোন জিনিষ যদি তাকদীরকে অতিক্রম করতে পারত, তাহলে বদ নজর তাকে অতিক্রম করত। তোমাদেরকে গোসল করতে বলা হলে তোমরা গোসল করবে এবং গোসলে ব্যবহৃত পানি দিয়ে রোগীর চিকিৎসা করবে।” নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ্‌ বর্ণিত আছে যে, একদা আমের ইবনে রাবীয়া সাহল ইবনে হুনাইফের কাছ দিয়ে অতিক্রম করলেন। সাহল ইবনে হুনাইফ (রাঃ) তখন গোসল করতে ছিলেন। আমের ইবনে রাবীয়া সাহলকে দেখে বলল, আমি আজকের মত লুকায়িত সুন্দর চামড়া আর কখনো দেখিনি। এ কথা বলার কিছুক্ষণ পর সাহ্‌ল অসুস্থ হয়ে পড়ে গেল। তাকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে নিয়ে এসে বলা হল, সাহ্‌ল বদ নজরে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি বললেন, তোমরা কাকে সন্দেহ করছ? তারা বলল, আমের ইবনে রাবীয়াকে। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, কেন তোমাদের কেউ তার ভাইকে হত্যা করতে চায়। কেউ যদি কারো মধ্যে ভাল কিছু দেখে, তাহলে সে যেন তার জন্য ভাই এর কল্যাণ কামনা করে এবং দু’আ করে। অতঃপর তিনি পানি আনতে বললেন এবং আমেরকে অযু করতে বললেন। অযুতে মুখমন্ডল, কনুই সহ উভয় হাত এবং হাটু পর্যন্ত এমনকি লুঙ্গীর নীচ পর্যন্ত ধৌত করে সাহলের শরীরে ঢালতে বললেন। কোন বর্ণনায় পাওয়া যায় পানির পাত্র যেন পেছন থেকে ঢালে। এটি বাস্তব ঘটনা, যা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই।
বদ নজরে আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসা হলঃ
(১) হাদীছে বর্ণিত দু’আগুলো পাঠ করে আক্রান্ত রোগীর উপর ঝাড়-ফুঁক করতে হবে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
لَا رُقْيَةَ إِلَّا مِنْ عَيْنٍ أَوْ حُمَةٍ
“বদ নজর এবং বিচ্ছুর বিষ নামানোর ঝাঁড়-ফুঁক ব্যতীত কোন ঝাড়-ফুঁক নেই।” জিবরীল (আঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে এই দু’আর মাধ্যমে ঝাড়তেন,
بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ
“আমি আপনাকে আল্লাহর নামে ঝাড়-ফুঁক করছি প্রতিটি এমন জিনিষ হতে, যা আপনাকে কষ্ট দেয় এবং প্রত্যেক জীবের অমঙ্গল হতে ও হিংসুকের বদ নজর হতে আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য দান করুন। আমি আপনাকে আল্লাহর নামে ঝাড়-ফুঁক করছি।”
(২) যার বদ নজর লাগছে বলে সন্দেহ করা হয়, তাকে গোসল করিয়ে গোসলের পানি রোগীর শরীরে ঢালতে হবে। যেমনভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমের বিন রাবীয়াকে গোসল করতে বলেছিলেন। সন্দেহ যুক্ত ব্যক্তির পেশাব-পায়খানা বা অন্য কোন কিছু দিয়ে চিকিৎসা করার কোন দলীল নেই। অনুরূপভাবে তার উচ্ছিষ্ট বা অযুর পানি ইত্যাদি ব্যবহার করাও ভিত্তিহীন। হাদীছে যা পাওয়া যায় তা হল তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং লুঙ্গির নিচের অংশ ধৌত করা এবং সম্ভবতঃ মাথার টুপি, পাগড়ী বা পরিধেয় কাপড়ের নিচের অংশ ধৌত করা এবং তা ব্যবহার করাও বৈধতার অন্তর্ভুক্ত হবে।
বদ নজর লাগার আগেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়াতে কোন দোষ নেই। এটা আল্লাহর উপর ভরসা করার পরিপন্থীও নয়। কারণ আল্লাহর উপর পরিপূর্ণভাবে ভরসার স্বরূপ হল বান্দা বৈধ উপকরণ অবলম্বন করে বদনজর ইত্যাদি থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করবে এবং সেই সাথে আল্লাহর উপর ভরসা করবে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাসান্তহুসাইন (রাঃ)কে এই বাক্যগুলো দিয়ে ঝাড়-ফুঁক করতেনঃ
أُعِيْذُكُماَ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
“আমি আল্লাহর কাছে তাঁর পরিপূর্ণ বাক্যের মাধ্যমে প্রতিটি শয়তান এবং বিষধর বস্ত ও কষ্ট দায়ক নযর হতে তোমাদের জন্য আশ্রয় চাচ্ছি।” নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ইবরাহীম (আঃ) তাঁর পুত্র ইসহাক এবং ইসমাঈল (আঃ)কে এই দু’আর মাধ্যমে ঝাড়-ফুক করতেন।
বিষয়/প্রশ্নঃ (৬৬)
গ্রন্থের নামঃ ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম
বিভাগের নামঃ ঈমান
লেখকের নামঃ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ)
অনুবাদ করেছেনঃ আবদুল্লাহ শাহেদ আল মাদানি – আবদুল্লাহ আল কাফী

by-[Hifzur Rahman]