ইরান কিভাবে শিয়া

ইরান কিভাবে শিয়া

ইরান কিভাবে শিয়া রাষ্ট্র হলো::

Prince Muhammad Sajal
আজ থেকে সাড়ে পাচশো বছর আগে ইরানের দশ শতাংশ মানুষও শিয়া ছিল না। শিয়ারা মুলত বাস করতেন ইরাক,লেবানন,সিরিয়া আর বাহরাইনে,পাশাপাশি মিশর ও হেজাযেও ছিল তাদের জনসংখ্যার একটা বড় অংশ।
ইরানের বেশিরভাগ মানুষ ছিল শাফিঈ সুন্নী মাযহাবের অনুসারী।ইরানীরা তাতারদের কাছে পরিচিত ছিল পাগড়িওয়ালা নামে,কারন তারা ছিল শান্তশিষ্ট ভদ্রলোক,চেঙ্গিস খান ইরানে এত বেশি মানুষ মেরেছিলেন যে ১২১৮ সালের সেই ধাক্কা সামলে ইরানের জনসংখ্যাকে আগের অবস্থায় আসতে লেগে গেছে কম করে হলেও ছয়শো বছর।
মোঙ্গল আক্রমন ইরানীদের সমাজ কাঠামো,রাজনৈতিক অবস্থা এবং সামরিক শক্তি সবই তছনছ করে দিয়েছিল।পরবর্তী দুশো বছর ইরান ছিল কখনও মোঙ্গল আর কখনও তাতারদের সাম্রাজ্যের অংশ হয়ে।
তাইমুরের সাম্রাজ্য ভেঙে যাওয়ার পর আনাতোলিয়া,ককেশাস,ইরাক,ইরান,আফগানিস্তান ও বালুচিস্তানের পুরোটাই জয় করে নেয় দুটো তুর্কমান ট্রাইব।আক কয়ুনলু আর কারা কয়ুনলু।
তুর্কমানদের মাঝে ব্যাপক প্রভাব ছিল শাফিঈ দরবেশ সাইফ আল দীনের সাফাউই মতবাদের।
সাফাউই মতবাদ ইরানে প্রবেশ করেছিল শাফিঈ মাযহাবেরই একটি ধারা হয়ে,এবং এটি তাই ছিল,যতদিন না সাফাউই শাইখ জুনায়েদ রাজনীতিতে নামার সিদ্ধান্ত না নিচ্ছিলেন।
জুনায়েদ কারা কয়ুনলুর সুলতান জাহান শাহর ক্ষমতার প্রতি দিন দিন হুমকি হয়ে উঠছিলেন,তাই জাহান শাহ তাকে রাজ্য থেকে বহিষ্কার করেন।তিনি আশ্রয় নেন খান ই আক কয়ুনলু,জাহান শাহর প্রধান শত্রু উজুন হাসানের দরবারে।
উজুন হাসান কারা কয়ুনলুর পুরো সাম্রাজ্যটা জয় করে নিলেন ১৪৬৭ সাল নাগাদ।
তিনি দেখলেন,তার পশ্চিমে থাকা বিশাল উসমানী সালতানাত এক প্রবল সুন্নী শক্তি হয়ে গড়ে উঠছে,এবং তিনি বুঝতে পারছিলেন,উসমানীদের যে জয় জয়কার শুরু হয়েছে,তা থামাতে হলে সবার আগে প্রয়োজন শক্তিশালী আইডিওলজির।
উজুন হাসান নিজের বোনের বিয়ে দিলেন জুনায়েদের সাথে,জুনায়েদের ছেলে হায়দার সাফাউইর সাথে বিয়ে দিলেন রাজকুমারী মার্থাকে,এই মার্থা ছিলেন বাইজান্টাইন প্রিন্সেস ডেসপিনা খাতুনের মেয়ে।
হায়দার সাফাউইকে উজুন হাসানের মৃত্যুর পর সৃষ্টি হওয়া রাজনৈতিক গোলযোগে প্রান হারাতে হল।
সাফাউই মতবাদ তখন অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে উঠেছে কিজিলবাশ তুর্কমানদের মাঝে।
হায়দার সাফাউইর হত্যাকাণ্ডের পর তার বড় ছেলে আলী মির্জা সাফাউই দাবী করে বসেন সিংহাসন।একদিকে তিনি সাফাউইদের আমীর,অন্যদিকে উজুন হাসানের নাতি,তার ওপর রক্তে আছে বাইজান্টাইন মিশ্রন।
কিজিলবাশ তুর্কমানরাই শুধু না,আক কয়ুনলুর অনেকেই তাকে সমর্থন জানালো।
উজুন হাসানের আরেক নাতি ইয়াকুব এত সহজে সিংহাসনের দাবি ছাড়তে রাজি ছিলেন না।
তিনি হত্যা করলেন মির্জা আলীকে।মির্জা আলী মৃত্যুর ঠিক আগে তার উত্তরাধিকারীর নাম বলে যান।
তার ছোট ভাই ইসমাইল।
শাহ ইসমাইল।
ইসমাইল ছিলেন দুর্দান্ত এক মিলিটারি-পলিটিক্যাল ব্রেইনের অধিকারী।
তিনি দেখলেন,আক কয়ুনলু সালতানাতকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে গেলে একটা আইডিওলজি দরকার,যা সুদুর আনাতোলিয়া থেকে সিন্ধু পর্যন্ত মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে রাখবে।
প্রথমে তিনি ফার্সি জাতীয়তাবাদের কথা ভাবলেন,কিন্তু এটা খুব বেশি লাভজনক মতবাদ ছিল না,আফগান আর তুর্কমানরা এই পরিচয়ে কখনোই গর্ববোধ করতো না।
তার পরবর্তী পদক্ষেপ ইসলামের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ চিরদিনের মত বদলে দিল।
তিনি নিজেকে সাইয়েদ(নবীজীর বংশধর), মাহ্দী ও হযরত আলী(রা) এর অবতার বলে দাবি করলেন।
তার সমর্থনে এগিয়ে এল কিজিলবাশ আলেম-উলামারা।
তিনি ঘোষনা দিলেন,আলী(রা) এর বংশধর এবং একমাত্র আলী(রা) এর বংশধররাই নেতৃত্বের যোগ্য,আর যারা একথা মানে না,তাদের জন্য আছে তলোয়ার।
তিনি প্রথম তিন খলিফা হযরত আবু বকর(রা),উমার(রা) ও উসমান(রা) কে প্রতি জুম্মার খুতবায় অভিশাপ দেয়ার নির্দেশ দিলেন তার অনুগত উলামা(?)দের।
১৫০৮ সালের মাথায় তিনি একের পর এক সামরিক অভিযান চালিয়ে কব্জা করে নিলেন গোটা ইরাক,ইরান,আজারবাইজান,আফগানিস্তানের অল্প কিছু অংশ।
এই বিশাল এলাকাতে যত সুন্নি উলামা ছিলেন সবাইকে পরিষ্কার পয়গাম পাঠানো হল,হয় শিয়া হও,নয়তো এই রাজ্য ছেড়ে পালাও,অন্যথায় তোমাদের জন্য আছে মৃত্যু।
সুন্নিদের ঘরবাড়ি,সহায় সম্পদ ও স্ত্রীদের তিনি গনিমতের মাল বলে ঘোষনা দিলেন।তার সৈন্যরা যেদিক দিয়ে যেত সেদিকে সুন্নিদের লাশের স্তুপ পড়ে যেত,হাজার হাজার মহিলাকে পরিনত করা হত বাদীতে,এই একই অপব্যাখ্যা ১৯৭১ সালে ইয়াহিয়া খান আর জেনারেল নিয়াজীকেও করতে দেখা গেছে।
গোটা ইরাক-ইরান আর আজারবাইজানের মসজিদ-মাদ্রাসাগুলো থেকে সুন্নি আলেমদের গণহারে উচ্ছেদ আর হত্যা করা হল।তার জায়গাতে বাসনো হল শিয়া আলেম,যেখানে শিয়া আলেম পাওয়া যাচ্ছিল না সেখানে মাদ্রাসা বন্ধ করে দেয়া হল।
১৫০৮ সালে ইরাকে অভিযান চালানোর সময় হযরত আবু হানিফা(রহ) ও হযরত আবদুল কাদির জিলানী(রহ) এর কবর তিনি ভেঙে ফেললেন।
হযরত আয়িশা(রা) কে প্রতিবছর মহররমে তিনি গালিগালাজ করতেন রীতিমত অনুষ্ঠান করে,কারন আয়িশা(রা) হযরত আলীর(রা) বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছিলেন,যদিও নিজের ভুল বোঝার পরপরই তিনি যুদ্ধ বন্ধের নির্দেশ দেন।
২৬শে যিলহজ্ব ছিল হযরত উমার(রা) এর শাহাদাত দিবস,এই দিনে তিনি তার রাজ্যব্যাপী উৎসব পালনের ঘোষনা দেন।
এভাবেই,গণহত্যা,জবরদস্তি,বহিষ্কার আর নেতৃত্বের নতুন ধারনার মাধ্যমে ইরান,ইরাক ও আজারবাইজানে বিপুল সংখ্যক মানুষকে শিয়া মতবাদ গ্রহনে বাধ্য করেন শাহ ইসমাইল।
তার ব্যক্তিগত কারিশমা,অসামান্য বাগ্মীতা,দুর্দান্ত সামরিক জ্ঞান আর তার পেছনে থাকা বিশাল কিজিলবাশ-সাফাউই-শিয়া শক্তিকে তিনি চরমভাবে ব্যবহার করেছেন নিজের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে পুরন করতে।
উজুন হাসানের পলিটিক্যাল এজেণ্ডা পুর্নতা পায় শাহ ইসমাইলের এই ধূর্ত শিয়া ইনকুইজিশানের মাধ্যমে,পরবর্তী দেড়শো বছরে একটু একটু করে আজারবাইজান,বাহরাইন,ইরাক আর ইরানের বেশিরভাগ মানুষ ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় শিয়া মতবাদ গ্রহন করেছে।
আজকে তুরস্ক আরআফগানিস্তানের সাথে ইরানের যে সীমান্ত দেখা যায়,এই সীমান্ত ভৌগোলিক বা নৃতাত্ত্বিক নয়,এই সীমান্ত আকা হয়েছে শিয়া সুন্নী বিভেদের ওপর ভিত্তি করে।নিজেদের সাম্রাজ্য গড়তে আর উসমানীদের ঠেকাতে শেষমেষ তারা দুই টুকরো করে ছেড়েছেন একটা উম্মাহকে,যারা বিস্তৃত ছিল পশ্চিমে মরক্কো থেকে পূর্বে ফিলিপাইন পর্যন্ত।।
রাজনীতি ইসলামের মত একটা শক্তিশালী ধর্মকে চিরদিনের জন্য করেছে দ্বিখণ্ডিত।শাহ ইসমাইলের পাচশো বছর পরও,ইরান আজ সারা মুসলিম বিশ্ব থেকে একঘরে,দুর্দান্ত সামরিক,বুদ্ধিবৃত্তিক আর নৈতিক সক্ষমতা থাকার পরেও ইরান খিলাফতের দাবী করতে পারে না,কারন সে শিয়া,সুন্নীরা তাকে মানবে না।
ধর্মকে রাজনীতি থেকে যতই আলাদা করতে চাওয়া হোক,শেষমেষ তা হয় না।
কেন হয় না,সে প্রশ্নের উত্তর আজও দার্শনিকরা খুজে বেড়ান।

রাষ্ট্র হলো::

Prince Muhammad Sajal
আজ থেকে সাড়ে পাচশো বছর আগে ইরানের দশ শতাংশ মানুষও শিয়া ছিল না। শিয়ারা মুলত বাস করতেন ইরাক,লেবানন,সিরিয়া আর বাহরাইনে,পাশাপাশি মিশর ও হেজাযেও ছিল তাদের জনসংখ্যার একটা বড় অংশ।
ইরানের বেশিরভাগ মানুষ ছিল শাফিঈ সুন্নী মাযহাবের অনুসারী।ইরানীরা তাতারদের কাছে পরিচিত ছিল পাগড়িওয়ালা নামে,কারন তারা ছিল শান্তশিষ্ট ভদ্রলোক,চেঙ্গিস খান ইরানে এত বেশি মানুষ মেরেছিলেন যে ১২১৮ সালের সেই ধাক্কা সামলে ইরানের জনসংখ্যাকে আগের অবস্থায় আসতে লেগে গেছে কম করে হলেও ছয়শো বছর।
মোঙ্গল আক্রমন ইরানীদের সমাজ কাঠামো,রাজনৈতিক অবস্থা এবং সামরিক শক্তি সবই তছনছ করে দিয়েছিল।পরবর্তী দুশো বছর ইরান ছিল কখনও মোঙ্গল আর কখনও তাতারদের সাম্রাজ্যের অংশ হয়ে।
তাইমুরের সাম্রাজ্য ভেঙে যাওয়ার পর আনাতোলিয়া,ককেশাস,ইরাক,ইরান,আফগানিস্তান ও বালুচিস্তানের পুরোটাই জয় করে নেয় দুটো তুর্কমান ট্রাইব।আক কয়ুনলু আর কারা কয়ুনলু।
তুর্কমানদের মাঝে ব্যাপক প্রভাব ছিল শাফিঈ দরবেশ সাইফ আল দীনের সাফাউই মতবাদের।
সাফাউই মতবাদ ইরানে প্রবেশ করেছিল শাফিঈ মাযহাবেরই একটি ধারা হয়ে,এবং এটি তাই ছিল,যতদিন না সাফাউই শাইখ জুনায়েদ রাজনীতিতে নামার সিদ্ধান্ত না নিচ্ছিলেন।
জুনায়েদ কারা কয়ুনলুর সুলতান জাহান শাহর ক্ষমতার প্রতি দিন দিন হুমকি হয়ে উঠছিলেন,তাই জাহান শাহ তাকে রাজ্য থেকে বহিষ্কার করেন।তিনি আশ্রয় নেন খান ই আক কয়ুনলু,জাহান শাহর প্রধান শত্রু উজুন হাসানের দরবারে।
উজুন হাসান কারা কয়ুনলুর পুরো সাম্রাজ্যটা জয় করে নিলেন ১৪৬৭ সাল নাগাদ।
তিনি দেখলেন,তার পশ্চিমে থাকা বিশাল উসমানী সালতানাত এক প্রবল সুন্নী শক্তি হয়ে গড়ে উঠছে,এবং তিনি বুঝতে পারছিলেন,উসমানীদের যে জয় জয়কার শুরু হয়েছে,তা থামাতে হলে সবার আগে প্রয়োজন শক্তিশালী আইডিওলজির।
উজুন হাসান নিজের বোনের বিয়ে দিলেন জুনায়েদের সাথে,জুনায়েদের ছেলে হায়দার সাফাউইর সাথে বিয়ে দিলেন রাজকুমারী মার্থাকে,এই মার্থা ছিলেন বাইজান্টাইন প্রিন্সেস ডেসপিনা খাতুনের মেয়ে।
হায়দার সাফাউইকে উজুন হাসানের মৃত্যুর পর সৃষ্টি হওয়া রাজনৈতিক গোলযোগে প্রান হারাতে হল।
সাফাউই মতবাদ তখন অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে উঠেছে কিজিলবাশ তুর্কমানদের মাঝে।
হায়দার সাফাউইর হত্যাকাণ্ডের পর তার বড় ছেলে আলী মির্জা সাফাউই দাবী করে বসেন সিংহাসন।একদিকে তিনি সাফাউইদের আমীর,অন্যদিকে উজুন হাসানের নাতি,তার ওপর রক্তে আছে বাইজান্টাইন মিশ্রন।
কিজিলবাশ তুর্কমানরাই শুধু না,আক কয়ুনলুর অনেকেই তাকে সমর্থন জানালো।
উজুন হাসানের আরেক নাতি ইয়াকুব এত সহজে সিংহাসনের দাবি ছাড়তে রাজি ছিলেন না।
তিনি হত্যা করলেন মির্জা আলীকে।মির্জা আলী মৃত্যুর ঠিক আগে তার উত্তরাধিকারীর নাম বলে যান।
তার ছোট ভাই ইসমাইল।
শাহ ইসমাইল।
ইসমাইল ছিলেন দুর্দান্ত এক মিলিটারি-পলিটিক্যাল ব্রেইনের অধিকারী।
তিনি দেখলেন,আক কয়ুনলু সালতানাতকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে গেলে একটা আইডিওলজি দরকার,যা সুদুর আনাতোলিয়া থেকে সিন্ধু পর্যন্ত মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে রাখবে।
প্রথমে তিনি ফার্সি জাতীয়তাবাদের কথা ভাবলেন,কিন্তু এটা খুব বেশি লাভজনক মতবাদ ছিল না,আফগান আর তুর্কমানরা এই পরিচয়ে কখনোই গর্ববোধ করতো না।
তার পরবর্তী পদক্ষেপ ইসলামের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ চিরদিনের মত বদলে দিল।
তিনি নিজেকে সাইয়েদ(নবীজীর বংশধর), মাহ্দী ও হযরত আলী(রা) এর অবতার বলে দাবি করলেন।
তার সমর্থনে এগিয়ে এল কিজিলবাশ আলেম-উলামারা।
তিনি ঘোষনা দিলেন,আলী(রা) এর বংশধর এবং একমাত্র আলী(রা) এর বংশধররাই নেতৃত্বের যোগ্য,আর যারা একথা মানে না,তাদের জন্য আছে তলোয়ার।
তিনি প্রথম তিন খলিফা হযরত আবু বকর(রা),উমার(রা) ও উসমান(রা) কে প্রতি জুম্মার খুতবায় অভিশাপ দেয়ার নির্দেশ দিলেন তার অনুগত উলামা(?)দের।
১৫০৮ সালের মাথায় তিনি একের পর এক সামরিক অভিযান চালিয়ে কব্জা করে নিলেন গোটা ইরাক,ইরান,আজারবাইজান,আফগানিস্তানের অল্প কিছু অংশ।
এই বিশাল এলাকাতে যত সুন্নি উলামা ছিলেন সবাইকে পরিষ্কার পয়গাম পাঠানো হল,হয় শিয়া হও,নয়তো এই রাজ্য ছেড়ে পালাও,অন্যথায় তোমাদের জন্য আছে মৃত্যু।
সুন্নিদের ঘরবাড়ি,সহায় সম্পদ ও স্ত্রীদের তিনি গনিমতের মাল বলে ঘোষনা দিলেন।তার সৈন্যরা যেদিক দিয়ে যেত সেদিকে সুন্নিদের লাশের স্তুপ পড়ে যেত,হাজার হাজার মহিলাকে পরিনত করা হত বাদীতে,এই একই অপব্যাখ্যা ১৯৭১ সালে ইয়াহিয়া খান আর জেনারেল নিয়াজীকেও করতে দেখা গেছে।
গোটা ইরাক-ইরান আর আজারবাইজানের মসজিদ-মাদ্রাসাগুলো থেকে সুন্নি আলেমদের গণহারে উচ্ছেদ আর হত্যা করা হল।তার জায়গাতে বাসনো হল শিয়া আলেম,যেখানে শিয়া আলেম পাওয়া যাচ্ছিল না সেখানে মাদ্রাসা বন্ধ করে দেয়া হল।
১৫০৮ সালে ইরাকে অভিযান চালানোর সময় হযরত আবু হানিফা(রহ) ও হযরত আবদুল কাদির জিলানী(রহ) এর কবর তিনি ভেঙে ফেললেন।
হযরত আয়িশা(রা) কে প্রতিবছর মহররমে তিনি গালিগালাজ করতেন রীতিমত অনুষ্ঠান করে,কারন আয়িশা(রা) হযরত আলীর(রা) বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছিলেন,যদিও নিজের ভুল বোঝার পরপরই তিনি যুদ্ধ বন্ধের নির্দেশ দেন।
২৬শে যিলহজ্ব ছিল হযরত উমার(রা) এর শাহাদাত দিবস,এই দিনে তিনি তার রাজ্যব্যাপী উৎসব পালনের ঘোষনা দেন।
এভাবেই,গণহত্যা,জবরদস্তি,বহিষ্কার আর নেতৃত্বের নতুন ধারনার মাধ্যমে ইরান,ইরাক ও আজারবাইজানে বিপুল সংখ্যক মানুষকে শিয়া মতবাদ গ্রহনে বাধ্য করেন শাহ ইসমাইল।
তার ব্যক্তিগত কারিশমা,অসামান্য বাগ্মীতা,দুর্দান্ত সামরিক জ্ঞান আর তার পেছনে থাকা বিশাল কিজিলবাশ-সাফাউই-শিয়া শক্তিকে তিনি চরমভাবে ব্যবহার করেছেন নিজের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে পুরন করতে।
উজুন হাসানের পলিটিক্যাল এজেণ্ডা পুর্নতা পায় শাহ ইসমাইলের এই ধূর্ত শিয়া ইনকুইজিশানের মাধ্যমে,পরবর্তী দেড়শো বছরে একটু একটু করে আজারবাইজান,বাহরাইন,ইরাক আর ইরানের বেশিরভাগ মানুষ ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় শিয়া মতবাদ গ্রহন করেছে।
আজকে তুরস্ক আরআফগানিস্তানের সাথে ইরানের যে সীমান্ত দেখা যায়,এই সীমান্ত ভৌগোলিক বা নৃতাত্ত্বিক নয়,এই সীমান্ত আকা হয়েছে শিয়া সুন্নী বিভেদের ওপর ভিত্তি করে।নিজেদের সাম্রাজ্য গড়তে আর উসমানীদের ঠেকাতে শেষমেষ তারা দুই টুকরো করে ছেড়েছেন একটা উম্মাহকে,যারা বিস্তৃত ছিল পশ্চিমে মরক্কো থেকে পূর্বে ফিলিপাইন পর্যন্ত।।
রাজনীতি ইসলামের মত একটা শক্তিশালী ধর্মকে চিরদিনের জন্য করেছে দ্বিখণ্ডিত।শাহ ইসমাইলের পাচশো বছর পরও,ইরান আজ সারা মুসলিম বিশ্ব থেকে একঘরে,দুর্দান্ত সামরিক,বুদ্ধিবৃত্তিক আর নৈতিক সক্ষমতা থাকার পরেও ইরান খিলাফতের দাবী করতে পারে না,কারন সে শিয়া,সুন্নীরা তাকে মানবে না।
ধর্মকে রাজনীতি থেকে যতই আলাদা করতে চাওয়া হোক,শেষমেষ তা হয় না।
কেন হয় না,সে প্রশ্নের উত্তর আজও দার্শনিকরা খুজে বেড়ান।

Jahangir Alambd

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s