তাবলীগ জামায়াতের পরিচিতিঃ৯৪ বছর জামাতেক একটি কোরআনের আয়াত ও ২টি হাদীস দিয়ে বাতিল করে দেয়

তাবলীগ জামায়াতের পরিচিতিঃ

১৯২১ সালে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের ‘মেওয়াত’ এলাকায় ‘ফিরোজপুর নিমক’ গ্রামে মাওলানা ইলিয়াস (১৩০৩-১৩৬৩হিঃ/১৮৮৫-১৯৪৪খৃঃ) তাবলীগ জামায়াত প্রতিষ্ঠা লাভ করে ।উক্ত ফের্কার মূল গ্রস্থ তাবলীগী নেছাব যা ফাজায়েলে আমল বলে পরিচিত । এর লেখক ইলিয়াস সাহেবের জামাই, ভাতিজা এবং ছাত্র মাওলানা যাকারিয়া (১৩১৭-১৪০২হিঃ) ।

উক্ত গ্রস্হ প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ মোতাবেক ১৩৯৫ হিঃ । মাওলানা ইলিয়াস রহঃ এর পুত্র মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ কান্ধলভী ১৯১৭-১৯৬৫ প্রণীত এবং মুহাম্মদ সাদ কর্তৃক উর্দূ অনুদিত মুন্তাখাব হাদীস বইটিও তাদের অনুসরণীয় ।
গ্রন্থটি প্রথম ২০০০ সালে প্রকাশিত হয় । তারা দেওবন্দী আলেম ও মতবাদকে সর্বাধিক মূল্যায়ন করে । উক্ত মৌলিক কিতাব ছাড়াও আশরাফ আলীর রচিত বেহেশতী জেওর, নিয়ামুল কোরআন ও মক্বছূদুল মুমিনীনকে অনুসরণ করে থাকে ।
১৯২০ ফালে মাওলানা উক্ত জামা’আতের সূচনা করেন । তিনি ১৯৪৪ সালেয় ১২ই জুলাই মারা যান । ফলে তার পুত্র মাওলানা ইউসুফ কান্দালভীকে আমীরের দায়িত্ব প্রদান করা হয় । ১৯৬৫ সালে ফেব্রুয়ারী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঢাকার ইজতেমায় অংশগ্রহন করেন । তিনি মাত্র ৪৮ বছর বয়সে ১৯৬৫ সালের ২রা এপ্রিল মারা যান । তার জানাযা পড়ান মাওলানা যাকারিয়া । পরে মাও যাকারিরা সাহেবের জামাই মাও ইনআমুল হাসান কান্ধলভীকে দায়িত্ব প্রদান করা হয় ।
বাংলাদেশে তাবলীগ জামাতের কার্যক্রম শুরুঃ
বাগেরহাট জেলার অধিবাসী মাও আঃ আযীযের মাধ্যমে ১৯৪৪ সালে সর্বপ্রথম এদের কার্যক্রম শুরু হয় । এদের প্রথম বার্ষিক ইজতেমা সূচনা হয় ১৯৪৬ সালে । ঢাকা কাকরাইল মসজিদে এর উদ্ধোধন হয় । ১৯৪৮ সালে চট্রগ্রামে,১৯৫৮ সালে নারায়ণগন্জে, ১৯৬৬ সালে টঙ্গীর পাগাড় গ্রামে বার্ষিক ইজতেমা আয়োজন করা হয় । আর ১৯৬৭ সাল থেকে তুরাগ নদীর তীরে প্রতি বছর কথিত “বিশ্ব ইজতেমা” অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে । রাজউকের ১২৫ একর জমি ইজতেমা মাঠ হিসাবে পরিচিত ।
আসুন দেখি মাত্র ৯৪ বছর আগে যে জামাতের জন্ম তাদের কে মাত্র একটি কোরআনের আয়াত ও ২টি হাদীস দিয়েই দিয়ে বাতিল করে দেয়া যায় কি ?

আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেনঃ
একদা রাসূল (সাঃ) আমাদের জন্য একটি সোজা রেখা টানলেন এবং বললেন, এটা আল্লাহর পথ । অতঃপর তিনি ঐ রেখার ডানে এবং বামে বেশ কিছু রেখা টানলেন । তারপর বললেন, এগুলোও পথ । তবে এই পথগুলোর প্রত্যেকটিতেই (মানবরূপী) শয়তান রয়েছে, সে মানুষকে তার দিকে ডাকবে । অতঃপর তিনি সোজা রেখাটির উপর ডান হাত রেখে নিম্নোক্ত আয়াত পাঠ করলেন,
অর্থঃ নিশ্চয়ই এই সোজা-সরল পথটিই আমার পথ । তোমরা কেবল এই পথেরই অনুসরণ করবে, অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না । নইলে তা তোমদেরকে এই পথ থেকে বিচ্যুত করে দিবে ।
(সুরাঃ আনআম/১৫৩, আহমাদ হা/৪১৪২,দারেমী হা/২০৮,নাসাঈ, আল কুবরা হা/১১১৭৮ সনদ হাসান,মিশকাত বাংলা হা/১৫৯)

অন্যত্র তিনি বলেনঃ
নিশ্চয়ই বানী ইসরাঈলরা ৭২ দলে বিভক্ত হয়েছিল । আর আমার উম্মত বিভক্ত হবে ৭৩ দলে । একটি দল ব্যতীত সবই জাহান্নামি । সাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন, সেটি কোন দল ? রাসূল (সাঃ) উত্তরে বললেন, আমি ও আমার সাহাবীগণ আজকের দিনে যার উপর আছি,তার উপরে যে দলটি থাকবে ।
(তিরমিয়ী হা/২১২৯,সিলসিলা সহীহাহ হা/১৩৪৮,হাকেম হা/৪৪৪,মিশকাত হা/১৭১)
প্রশ্নঃ আজ থেকে যে জামায়াতের জন্ম ৯৪ বছর আগে সেটা কি রাসূল (সাঃ) এর দেখান সেই সরল পথ নাকি সোজা রেখার ডানে বামের শয়তানি পথ ?

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s