Tarawi salat 8 rakats by hanafi alims

যেসব হানাফী আলেম তারাবীহ সালাত ৮ রাকায়াত বলেছেন তাদের একটি তালিকাঃ >>>

১. আনোয়ার শাহ্ কাশ্মিরী (রহঃ) তিনি তার কিতাব, আল্ আরফুসসাজি। তিরমিজির সরাহ/ব্যখ্যা ভারত দেওবন্দ ছাপা, সেই কিতাবের ৩৩০ পৃষ্ঠায় লিখেছেন। কোন উপায় নেই, এ কথা মেনে নেওয়া ছাড়া, যে নবী করিম (সাঃ) এর তারাবীহ্ ৮ রাকায়াত ছিল। এ কথা মানা ছাড়া আমাদের কোন উপায় নেই।

২. মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী মিস্কাতের সরাহ্/ব্যাখ্যা (ভাষ্য) মিরকাত ১ম খণ্ড ১১৫ পৃষ্ঠা লিখেছেন। তারাবীহ্ আসলে এগার রাকাত। রাসুল (সা.) পরেছেন অতঃপর বিশেষ কারণে তিনি ছেড়ে দিয়েছেন।

৩. আল্লামা ইবনুল হুমাম হানাফী তিনি তার কিতাব হিদায়াত ব্যাখ্যা তাতে তিনি ১ম খণ্ড ২০৫ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, ….আমার যে বক্তব্য তার সারকথা হচ্ছে যে, রমজান মাসের কিয়াম, তারাবীহ হচ্ছে এগার রাকাত সুন্নাত, বিতর সহ জামায়াতে। নবী করিম (সা.) এটা করেছেন এবং বিশেষ কারণে ছেড়ে দিয়েছেন।

৪. আল্লামা আব্দুল হাই লখনবী (রহ:) তার একটি ভাষ্য রয়েছে শরহে বেকায়া’র, হেদারার পরে ফিকাহ’র প্রসিদ্ধ কিতাব আরবি কওমী মাদ্রাসায় পড়া হয়। সেই উমদাতুর রেয়ায়আ কিতাবে তিনি- ইবনে হীব্বান যে তিনটি দলিলের একটি যাবের (রা:) যে বর্ননা দিয়ে বলেছেন নবী করিম (সা.) ৮ রাকাত পড়েছেন তারপর তিন রাকাত বিতর পড়েছেন। এটাই সবচাইতে বেশি সহীহ্।

৫. আল্লামা আব্দুল হক মোহাদ্দেস দেহলভী ভারতের দিল্লীর অধিবাসী ছিলেন। শাহ ওয়ালী উল্লাহ মোহাদ্দেস দেহলভীর আগের জামানার লোক ছিলেন। তারই লিখা মিসকাতের একটি ভাষ্য আছে ফারসি ভাষায়। তার লিখা একটি কিতাব। নাম মাসাবাতিস্ সুন্নাহ তাহা হাদিস দ্বারা, সুন্নাত দ্বারা প্রমাণিত সেই কিতাবের ২১৭ পৃষ্ঠায় তিনি লিখেছেন মা আয়েশা (রা.) থেকে যে এগার রাকাতের হাদিস বর্ণনা করা হয়েছে সেটা সহীহ্। যাহা রাসুল (সা.) রাতের নামাজে অভ্যস্ত ছিলেন। বর্ণিত আছে যে, হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহ:) খিলাফত যুগে রাসুল (সা.) সুন্নাত এর অনুসরণের আশায় এগার রাকাত নামাজ পড়তেন।

৬. দেওবন্দ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা কাশেম নানাতুবি (রহ:) তার একটি কিতাব রয়েছে ফউযে কাশেমিয়া। তার ১৮ পৃষ্ঠায় তিনি লিখেছেন ফারসি ভাষায় লেখা কিতাবটি। রাসুল (স.) আমল দ্বারা প্রমাণিত এগার রাকাত। এটাই হচ্ছে বলিষ্ঠ প্রমাণ।

৭. জাকারিয়া কান্দলবি (র.) তিনি তার একটি কিতাব রয়েছে, মুয়াত্তা মালিক এর একটি ভাষ্য লিখেছেন নাম আউযাজুল মাছালে। এই কিতাবের ১ম খণ্ড ৩৯৭ পৃষ্ঠায় লিখেছেন এতে কোন সন্দেহ নেই যে বিশ রাকাত তারাবীহ নির্ধারণ করবো এ বিষয়টি প্রমাণিত নয়। মারফু হাদিস দ্বারা নবী করিম (স.) পর্যন্ত প্রমাণিত করবো যে তিনি বিশ রাকাত তারাবীহ পড়েছেন তা প্রমাণ করা যাবে না এবং এতে কোন সন্ধেহ নেই। হাদিসের মোহাদ্দিগণের যে হাদিস পরীক্ষা করায় যে পদ্ধতি সহী যঈফের সেই কায়দা কানুন মোতাবেক কোন বিশুদ্ধ সুত্র দিয়ে সহীহ্ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত করা সম্ভব নয়।

৮. আল্লামা সৈয়দ আহম্মদ হানাফী ভারতের আলেম তিনি বলেছেন তারাবী এগার রাকাত ছিল।

৯. আল্লামা হামুবি হানাফী সারুল আসবা ওয়াল নাযায়ের কিতাবে লেখেন নবী করিম (সা.) বিশ রাকাত পড়েননি বরং (ছামানিয়ান) আট রাকাত পড়েছেন।

১০. মারাকিউল ফালাসা নূরুল ইজা কিতাবে ২৪৭ পৃষ্ঠায় লেখেন প্রমানিত হয়েছে যে জামাতে নবী (স.) বেতের সহ এগার রাকাত পড়েছেন।

১১. দারুল উলুম দেওবন্দ এর প্রসিদ্ধ আলেম রশিদ আহমেদ গাঙ্গুহী তার একটি কিতাব রয়েছে হাক্কুছ সেরিহ এই কিতাবে তিনি লিখেছেন ১১ রাকাত তারাবীহ রাসুল (স.) থেকে বলিষ্ঠভাবে প্রমাণিত।

১২. আবু তাইয়্যেব মোহাম্মদ বিন আবদুল কাদের সিন্দ (নক্সবন্দী) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত যে নবী (স.) বিশ রাকাত এবং বিতর পরেছেন রমজান মাসে ইবনে আবী সায়বা যে ইহা বর্ননা উহার সনদ যঈফ। অথচ বুখারী/মুসলিমে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত এগার রাকাতের বেশি না পড়ার হাদিস বিরোধী। কাজেই ২০ রাকাতের দলিল হতে পারে না। বিশ রাকাতের হাদিস যঈফ আর এগার রাকাতের হাদিস সহী তিরমিজির ভাষ্য ৪২৩ পৃষ্ঠায় তিনি লিখেছেন।

১৩. ইবনে আবেদীন সামি সামদেশের হানাফি আলেম তিনি লিখেছেন-সুন্নাত হচ্ছে আট রাকাত পড়া বাকি মুস্তাহাব। কিতাবের নাম রদ্দুল মোহতার। দুররে মোখতার এর ভাষ্য রদ্দুল মোখতার। ১ম খণ্ড ৪৯৫ পৃষ্ঠা।

১৪. আবু সৌদ হানাফি একজন ফকিহ্ তিনি বলেছেন- নবী করিম (স.) বিশ রাকাত পরেননি বরং ৮ রাকাত পড়েছেন। কিতাবের নাম সাররে কানযুত দাকায় ২৬৫ পৃষ্ঠাতে তিনি একথা লিখেছেন।

১৫. ভারতের হানাফী আলেম মোহাম্মদ আহছান নানাতুবি তিনি বলেছেন নবী (স.) বিশ রাকাত পরেননি বরং আট রাকাত পরেছেন। হাসিয়া কানযুত দাকায় হাসিয়া বা টিকায় ৩৬ পৃষ্ঠায়।

১৬. হানাফি ফকিহ্ আল্লামা কামাল ইবনুল হামাম হানাফী লিখেছেন রমজান মাসের কিয়াম হচ্ছে এগার রাকাত বিতর সহ, জামাত সহকারে নবী করিম (স.) পড়েছেন। এটা রয়েছে ফতহুল কাদির, ফতহুল কাদির হয় হাসিয়া বা টিকায়। ফতহুল কাদির একটি ফিকাহ্ কিতাবের ভাষ্য এর ১ম খণ্ড ১৯৮ পৃষ্ঠায় মিশরের ছাপা।

১৭. আল্লামা আহমদ তাহাবী তিনি এক প্রখ্যাত ফকিহ্ তিনি বলেছেন- নবী (স.) বিশ রাকাত পরেননি বরং আট রাকাত পড়েছেন। তাহবীর হাসিয়া, দুররে মুহতার।

১৮. ইবনে নাজিম হানাফী ইবনে নাজিম হানাফীর একটি কিতাব রয়েছে ফিকাহ্র কিতাবের নাম বাহারুর রাইখ তার ২য় খণ্ড ৭২ পৃষ্ঠায় তিনি লিখেছেন তারবীহ নামাজ এগার রাকাত ছিল বিতর সহ। বুখারী, মুসলিমে আয়েশা (রা.) হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। সুতরাং আমাদের মাশায়েক হানাফি ওলামাদের নিকটে আমাদের তরিকা মোতাবেক ফতোয়া হচ্ছে সুন্নত হচ্ছে আট রাকাত আর বার রাকাত হচ্ছে মুস্তাহাব ।

১৯. আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী দেওবন্দের একজন ওস্তাদ ছিলেন। হাদিস পড়াইতেন সেই আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী লিখেছেন নবী করিম (স.) হতে বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত হচ্ছে আট রাকাত পক্ষান্তরে বিশ রাকাত হচ্ছে দুর্বল সনদ দিয়ে। বিশ রাকাতের হাদিস যইক এর উপর ইজমা রয়েছে। তাহলে বর্তমান যুগে উল্টো হয়ে গেল কেন?

[courtesy-Yeasin Arafat Milon]
Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s