four questions in kabr, not three

aaa

উছমান ইবন আবূ শায়বা (র)…. বারা ইবন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সঙ্গে একজন আনসার সাহাবীর জানাযার নামাযে শরীক হই, এমন কি তার কবরের কাছে যাই, যা তখন ও তৈরী হয়নি । তখন রাসূলুল্লাহ (সা) সেখানে বসেন এবং আমরা ও তাঁর সাথে তাঁর চারদিকে শান্তভাবে বসে পড়ি, যেন আমাদের মাথার উপর পাখী বসা । এ সময় নবী (সা)-এর হাতে একখণ্ড কাঠ ছিল, যা দিয়ে তিনি যমীনের উপর আঘাত করছিলেন । এরপর তিনি মাথা উঁচু করে দুই বা তিনবার বলেনঃ তোমরা কবরের আযাব থেকে আল্লাহর কাছে নাজাত চাও ।

রাবী জারীরের বর্ণনায় এরূপ অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে যে, দাফনের পর লোকেরা যখন ফিরে যায় এবং সে লোক তাদের শব্দ শুনতে পায়, সে সময় তাকে এরূপ প্রশ্ন করা হয়ঃ হে ব্যক্তি ! তোমার রব কে ? তোমার দীন কি এবং তোমার নবী (সা) কে ?

রাবী হান্নাদ (র) বলেনঃ নবী (সা) বলেছেনঃ তখন তার কাছে দু’জন ফেরেশতা আসে এবং তাকে বসিয়ে জিজ্ঞাসা করেঃ তোমার রব কে ? তখন সে বলেঃ আল্লাহ্ আমার রব । তখন তারা তাকে জিজ্ঞাসা করেঃ তোমার দীন কী ? সে বলেঃ আমার দীন ইসলাম । এরপর তারা তাকে জিজ্ঞাসা করেঃ এ ব্যক্তি কে, যাকে তোমাদের কাছে পাঠান হয়েছিল ? তখন সে বলেঃ ইনি হলেন — রাসূলুল্লাহ (সা) । তখন ফেরেশতারা আর জিজ্ঞাসা করেঃ তুমি এ কিরূপে জানলে ? তখন সে বলেঃ আমি আল্লাহর কিতাব পড়েছি, এর উপর ঈমান এনেছি এবং একে সত্য বলে মনে করি । রাবী জারীর বলেন, আল্লাহর বাণীঃ ”আল্লাহ্ তা’আলা মু’মিনদের ইহজীবন ও পরজীবনে শাশ্বত- বাণীর (কালিমার) উপর দৃর রাখেন” – এর অর্থ ইহাই ।

রাবী বলেনঃ এরপর আসমান থেকে একজন আহবানকারী এরূপ ঘোষণা দিতে থাকেঃ আমার বান্দা সত্য বলেছে, তার কবরে জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও, তাকে জান্নাতের দিকে একটা দরজা খুলে দাও । রাবী বলেনঃ তখন তার কবরে জান্নাতের মৃদুমন্দ বাতাস ও খোশবু আসতে থাকে এবং সে ব্যক্তির কবরকে দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত করে দেয়া হয় ।

এরপর তিনি কাফির ব্যক্তির মৃত্যুর অবস্থা বর্ণনা করে বলেনঃ কবরে রাখার পর তার আত্মাকে দেহের মধ্যে প্রবেশ করানো হয় । তখন দু’জন ফেরেশতা এসে তাকে বসায় এবং প্রশ্ন করেঃ তোমার রব কে ? তখন সে বলেঃ হাঁ – হা – লা -আদরী ; অর্থাৎ আফসোস, আমি তো জানি না । এরপর তারা তাকে জিজ্ঞাসা করেঃ তোমার দীন কী ? সে বলেঃ আফসোস আমি জানি না । এরপর তারা তাকে জিজ্ঞাসা করেঃ এ ব্যক্তি কে, যাকে দুনিয়াতে তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল ? তখন সে বলেঃ হায় আফসোস ! আমি জানি না । তখন আসমান থেকে একজন ঘোষণাকারী এরুপ বলতে থাকেঃ সে মিথ্যা বলেছে । তার কবরে আগুনের বিছানা বিছিয়ে দাও এবং তাকে আগুনের পোশাক পরিয়ে দাও এবং তার কবর থেকে জাহান্নামের দিকে একটা দরজা খুলে দাও ; যাতে তার কবরে জাহান্নামের আগুনের প্রচণ্ড তাপ ও ভাঁপ আসতে থাকে । এরপর কবর তার জন্য এতই সংকুচিত হয়ে যায় যে, তার পাজরের একপাশ অপরপাশে চলে যায় ।

রাবী জারীর আরো বর্ণনা করেনঃ এরপর সে ব্যক্তির জন্য একজন অন্ধ ও বধির ফেরেশতাকে নিয়োগ করা হয় এবং তার হাতে এমন একটা লোহার মুগুর থাকে, যদি তা দিয়ে দুনিয়ার কোন পাহাড়ের উপর আঘাত করা হয়, তবে তা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে মাটিতে পরিণত হবে । এরপর সে ফেরেশতা মুগুর দিয়ে তাকে এমনভাবে পিটাতে থাকে, যার শব্দ জিন ও ইনসান ব্যতীত পূর্ব – পশ্চিমের সমস্ত মাখলূক (সৃষ্টজীব) শুনতে পায় এবং তার দেহ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ধূলায় পরিণত হয় । এরপর তার মধ্যে পুনরায় রুহ ফুঁকে দেয়া হয় । এভাবে তাকে কবরের মধ্যে কিয়ামত পর্যন্ত শাস্তি দেয়া হয় ।

আল্লাহ্ আমাদের কবরের আযাব থেকে নাজাত দিন আমীন ! (অনুবাদক)

(সুনান আবু দাউদ :: কিতাব আস-সুন্নাহ অধ্যায় ৪২ :: হাদিস ৪৭৫৩)

[ http://sunnah.com/abudawud/42/158 ]

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s