Category Archives: Ahle-Hadith

আমি কেনো আহলেহাদীছ-কে ভালবাসি?

আমি কেনো আহলেহাদীছ-কে ভালবাসি?
.
তারা নিজের দিকে নয় বরং আল্লাহ এবং তার রাসূলের দিকেই ডাকে…
এজন্য তারা বলেন- আসুন পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে জিবন গড়ি! আলহামদুলিল্লাহ! তারা সে রকম আমলও করে।
এমনটাই আল্লাহ বলেন…
.
হে ঈমানদার লোকেরা! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের অনুসরণ করো আর নিজেদের আমল বিনষ্ট করো না। (সূরা মুহাম্মদ ৩৩)
অথাৎ পবিত্র কুরআন এবং ছহীহ হাদীছ।
.
হাফেয ইবনু কাছীর (৭০১-৭৭৪ হিঃ)
যেদিন আমরা ডাকব প্রত্যেক সম্প্রদায়কে তাদের নেতা সহ (বানী ইসরঈল ৭১)
আয়াতের ব্যাখ্যায় স্বীয় জগদ্বিখ্যাত তাফসীরে বিগত একজন মনীষীর উক্তি উদ্বৃত করে বলেন,
.
আহলেহাদীছদের জন্য এটাই সর্বোচ্চ মর্যাদা যে, তাদের একমাত্র ইমাম হলেন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ছা:)। ইবনু কাছীর, তাফসীরুল কুরআনিল আযীম (বৈরুত : ১৪০৮/১৯৮৮)সূরা বানী ইসরাঈল ৭১ আয়াতের ব্যাখ্যা ৩/৫৬ পৃঃ)
.
আব্দুল ক্বাদের জীলানী বলেন, বিদআতীদের লক্ষন হল আহলেহাদীসদের গালি দেওয়া ও বিভিন্ন বাজে নামে তাদেরকে সম্বোধন করা…(আব্দুল ক্বাদের জীলানী, কিতাবুল গুনিয়াহ ওরফে গুনিয়াতুত ত্বালেবীন(মিসর: ১৩৪৬ হি ১/৯০ পৃঃ)
হে আল্লাহ! তুমি আমাদের সরল ও সঠিক পথ দেখাও।{আমিন!

Bd

দেওবন্দীসকলে হাদীছ অনুসৰণ নকৰি কিয় ছুন্নাহ অনুসৰণৰ কথা কয়? : যিসকলে আহলে হাদীছ পৰিচয় দিয়ে তেওঁলোকেই সঠিক পৰিচয় দিয়ে

দেওবন্দীসকলে হাদীছ অনুসৰণ নকৰি কিয় ছুন্নাহ অনুসৰণৰ কথা কয়???
এই ক্ষেত্রত তেওঁলোকৰ নিকৃষ্ট স্বাৰ্থ নিহিত হৈ আছে। অধিকাংশই সেইটো নবুজে। ছুন্নাহৰ পৰিধি ব্যাপক। ছুন্নাহৰ অনুসৰণ কৰিলে:– আমাৰ ছুন্নাত¸ আপোনাৰ ছুন্নাত, ওলি আল্লাৰ ছুন্নাত, পীৰৰ ছুন্নাত¸ নিজৰ ছুন্নাত¸ ৰাছুলুল্লাহ চাল্লাল্লাহু আলাইহি ৱাছাল্লামৰ ছুন্নাত ইত্যাদি ইত্যাদি সকলোৰে অনুসৰণ কৰিব পাৰি। আনহাতে হাদীছ অনুসৰণৰ কথা ক’লে¸ ৰাছুলুল্লাহ চাল্লাল্লাহু আলাইহি ৱাছাল্লামৰ ছুন্নাত ব্যতীত সকলোবোৰেই বাদ পৰি যাব। আৰু যাৱতীয় বিদাতৰ দৰ্জাও বন্ধ হৈ যাব।
দেওবন্দী জ্ঞানীসকলৰ লিখনী আৰু বক্তব্যত কৈ থাকে যে ৰাছুলুল্লাহ চাল্লাল্লাহু আলাইহি ৱাছাল্লামে হাদীছ অনুসৰণ কৰিবলৈ কোৱা নাই¸ তেখেতৰ ছুন্নাহ অনুসৰণ কৰিবলৈ কৈছে। সেইকাৰণে তেওঁলোকে আহলে ছুন্নাহ বুলি কয়। যিসকল জ্ঞানীয়ে এনেকুৱা মূর্খতাপূর্ণ কথা কয়, তেওঁলোকে আচলতে নিজৰ জ্ঞান আনৰ ওচৰত বন্ধকত থৈছে। সেয়ে সেই সুৰত তাল মিলাই কথা কয়। ১% জ্ঞান যদি তেওঁলোকৰ নিজস্ব হ’লহেতেন¸ তেনেহ’লে এনেকুৱা মূর্খতাৰ পৰিচয় নিদিলেহেতেন।
তেওঁলোকলৈ আমাৰ প্রশ্ন :–
(১) ছুন্নাহ জানিবলৈ হ’লে ক’ত বিচাৰিব? আকাশে-বতাহে নে নির্দিষ্ট কোনো ঠিকনা আছে? যদি কোনো নিৰ্দিষ্ট ঠিকনা আছে তাৰ পৰিচয় ক’ত?
(২) আমি বহুতো আমল চাহাবীসকলৰ মাজত পাওঁ যিবোৰ প্ৰত্যক্ষভাৱে ৰাছুলুল্লাহ চাল্লাল্লাহু আলাইহি ৱাছাল্লামৰ পৰা প্রমাণিত নহয় তাক জনাৰ কাৰণে ঠিকনা কি?
(৩) আপোনালোকে কয়, ৰাছুলুল্লাহ চাল্লাল্লাহু আলাইহি ৱাছাল্লামৰ হাদীছ অনুসৰণ কৰিবলৈ নহয় ছুন্নাহ অনুসৰণ কৰিবলৈ কৈছে। সেয়ে আপোনালোক আহলে ছুন্নাহ ওৱাল জামাত¸ আহলে হাদীছ নহয়। আমি কম ভাই! ৰাছুলুল্লাহ চাল্লাল্লাহু আলাইহি ৱাছাল্লামে কুৰআন আৰু ছুন্নাহ দুয়োটা মানিবলৈ কৈছে। তেনেহলে কেৱল আহলে ছুন্নাহ নুবুলি আহলে কুৰআন ছুন্নাহ ওৱাল জামাত বোলা উচিত নহয় নেকি? হাদীছৰ অনুসৰণ অবিহনে ছুন্নাহ আমল কৰাটো জানো সম্ভব?
আমি ভাৱো যিসকলে আহলে হাদীছ পৰিচয় দিয়ে তেওঁলোকেই সঠিক পৰিচয় দিয়ে। কাৰণ ৰাছুলুল্লাহ চাল্লাল্লাহু আলাইহি ৱাছাল্লামৰ ছুন্নাহ আৰু চাহাবীসকলৰ আমল জানিবলৈ হলে হাদীছৰ অনুসৰণ অনিবাৰ্য আৰু আল্লাহৰ কিতাব কুৰআনক আল্লাহে আহচানুল হাদীছ বুলি কৈছে। সেয়ে উভয়েই অহি হাদীছ। গতিকে আহলে হাদীছ পৰিচয় দিয়াটোৱেই সমিচীন হব।

আহলেহাদীছ কখন থেকে আছে আর দেওবন্দী ও ব্রেলভী মতবাদের সূচনা কখন হয়েছে

ah

আহলেহাদীছ কখন থেকে আছে আর দেওবন্দী ও ব্রেলভী মতবাদের সূচনা কখন হয়েছে :

প্রশ্ন : আমরা এটা শুনতে থাকি যে, আহলেহাদীছগণ ইংরেজদের আমলে শুরু হয়েছে। পূর্বে এদের কোন অস্তিত্ব ছিল না। দয়া করে পাকিস্তান ও হিন্দুস্তানের অতীতকালের আহলেহাদীছ আলেমদের নাম সংক্ষিপ্ত পরিচিতিসহ লিখবেন। ধন্যবাদ। -মুহাম্মাদ ফাইয়ায দামানভী, ব্রাডফোর্ড, ইংল্যান্ড।

জবাব : যেভাবে আরবী ভাষায় ‘আহলুস সুন্নাহ’ অর্থ সুন্নাতপন্থী, সেভাবে আহলুল হাদীছ অর্থ হাদীছপন্থী। যেভাবে সুন্নাতপন্থী দ্বারা ছহীহ আক্বীদাসম্পন্ন সুন্নী ওলামা এবং তাদের অনুসারী ছহীহ আক্বীদাসম্পন্ন সাধারণ জনগণকে বুঝায়, সেভাবে হাদীছপন্থী দ্বারা ছহীহ আক্বীদাসম্পন্ন মুহাদ্দেছীনে কেরাম এবং তাদের অনুসারী ছহীহ আক্বীদাসম্পন্ন সাধারণ জনগণকে বুঝায়।

স্মর্তব্য যে, আহলে সুনণাত এবং আহলেহাদীছ একই দলের দু’টি গুণবাচক নাম মাত্র। ছহীহ আক্বীদাসম্পন্ন মুহাদ্দেছীনে কেরামের কয়েকটি শ্রেণী রয়েছে। যেমন-
(১) ছাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)। (২) তাবেঈনে এযাম (রহঃ)। (৩) তাবে তাবেঈন। (৪) আতবা‘এ তাবে তাবেঈন (তাবে তাবেঈন-এর শিষ্যগণ)। (৫) হাদীছের হাফেযগণ। (৬) হাদীছের রাবীগণ। (৭) হাদীছের ব্যাখ্যাকারীগণ এবং অন্যান্যগণ। আল্লাহ তাদের উপর রহম করুন!

ছহীহ আক্বীদাসম্পন্ন মুহাদ্দিছগণের ছহীহ আক্বীদাসম্পন্ন জনগণের কয়েকটি শ্রেণী রয়েছে। যেমন-
(১) উচ্চশিক্ষিত। (২) মধ্যম শিক্ষিত। (৩) সামান্য শিক্ষিত এবং (৪) নিরক্ষর সাধারণ মানুষ।
এই সর্বমোট এগারোটি (৭+৪) শ্রেণীকে আহলেহাদীছ বলা হয়। আর তাদের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনগুলি নিম্নরূপ-
১. কুরআন, হাদীছ ও ইজমায়ে উম্মতের উপরে আমল করা।
২. কুরআন, হাদীছ ও ইজমার বিপরীতে কারো কথা না মানা।
৩. তাক্বলীদ না করা।
৪. আল্লাহ তা‘আলাকে সাত আসমানের ঊর্ধ্বে স্বীয় আরশের উপরে সমুন্নীত হিসাবে মানা। যেটি তাঁর মর্যাদার উপযোগী সেভাবে।
৫. ঈমানের অর্থ হৃদয়ে বিশ্বাস, মুখে স্বীকৃতি এবং কর্মে বাস্তবায়ন।
৬. ঈমানের হরাস-বৃদ্ধির আক্বীদা পোষণ করা।
৭. কুরআন ও হাদীছকে সালাফে ছালেহীনের বুঝ অনুযায়ী অনুধাবন করা এবং এর বিপরীতে সকলের কথা প্রত্যাখ্যান করা।
৮. সকল ছাহাবী, নির্ভরযোগ্য ও সত্যবাদী তাবেঈন, তাবে তাবেঈন, আতবা‘এ তাবে তাবেঈন এবং সকল বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য ছহীহ আক্বীদাসম্পন্ন মুহাদ্দিছগণের প্রতি ভালবাসা পোষণ করা ইত্যাদি।

ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (৬৬১-৭২৮ হিঃ) বলেছেন, صَاحِبُ الْحَدِيثِ عِنْدَنَا مَنْ يَسْتَعْمِلُ الْحَدِيثَ ‘আমাদের নিকটে আহলেহাদীছ ঐ ব্যক্তি যিনি হাদীছের উপরে আমল করেন’।[39]

হাফেয ইবনু তায়মিয়াহ (৬৬১-৭২৮) বলেছেন,
وَنَحْنُ لَا نَعْنِي بِأَهْلِ الْحَدِيثِ الْمُقْتَصِرِينَ عَلَى سَمَاعِهِ أَوْ كِتَابَتِهِ أَوْ رِوَايَتِهِ بَلْ نَعْنِي بِهِمْ: كُلَّ مَنْ كَانَ أَحَقَّ بِحِفْظِهِ وَمَعْرِفَتِهِ وَفَهْمِهِ ظَاهِرًا وَبَاطِنًا وَاتِّبَاعِهِ بَاطِنًا وَظَاهِرًا-
‘আমরা আহলেহাদীছ বলতে কেবল তাদেরকেই বুঝি না যারা হাদীছ শুনেছেন, লিপিবদ্ধ করেছেন বা বর্ণনা করেছেন। বরং আমরা আহলেহাদীছ দ্বারা ঐ সকল ব্যক্তিকে বুঝিয়ে থাকি, যারা হাদীছ মুখস্থকরণ এবং গোপন ও প্রকাশ্যভাবে তার জ্ঞান লাভ ও অনুধাবন এবং অনুসরণ করার অধিক হকদার’।[40]

হাফেয ইবনু তায়মিয়াহর উল্লেখিত উক্তি থেকেও আহলেহাদীছ-এর (আল্লাহ তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করুন) দু’টি শ্রেণী সাব্যস্ত হয় :
১. হাদীছের প্রতি আমলকারী মুহাদ্দেছীনে কেরাম।
২. হাদীছের উপরে আমলকারী সাধারণ জনগণ।
হাফেয ইবনু তায়মিয়াহ আরো বলেছেন,
وَبِهَذَا يَتَبَيَّنُ أَنَّ أَحَقَّ النَّاسِ بِأَنْ تَكُونَ هِيَ الْفِرْقَةُ النَّاجِيَةُ أَهْلُ الْحَدِيثِ وَالسُّنَّةِ؛ الَّذِينَ لَيْسَ لَهُمْ مَتْبُوعٌ يَتَعَصَّبُونَ لَهُ إلَّا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ-
‘আর এর মাধ্যমে সুস্পষ্ট হয় যে, লোকদের মধ্য হ’তে নাজাতপ্রাপ্ত ফিরক্বা হওয়ার সবচাইতে বেশী হকদার হ’ল আহলেহাদীছ ও আহলে সুন্নাহ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ব্যতীত তাদের এমন কোন অনুসরণীয় ব্যক্তি (ইমাম) নেই, যার জন্য তারা পক্ষপাতিত্ব করে’।[41]

হাফেয ইবনু কাছীর (৭০১-৭৭৪ হিঃ)يَوْمَ نَدْعُو كُلَّ أُنَاسٍ بِإِمَامِهِمْ ‘যেদিন আমরা ডাকব প্রত্যেক সম্প্রদায়কে তাদের নেতা সহ’ (ইসরা ৭১) আয়াতের ব্যাখ্যায় কতিপয় সালাফ (ছালেহীন) থেকে বর্ণনা করেছেন যে,هَذَا أَكْبَرُ شَرَفٍ لِأَصْحَابِ الْحَدِيثِ لِأَنَّ إِمَامَهُمُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ- ‘আহলেহাদীছদের জন্য এটাই সর্বোচ্চ মর্যাদা যে, তাদের একমাত্র ইমাম হলেন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)’।[42] তাদেরকে ক্বিয়ামতের দিন তাদের ইমামের নামে ডাকা হবে।
সুয়ূত্বীও (৮৪৯-৯১১ হিঃ) লিখেছেন,لَيْسَ لِأَهْلِ الْحَدِيثِ مَنْقَبَةٌ أَشْرَفَ مِنْ ذَلِكَ لِأَنَّهُ لَا إِمَامَ لَهُمْ غَيْرُهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ- ‘আহলেহাদীছদের জন্য এর চাইতে অধিক
মর্যাদাপূর্ণ আর কিছুই নেই। কেননা মুহাম্মাদ (ছাঃ) ছাড়া
তাদের আর কোন ইমাম নেই’।[43]

ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল, ইমাম বুখারী এবং ইমাম আলী ইবনুল মাদীনী ও অন্যান্যগণ (আল্লাহ তাদের উপর রহম করুন) আহলুল হাদীছদেরকে ‘ত্বায়েফাহ মানছূরাহ’ অর্থাৎ সাহায্যপ্রাপ্ত দল হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন।[44]

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের নির্ভরযোগ্য উস্তাদ ইমাম আহমাদ বিন সিনান আল-ওয়াসিত্বী (রহঃ) বলেছেন, ‘দুনিয়াতে এমন কোন বিদ‘আতী নেই, যে আহলেহাদীছদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করে না’।[45]

ইমাম কুতায়বা বিন সাঈদ আছ-ছাক্বাফী (মৃঃ ২৪০ হিঃ, বয়স ৯০ বছর) বলেছেন, ‘যখন তুমি কোন ব্যক্তিকে দেখবে যে সে আহলুল হাদীছের প্রতি ভালবাসা পোষণ করে তখন (বুঝে নিবে যে) এই ব্যক্তি সুন্নাতের উপরে আছে’।[46]
হাফেয ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) লিখেছেন, ‘মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, ইবনু খুযায়মাহ, আবু ইয়া‘লা, বাযযার প্রমুখ আহলেহাদীছ মাযহাবের উপরে ছিলেন। তারা কোন নির্দিষ্ট আলেমের মুক্বাল্লিদ ছিলেন না…’।[47]

উপরোল্লেখিত বক্তব্যসমূহ দ্বারা প্রতীয়মান হ’ল যে, আহলেহাদীছ দ্বারা উদ্দেশ্য হ’ল দু’টি দল-
(ক) ছহীহ আক্বীদাসম্পন্ন ও গায়ের মুক্বাল্লিদ সালাফে ছালেহীন ও সম্মানিত মুহাদ্দিছগণ।
(খ) সালাফে ছালেহীন ও সম্মানিত মুহাদ্দিছগণের (অনুসারী) ছহীহ আক্বীদাসম্পন্ন এবং গায়ের মুক্বাল্লিদ সাধারণ জনগণ।

লেখক তার একটি গবেষণা প্রবন্ধে শতাধিক ওলামায়ে ইসলামের উদ্ধৃতি পেশ করেছেন। যারা তাক্বলীদ করতেন না। তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনের নাম নিম্নরূপ : ইমাম মালেক, ইমাম শাফে‘ঈ, ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল, ইমাম ইয়াহ্ইয়া বিন সাঈদ আল-ক্বাত্ত্বান, ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক, ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম, ইমাম আবূদাঊদ আস-সিজিস্তানী, ইমাম তিরমিযী, ইমাম ইবনু মাজাহ, ইমাম নাসাঈ, ইমাম আবুবকর ইবনু আবী শায়বাহ, ইমাম আবূদাঊদ আত্ব-ত্বায়ালিসী, ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনুয যুবায়ের আল-হুমায়দী, ইমাম আবূ ওবায়েদ আল-ক্বাসেম বিন সাল্লাম, ইমাম সাঈদ বিন মানছূর, ইমাম বাক্বী বিন মাখলাদ, ইমাম মুসাদ্দাদ, ইমাম আবূ ই‘য়ালা আল-মূছিলী, ইমাম ইবনু খুযায়মাহ, ইমাম যুহলী, ইমাম ইসহাক্ব বিন রাহওয়াইহ, মুহাদ্দিছ বায্যার, মুহাদ্দিছ ইবনুল মুনযির, ইমাম ইবনু জারীর ত্বাবারী, ইমাম সুলতান ইয়াকূব বিন ইউসুফ আল-মার্রাকুশী আল-মুজাহিদ ও অন্যান্যগণ। তাদের সবার উপরে আল্লাহ রহম করুন! এ সকল আহলেহাদীছ আলেমগণ শত শত বছর পূর্বে পৃথিবী থেকে চলে গেছেন।
আবূ মানছূর আব্দুল ক্বাহির বিন তাহের আল-বাগদাদী সিরিয়া, জাযীরাহ (আরব উপদ্বীপ), আযারবাইজান, বাবুল আবওয়াব (মধ্য তুর্কিস্তান) প্রভৃতি সীমান্তের অধিবাসীদের সম্পর্কে বলেছেন, ‘তারা সকলেই আহলে সুন্নাত-এর অন্তর্ভুক্ত আহলেহাদীছ মাযহাবের উপরে আছেন’।[48]

আবূ আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ ইবনুল বান্না আল-বিশারী আল-মাক্বদেসী (মৃঃ ৩৮০ হিঃ) মুলতান সম্পর্কে বলেছেন,مذاهبهم : أكثرهم أصحاب حديث ‘তাদের মাযহাব হ’ল তারা অধিকাংশ আছহাবুল হাদীছ’।[49]

১৮৬৭ সালে দেওবন্দ মাদরাসা শুরুর মাধ্যমে দেওবন্দী ফিরক্বার সূচনা হয়েছে। আর ব্রেলভী ফিরক্বার প্রতিষ্ঠাতা আহমাদ রেযা খান ব্রেলভী ১৮৫৬ সালের জুনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

১. দেওবন্দী ও ব্রেলভী ফিরক্বা দু’টির জন্মের বহু পূর্বে শায়খ মুহাম্মাদ ফাখের বিন মুহাম্মাদ ইয়াহ্ইয়া বিন মুহাম্মাদ আমীন আল-আববাসী আস-সালাফী এলাহাবাদী (১১৬৪ হিঃ/১৭৫১ইং) তাক্বলীদ করতেন না। বরং কুরআন ও হাদীছের দলীলসমূহের উপরে আমল করতেন এবং নিজে ইজতিহাদ করতেন।[50]

২. শায়খ মুহাম্মাদ হায়াত বিন ইবরাহীম আস-সিন্ধী আল-মাদানী (১১৬৩ হিঃ/১৭৫০ইং) তাক্বলীদ করতেন না এবং তিনি আমল বিল-হাদীছ তথা হাদীছের উপরে আমলের প্রবক্তা ছিলেন।

মুহাম্মাদ হায়াত সিন্ধী, মুহাম্মাদ ফাখের এলাহাবাদী এবং আব্দুর রহমান মুবারকপুরী তিনজন সম্পর্কে মাস্টার আমীন উকাড়বী [নাভির নীচে হাত বাঁধার হাদীছের আলোচনা প্রসঙ্গে] লিখেছেন, ‘এই তিন গায়ের মুক্বাল্লিদ ব্যতীত কোন হানাফী, শাফে‘ঈ, মালেকী, হাম্বলী এটাকে লেখকের ভুলও বলেননি’।[51]

৩. আবুল হাসান মুহাম্মাদ বিন আব্দুল হাদী আস-সিন্ধী আল-কাবীর (মৃঃ ১১৪১ হিঃ/১৭২৯ ইং) সম্পর্কে আমীন উকাড়বী লিখেছেন, ‘মূলতঃ এই আবুল হাসান সিন্ধী গায়ের মুক্বাল্লিদ ছিলেন’।[52]

এসব উদ্ধৃতি হিন্দুস্তানের উপরে ইংরেজদের দখলদারিত্ব কায়েমের বহু পূর্বের। এজন্য আপনি যাদের কাছ থেকে এটা শুনেছেন যে, ‘আহলেহাদীছগণ ইংরেজদের আমলে সৃষ্টি হয়েছে, এর আগে এদের কোন নাম-গন্ধ ছিল না’ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অপবাদ।

রশীদ আহমাদ লুধিয়ানবী দেওবন্দী লিখেছেন, ‘কাছাকাছি দ্বিতীয়-তৃতীয় হিজরী শতকে হকপন্থীদের মাঝে শাখা-প্রশাখাগত মাসআলা সমূহের সমাধানকল্পে সৃষ্ট মতভেদের প্রেক্ষিতে পাঁচটি মতবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়। অর্থাৎ চার মাযহাব ও আহলেহাদীছ। তৎকালীন সময় থেকে অদ্যাবধি উক্ত পাঁচটি তরীকার মধ্যেই হক সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে মনে করা হয়’।[53]

এই উক্তিতে লুধিয়ানবী ছাহেব আহলেহাদীছদের প্রাচীন হওয়া, ইংরেজদের আমলের বহু পূর্বে থেকে বিদ্যমান থাকা এবং হকপন্থী হওয়া স্বীকার করেছেন।

হাজী ইমদাদুল্লাহ মাক্কীর রূপক খলীফা মুহাম্মাদ আনওয়ারুল্লাহ ফারূক্বী ‘ফযীলত জঙ্গ’ লিখেছেন, ‘বস্ত্ততঃ সকল ছাহাবী আহলেহাদীছ ছিলেন’।[54]

মুহাম্মাদ ইদরীস কান্ধলবী দেওবন্দী লিখেছেন, ‘আহলেহাদীছ তো ছিলেন সকল ছাহাবী’।[55]
আমার পক্ষ থেকে সকল দেওবন্দী ও ব্রেলভীর নিকট জিজ্ঞাসা, ঊনবিংশ বা বিংশ ঈসায়ী শতকের (অর্থাৎ ইংরেজদের হিন্দুস্তান দখলের আমল) পূর্বে কি দেওবন্দী বা ব্রেলভী মতবাদের মানুষ বিদ্যমান ছিল? যদি থাকে তাহ’লে স্রেফ একটি ছহীহ ও স্পষ্ট উদ্ধৃতি পেশ করুক। আর যদি না থেকে থাকে তাহ’লে প্রমাণিত হ’ল যে, ব্রেলভী ও দেওবন্দী মাযহাব উভয়টিই হিন্দুস্তানের উপর ইংরেজদের দখলদারিত্ব কায়েমের পরে সৃষ্ট। অমা ‘আলায়না ইল্লাল বালাগ।

————————————-

[39]. খত্বীব, আল-জামে‘, হা/১৮৬, সনদ ছহীহ।
[40]. মাজমূ‘ ফাতাওয়া, ৪/৯৫।
[41]. ঐ, ৩/৩৪৭।
[42]. তাফসীর ইবনে কাছীর ৪/১৬৪।
[43]. তাদরীবুর রাবী, ২/১২৬, ২৭তম প্রকার।
[44]. দেখুন : হাকেম, মা‘রিফাতু উলূমিল হাদীছ, হা/২; ইবনু হাজার আসক্বালানী একে ছহীহ বলেছেন (ফাৎহুল বারী, ১৩/২৯৩, হা/৭৩১১-এর অধীনে); খত্বীব বাগদাদী, মাসআলাতুল ইহতিজাজ বিশ-শাফেঈ, পৃঃ ৪৭; সুনানে তিরমিযী, আরেযাতুল আহওয়াযী সহ, ৯/৪৭, হা/২২২৯।
[45]. হাকেম, মা‘রিফাতু উলূমিল হাদীছ, পৃঃ ৪, সনদ ছহীহ।
[46]. শারফু আছহাবিল হাদীছ, হা/১৪৩, সনদ ছহীহ। বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন : আমার গ্রন্থ তাহক্বীক্বী মাক্বালাত (১/১৬১-১৭৪)।
[47]. মাজমূ‘ ফাতাওয়া, ২০/৩৯-৪০; তাহক্বীক্বী মাক্বালাত, ১/১৬৮।
[48]. উছূলুদ্দীন, পৃঃ ৩১৭।
[49]. আহসানুত তাক্বাসীম ফী মা‘রিফাতিল আক্বালীম, পৃঃ ৪৮১।
[50]. দেখুন : নুযহাতুল খওয়াতির, ৬/৩৫১; তাহক্বীক্বী মাক্বালাত, ২/৫৮।
[51]. তাজাল্লিয়াতে ছফদর, ২/২৪৩, আরো দেখুন : ঐ ৫/৩৫৫।
[52]. ঐ, ৬/৪৪।
[53]. আহসানুল ফাতাওয়া, ১/৩১৬।
[54]. হাক্বীক্বাতুল ফিক্বহ, ২য় খন্ড (করাচী : ইদারাতুল কুরআন ওয়াল উলূম আল-ইসলামিয়াহ), পৃঃ ২২৮।
[55]. ইজতিহাদ আওর তাক্বলীদ কী বেমিছাল তাহক্বীক্ব, পৃঃ ৪৮।

সংগ্রহঃ শায়খ যুবায়ের আলী যাঈ (রহঃ) এর লেখা বই “আহলেহাদীছ একটি বৈশিষ্ট্যগত নাম” থেকে

[courtesy.fb:Habib Bin Azgorসত্যের বিরু‌দ্ধে অ‌ভি‌যো‌গের জবাব ]

আহলে_হাদীস‬ কি? : আহলে_সুন্নাহ‬ কি?

 ‪#‎আহলে_হাদীস‬ কি?
“আহলে হাদীস” – অর্থ হচ্ছে হাদীসের অনুসারী। যারা কোনো মানুষ বা মানুষের বানানো মতবাদ যেমন (মাযহাব, তরীকা, পীর, ইমাম) অন্ধ অনুসরণ করেনা, বিশুদ্ধভা্বে হাদীসকে অনুসরণ করে তারাই হচ্ছে আহলে হাদীস। এখানে “হাদীস” দ্বারা কুরানুল কারীম ও রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর কথা উভয়কেই বোঝানো হয়েছে। কারণ কুরআন ও হাদীসে “কুরানুল কারীমকেও” হাদীস বলা হয়েছে। যেমন –
“যদি তারা (কাফেররা) এই হাদীসের (কুরানুল কারীম) প্রতি ঈমান না আনে, তবে তাদের পশ্চাতে সম্ভবতঃ আপনি আফসোস করতে করতে আপনি নিজের প্রাণ ধ্বংস করে দেবেন! (সুরা আল-কাহফঃ ৬)।
“আল্লাহ নাযিল করেছেন “উত্তম হাদীস” (উত্তম বাণী,কুরানুল কারীম),যা সামঞ্জস্যপূর্ণ, বার বার পাঠ করা হয়।” (সুরা যুমারঃ ২৩)।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
“ফা ইন্না খায়রাল হাদীসি কিতাবুল্লাহ” – জেনে রাখো নিশ্চয়ই সর্বশ্রেষ্ঠ হাদীস (কথা/বাণী) হচ্ছে আল্লাহর কিতাব (কুরানুল কারীম)।
সহীহ মুসলিম, মিশকাত।
আহলে হাদীস দ্বারা অর্থ হচ্ছে “কুরআন+সুন্নাহর” অনুসারী।
সুন্নাহ লিপিবদ্ধ আছে সহীহ হাদীসে, আর কুরানুল কারীমকেও কুরআন ও হাদীসে “হাদীস” দিয়ে সম্বোধন করা হয়। উল্লেখ্য হাদীস অর্থ হচ্ছে বাণী।
সেই দৃষ্টিকোন থেকে আহলে সুন্নাহর আরেক নাম হচ্ছে আহলে হাদীস। যদিও আমাদের দেশের মানুষ আহলে সুন্নাহ নামটার সাথে বেশি প্রচলিত, কিন্তু আরব দেশগুলোতে বিশেষ করে প্রাচীনকালের আলেম ওলামারা আহলে সুন্নাহ ও আহলে হাদীস – এই দুইটি নামকেই সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এনিয়ে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল, ইমাম বুখারীর ওস্তাদ ইবনুল মাদানী ও ইমাম বুখারী, ইমাম হাকেম, ইমাম তিরমিযী, ইমাম খাত্তাবি, ইমাম ইবেনে তাইমিয়্যা, ইমাম ইবনে কাইয়্যিম, ইমাম ইবনে কাসীর, আব্দুল কাদীর জিলানি…এইভাবে অতীত থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত সমস্ত আলেম ওলামারা নাজাতপ্রাপ্ত দল হিসেবে আহলে সুন্নাহ ও আহলে হাদীস এর নাম উল্লেখ করেছেন।এটা একই জামাতের দুইটি সমার্থক নাম। এছাড়া এই জামাতের আরো অন্য নামও রয়েছে।
তবে মূল বিষয় হলো নাম যাই হোক না কেনো, এমনকি নাম থাকুক বা না থাকুক – যেই কুরআন ও সুন্নাহকে ঠিক সেইভাবে অনুসরণ করবে যেইভাবে সাহাবারা অনুসরণ করেছিলেন, তারাই হলো প্রকৃত নাজাতপ্রাপ্ত দল।
ভারত, পাকিস্থান ও বাংলাদেশে “আহলে হাদীস” নামটা নিয়ে বেশ কিছু কারণে (সামান্য কিছু যৌক্তিক, বেশির ভাগই অযৌক্তিক ও হাস্যকর কারণ) ফেতনা, তর্ক-বিতর্ক, পরস্পর বিরোধী বক্তব্য লক্ষ্য করা যায়। তাই আহলে হাদীস নিয়ে অতীত যুগ থেকে নিয়ে বর্তমান যুগের আলেমরা কি বলেছেন সেটা তুলে ধরা হলোঃ
১. ইমাম আহমাদ ইবেন হাম্বল (রহঃ) যখন ৭৩ ফির্ক্বাহর মধ্যে নাজিয়াহ ফির্ক্বাহ (নাজাতপ্রাপ্ত দল) সম্পর্কে বলেছিলেনঃ
“যদি তারা “আহলে হাদীস” না হয় তবে আমি জানিনাতারা অন্য কারা।”
দেখুন সহীহ বুখারীর ৭৩১১ নং হাদীসের ব্যখ্যা, বুখারীর জগদ্বিখ্যাত বাখ্যাগ্রন্থ ইবনু হাজার আল-আসকালানী (রহঃ) এর ফাতহুল বারী, ১৩দশ খন্ড, ২৯৩ পৃ.
ইবনু হাম্বল (রহঃ) পর্যন্ত একথার সনদের ব্যাপারে ফাতহুল বারীতে বলা হয়েছেঃ “ইমাম হাকিম (রহঃ) তার মারিফাতু উলূমিল হাদীস গ্রন্থে আহমাদ বিন হাম্বল থেকে সহীহ সনদে বর্ণনা করেন যে এঁরা (নাজাতপ্রাপ্ত দল, আল-ফিরকাহ আন-নাজিয়াহ) যদি আহলে হাদীস না হয় তাহলে আমি জানিনা তারা কারা।”
“আমি আমার পিতা আহমাদ বিন হাম্বালকে এক ব্যক্তির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম, যে তার দ্বীন সংক্রান্ত বিষয়- ‘তালাক্ব ও অন্যান্য বিষয়ের ক্বসম’ এর ব্যাপারে সওয়াল করতে চায় যে ব্যাপারে সে কিনা পরীক্ষায় নিপতিত হয়েছে। সেখানে “আসহাবে রায়” এর একটি দল এবং”আসহাবে হাদীস” এর এমন একটি দল রয়েছে যারা হাদীস মুখস্ত করেনা এবং হাদীসের সনদ কোনটা দুর্বল আর কোনটা শক্তিশালী তা চেনেনা। এই দুই গ্রুপের উপস্থিতিতে সে কাকে ফতওয়া জিজ্ঞেস করবে? আহলে রায়কে নাকি আহলে হাদীসের ওই গ্রুপটাকে যদিও তাদের হাদীসের ব্যাপারে জ্ঞান কম? তিনি (আহমাদ বিন হাম্বল) বললেনঃ আসহাবে হাদীস বা আহলে হাদীসকে (যদিও ওই আহলে হাদীস হাদীস কম জানে) জিজ্ঞেস করবে, কেননা য’ঈফ হাদীস ও আবু ‘হানীফাহর রায় অপেক্ষা শ্রেয়।
কিতাবুস সুন্নাহ, আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল, ১ম খন্ড ১৮০ পৃষ্ঠা, আমার পিতা ও অন্য মাশায়েখদের কাছ থেকে আবূ হানীফাহর ব্যাপারে কী স্মরণ রেখেছি অধ্যায়।
২. ফাতহুল বারীতে অনুরূপ আছে,
অর্থাৎ, ইমাম আত-তিরমিযী (রহঃ) উপরোক্ত অধ্যায়ের হাদীস উল্লেখ করে বলেছেন, আমি মুহাম্মাদ বিনইসমাঈল (ইমাম বুখারীর আসল নাম) কে বলতে শুনেছি যে তিনি তাঁর উস্তাদ আলী ইবনুল মাদীনীকে বলতে শুনেছেন যে, “তারা (মুক্তিপ্রাপ্ত দল) হলো আসহাবুল হাদীস।”
৭৩ ফির্ক্বাহর আলোচনায় ইমাম আততিরমিযী এ কথা এনেছেন।
৩. শায়খুল ইসলাম, ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ সুন্দর বলেছিলেনঃ
“অতএব প্রতীয়মান হচ্ছে যে মানুষের মধ্যে আলফিরক্বাহ আন না-জিয়াহ (নাজাত প্রাপ্ত দল) হবার সর্বাধিক হক্বদার হলো “আহলুল হাদীস ওয়াস সুন্নাহ”, যাদের কোনো অনুসৃত নেতা নেই যার দিকে তারা পক্ষাবলম্বন করে, একমাত্র আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যতীত..”..”তাঁদের অগ্রগামীই মামেরা রাসূলের (স) বাণীসমূহের এবং অবস্থাবলীর ব্যাপারে ফাক্বীহ, তারা হাদীসের মর্ম বোঝেন এবং সত্যায়ন, আমল করা, এবং ভালবাসার মাধ্যমে তার ইত্তিবা (অনুসরণ) করেন…যারা এই নীতি ভালবাসেন, তাঁদেরকে আহলে হাদীসের আলেমরা ভালবাসেন। আর যারা এই নীতির সাথে শত্রুতা করেন তাদেরকে আহলে হাদীসের আলেমরা শত্রু মনে করেন…আর যেসব বিষয়ে মানুষ বিবাদ করেছে, যেমন আল্লাহর মহান গুণাবলী, তাক্বদীর, শাস্তির ভীতি প্রদর্শন, আল্লাহর নামসমূহ, সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজ হতে নিষেধ ইত্যাদি, এসমস্ত ব্যাপার তারা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের দিকে সোপর্দ করেন….”
ইবনু তাইমিয়ার মাজমূউল ফাতাওয়া, ৩য় খন্ড, ৩৪৭ পৃ.।
৪. তাফসীর ইবনে কাসীরে সুরাহ বানী ইসরাঈলের ৭১ নং আয়াত [ يوم ندعو كل أناس بإمامهم ] “যেদিন আমি প্রত্যেক মানুষকে তার”ইমাম” ধরে ডাকব” এর তাফসীরে ইবনু কাসীর (রহঃ) বলেন,
هذا أكبر شرف لاصحاب الحديث لأن إمامهمالنبي صلى الله عليه و سلم
অর্থাৎ, এটি আসহাবুল হাদীস তথা আহলে হাদীসের সর্বোচ্চ সম্মান কারণ তাদের ইমাম স্বয়ং নবী (সঃ)।
৫. “দুনিয়ায় এমনকোনো বিদআ’তী নেই যে আহলে হাদীসদের প্রতি বিদ্বেষ রাখেনা।”
বলেছেন মুহাদ্দিস আহমাদ বিন সিনান আল ক্বাত্তান(রহঃ)
ইমাম ‘হাকিমের মা’রিফাতু উলুমিলহাদীস পৃ ৪.।
৬. সৌদী আরবের সাবেকগ্র্যান্ড মুফতী সামাহাতুশ শায়খ আব্দুল আজীজ বিন বায রহিমাহুল্লাহ এক প্রশ্নের জবাবে ফির্ক্বাবাজী আর বিভিন্ন বিদ’আতী দল সম্পর্কে সতর্ক করার পর আদর্শ ইসলামী দলের উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেনঃ
“যখন কোনো মুসলিম এমন কোনো দল অথবা মারকায অথবা জামঈয়াত (সংস্থা/সমাজ/সমিতি) খুঁজে পাবে যেটি আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল (সঃ) এর সুন্নাহর দিকে আহবান করে, যেমন মিসর এবং সুদানে “অনসারুস সুন্নাহ” এবং ভারত এবং পাকিস্তানে “জম’ঈয়াতে আহলে হাদীস”, তখন তার উচিত তার অনুগামী হওয়া এবং তাকে আঁকড়ে ধরা।”
মাজমূ ফাতাওয়া ওমাক্বালাত মুতানাওওয়ি’আহ লিসামাহাতিশ শেইখ আল আল্লামাহ আব্দুল আযীয বিনআব্দিল্লাহ বিন বায (রহঃ) – ৮ম খন্ড ১৭৯ পৃ.।
৭. আমাদের অতি পরিচিত কাবার ইমাম সাউদ আশ-শুরাইম ও আব্দুর রাহমান আস-সুদাইসঃ
***মাক্কাহর হারাম শরীফের সন্মানিত ইমাম এবং মাক্কাহরউম্মুল ক্বুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুল্লিয়াতুশ শারী’আহ ওয়াদ দিরাসা-তিলইসলামিয়্য়াহর সন্মানিত ডীন, ফাদ্বীলাতুশ
শায়খ প্রফেসর ড. সঊদ বিন ইব্রাহীম আশশুরাইম মুম্বাই শহরের আহলে হাদীস ভাইদের উদ্দেশ্যে আহলে হাদীসের কী ফযীলত বয়ানকরেছেন জানতে দেখুনঃ
http://www.youtube.com/watch?v=c4_RiwFf0RU
http://www.youtube.com/watch?v=iN1x5YOLjLg
আমি নিজেই অবাক হয়ে গেছি! তিনি বললেনঃ
শেখ স’উদ আশ শুরাইম বললেন, “আপনাদের সুস্বাগতম এই মোবারক-মোলাকাতে! আপনাদের সাথে এই মোলাকাত করাকে আমি আমার ওপর অবশ্য কর্তব্য (ওয়াজিব) মনে করি! যে সময়ে আমার দুই পা ভারতের মাটিতে এবং মুম্বাই শহরে পড়ল, তখনই আমি মনে করেছি আমাকে দেখা করে যেতে হবে আমার বন্ধু, ভাই এবং মহাব্বাতের পাত্র আহলে হাদীসদের সাথে! আহলে হাদীস হলো আত-ত-ইফাতুল মানসূরাহ (সাহায্য-প্রাপ্ত দল), যেমনটা আলেমরা বলে গেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন বললেন, “আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হক্কের ওপর বিজয়ী থাকবে, তাদেরকে যারা পরিত্যাগ করবে বা বিরোধিতা করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবেনা (অর্থাৎ হক্বের ওপর বিজয়ী থাকা থেকে বিরত করতে পারবেনা) ক্বিয়ামত পর্যন্ত” তখন তাঁকে (সঃ) জিগ্যেস করা হলো তাদের ব্যাপারে, তিনি (সঃ) বললেন, তারা ওই জিনিসের ওপরই থাকবে যার ওপর আজ আমি আছি এবং আমার সাহাবাহ আছি। অনেক বিদ্বান যাদের মধ্যে আছেন ইমাম বুখারী (রঃ) এবং অন্যরা বলে গেছেন যে, “তারা হলো আহলে হাদীস”…সালাফদের (পূর্ববর্তী আলেমদের) কেউ বলেছেন, “তারা যদি আহলে হাদীস না হয় তাহলে আর কারা?”…
এবং কেন নয়, এই পরিচয়ের সম্বন্ধিকরণ তো একেবারে মানবজাতির সর্দার এবং ক্বিয়ামাতের দিন বনী-আদমের নেতা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকেই ফিরে যাচ্ছে!..আমরা যারা হারামাইন শরীফাইন এর দেশ সৌদী আরবে আছি, তারা আমাদের ভাই ভারতের আহলে হাদীসদের ভালবাসি, কেননা আমাদের মানহাজ (পথের বুঝ) একই, আক্বীদাহ একই…বললেন শায়খ শুরাইম।
***একই রকম কথা মাক্কাহর প্রধান ইমাম ও খত্বীব এবং উম্মুল ক্বুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত প্রফেসর ও বিশ্বখ্যাত ক্বারী ফাদ্বীলাতুশ শেখ ড. আব্দুর রহমান আস সুদাইস ও বলেছেন। youtube এ দেখুন
http://www.youtube.com/watch?v=aBKFcNW2S0g
http://www.youtube.com/watch?v=B2_iohd2XIA&feature=related
http://www.youtube.com/watch?v=z6CKozX8vWk
তিনি তো বললেন
“এটা কোনো অন্ধ পক্ষাবলম্বন নয় বা কোনো দলীয়তাও নয়, বরং প্রত্যেক মুসলিমেরই আহলে হাদীস হওয়া উচিত!”
৮. IslamQA এ শায়খ সালিহআল-মুনাজ্জিদের ফাতওয়াঃ
http://www.islamqa.com/en/ref/12761
http://islamqa.info/en

‪#‎আহলে_সুন্নাহ‬ কি?
“আহলে সুন্নাহ” – অর্থ হচ্ছে সুন্নাহর অনুসরণকারী। যারা শিরক-বিদআত মুক্ত থেকে পরিপূর্ণভাবে সত্যিকার অর্থে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সুন্নাহর অনুসরণ করে, ঠিক সেইভাবে যেইভাবে সাহাবারা করেছিলেন তারাই হচ্ছে প্রকৃত আহলে সুন্নাহ, যাদেরকে সংক্ষেপে অনেক সময় “সুন্নী” বলা হয়।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমাদের আগেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন – এই উম্মত ৭৩টা দলে ভাগ হবে – যার মধ্যে ৭২টা দলি জাহান্নামে যাবে। আর একটা মাত্র দল জান্নাতে যাবে। নাজাত প্রাপ্ত সেই দলটা হলো – যারা মুহাম্মাদ (সাঃ) ও তাঁর সাহাবারা যে তরীকার উপরে ছিলেন সেটাকে অনুসরণকরবে – শুধু মাত্র তারাই নাজাত পাবে। তাবেয়ীদের যুগ থেকে বিভিন্ন ভ্রান্ত মতবাদের দল বের হয়, যেমন খারেজী, শিয়া, মুহতাজিলা ইত্যাদি। সেই ভ্রান্ত দলগুলো থেকে সত্যিকারের নাজাতপ্রাপ্ত দলকে পরিচয় দেওয়ার জন্যে তাবেয়ীদের যুগ থেকেই “আহলে সুন্নাহ” বলে পরিচয় দেওয়া শুরু হয়। যেমন – তাবে’ঈ ইমাম ইবনু সীরীন র’হিমাহুল্লাহ বলেনঃ
“মানুষেরা আগে হাদীসের সনদের ব্যাপারে জিগ্যেস করতোনা। কিন্তু যখন ফিতনাহ এসে পড়ল, তখন তারা বলা শুরু করলেন, তোমাদের হাদীসের রাবী বা বর্ণনাকারীর নাম বল। এরপর কেবল “আহলুস সুন্নাহ” ব্যক্তিদের হাদীস গ্রহণ করা হত আর “আহলুল বিদ’আ হলে গ্রহণ করা হতনা।”
সহীহ মুসলিম, মুক্বাদ্দিমাহ অধ্যায়।
উল্লেখ্য, কেউ নিজেকে আহলে সুন্নাহ দাবী করলেই সেসুন্নী হয়ে যায়না। ভারত বাংলাদেশে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত বা সুন্নী পরিচয় দেয় এমন কিছু মানুষ আছে (আসলে তারা রিজভী/ব্রেলভী) – এরা হচ্ছে খালেস কবরপূজারী, পীরপূজারী। আজমীর, শাহজালাল, বায়েজীদ বোস্তামী ওয়ালা, মাইজভান্ডারী, দেওয়ানবাগী,কুতুববাগী – এরাই হলো সেই এই দলের নেতা। এদের ঈমান আছে কিনা সেটাই আলোচনার বিষয়।
আরো কিছু দল আছে যারা নিজেদেরকে আহলে সুন্নাহ বলে পরিচয় দেয় – কিন্তু তাদের মাঝেও সুন্নাহ থেকে দূরত্ব দেখা যায়। বহুল প্রচলিত এমন দুটি দল হলো – তাবলিগ জামাত ও জামাতে ইসলামী। এরা মুসলিম কিন্তু এদের মাঝে অনেক ভুল-ভ্রান্তি আছে যা সংশোধন করে নেওয়া তাদের জন্য “ওয়াজিব”।
তাই শুধু আহলে সুন্নাহ নাম দাবী করলেই হবেনা। ঈমান ও আমলে কুরআন, সুন্নাহ ও সাহাবীদের মতো হলেই প্রকৃত আহলে সুন্নাহ হওয়া যাবে।

(Sheikh Saud Al Shuraim) (Imaam Masjid Al Haram, Makkah Al Mukarramah) Speech in Mumbai…
youtube.com

আহলে_সুন্নাহ‬ কি?

‪#‎আহলে_সুন্নাহ‬ কি?
“আহলে সুন্নাহ” – অর্থ হচ্ছে সুন্নাহর অনুসরণকারী। যারা শিরক-বিদআত মুক্ত থেকে পরিপূর্ণভাবে সত্যিকার অর্থে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সুন্নাহর অনুসরণ করে, ঠিক সেইভাবে যেইভাবে সাহাবারা করেছিলেন তারাই হচ্ছে প্রকৃত আহলে সুন্নাহ, যাদেরকে সংক্ষেপে অনেক সময় “সুন্নী” বলা হয়।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমাদের আগেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন – এই উম্মত ৭৩টা দলে ভাগ হবে – যার মধ্যে ৭২টা দলি জাহান্নামে যাবে। আর একটা মাত্র দল জান্নাতে যাবে। নাজাত প্রাপ্ত সেই দলটা হলো – যারা মুহাম্মাদ (সাঃ) ও তাঁর সাহাবারা যে তরীকার উপরে ছিলেন সেটাকে অনুসরণকরবে – শুধু মাত্র তারাই নাজাত পাবে। তাবেয়ীদের যুগ থেকে বিভিন্ন ভ্রান্ত মতবাদের দল বের হয়, যেমন খারেজী, শিয়া, মুহতাজিলা ইত্যাদি। সেই ভ্রান্ত দলগুলো থেকে সত্যিকারের নাজাতপ্রাপ্ত দলকে পরিচয় দেওয়ার জন্যে তাবেয়ীদের যুগ থেকেই “আহলে সুন্নাহ” বলে পরিচয় দেওয়া শুরু হয়। যেমন – তাবে’ঈ ইমাম ইবনু সীরীন র’হিমাহুল্লাহ বলেনঃ
“মানুষেরা আগে হাদীসের সনদের ব্যাপারে জিগ্যেস করতোনা। কিন্তু যখন ফিতনাহ এসে পড়ল, তখন তারা বলা শুরু করলেন, তোমাদের হাদীসের রাবী বা বর্ণনাকারীর নাম বল। এরপর কেবল “আহলুস সুন্নাহ” ব্যক্তিদের হাদীস গ্রহণ করা হত আর “আহলুল বিদ’আ হলে গ্রহণ করা হতনা।”
সহীহ মুসলিম, মুক্বাদ্দিমাহ অধ্যায়।
উল্লেখ্য, কেউ নিজেকে আহলে সুন্নাহ দাবী করলেই সেসুন্নী হয়ে যায়না। ভারত বাংলাদেশে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত বা সুন্নী পরিচয় দেয় এমন কিছু মানুষ আছে (আসলে তারা রিজভী/ব্রেলভী) – এরা হচ্ছে খালেস কবরপূজারী, পীরপূজারী। আজমীর, শাহজালাল, বায়েজীদ বোস্তামী ওয়ালা, মাইজভান্ডারী, দেওয়ানবাগী,কুতুববাগী – এরাই হলো সেই এই দলের নেতা। এদের ঈমান আছে কিনা সেটাই আলোচনার বিষয়।
আরো কিছু দল আছে যারা নিজেদেরকে আহলে সুন্নাহ বলে পরিচয় দেয় – কিন্তু তাদের মাঝেও সুন্নাহ থেকে দূরত্ব দেখা যায়। বহুল প্রচলিত এমন দুটি দল হলো – তাবলিগ জামাত ও জামাতে ইসলামী। এরা মুসলিম কিন্তু এদের মাঝে অনেক ভুল-ভ্রান্তি আছে যা সংশোধন করে নেওয়া তাদের জন্য “ওয়াজিব”।
তাই শুধু আহলে সুন্নাহ নাম দাবী করলেই হবেনা। ঈমান ও আমলে কুরআন, সুন্নাহ ও সাহাবীদের মতো হলেই প্রকৃত আহলে সুন্নাহ হওয়া যাবে।

আহলে হাদিস কি এবং কেন?

কাঠগড়ায় মাজহাব – আহলে হাদিস কি এবং কেন?

আচ্ছালামু আলাইকুম। মাজহাব এবং আহলে হাদিসদের নিয়ে মানুষের ভুল ধারনার সমাধান নিয়ে এই লেখা। আশা করি সকলেই পড়বেন, অনেক উপকৃত হবেন।

প্রথমে আমরা জানবো মাজহাব কি এবং কেন?

মাজহাব শব্দের অর্থ চলার পথ। ইসলামি পরিভাষায়ঃ সিদ্দিকীন, শোহাদায়ে কেরাম ও সতকর্মশীল ব্যক্তিবর্গের মনোনীত ইসলামিক পথের নামই হল মাজহাব। চারজন ইমামের দেখানো পথের আলোকে চারটি প্রতিষ্ঠিত মাজহাব চালু আছে।

আমাদের মোল্লা সমাজ ইসলামকে প্রধানত দুটি দলে ভাগ করেছে। সুন্নি এবং শিয়া।

সুন্নির মাঝেই চারটি মাজহাব রয়েছে। যথাঃ হানাফি, মালেকি, শাফেঈ এবং হাম্বলী। শিয়াদের দুটি মাজহাব আছে, যথাঃ জাহেরি আর একটি বিলুপ্তি সুফিবাদ।

আর যারা কোন না কোন একটা মাজহাব মানে তাদের বলা হয় মাজহাবী। আর যারা কোন নির্দিষ্ট মাজহাব নয় বরং চার ইমামের প্রতি সম্মান দিয়ে সব গুলো থেকেই সহীহটা গ্রহন করে তাদের বলা হয় সালাফি।

কতিপয় মাজহাবীরা সালাফিদের লা মাজহাবী বা ওহাবী ও বলে থাকে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কোন লামাজহাবী নেই কারন সালাফিরা সকল মাজহাবকেই সম্মান করে এবং সহীহটা বেছে নেয়। এখন তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হলেও মাজহাব মানে সুতরাং তাদের(যারা নির্দিষ্ট মাজহাব মানেনা) লা মাজহাবী বলা যাবেনা। তাদের সালাফি বলতে হবে।

যারা কথায় কথায় বলে ‘আমি কোন মাজহাব মানিনা’ তারা আসলে সালাফি নয় বরং তারা ফেইক সালাফি।

এবার আসুন দেখি আহলে হাদিস কারা?

আমরা সাধারনত আহলে হাদিস বলতে একদল মুসলিমদের বুঝি, আমরা এটাকেও মাজহাব বানিয়ে ফেলেছি।

আমাদের সুন্নি সমাজে আহলে হাদিসদের খারাপ চোখে দেখা হয় যা অতি বর্বর। আমি জন্মগতভাবে হানাফি মাজহাবের অনুসারি ছিলাম। কিন্তু পরে নিজে যখন কুরআন ও হাদিস চর্চা শুরু করি তখন ভুল বাঙ্গে এবং নির্দিস্ট মাজহাব ত্যাগ করে সালাফি হই।

হানাফি মাজহাবে আহলে হাদিসকে ঘৃণা করা শেখানো হয় যা কোন মুসলিমের কাজ হতে পারেনা। আসুন আজ সহজে আহলে হাদিস চিনি।

‘আহলে হাদিস বা আহল-ই-হাদিস আরবী শব্দ।’

‘আহল = Follower/Followers’

‘ই = of (উল)’

‘হাদিস = Hadith (sunnah)’

আহলে হাদিস অর্থ দাঁড়ায় Follower of Hadith বা হাদিসের অনুসারী।

যারা কুরআনের পর একমাত্র সহীহ হাদিসানুসারে চলে তাদেরকে আহলে হাদিস বলা যায়। এদের সালাফিও বলা হয়।

সালাফিরা নির্দিষ্ট কোন মাজহাব কট্টোরভাবে মানেনা বরং সব মাজহাব থেকেই সহীহ গুলো গ্রহন করে। তারা কারও সাথে বিরোধীতা করিনা, কেবল সালাফিরাই ইসলামের সঠিক জ্ঞ্যান সবার কাছে ছড়িয়ে দেয় সবচেয়ে বেশী।

বিশ্বের অধিকাংশ আলেম, কুরআন গবেষক, ইসলাম প্রচারকরা সালাফি ছিলেন। আজকের ইসলামী আকাশের সবচেয়ে জ্ঞ্যানী তারকাটি হলেন স্যার ডাঃ জাকির নায়েক, তিনিও সালাফি। আমাদের দেশে সবচেয়ে নামকরা আলেম মুফতি জসিম উদ্দিন রহমানীও সালাফি। কিন্তু দুর্ভাগ্য তিনি পীর মাজারিদের মত বিখ্যাত হতে পারেননি কারন তিনি রাজনীতি কিংবা পীরের পক্ষে নন।

সৌদি বাদশা, মক্কার ইমাম থেকে শুরু করে IRF এর অধিকাংশ গবেষকই সালাফি। অথচ আজ সালাফিদের দেখে নাক শিটকায় কিছু মুর্খের দল। আসলে এরা মাজহাব বা আহলে হাদিস সম্পর্কে জানেইনা।

এবার আসুন মাজহাবিদের মুখোশ খুলে দিই।

মাজহাব মানা কি বাধ্যতামূলক??

আপনাদের সাথে ওপেন চ্যালেঞ্জ, ‘নির্দিষ্ট একটা মাজহাব মানতেই হবে’ এরকম যেকোন একটা হাদিস কিংবা আয়াত দেখাতে পারলে আমি আপনারটা মেনে নেবো এবং ফেসবুক ছেড়ে চলে যাবো।

অনেকে এই রেফারেন্স দিয়ে নিজেদের মুর্খতার পরিচয় দেয়।

“তোমাদের কোন বিষয়ে জানা না থাকলে আহলে ইলম নিকট জিজ্ঞাসা কর।” সুরা আল আম্বিয়াঃ৭, সুরা আন নাহালঃ৪৩ .

এখানে ‘আহলে ইলম’ অর্থ হলো জ্ঞ্যানী বা জ্ঞ্যানের অনুসরনকারী। আল্লাহ সোবহানওয়াতাআলাহ বলেছেন না জানলে জ্ঞ্যানীদের জিজ্ঞেস করতে। এখানে দুইটি কন্ডিশন আছে।

* আপনার যদি না জানা থাকে তবে জিজ্ঞেস করুন। এর অর্থ হলো জানা থাকলে জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন নাই। আপনি যদি কুরআন হাদিস পড়ে বুঝতে পারেন তবে আপনার জন্য মাজহাব নয়। আর যদি না পারেন তবে মাজহাব পালন করুন।

মেধাবী ছাত্ররা পাঠ্য বই( কুরআন ও হাদিস) পড়েই ভাল ফল আনতে পারে তাদের গাইডের(মাজহাব) প্রয়োজন হয়না।

আরও আছে..

“হে ইমানদারগণ ! আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্য কর।আর আনুগত্য কর তোমাদের মধ্যে যারা “ উলিল আমর” তাদের । সুরা আন নিসাঃ ৫৯”

* “উলিল আমর” অর্থ হলো নেক শাসকবর্গ। এখানে রাসুলের সাথে উলিল আমর বা নেক শাসকদের অনুসরন করতে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তিকে নয়।

মাজহাবের চারজন ইমামের চেয়ে হযরত ওমর রাঃ, হযরত আলী রাঃ, হযরত উসমান রাঃ এবং হযরত আবু বক্কর রাঃ কি বড় শাসক ছিলেন না??

তাহলে তাদের মাজহাব নেই কেন?? নাকি এবার মাজহাবিরা বলবে ‘তারা শাসক ছিলেন না’??

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো হানাফি মাজহাব তৈরি হয়েছে তার মৃত্যুর ১০০ বছর পর। তাহলে তার প্রকৃত দেখানো পথ আছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ। সেই মাজহাবকে আকড়ে ধরে জান্নাত পাওয়ার চিন্তায় বিভোর মাজহাবিরা কি তাকওয়া রেখে কাজ করে নাকি শুধুই ভণ্ডামি?

আরও একটি মজার কথা হলো, ইমাম বুখারি নিজে মানতেন শাফেয়ী মাজহাব অথচ তার দেখানো পথকেই আরেকটা (হানাফি) মাজহাব হিসেবে তৈরি করা হয়েছে! তাহলে আপনি যদি ইমাম বুখারিকেই মানবেন তাহলে তো হানাফি মাজহাব নয় বরং শাফেয়ী মাজহাব আপনার মানা উচিৎ। কারন আপনি যার মাজহাব মানেন তিনি নিজেই নিজের মাজহাব মানতেন না।

অনেকেই বলেন ‘আমি মুসলিম ঘরে জন্ম না নিলেও ইসলাম গ্রহন করতাম’ কারন আমরা বাপ দাদার দেখানো পথে নয় বরং আল্লাহ্র দেখানো পথে চলি। তাদের জন্য ইমানের একটি পরীক্ষা হলো মাজহাব। যারা আমার মত জন্মগতভাবে মাজহাবি তারা দয়া করে সহিহ হাদিস পড়ুন এবং আপনাদের দাওয়াত রইলো আল কুরআনের প্রতি। এরপর নিজেই বুঝবেন মাজহাব কি।

সালাফি হতে গেলে আলাদ কালিমা কিংবা দয়ার প্রয়োজন নাই। নিজেরাই সহিহ হাদিস পড়ুন কিংবা অন্য মাজহাবের প্রতি হিংসাত্মক মনোভাব দূর করুন। এরপর নিজেরাই সালাফি হতে পারবেন।

মুসলিমদের মাজহাব হবে একটাই আর সেটা হলো রাসুল সাঃ এর মাজহাব বা রাসুলের দেখানো পথ। আমরা মুসলিম তাই আমরা এক মাত্র রাসুল সাঃ ব্যাতিত কোন বানোয়াট মাজহাব মানিনা। বরং মাজহাবের সহিহ হাদিসগুলি মানার চেষ্টা করি। আমরা চার ইমামকেও সম্মান করি কিন্তু তাদের নিয়ে যারা মাজার ব্যাবসার মত মাজহাব ব্যাবসা খুলেছে তাদের মুখোশ খুলে দিতে চাই।

আসুন আমরা রাসুলের আদর্শ গ্রহন করি। এক রাসুল ব্যাতিত কেউ আমাদের আদর্শ হতে পারেনা।

মাজহাব সম্পর্কে একটা কুরআনের আয়াতই যথেষ্ট।

‘যারা দ্বীন সম্মন্ধে নানা মতের সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন, দলে বিভক্ত হয়েছে হে নবী! তাদের সাথে আপনার কোন সম্পর্ক নেই; তাদের বিষয় আল্লাহর ইখতিয়ারভুক্ত। আল্লাহ তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবগত করবেন।’ সুরা আন-আম, আয়াত ১৫৯।

@আর তোমরা সবাই একত্রে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে ধর এবং পরষ্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না@;[সূরা-আলে ইমরান_১০৩]

~আসুন পবিত্র কোরআন এবং সহীহ্ হাদিসের আলোকে জীবন গড়ি~

সউরসে- https://www.facebook.com/knowIslamproperly/posts/356919107768951