আমাদের ইমাম কে?আমাদের ইমাম বা নেতা কে? মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাকি আবু হানিফা নাকি অন্য কেউ?

>>>>> আমাদের ইমাম কে? <<<<<
إِمَام (ইমাম) শব্দটি একবচন, যার বহুবচন أَئِمَّة (আ-ইম্মা), শাব্দিক অর্থ নেতা, প্রধান, সালাতের ইমাম, অগ্রণী, পথ, গ্রন্থ, পুস্তক, দিক-নির্দেশক বস্তু, আদর্শ, নমুনা। কুরআনে একবচনে إِمَام (ইমাম) শব্দটি সাতবার এবং বহুবচনে أَئِمَّة (আ-ইম্মা) শব্দটি পাঁচবার এসেছে।

>>> কুরআনের আয়াতে إِمَام (ইমাম) অর্থ কি? <<<
>>> إِمَام (ইমাম) অর্থ্ নেতা <<<
قَالَ إِنِّي جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِمَامًا
তিনি (আল্লাহ) বললেন, নিশ্চয় আমি (ইবরাহীম) তোমাকে মানবজাতির জন্য নেতা বানাব। আল-বাকারা, ২/১২৪

وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
আর আপনি আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানিয়ে দিন। আল-ফুরকান, ২৫/৭৪

>>> ইমামের বহুবচন أَئِمَّة (আ-ইম্মা) যার অর্থ্ নেতা <<<
وَجَعَلْنَاهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا وَأَوْحَيْنَا إِلَيْهِمْ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ وَإِقَامَ الصَّلاةِ وَإِيتَاءَ الزَّكَاةِ وَكَانُوا لَنَا عَابِدِينَ
আর আমি তাদেরকে নেতা বানিয়েছিলাম, তারা আমার নির্দেশ অনুসারে মানুষকে সঠিক পথ দেখাত, আমি তাদের প্রতি ওহী প্রেরণ করেছিলাম ভাল কাজ করার, সালাত কায়েম করার এবং যাকাত প্রদান করার জন্য আর তারা আমারই ইবাদাত করত। আম্বিয়া, ২১/৭৩

وَجَعَلْنَا مِنْهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا لَمَّا صَبَرُوا وَكَانُوا بِآيَاتِنَا يُوقِنُونَ
আর আমি তাদের মধ্য থেকে বহু নেতা করেছিলাম, তারা আমার নির্দেশক্রমে সঠিক পথ প্রদর্শন করত, যতদিন তারা ধৈর্যধারণ করেছিল, তারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসী ছিল। আস-সাজদাহ, ৩২/২৪

وَنُرِيدُ أَنْ نَمُنَّ عَلَى الَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا فِي الأرْضِ وَنَجْعَلَهُمْ أَئِمَّةً وَنَجْعَلَهُمُ الْوَارِثِينَ
আর আমি চাইলাম সেই দেশে যাদেরকে দুর্বল করে রাখা হয়েছিল তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে এবং তাদেরকে নেতা বানাতে আর তাদেরকে উত্তরাধিকারী বানাতে। আল-কাসাস, ২৮/৫

وَجَعَلْنَاهُمْ أَئِمَّةً يَدْعُونَ إِلَى النَّارِ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ لا يُنْصَرُونَ
আর আমি তাদেরকে নেতা বানিয়েছিলাম, তারা লোকদেরকে জাহান্নামের দিকে আহবান করত এবং কিয়ামতের দিন তাদেরকে সাহায্য করা হবে না। আল-কাসাস, ২৮/৪১

وَإِنْ نَكَثُوا أَيْمَانَهُمْ مِنْ بَعْدِ عَهْدِهِمْ وَطَعَنُوا فِي دِينِكُمْ فَقَاتِلُوا أَئِمَّةَ الْكُفْرِ إِنَّهُمْ لا أَيْمَانَ لَهُمْ لَعَلَّهُمْ يَنْتَهُونَ
আর যদি তারা তাদের অঙ্গীকারের পর তাদের শপথ ভঙ্গ করে এবং তোমাদের দ্বীন সম্পর্কে কটূক্তি করে তাহলে তোমরা কুফরের নেতাদের বিরুদ্ধে লড়াই কর নিশ্চয় তাদের কোন শপথ রইল না, হয়ত তারা বিরত হবে। তাওবা, ৯/১২

>>> إِمَام (ইমাম) অর্থ্ পথপ্রদর্শক <<<
وَمِنْ قَبْلِهِ كِتَابُ مُوسَى إِمَامًا وَرَحْمَةً
এর পূর্বে মূসার কিতাব এসেছিল পথপ্রদর্শক ও রহমতস্বরূপ। হুদ, ১১/১৭

وَمِنْ قَبْلِهِ كِتَابُ مُوسَى إِمَامًا وَرَحْمَةً وَهَذَا كِتَابٌ مُصَدِّقٌ لِسَانًا عَرَبِيًّا لِيُنْذِرَ الَّذِينَ ظَلَمُوا وَبُشْرَى لِلْمُحْسِنِينَ
আর এর পূর্বে মূসার কিতাব এসেছিল পথপ্রদর্শক ও রহমতস্বরূপ এবং এই কিতাব তার সত্যায়নকারী, আরবী ভাষায়; যেন যালিমদেরকে সতর্ক করতে পারে আর (মুহসেনিন) সৎকর্মশীলদের জন্য সুসংবাদ। আহকাফ, ৪৬/১২

>>> إِمَام (ইমাম) অর্থ্ আমলনামা <<<
يَوْمَ نَدْعُو كُلَّ أُنَاسٍ بِإِمَامِهِمْ فَمَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ فَأُولَئِكَ يَقْرَءُونَ كِتَابَهُمْ وَلا يُظْلَمُونَ فَتِيلا
স্মরণ কর, সেই দিনকে যখন আমি প্রত্যেক মানুষকে তাদের আমলনামাসহ ডাকব, অতঃপর যাদের আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে, তারা নিজেদের আমলনামা পাঠ করবে এবং তাদের প্রতি সামান্য পরিমাণও জুলুম করা হবে না। ইসরা, ১৭/৭১

>>> إِمَام (ইমাম) অর্থ্ সংরক্ষিত কিতাব/খাতা <<<
إِنَّا نَحْنُ نُحْيِي الْمَوْتَى وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا وَآثَارَهُمْ وَكُلَّ شَيْءٍ أحْصَيْنَاهُ فِي إِمَامٍ مُبِينٍ
নিশ্চয় আমি মৃতকে জীবিত করি আর লিখে রাখি যা তারা আগে পাঠিয়ে দেয় এবং যা পিছনে ছেড়ে যায় আর প্রতিটি বস্তুকেই আমি সুস্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষিত করে রেখেছি। ইয়াসীন, ৩৬/১২

>>> إِمَام (ইমাম) অর্থ্ জনপথ <<<
فَانْتَقَمْنَا مِنْهُمْ وَإِنَّهُمَا لَبِإِمَامٍ مُبِينٍ
অতঃপর আমি তাদের থেকে প্রতিশোধ নিলাম আর অবশ্যই এ দু’টো প্রকাশ্য জনপথের সাথে অবস্থিত। আল-হিজর, ১৫/৭৯

>>> আমাদের ইমাম <<<
কুরআনের আয়াতে ইমাম অর্থ্ পাঁচ রকম পেলাম- নেতা, পথপ্রদর্শক, আমলনামা, সংরক্ষিত কিতাব, ও জনপথ। যখন বলা হয়, ‘আমাদের ইমাম কে’? তখন কোন ব্যক্তিকে বুঝায়, কোন বস্তু বা অন্য কিছুকে বুঝায় না। কুরআনের আলোকে তখন দুটি অর্থ্ থাকে, নেতা ও পথপ্রদর্শক।

নেতা বললে শুধু রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আর পথপ্রদর্শক বললে, রাসূল ও কুরআন উভয়কে বুঝায়। কুরআন হল পথপ্রদর্শক বা পথ নির্দেশ, আল্লাহ বলেন-

ذَلِكَ الْكِتَابُ لا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ
এই সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই, মুত্তাকীদের জন্য পথ নির্দেশ। আল-বাকারা, ২/২

طس تِلْكَ آيَاتُ الْقُرْآنِ وَكِتَابٍ مُبِينٍ هُدًى وَبُشْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ
ত্বা-সীন; এগুলো কুরআনের ও সু্স্পষ্ট কিতাবের আয়াত। মুমিনদের জন্য পথ নির্দেশ ও সুসংবাদ। আন-নামল, ২৭/১-২

এখন ইমাম অর্থ একটি বাকী রইল তা হলো নেতা। এবার আপনিই বলুন আমাদের ইমাম বা নেতা কে? মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাকি আবু হানিফা নাকি অন্য কেউ? আবার বলা হয় আবু হানিফা নাকি ইমামে আযম। আযম মানে মহান বা যে সবচেয়ে বড় আর ইমাম মানে নেতা। তাহলে ইমামে আযম অর্থ হয় আবু হানিফা হলেন আমাদের সবচেয়ে বড় ইমাম বা নেতা। আসলে কি তাই? নাকি ইমামে আযম কিংবা সব চেয়ে বড় নেতা হলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর তিনি নবী ও রাসূল। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে আল্লাহ বলেন-

وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ
আর অবশ্যই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী। আল-কালাম, ৬৮/৪

لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا
অবশ্যই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ, তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও আখিরাতের প্রত্যাশা করে আর আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে। আহযাব, ৩৩/২১

আবু হানিফা সম্পর্কে কি কুরআনে এরকম দলিল আছে? যে ব্যক্তি আবু হানিফাকে ইমাম বা নেতা মানল সে ব্যাক্তি তো রাসুলের রিসালাতকে চ্যালেঞ্জ করল। আর যে বলে আবু হানিফা এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয় আমাদের ইমাম তাহলে সে-তো রাসূলের রিসালতের অংশ আবু হানিফাকে দিয়ে দিল। সে কি আর মুসলিম থাকল?

কেউ কেউ বলেন, আবু হানিফা আমাদের মাযহাবের ইমাম। তাহলে জানতে হবে মাযহাব মানে কি? মাযহাব শব্দের অর্থ্ ধর্ম্, ধর্মমত, পথ, মত, মতবাদ, আদর্শ্, বিশ্বাস। তার মানে দাড়াঁয় আবু হানিফা আমাদের ধর্মের, পথের, মতের, মতবাদের, আদর্শের, বিশ্বাসের ইমাম বা নেতা।

আবার কেউ কেউ বলেন আমাদেরকে মাযহাব মানতে হবে এবং আমাদেরকে আবু হানিফার মাযহাব মানতে হবে। তার মানে দাড়ায় আমাদেরকে আবু হানিফার ধর্ম্, পথ, মত, মতবাদ, আদর্শ্ ও বিশ্বাস মানতে হবে। যে আবু হানিফার ধর্ম্ …….. ইত্যাদি মানল সে কি রাসূলকে অমান্য করল না? আল্লাহ বলেন-

وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا
আর যে রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, তার জন্য হিদায়াত স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পরও এবং মুমিনের পথের বিপরীত পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে ফেরাব, যেদিকে সে ফিরে যেতে চায় এবং তাকে প্রবেশ করাব জাহান্নামে আর তা খুবই নিকৃষ্টতর আবাসস্থল। আন-নিসা, ৪/১১৫

আল্লাহ অন্যত্র বলেছেন-
وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُهِينٌ
যে আল্লাহ ও তার রাসূলকে অমান্য করবে এবং তাঁর সীমারেখা লঙ্ঘন করবে, তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন, সেখানে সে চিরকাল থাকবে; আর তার জন্যই রয়েছে অপমানজনক শাস্তি। আন-নিসা, ৪/১৪

যদি বলেন, আমরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবু হানিফা উভয়কে মানি। তাহলে বলুন একজন মানুষ একসাথে দুটি ধর্ম্ কিভাবে মানে? কেউ কি একসাথে মুসলিম ও হিন্দু উভয়ে হতে পারে? সে কি পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করল? আল্লাহ বলেছেন-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً
হে মুমিনগন, তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ কর। আল-বাকারা, ২/২০৮

যদি আবু হানিফা এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুইজনেরই ধর্ম মানেন তাহলে কি পরিপূর্ণ ভাবে ইসলামে প্রবেশ করা হল?

কবরে আপনাকে কি প্রশ্ন করা হবে? তোমার মাযহাব কি নাকি তোমার দ্বীন কি? তখন কি উত্তর দিবেন? আল্লাহ কুরআনে বলেছেন-
إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الإسْلامُ
নিশ্চয় আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন (জীবন-বিধান) হল ইসলাম। আলে-ইমরান, ৩/১৯

আল্লাহ কুরআনের অন্যত্র্ বলেছেন-
وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الإسْلامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ
আর যে কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বীন গ্রহণ করতে চাইবে তবে তার কাছ থেকে কক্ষনো তা কবুল করা হবে না আর সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আলে-ইমরান, ৩/৮৫

যে ব্যক্তি ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে মেনে চলবে সেইতো এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে। তাই আসুন, আমরা ইসলামকেই একমাত্র দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করি। অন্য কোন দ্বীন, তরীকা বা মাযহাব কে নয়, তাহলেই কেবল আখেরাতে মু্ক্তি পাওয়া যাবে।

কবরে আপনাকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে নাকি আবু হানিফা নাকি অন্য করো সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে? যদি আপনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণ করেন তবেই তো তার উত্তর দিতে পারবেন। আল্লাহ বলেন-

قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ
(হে নবী) আপনি বলুন, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’। আলে-ইমরান, ৩/৩১

>>> কিয়ামতের দিন আমাদের ইমাম বা নেতা কে হবেন? <<<
উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- ‘আমি কিয়ামতের দিন সকল নবীদের ইমাম বা নেতা হব’। আহমাদ হা/২১২৮৩; ইবনে মাজাহ হা/৪৩১৪, মিশকাত হা/৫৭৬৮।

আমাদের ধর্ম্ হল ইসলাম, আমাদের আদর্শ্ হল রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তার পথে, মতে, মতবাদে আমাদেরকে চলতে হবে আর আমাদেরকে বিশ্বাস করতে হবে কুরআন আর মেনেও চলতে হবে কুরআন। যখন কুরআন মানতে যাব তখন আসবে রাসূলের সুন্নাহ বা হাদিসের কথা। আর আমাদেরকে সহিহ সুন্নাহ অনুসরণ করতে হবে। আমাদের রাসূল হলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর আমাদের ইমাম বা নেতাও হলেন তিনি। তাকে মানা বা অনুসরণ ছাড়া কেউ সঠিক পথ কক্ষনো পাবে না। আল্লাহ বলেন-

مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ
যে রাসুলকে মান্য করল সে অবশ্যই আল্লাহর হুকুম মান্য করল। আন-নিসা, ৪/৮০

আল্লাহর হুকুম মান্য করলেই তো কবরের প্রথম প্রশ্ন, ‘তোমার রব কে?’ তার উত্তর দিতে পারবেন আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুসরণ করবে তার জন্যই রয়েছে জান্নাত। আল্লাহ বলেন-

وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الأنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
আর যে আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে আর এটাই মহাসফলতা। আন-নিসা, ৪/১৩

>>> আমাদের দু‘আ <<<
رَبَّنَا آمَنَّا بِمَا أَنْزَلْتَ وَاتَّبَعْنَا الرَّسُولَ فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ
হে আমাদের রব! আপনি যা নাযিল করেছেন আমরা তার প্রতি ঈমান এনেছি এবং আমরা রাসূলকে অনুসরণ করছি, তাই আমাদের নাম সাক্ষ্যদাতাদের সাথে লিপিবদ্ধ করুন। আলে-ইমরান, ৩/৫৩

>>> কুরআনের আয়াতে মাযহাব <<<
মাযহাব শব্দটি পবিত্র কুরআরের কোথাও নেই তারপরও অনেকে বলেন কুরআনে আছে মাযহাব মানতে হবে ‘উলিল আমর’ এর ভুল ব্যাখ্যা করে বলেন আমাদের মাযহাব মানতে হবে আর আমাদের আবু হানিফাকে মানতে হবে। এই জন্য আয়াত পেশ করেন। প্রথমে আমরা জেনে নেই, ‘উলিল আমর’ মানে কি?

>>> أُولِي الأمْر (উলিল আমর) মানে কি? <<<
أُولِي (উলি) শব্দটি বহুবচন, অর্থ অধিকারী, মালিক, ওয়ালা। এর একবচন হল أَوَّل (আউওয়াল) অর্থ প্রথম, প্রধান, শুরু, আদি। أمْر (আমর) অর্থ আদেশ বা নির্দেশ, শব্দটির মাসদার হল أَمَرَ (আমারা) অর্থ্ আদেশ দেয়া, নির্দেশ দেয়া। أمْر (আমর) শব্দের আগে ال যুক্ত হয়ে নির্দিষ্ট করেছে। যাকে ইংরেজিতে Definite Article বলে। তাই এখন উচ্চারণ হচ্ছে أُولِي الأمْر (উলিল আমর)।

أُولِي الأمْر (উলিল আমর) এর মানে কি? أُولِي (উলি) অর্থ অধিকারী, মালিক, ওয়ালা। الأمْر (আল-আমর) অর্থ আদেশ বা নির্দেশ। তার মানে অর্থ দাড়ায়, আদেশ বা নির্দেশ দেওয়ার অধিকারী, কিংবা আদেশ বা নির্দেশ দেওয়ার মালিক। এর প্রকৃত অর্থ হল আদেশদাতাগণ, কর্তৃত্বের অধিকারী, শাসকবৃন্দ, শাসকমন্ডলী, কর্তৃপক্ষ, অভিভাবকগণ। উলিল আমর বাক্যটি কুরআনে দুই জায়গায় এসেছে। আন-নিসা, ৪/৫৯, ৪/৮৩

>>> কুরআনের আয়াতে أُولِي الأمْر (উলিল আমর) <<<
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الأمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلا
হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর ও রাসূলের আনুগত্য কর আর তোমাদের মধ্যে যারা কর্তৃত্বের অধিকারী তাদের আনুগত্য কর; অতঃপর যদি কোন বিষয়ে তোমরা মতবিরোধ কর তাহলে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও; যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখ, এটাই কল্যানকর এবং শ্রেষ্ঠতর সমাধান। আন-নিসা, ৪/৫৯

أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافًا كَثِيرًا وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِنَ الأمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهِ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُولِي الأمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ وَلَوْلا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ لاتَّبَعْتُمُ الشَّيْطَانَ إِلا قَلِيلا
তবে কি তারা কুরআন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা (গবেষণা) করে না? আর যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নিকট থেকে আসত, তবে তাতে তারা অবশ্যই বহু অসঙ্গতি পেত। আর যখন তাদের কাছে শান্তি কিংবা ভয়ের কোন বিষয় আসে তখন তারা তা প্রচার করে আর তারা যদি তা রাসূলের কিংবা তাদের মধ্যকার কর্তৃত্বের (ক্ষমতার) অধিকারীদের কাছে পৌঁছে দিত তাহলে অবশ্যই তাদের মধ্যকার তথ্যানুসন্ধানীগণ প্রকৃত তথ্য জেনে নিত আর যদি তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও করুণা না থাকত তাহলে অল্প সংখ্যক ছাড়া তোমরা সকলেই শয়তানের অনুসরণ করতে। আন-নিসা, ৪/৮২-৮৩

এখন প্রশ্ন হল- উলিল আমর বা কর্তৃত্বের অধিকারী কারা? শাব্দিক অর্থ বিশ্লেষণ করলেই বুঝা যায় উলিল আমর হলেন শাসকবৃন্দ, শাসকমন্ডলী বা কর্তৃপক্ষ। এটা হল দেশের মধ্যে আর পরিবারের মধ্যে উলিল আমর হলেন পরিবারের প্রধান। কারণ পরিবারের প্রধান পরিবারের মধ্যে কর্তৃত্ব করার ক্ষমতা রাখে।

আবু হানিফা নাম দিয়ে কোন একজন ইমাম কিভাবে কর্তৃত্বের অধিকারী হতে পারে। যে ব্যক্তি বেঁচে নেই, মৃত, সে ব্যক্তি কিভাবে কর্তৃত্বের অধিকারী হতে পারে। এ-তো হাস্যকর কথা। আসলে এ হল নিজেকে এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার এক শয়তানী ফাঁদ।

মৃত ব্যক্তি কখনো উলিল আমর বা কর্তৃত্বের অধিকারী হতে পারে না। প্রথমে আমাদের আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ মানতে হবে তারপর শাসক ও পরিবারের প্রধানের আদেশ মানতে হবে। আর তারা যদি আল্লাহ ও রাসুলের বিরোধী কথা বলে কিংবা তাদের সাথে মতবিরোধ হয় তাহলে আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরে যেতে হবে। অর্থাৎ কুরআন ও সহিহ হাদিসের দিকে ফিরে যেতে হবে।

যদি বলেন (উলিল আমর) মৃত ব্যক্তি আমাদের অভিভাবক হতে পারে। তাহলে বলব, উলিল আমর শব্দটি বহুবচন, শব্দের অর্থ অনুযায়ী শুধু একজনকেই কিভাবে অভিভাবক বা বিচারক মানছেন। সকল أَئِمَّة (আ-ইম্মা) বা ইমামদেরকে তো তাহলে অনুসরণ করতে হবে। যার রায় বা মাসআলাগুলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বাণীর সাথে (কুরআন ও সহিহ হাদিসের সাথে) মিল পাওয়া যাবে সেগুলো মানব। আর যেগুলো কুরআন ও সহিহ হাদিস বিরোধী সেগুলো ত্যাগ করব তাহলেই কোন সমস্যা থাকে না।

পরিশেষে কুরআনের আয়াত দিয়ে শেষ করব। আল্লাহ বলেন-
مَنِ اهْتَدَى فَإِنَّمَا يَهْتَدِي لِنَفْسِهِ وَمَنْ ضَلَّ فَإِنَّمَا يَضِلُّ عَلَيْهَا وَلا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى
যে সঠিক পথ অবলম্বন করবে সে কেবল তার নিজের জন্যই সঠিক পথ অবলম্বন করবে এবং যে গুমরাহ হবে তবে তার গুমরাহীর পরিণাম তার নিজের উপরেই পড়বে আর কোন বোঝা বহনকারী অন্যের (পাপের) বোঝা বহন করবে না। আল-ইসরা, ১৭/১৫

তাই এখন যার ইচ্ছা হয় সে হক গ্রহণ করুক আর যার ইচ্ছা হয় সে বিভ্রান্ত হোক।

وَاللَّهُ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ
আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে সঠিক পথের দিকে পথ দেখাবেন। আন-নুর, ২৪/৪৬

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s