9]-তারাবীহ স্বালাতের ইমাম/হাফেজ সাহেবদের প্রতি আহবান

quran-58

রাতের স্বালাতে রাসূল (সাঃ) এর ক্বিরাআত কেমনি ছিল?

তারাবীহ এবং তাহাজ্জুদ দুটিই রাতের স্বালাতের অন্তর্ভুক্ত। আর রাতের স্বালাতের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো – ক্বিয়াম। যার কারণে দুটি স্বালাতের আরবী নাম দেয়া হয়েছে: ক্বিয়ামুল লাইল – তাহাজ্জুদ স্বালাত এবং ক্বিয়ামু রমাদ্বান – তারাবীহ স্বালাত। আর ক্বিয়ামের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে দীর্ঘ তিলাওয়াত, আর তিলাওয়াতের সাথে সাথে আল্লাহর বাণীগুলি নিজের অন্তরে নামানো, বুঝার জন্য চেষ্টা করা। স্বালাতের মধ্যে বুঝা সম্ভব না হলে অন্য সময়ে বিভিন্ন তাফসীর পড়ার মাধমে বুঝা এবং সে অনুযায়ী আমল করা।

সুতরাং রাতের স্বালাতে দীর্ঘ ক্বিরাআতের মাধ্যমে ক্বিয়ামকে দীর্ঘায়িত করাই হলো রাতের স্বালাতের প্রধান বৈশিষ্ট্য। আসুন আমরা জানার চেষ্টা করি রাতের স্বালাতে রাসূল (সাঃ) এর কিরাআত কেমন ছিল।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সূরাহ মুযযাম্মিলে রাসূল (সাঃ) কে রাতের স্বালাত আদায়ের নির্দেশ দানের পর বলেন:

“ওয়ারত্তিলিল কুরআনা তারতী-লা।”

অর্থ: “আর কুরআন থেমে থেমে পাঠ করো।” – সূরাহ মুযযাম্মিল : আয়াত – ৪

অর্থাৎ, তাড়াতাড়ি ও দ্রুতগতিতে পড়োনা। বরং ধীরে ধীরে প্রতিটি শব্দ সুন্দরভাবে মুখে উচ্চারণ করে পড়ো। এক একটি আয়াত পড়ে থেমে যাও যাতে মন আল্লাহর বাণীর অর্থ ও তার দাবীকে পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারে এবং তার বিষয়বস্তু দ্বারা প্রভাবিত হয়। কোন জায়গায় আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলীর উল্লেখ থাকলে তার মহত্ত্ব শেষ্ঠত্ত্ব ও ভীতি যেন মনকে ঝাঁকুনি দেয়। কোন জায়গায় তার রহমত ও করুণার বর্ণনা আসলে হৃদয় মন যেন কৃতজ্ঞতার আবেগে আপ্লুত হয়ে ওঠে। কোন জায়গায় তার গজব ও শাস্তির উল্লেখ থাকলে হৃদয়মন যেন তার ভয়ে কম্পিত হয়। কোথাও কোন কিছুর নির্দেশ থাকলে কিম্বা কোন কাজ করতে নিষেধ করা হয়ে থাকলে কি কাজ করতে আদেশ করা হয়েছে এবং কোন কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে তা যেন ভালভাবে বুঝে নেয়া যায়।

মোট কথা কুরআনের শব্দগুলো শুধু মুখ থেকে উচ্চারণ করার নাম কুরআন পাঠ নয়, বরং উচ্চারণ করার সাথে সাথে তা উপলব্ধি করার জন্য গভীরভাবে চিন্তা ভাবনাও করতে হবে। খুব ভারী কথা বলা হয়ে গেল বোধ হয়। বলবেন ভাই, এভাবে তো আমাদের পক্ষে তিলাওয়াত করা সম্ভব নয়। আর আমাদের ভাষাও আরবী নয় যে আমরা পাঠ করার সাথে সাথে তা বুঝবো। কথা সত্য ভাই, কিন্তু ভাই চেষ্টা করতে দোষ কি? আমরা আমাদের চেষ্টার দ্বারা কত অসম্ভবকেই তো সম্ভব করেছি। এখানেও একটু করে দেখি – মহান আল্লাহ নিশ্চয়ই আমাদের সাহায্য করবেন। ইনশা-আল্লাহ। আর অর্থ বুঝতে পারবো না বলেই কি আমাদের তিলাওয়াতকে দ্রুতগতিতে করতে হবে। আমরা কি ধীরে ধীরে, সুস্পষ্টভাবে তিলাওয়াত করতে পারি না? নাকি এটাও আমাদের সাধ্যের বাহিরে। আমরা যদি আমাদের দ্বারা যেটা সম্ভব সেটা তার যথাযথ হক্ব আদায় করে করতে পারি এবং অসম্ভবকে সম্ভব করার চেষ্টা করি তবেই না আল্লাহ তায়ালা আমাদের সাহায্য করবেন। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাওফীক দান করুন। আমীন!

কুরআন কিরাআতের ব্যাপারে আল্লাহর নির্দেশের পর আসুন এবার রাসূল (সাঃ) এর কিছু হাদীস নিয়ে আলোচনা করি। দেখি রাসূল (সাঃ) কিভাবে স্বালাতে কুরআন তিলাওয়াত করতেন:

১. প্রতিটি শব্দ আলাদা আলাদা – সুস্পষ্ট করে তিলাওয়াত করা:

উম্মু সালামাহ (রাদ্বিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) প্রতিটি শব্দ আলাদা আলাদাভাবে উচ্চারণ করে ক্বিরাআত পাঠ করতেন। তিনি পাঠ করতেন “আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন” তারপর বিরতী দিতেন; তারপর পাঠ করতেন: “আর-রাহমানির রাহীম”, তারপর বিরতী দিয়ে আবার পাঠ করতেন: “মালিকি ইয়াওমিদ্দীন”। (সুনান আত-তিরমিযী, হাদীস/২৯২৭, হোসাইন মাদানী পাবলিকেশন্স)

অর্থাৎ রাসূল (সাঃ) প্রতিটি শব্দ আলাদা আলাদা করে পড়াই হলো সুন্নাহ, রাসূলের অনুসরণ। কিন্তু আমরা কার অনুসরণে কুরআন খতম দিতে গিয়ে এক নিঃশ্বাসে যতটুকু পড়া যায় ততটুকু পড়ছি। আবার দ্রুত কুরআন খতম দিতে গিয়ে এত দ্রুত পরছি যে, মুসল্লিদের পক্ষে কোন শব্দই বুঝা সম্ভব হচ্ছে না। ভাই, রাসূলের সুন্নাহর বিপরীতে এভাবে তিলাওয়াত করে স্বালাত আদায় করলে স্বালাত শুদ্ধ হবে কি?

২. প্রতিটি শব্দকে তার মাদ সহকারে পড়া:

ক্বাতাদাহ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস (রাদ্বিঃ) কে নবী (সাঃ) এর ক্বিরাআত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, নবী (সাঃ) এর ক্বিরাআত কেমন ছিল ? উত্তরে তিনি বললেন, কোন কোন ক্ষেত্রে নবী (সাঃ) দীর্ঘ করতেন। এর পর তিনি “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” তিলাওয়াত করে শোনালেন এবং তিনি বললেন, নবী (সাঃ) “বিসমিল্লাহ” “আর-রাহমান” “আর-রহীম” পড়ার সময় দীর্ঘায়িত করতেন। (সহীহুল বুখারী, হাদীস/৫০৪৬, তাওহীদ পাবলিকেশন্স)

অর্থাৎ রাসূল (সাঃ) এর ক্বিরাআত আমাদের মসজিদগুলির মাযহাবী ইমামদের মত দ্রুত ছিল না। তিনি (সাঃ) প্রতিটি আয়াতকে প্রতিটি শব্দকে তার মদ সহকারেই পড়তেন। আর আমাদের ইমাম সাহেবরা কী পড়েন তার অধিকাংশ মুসল্লিই বুঝেন না, মদ তো দূরের কথা। আল্লাহ পাক আমাদের সুন্নাহ অনুসরণের তাওফীক দান করুন। আমীন!

৩. প্রতিটি আয়াতকে পরবর্তি আয়াতের সাথে না মিলিয়ে বিরতী/ওয়াকফ সহকারে পড়া:

এক নাম্বার শিরোনামের দলীলই এই শিরোনামেও প্রযোজ্য। সুতরাং উপরে দেখে নিন।

৪. সুন্দর আওয়াজ এবং সুর দিয়ে সৌন্দর্যমন্ডিত তিলাওয়াত করা:

আবু হুরায়রাহ (রাদ্বিঃ) হতে বর্ণিত যে, নাবী (সাঃ) বলেছেন: আল্লাহ তায়ালা কোন বিষয়ের প্রতি ঐরুপ কান লাগিয়ে শুনেন না যেরুপ তিনি নাবীর সুমধুর তিলাওয়াত শুনেন। সুফইয়ান (রাহঃ) বলেন, এর অর্থ সুস্পষ্ট করে আওয়াজের সঙ্গে কুরআন পাঠ করা। (সহীহুল বুখারী, হাদীস/৫০২৩, তাওহীদ পাবলিকেশন্স)

হাদীসটিতে নবীর তিলাওয়াতের কথা আসলেও পরবর্তিতে সালাফদের মতামত থেকে পরিস্কার করা হয়েছে যে, সুস্পষ্ট করে সুন্দর আওয়াজের সাথে কুরআন তিলাওয়াত আল্লাহ তায়ালার নিকট অধিক পছন্দনীয়। ঐরুপ পছন্দনীয় যেরুপ পছন্দ হলে আমরা কোন বিষয় কান লাগিয়ে শুনি।

এবার এই হাদীসের সাথে আপনাদের তিলাওয়াতকে একটু মিলান তো দেখি ? আপনাদের তারাবীহ স্বালাতের কুরআন তিলাওয়াত কি সুস্পষ্ট ? এরুপ তিলাওয়াতে কি আল্লাহ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মনযোগ দিবেন ? ভাই, একটু নিরপেক্ষ হয়ে ভাবুন এবং সুন্নাহর দিকে ফিরে আসুন। মহান আল্লাহ আমাদের তাওফীক দান করুন। আমীন!

সুতরাং পরিস্কার ও বিশুদ্ধ উচ্চারণ সহ শব্দের অন্তর্নিহিত অর্থ চিন্তা করে তদ্বারা প্রভাবান্বিত হওয়াই আসল তারতীল। অনুরুপভাবে সুন্দর করে পড়াও এর অংশ। যেমন, হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:

আবু হুরায়রাহ (রাদ্বিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: যে লোক সুন্দর আওয়াজে কুরআন পড়ে না, সে আমাদের (দলভুক্ত) নয়। (সহীহুল বুখারী, হাদীস/৭৫২৭, তাওহীদ পাবলিকেশন্স)

দ্রুত এবং অবোধগম্য কুরআন তিলাওয়াত সুন্দর আওয়াজে কুরআন তিলাওয়াতের বিপরীত এবং তা রাসূল (সাঃ) এর নির্দেশেরও বিপরীত। যেমন, ইবনু মাজাহর একটি হাদীসে বলা হয়েছে:

আল বারাআত ইবনু আযিব (রাদ্বিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: সুকন্ঠী আওয়াজ দিয়ে কুরআনকে সৌন্দর্যমন্ডিত কর। (সুনান ইবনু মাজাহ, হাদীস/১৩৪২, তাওহীদ পাবলিকেশন্স)

বলতে পারেন সবার কন্ঠস্বর তো সুন্দর নয় – ভাই এটা নিজের এখতিয়ারে না। আল্লাহ যাকে যেমন যোগ্যতা দিয়েছেন তেমন করেই পড়তে হবে। সুতরাং ভাই, আসুন দ্রুত নয় ধীর-স্থীরভাবে সুস্পষ্টভাবে কুরআন তিলাওয়াত করি এবং বিভিন্ন তাফসীরের মাধ্যমে কুরআন বুঝে তার উপর আমল করা চেষ্টা করি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের তাওফীক দান করুন। আমীন!

৫. কুরআনের ভাবের সাথে প্রভাবিত হয়ে তিলাওয়াত করা:

মুত্বররিফ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু শিখখীর (রাহঃ) নিজের পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি নাবী (সাঃ) এর নিকট আসলাম এমতাবস্থায় যে, তিনি স্বালাত আদায় করছিলেন এবং তার ভিতর থেকে টগবগে আওয়াজ হচ্ছিল যেমন ডেগের ফুটন্ত পানির টগবগ আওয়াজ হয়। অর্থাৎ তিনি কান্নাকাটি করছিলেন। (মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস/১০০০(২৩), হাদীস একাডেমী, হাদীসটি আরও বর্ণিত হয়েছে: সুনান আবু দাউদ/৯০৪ (তার বুক থেকে যাঁতা পেষার আওয়াজের ন্যায় কান্নার আওয়াজ হচ্ছিল), নাসাঈ/১২১৪ (তার ভিতরে ডেকচীর শব্দের ন্যায় শব্দ হচ্ছিল। অর্থাৎ, তিনি কাঁদতেছিলেন।), সনদ সহীহ।

এই হাদীস প্রমাণ করে যে, স্বালাতের ক্বিরাআতের সময় আযাবের আয়াত আসলে আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করা রাসূল (সাঃ) এর সুন্নাহ। এই হাদীসের দাবী এটাও যে, কুরআন তিলাওয়াতের সাথে সাথে এর ভাবের সাথে, আবেগের সাথে তিলাওয়াত করতে হবে। যেমন আমরা উপরে আলোচনা করেছি। অর্থাৎ, কোন জায়গায় আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলীর উল্লেখ থাকলে তার মহত্ত্ব শেষ্ঠত্ত্ব ও ভীতি যেন মনকে ঝাঁকুনি দেয়। কোন জায়গায় তার রহমত ও করুণার বর্ণনা আসলে হৃদয় মন যেন কৃতজ্ঞতার আবেগে আপ্লুত হয়ে ওঠে। কোন জায়গায় তার গজব ও শাস্তির উল্লেখ থাকলে হৃদয়মন যেন তার ভয়ে কম্পিত হয়। কোথাও কোন কিছুর নির্দেশ থাকলে কিম্বা কোন কাজ করতে নিষেধ করা হয়ে থাকলে কি কাজ করতে আদেশ করা হয়েছে এবং কোন কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে তা যেন ভালভাবে বুঝে নেয়া যায়। আর এভাবে তিলাওয়াতের মাধ্যমেই তাক্বওয়া অর্জন করা সম্ভব। মহান আল্লাহ আমাদের তাওফীক দান করুন। আমীন। (এভাবে হৃদয় গলানোর মত তিলাওয়াত শুনতে চাইলে YouTube থেকে Sheikh Abdallah Kamel এর তিলাওয়াত ডাউনলোড করে শুনতে পারেন।) মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে কুরআনুল কারীম সঠিকভাবে তিলাওয়াতের তাওফীক দান করুন। আমীন!

৬. কুরআনে তাসবীহ, দোয়া ইত্যাদির সময় তাসবীহ এবং দোয়া পাঠ করা:

হুযায়ফা (রাদ্বিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এক রাতে আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সালাত আদায় করছিলাম। তিনি সুরা বাকারা শুরু করলেন, আমি মনে করলাম সম্ভবত একশত আয়াতের মাথায় রুকু করবেন। কিন্তু তিনি অগ্রসর হয়ে গেলেন। তখন আমি ভাবলাম, তিনি সূরা বাকারা দিয়ে সালাত পূর্ণ করবেন। কিন্তু তিনি সূরা নিসা আরম্ভ করলেন এবং তাও পড়ে আলে ইমরান শুরু করে তাও পড়ে ফেললেন। তিনি ধীর-স্থিরতার সাথে পাঠ করে যাচ্ছিলেন। যখন তাসবীহ যুক্ত কোন আয়াতে উপনীত হতেন তখন তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পাঠ করতেন এবং যখন প্রার্থনার কোন আয়াতে উপনীত হতেন তখন তিনি প্রার্থনা করে নিতেন। আর যখন (আল্লাহর কাছে) আশ্রয় গ্রহণের আয়াতে পৌছতেন তখন (আল্লাহর কাছে) পানাহ চাইতেন।

তারপর রুকু করলেন এবং রুকুতে سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ (আমার মহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি), বলতে থাকেন। তার রুকু ছিল প্রায় তার দাঁড়ানোর সমান (দীর্ঘ)। এরপর বললেন, سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (যে ব্যাক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে আল্লাহ তা শোনেন)। তারপর দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন রুকুতে যতক্ষন ছিলেন তার কাছাকাছি। তারপর সিজদা করলেন এবং سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى (আমার সুমহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি), বললেন। তাঁর সিজদার পরিমাণ ছিল তার দাঁড়ানোর কাছাকাছি। বর্ণনাকারী বলেন, জারীর (রহঃ) এর হাদীসে অতিরিক্ত রয়েছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ (যে ব্যাক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে, তিনি তা শোনেন আমাদের প্রতিপালক! আপনারই জন্য সকল প্রশংসা)। (সহীহ মুসলিম, হাদীস/১৬৮৭, ই.ফা.বা)

সুতরাং রাসূল (সাঃ) এর সুন্নাহ অনুসরণে আমাদেরও উচিত তাসবীহযুক্ত কোন আয়াত উপনিত হলে, আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করা, প্রার্থনার আয়াত পাঠ করা হলে প্রার্থনা করা, আশ্রয় গ্রহণের আয়াত পাঠ করা হলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া। আর এটা ধীর-স্থিরতার সাথে পাঠ না করা হলে (দেশীয় সিস্টেমে দ্রুত তিলাওয়াত করলে) কখনই সম্ভব নয়। আমাদের দেশের মোল্লারা-হাফেয সাহেবরা তারাবীহ স্বালাতে যেভাবে কুরআন পড়ে তা অবশ্যই আল্লাহ নির্দেশিত তারতীল এর বিপরীত। তার কুরআনের এই সমস্ত হক নষ্ট করে। এই জন্য কুরআন তাদের অন্তরে নামে না। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের বুঝার তাওফীক দান করুন।

৭. বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ আয়াত বার বার পাঠ করা:

আবু যার (রাদ্বিঃ) বর্ণনা করেন। একবার রাতের স্বালাতে কুরআন তিলাওয়াত করতে করতে নবী (সাঃ) যখন এই আয়াতটির কাছে পৌঁছলেন, “আপনি যদি তাদের শাস্তি দেন, তবে তারা আপনারই বান্দা। আর যদি আপনি তাদের ক্ষমা করে দেন, তাহলে আপনি পরাক্রমশালী ও বিজ্ঞ।” তখন তিনি (সাঃ) বার বার এ আয়াতটিই পড়তে থাকলেন এবং এভাবে ভোর হয়ে গেল। সাহাবী ও তাবেঈগণেরও এ অভ্যাস ছিল। (মুসনাদে আহমাদ/৫/১৪৯ সূত্রে আবু বকর মুহাম্মাদ জাকারীয়া প্রণীত ও বাদশাহ ফাহাদ কুরআন কমপ্লেক্স থেকে প্রকাশিত তাফসীরুল কুরআন এর সূরাহ মুযযাম্মিল ৪নং আয়াতের তাফসীর থেকে গৃহীত)

এ সুন্নাহটির বাস্তব প্রয়োগ আমাদের সমাজে একেবারেই নেই। অথচ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাগুলি এর মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে সহজে বসানো যায়। যেমন, আমরা রাসূল (সাঃ) এর হাদীস অধ্যয়নের সময় দেখতে পাই রাসূল (সাঃ) কোন কোন কথাকে তিনবার বা কখনও তার চেয়েও বেশিবার বলেছেন এবং সাহাবীরা সেগুলিকে গুরুত্ব দিয়েই গ্রহণ করেছেন। মহান আল্লাহ আমাদেরকে এ সুন্নাহ বুঝার এবং এর উপরে আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন! (এর উদাহরণও আমার প্রিয় ক্বারী শেইখ আব্দাল্লাহ কামেল এর পাওয়া যায়, যারা দেখতে চান ইউটিউব থেকে দেখতে পারেন)

মানুষের জন্য আল্লাহর হিদায়াতের বাণী আল-কুরআনুল কারীম কেউ যদি সঠিকভাবে হক আদায় করে তিলাওয়াত করে আল্লাহ পাক তাকে অবশ্যই হিদায়াত করবেন, ইনশা-আল্লাহ। এজন্য আরবের কাফের মুশরিকরা, মক্কার কাফের মুশরিকরা কুরআন শুনতে চাইতো না। আর আমরা কুরআন শুনলেও, কুরআনকে মুহাব্বাত করলেও কুরআনের ব্যাপারে এমন পন্থা অবলম্বন করছি যে, কুরআন বুঝাই আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে গেছে – কুরআনের উপরে আমল করা তো অনেক দূরের বিষয়। আমরা এমনভাবে কুরআন পড়ছি – শুধু যেনতেন তিলাওয়াত হলেই হলো – কারণ আমাদেরকে শিখানোই হয়েছে খতমের পর খতম করো, করতে করতে নিজেই খতম হয়ে যাও। বুঝার দরকান নাই, তাফসীর পড়ার দরকার নাই, বুঝতে গেলে গোমড়া হয়ে যাবে – নাউযুবিল্লাহ। আর আমল করবে প্রচলিত নিয়মে, যেভাবে বাপ-দাদারা করে গেছে, যেভাবে দেশীয় আলেমরা (?) বলতেছে।

আর এমনভাবে কুরআন শুনছি যে, কুরআনে কি পড়া হচ্ছে তা আমরা বুঝতেই পারছিনা। তাহলে কুরআন আমাদের উপর প্রভাব ফেলবে কি করে ? আমরা কুরআনের হিদায়াত পাব কি করে ? মহান আল্লাহ আমাদের বুঝার তাওফীক দান করুন। আমীন!

sourse- https://wordpress.com/read/feeds/4436530/posts/1049221241

sogoodislam

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s