অাকিদায়ে ইসলামিয়া বিষয়:ঈমান

★অাকিদায়ে ইসলামিয়া
বিষয়:ঈমান
____________________________
পারিভাষিক অর্থে “ঈমান” হল হৃদয়ে বিশ্বাস,মুখে স্বীকৃতি ও কর্মে বাস্তবায়নের নাম।যা অানুগত্যে বৃদ্ধি পায় ও গোনাহতে হ্রাস পায়।বিশ্বাস অার স্বীকৃতি হল মুল এবং কর্ম হল তার শাখা।যেটা না থাকলে পুর্ণ মুমিন হওয়া যায়না।
খারেজীগণ তিনটিকেই ঈমানের মুল হিসাবেই গণ্য করে।সেকারনে কবীরা গোনাহ কারী ব্যাক্তি তাদের মতে কাফের ও চিরস্হায়ী জাহান্নামী এবং তাদের রক্ত হালাল।মুরজিয়াগণ বিশ্বাস ও স্বীকৃতিকেই ঈমান বলে। কর্ম ঈমানের অংশ নয়।সেকারনে কবিরা গোনাহগার ব্যাক্তি তাদের নিকট পুর্ণাঙ্গ ঈমানদার।অামলহীন,শৈথল্যবাদী মুসলিমের অধিকাংশ নামে বেনামে এই দলভুক্ত।উক্ত দুই কট্টর ও শৈথল্যবাদী অাকিদার মধ্যমপন্হী হল অাহলে হাদিসের অাকিদা।এই অাকিদায় কবিরা গোনাহগার ব্যাক্তিকে কাফের বলেন না।বরং ফাসেক বা এুটিপুর্ণ ঈমানদার বলেন।তারা কবিরা গোনাহকে ঘৃণা করেন ও তা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করেন এবং পুর্ণাঙ্গ ঈমানদার হওয়ার জন্য সৎকর্ম সম্পাদনকে অাবশ্যিক গণ্য করেন।

ইমাম অাবু হানিফা (অাল্লাহ তাকে শান্তিতে রাখুন) ও কিছু সংখ্যক ফকীহ ‘অামলকে’ ঈমানের অন্তভুক্ত্য গণ্য করেন নি, বরং ঈমানের বাস্তব পদ্ধতি বলে মনে করেন।
অাহলেহাদিসগণ অাল্লাহর উপর ঈমান রাখেন রব হিসাবে,একক ইলাহ হিসাবে,তার অনন্য নাম ও গুণাবলী সহকারে,যা মাখলুখের নাম ও গুণাবলির সাথে তুলনীয় নয়।এই নির্ভেজাল একত্ববাদকেই বলা হয় তাওহীদ। তাওহীদকে তিনভাগে ভাগ করা যায়।যথা, ১.তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ,২.তাওহীদে অাসমা ওয়া ছিফাত,৩.তাওহীদে উলুহিয়্যাহ।

১.তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ: এর অর্থ হল অাল্লাহকে সৃষ্টিকর্তা,পালনকর্তা, রুযিদাতা,অারোগ্যকারী,জীবন- মরনদাতা প্রভৃতি বিশ্বাস করা।কিছু সংখ্যক নাস্তিক ও প্রকৃতবাদী ছাড়া দুনিয়াতে যুগে যুগে অাল্লাহকে রব হিসাবে বিশ্বাস করে এসেছে, অারবের মুশরিকরা ও এতে বিশ্বাস রাখত।তাই শুধু তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ এর উপর ঈমান অানলে কেউ মুমিন হতে পারেনা,অাখিরাতে মুক্তি পেতে পারেনা।

২.তাওহীদে অাসমা ওয়া ছিফাত: এর অর্থ হল অাল্লাহর নাম ও গুণাবলীর একত্বের ব্যাপারে যেমন বর্ণিত অাছে তেমনভাবে বিশ্বাস করা।কোন রুপক অর্থ বা কল্পিত ব্যাখ্যা ছাড়াই অাহলে হাদিসগণ অাল্লাহর নাম ও গুণাবলী সংক্রান্ত অায়াত ও ছহীহ হাদিস সমুহকে প্রকাশ্যে অর্থ গ্রহন করে থাকে।তারা বিশ্বাস করে অাল্লাহর নিজস্ব অাকার অাছে,যা কারো সহিত তুলনীয় নয়।তারা অাল্লাহর সওা বা গুণাবলীকে বান্দার সওা বা গুণাবলীর সদৃশ্য মনে করেনা কিংবা মুল অর্থ পরিত্যাগ করে গৌণ অর্থ গ্রহন করেনা।তারা অাল্লাহকে নিরাকার ও নিগুর্ণ সওা মনে করেন না।তারা অাল্লাহর নাম ও নামীয় সওাকে এক ও অবিভাজ্য মনে করেন এবং অাল্লাহর সক্তাগত ও কর্মাগত গুণাবলিকে অাল্লাহর সক্তার সাথে অবিচ্ছিন্ন ও ক্বাদীম(সনাতন) বলে বিশ্বাস করেন।

৩.তাওহীদে উলুহিয়্যাহ: এর অর্থ হল সর্বপ্রকার দাসত্ব ও ইবাদতের জন্য অাল্লাহকে একক গণ্য করা।অাল্লাহর জন্য সর্বাধিক ভালবাসা সহ চরম প্রণতি পেশ করাকে ইবাদত বলা হয়।ইলাহ হলেন সেই সওা যার নিকটে অাশ্রয় ভিক্ষা করতে হয় ও যাকে ইবাদত করতে হয় মহব্বতের সাথে একনিষ্ঠভাবে ভীতিপুর্ণ সম্মান ও শ্রদ্ধার সাথে।

একজন পুর্ণ মুমিন তার অাধ্যত্নিক জীবনে ছালাত-সওম,যবহ-মান্নত,হজ্ব তাওয়াফ ইত্যাদি ইবাদতের সকল পদ্ধতিতে যেমন ইলাহী বিধান মেনে চলবেন,বৈষয়িক জীবনেও তেমনি অাল্লাহর কিতাব ও রাসুলের (সঃ) সুন্নত এবং যুগের শরীঅাত অভিঙ্গ মুসলিম বিদ্বানগণের ইজতিহাদ অনুযায়ী স্বীয় কর্ম পরিচালনা করবেন।যে ইজতিহাদ হবে কেবল অাল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ও যুগের উদ্ভুত সমস্যাবলীর শরীঅত অনুযায়ী সমাধান দেয়ার জন্য।
অাল্লাহ ও রাসুল(স) কে বাদ দিয়ে অন্য অন্য যার কাছ থেকেই ফয়সালা নেবে বা অন্ধ অানুগত্য প্রদর্শন করা হবে সেই তাগুত।যা থেকে দুরে রাখার জন্য নবীগন এসেছিলেন।তাই তাগুতকে অস্বীকার করা ব্যতীত অাল্লাহর ইবাদত হাছিল হওয়া সম্ভব নয়।মুলত এটাই হল তাওহীদে উলুহিয়্যাহ।
অাহলুল হাদিসগহ উপরোক্ত তিন প্রকার তাওহীদকে গ্রহন করেন ও সেভাবেই অাল্লাহর উপর ঈমান পোষন করে থাকেন।

অাহলেহাদিসগণ সকল ফেরেশতা, কুরঅানে বর্ণিত ২৫ জন নবী-রাসুল সহ হাদিসে বর্ণিত ৩১৫ জন রাসুল সহ ১ লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী-রাসুল,কুরঅানে বর্ণিত চারটি শ্রেষ্ঠ কিতাবখানা সহ অন্যান্য নবী রাসুলগণের প্রতি অবতীর্ণ সকল কিতাব ও ছহীহ ছহীফা,তাকদীরের প্রতি(হায়াত,রিযিক,জান্নাতি, জাহান্নামি এই প্রধান চারটি বিষয় সহ বান্দার ভাল-মন্দ জগত সৃষ্টির ৫০ হাজার বছর পুর্বে অাল্লাহর ইলমে লিপিবদ্ধ হয়ে অাছে) দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।এছাড়া অাহলেহাদিসগণ দৃঢ় বিশ্বাস রাখেন যে ইবাদতের জন্য যেমন অাল্লাহকে একক গণ্য করতে হবে,তেমনি অনুসরনের জন্য ও মুহাম্মদ (সঃ) কে একক গণ্য করতে হবে।এছাড়া অাহলে হাদিসগণ ঈমানের হ্রাস বৃদ্ধি অর্থাৎ নেক অামলে ঈমান বৃদ্ধি, গোনহতে ঈমানের হ্রাস হওয়াতে বিশ্বাস রাখেন,অাহলে হাদিসগণ কবিরা গোনাহকারীকে খারেজীদের ন্যায় কাফির বলেনা এবং চিরস্থায়ী জাহান্নামি মনে করেন না,অাবার তাদেরকে খাঁটি মুমিন ও মনে করেন না।
এছাড়া অাহলেহাদিসগণের অন্যতম অাকিদা হলঅাল্লাহর কালাম(কুরঅান) সৃষ্ট নয় মনে প্রাণে বিশ্বাস করা।এছাড়া অাহলে হাদিসগণ সেসব গায়েবে দৃঢ় বিশ্বাস রাখেন যা অাল্লাহ ওহী মারফতে রাসুলুল্লাহ (সঃ) কে জানিয়েছেন,এবং তিনি তা তার উম্মতকে জানিয়েছেন,যেমন ঈসা (অা) এর অাগমন,পশ্চিম দিকে সুর্য উঠা,দাজ্বালের অাগমন,ইয়াজুজ-মাজুজ ইত্যাদি।
এছাড়া অাহলে হাদিসগণ কিয়ামতের দিন অাল্লাহকে দর্শনে,খতমে নবুওয়তে,কিয়ামতের দিন রাসুল (সঃ) এর শাফাঅাতে বিশ্বাসী এবং তারা ছাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) এর উচ্চ মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকেন ও তাদের সমালোচনা থেকে বিরত থাকেন।
অাহলেহাদিসগণ বিশ্বাস করেন খোলাফায়ে রাশেদিনের চারজন এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যাক্তিত্ব এবং রাসুল (সঃ) যে দশজন সাহাবীকে দুনিয়াতে জান্নাতের সার্টিফিকেট দিয়েছেন তারা জান্নাতি হবে।
অাহলে হাদিসদের অাকিদা মতে ভাল-মন্দ সকল ঈমামের পিছনে সালাত অাদায় করা বৈধ এবং ভাল-মন্দ সকল অামীরের অানুগত্য করতে হবে।অবশ্য শরীঅত বিরোধী হুকুম মানতে মুসলিম প্রজাসাধারন বাধ্য নয়।শাসক অপছন্দনীয় হলে ছবর করতে হবে,তার হেদায়তের জন্য দুঅা করতে হবে,তার সংশোধন বা ইছলার জন্য তার সম্মুখে হক কথা বলতে হবে।শএু কতৃক দেশ অাক্রান্ত হলে ভাল-মন্দ সব অামীরের অধীনে জিহাদে অংশগ্রহন করতে হবে,প্রকাশ্যে কুফুরি প্রত্যক্ষ না করা পর্যন্ত শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা কিংবা সশস্ত্র অভ্যুত্থান করা চলবেনা।নারিকে মুসলমানের শাসন কতৃত্বে বসানো যাবেনা।

চলবে……….

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s