ঊনপঞ্চাশ কোটি ফযীলতের হাক্বীকতঃ

tableeg-sowab

চিল্লায় বের হলে যেকোন আমলের ঊনপঞ্চাশ কোটি গুন সওয়াব পাওয়া যায় -এ সংক্রান্ত কোন সহীহ হাদীসতো দূরের কথা জাল বা জঈফ হাদীসও পৃথিবীতে পাওয়া যায় না। তাবলীগী মুরুব্বীদের নিকট দলিল চাইলে তারা বলে, এটা দু’টি হাদীসের গূণফলের সমষ্টিকে বোঝানো হয়। আমি হাদীস দুটি উল্লেখ করলাম।
.
■১ম হাদীসঃ
===========
-“সালাত, সিয়াম ও জিকিরকে আল্লাহর রাস্তায় খরচ করার উপরে সাতশ গুণ নেকী বৃদ্ধি করা হয়।”
[আবুদাঊদ, অধ্যায়:‘জিহাদ’, অনুচ্ছেদ:১৪, হা/২৪৭৮]
.
■২য় হাদীসঃ
===========
-“যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের খরচ বহন করে এবং নিজ আবাসে থেকে যায় সে প্রত্যেক দিরহামের বিনিময়ে সাতশত দিরহামের নেকী লাভ করে। আর যে ব্যক্তি সশরীরে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে এবং এর খরচ বহন করে, তার প্রতিটি দিরহামের বিনিময়ে সে ৭ লক্ষ দিরহামের সাওয়াব পায়..। [ইবনু মাজাহ, অধ্যায়:‘জিহাদ’, অনুচ্ছেদ:৪, হা/২৭৬১; মিশকাত অধ্যায়:‘জিহাদ’, হা/৩৮৫৭]।
→ উপরোক্ত হাদীসদুটি দ্বারা প্রচলিত তাবলীগ জামা’আতের লোকেরা তাদের সাথে চিল্লায় বের হয়ে যেকোন সৎ আমলের নেকী ৪৯,০০,০০,০০০ (ঊনপঞ্চাশ কোটি) বলে প্রচার করে। তাদের হিসাবটা হলো এই রকম:- ৭০০ X ৭,০০,০০০ = ৪৯,০০,০০,০০০!
■তাহক্বীকঃ
=======
উক্ত দু’টি হাদীসই জঈফ।
→ ১ম হাদীসটি জঈফ আল-জামেউস সাগীর হা/১৪৯৩
→ ২য় হাদীসটিও জঈফ (মিশকাত হা/৩৮৫৭, আত-তা’লীকুর রাগীব ২/১৫৭)।
উক্ত হাদীসের রাবী আল-খালীল বিন আব্দুল্লাহ সম্পর্কে ইবনু হাজার আসকালানী ও ইমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত।
ইবনু আব্দুল হাদী ও ইমাম যাহাবী বলেন, তার পরিচয় সম্পর্কে কিছু জানা যায় না। [ তাহযীবুল কামাল রাবী নং ১৭২৯, ৮/৩৩৮ পৃঃ]
■হাক্বীকাতঃ
===========
✔ যদিও উভয় হাদীস দূর্বল তথাপি হাদীসে গ্রন্থে আমারা দেখেছি যে তা জিহাদ সংক্রান্ত হাদীস। ৪০ দিনের জন্য বের হওয়া কি জিহাদ?✔ দুই হাদীসের দুই রকম ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু একত্রিত করে গুণ করার এখতিয়ার তাবলীগি মুরুব্বীদের কে দিলো? তারা কি ইহুদী পন্ডিতদের মতো ‘আরবাব’ হয়ে রবের স্থান দখল করলো নাকি!

✔ যদি এমন প্রতি নেকীর বিনিময়ে ঊনপঞ্চাশ কোটি নেকী পাওয়া সম্ভব, তা হলে তা রাসূল ﷺ -ই সরাসরি বলে যেতেন, তাই নয় কি? তাবলীগি ভাইয়েরা কি নবী ﷺ এর চেয়ে উত্তম কিছু দিতে চায়?

✔রাসুল ﷺ এর বহুল প্রচলিত সহীহ হাদীসে তিনি ফজিলতের উদ্দেশ্যে ৩টি মসজিদে যেতে বলেছেন। সেই স্থানগুলো হলো মসজিদুল হারাম, মদীনার মসজিদে নবী ও আলআকসা মসজিদ এবং এই মসজিদ গুলোতে সালাত আদায়ের ফজিলত হলো যথাক্রমে ১ লাখ, ১ হাজার এবং ৫০০ গুন বেশী সাওয়াব। [আহমাদ]।

উপরে আলোচ্য ৪৯ কোটি গুন ফজিলতের ক্যালকুলেশন যদি সত্য হয় তা হলে এই প্রসিদ্ধ সহীহ হাদীসটি মিথ্যা প্রতিপণ্য হবে। কিভাবে? দেখুন উপরোক্ত ক্যালকুলেশ অনুযায়ী চিল্লায় বের হয়ে বাংলাদেশের যেকোন মসজিদে সালাত আদায় করা হলে তা হবে –
→ মক্কার হারাম শরীফের ৪ হাজার ৯ শত রাক’আত সালাত আদায় করার সমান। এবং
→ মদীনার মসজিদের নবীতে ৪ লক্ষ ৯০ হাজার রাক’আত সালাত আদায় করার সমান।
তাহলে আমরা ফজিলতের উদ্দেশ্যে মক্কা মদিনায় ছুটছি কেন?
তাবলীগি ভাইদের সাথে চিলায় গিয়ে চিল্লাচিল্লি করলেই তো অসীম সাওয়াবের অধিকারী হওয়া যায় !
 [sourse-logloglogononon]
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ
রাসুল ﷺ VS আপনাদের তাবলীগি মুরুব্বী!
কে সত্যবাদী?
তাবলীগি ভাইদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন রেখে গেলাম।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s