কবরের মধ্যে ফেরেশতা ও রাবেয়া বসরীর মধ্যকার কথোপকথন

Abu Anas  

কবরের মধ্যে ফেরেশতা ও রাবেয়া বসরীর মধ্যকার কথোপকথন!
.
ওয়াজ মাহফিল গুলোতে কোরআনে বর্নীত আল্লাহ ও মুসা (আ:) এর কথোপকথন হুজুরেরা বয়ান করে না; বলে আজগুবি সব মিথ্যা কিচ্ছা কাহিনী। তেমনী একটি কাহিনী হলো-
.
হযরত রাবেয়া বসরী রহ. এর ইন্তেকালের পর ফেরেশতারা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন-
ﻣﻦ ﺭﺑﻚ ؟ ﻭﻣﺎﺩﻳﻨﻚ ؟
(আপনার প্রভূ কে ? আপনার ধর্ম কি ?)
হযরত রাবেয়া বসরী রহ. উত্তরে বললেন,
-তোমাদের প্রশ্নের উত্তর পরে দিব। তার আগে তোমরা আমার কথার জবাব দাও। তোমরা কোথেকে এসেছ ? ফেরেশতারা বললেন,
-আসমান হতে এসেছি। তিনি আবার প্রশ্ন করলেন,
-আসমান-জমিনের দূরত্ব কত ? ফেরেশতারা বললেন,
-পাঁচশত বছরের রাস্তা। রাবেয়া বসরী রহ.বললেন,
-তোমরা এত দূর থেকে এসে আল্লাহকে ভুলে যাওনি ? তারা বললেন,
-না, আমরা আল্লাহকে ভুলিনি। তিনি এবার বললেন,
-তোমরা যখন পাঁচশত বছরের দূরত্বে এসেও আল্লাহকে ভুলোনি,
তবে কি করে ভাবতে পারলে,রাবেয়া মাত্র চার হাত মাটির নিচে এসে মহান প্রভূ আল্লাহ তা’আলাহকে ভুলে গেছে? অথচ সে পৃথিবীতে থাকা অবস্থায় এক মুহূর্তের জন্যও আল্লাহর স্মরণ হতে উদাসীন থাকেনি। এ কথা শুনে ফেরেশতারা অবাক হয়ে গেল।
.
ফায়দা: পৃথিবী হল প্রতারণা ও ছলনার স্থান। যেখানে ফেরেশতাদের কোন কর্তৃত্ব থাকে না।
বই:হাকীমুল উম্মত মাওলানা থানভী রহ. এর নির্বাচিত ঘটনাবলী
পৃ:৪১
.
■তাহক্বীকঃ
========
১। ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস হলো ইমানের একটি স্তম্ভ। আর ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস অর্থ হলো নূরের তৈরী ফেরেশতারা আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক নির্দিষ্ট কতগুলো কাজ সম্পাদন করে থাকেন। যার ব্যাত্যয় ঘটে না কখনও।
মুনকার নাকির হলেন তেমন-ই ফেরেশতা। যাদের কাজই হলো কবরে সাওয়াল করে মানুষের ইমান যাচাই করা। অথচ লেখক বললেন যে, পৃথিবীতে ফেরেশতাদের কোন কর্তৃত্ব থাকে না।
একথা সত্য যে সকল জায়গার সকল ফেরেশতার কর্তৃত্ব নাই। তবে যেই ফেরেশতা যেই কাজের জন্য আদিষ্ট হয়ে থাকে সেই ফেরেশতা সেই কাজ ১০০% পালন করে, এটাই হলো ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাসের মূল থিম। মহান আল্লাহ বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَّا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ
-ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমাদের নিজেদের ও তোমাদের পরিবার-পরিজনদের রক্ষা করো সেই আগুন থেকে যার জ্বালানি হচ্ছে মানুষ ও পাথরগুলো, তার উপরে রয়েছে ফেরেশতারা -অনমনীয়, কঠোর, তারা আল্লাহ্‌কে অমান্য করে না যা তিনি তাদের আদেশ করে থাকেন, আর তারা তাই করে যা তাদের আদেশ করা হয়। [সূরা তাহরীম ৫৬:৬]
.
২। রাবেয়া বসরীর জন্ম হয়েছে ৯৯ অথবা ১০০ হিজরী আর মৃত্যূ ১৮০ হিজরী (সিয়ারু আ‘লামিন নুবালায় ৮/২৪১) । রাসুল ﷺ এর মৃত্যূর প্রায় ১৭০ বছর পরে কবরের মধ্যে ফেরেশতা ও রাবেয়া বসরীর মধ্যকার এই কথোপকথন লেখক জানলো কি করে?
এই কথোপকথন রেকর্ড হলো কি করে?
কে নিয়ে আসলো সেই ওহী?
জীব্রাইল (আ.) নয় নিশ্চয়ই ?
.
তাহলে কে সেই ওহী বাহক?

————————

comment-

মোহাম্মদ সাইদুর রহমান সেই ওহী বাহক শয়তান। কারণ শয়তানও মানুষের মাঝে ওহী করে থাকে। আল্লাহ বলেন-
وَإِنَّ الشَّيَاطِينَ لَيُوحُونَ إِلَى أَوْلِيَائِهِمْ لِيُجَادِلُوكُمْ وَإِنْ أَطَعْتُمُوهُمْ إِنَّكُمْ لَمُشْرِكُونَ
আর নিশ্চয় শয়তানেরা তাদের বন্ধুদেরকে ওয়াহী করে থাকে যাতে তারা তোমাদের সাথে বিবাদ করে; আর যদি তোমরা তাদের (আকীদা-বিশ্বাসে ও কাজ-কর্মে) আনুগত্য কর তাহলে নিঃসন্দেহে তোমরাও মুশরিক হয়ে যাবে। আল-আন‘আম, ৬/১২১
Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s