৭টি ধ্বংসকারী গুনাহ কি কি?

x

প্রশ্ন:-৭টি ধ্বংসকারী গুনাহ কি কি??
কিভাবে এই পাপগুলো হতে পারে???

উত্তর :-রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা ৭টি ধ্বংসকারী জিনিষ থেকে বেঁচে থাকো। সাহাবীগণ বললেন সেগুলো কি? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ১- শিরক করা, ২- জাদু করা, ৩- অবৈধভাবে মানুষ হত্যা করা, ৪- সুদ ভক্ষণ করা, ৫- ইয়াতিমের সম্পদ ভক্ষণ করা, ৬- জিহাদের ময়দান থেকে পালিয়ে যাওয়া, ৭- নিরীহ সতিসাধবি ইমানদার নারীদের প্রতি মিথ্যা অপবাদ দেওয়া। (বুখারি-২৭৬৬)

আমরা যদিও সবাই চাই শিরক থেকে বিরত থাকতে কিন্তু শরীয়তের জ্ঞানের অভাবে নানাভাবে আমরা শিরকে জরিয়ে পড়ি, বিভিন্ন ভাবে শিরক হতে পারে যেমন-
১। আল্লাহর ইবাদতের পাশাপাশি অন্যেরও ইবাদত করা বা শুধুমাত্র অন্যের ইবাদত করা যেমন গাছের ইবাদত, সূর্যের ইবাদত, তারকার ইবাদত, কোথাও ইট পাথরের খাম্বা বা মূর্তি বা স্তম্ভ নির্মাণ করে তাঁর পুজা করা ইত্যাদি।
২। লোক দেখানো ইবাদত করা।
৩। সুস্থতার জন্য তাবিজ-কবজ, আংটি, সুতা, বালা, পাথর, ব্রেসলেট ব্যবহার করা।
৪। আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর নামে কসম করা যেমন চোখ বা মাথা ছুয়ে বলা, মসজিদ ছুয়ে বলা, মা-বাবার কসম করা ইত্যাদি।
৫। আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে পশু জবেহ্ বা কুরবানী করা।
৬। মাজারে মানত করা, পশু জবেহ্ বা কুরবানী করা।
৭। যে জিনিস দেওয়ার ক্ষমতা শুধু আল্লাহর, সেটা আল্লাহ বাদে অন্যের কাছে চাওয়া যেমন সন্তানের আশায় মাজারে যাওয়া।
৮। আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ গায়েবের খবর জানেন বলে বিশ্বাস করা।
৯। বিশ্বজগত চালাতে আল্লাহর সাথে অন্য কোন সহযোগী আছে বলে বিশ্বাস করা যেমন কেও চন্দ্র পরিচালিত করে বা কেও সূর্য পরিচালিত করে ইত্যাদি ইত্যাদি বিশ্বাস করা।
১০। কোন কিছুতে কুলক্ষণ বা অশুভ ধারণা করা।
১১। শক্তিপূর্ণ কোন কাজে ইয়া আলী বা এই ধরণের অন্য কিছু বলা।
১২। “ড্রাইভার ভাল তাই এ্যাক্সিডেন্ট্ হল না” বা “ডাক্তার ভাল তাই রোগী বেচে গেল” এধরণের যত কুসংস্কার কথা আছে সেগুলো বলা বা বিশ্বাস করা।
এছাড়া অন্য যে ৬টা পাপের কথা বলা হয়েছে সেটা বুঝতে কোন সমস্যা নেই তবে সুদ বিভিন্ন ভাবে হতে পারে যেমন ব্যাঙ্কের মাধ্যমে সুদ দেওয়া বা নেওয়া তবে নিরাপত্তার জন্য যদি ব্যাঙ্কে রাখতে বাধ্য হন তবে সুদের অংশ ফকীর মিসকিনদের দিয়ে দিয়ে সুদ থেকে বাচবেন অবশ্যই। আবার জমিন ৪০ বা ৫০ হাজার টাকার মাধ্যমে নিয়ে ভোগ করা, যখন জমির মালিক টাঁকা ফিরিয়ে দিবে তখন জমিন ছেড়ে দেওয়া এভাবে জমিনটা সুদ হিসাবে ভক্ষণ করা হয় কারণ আপনার টাঁকা আপনি ঠিকই ফিরে পেলেন কিন্তু মাযখান থেকে জমির মালিকের জমি ভোগ করলেন যেমন টাকার বিনিময়ে সেই টাকাই ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত কিছু টাঁকা দেওয়া হয় সুদ হিসাবে এখানে জমিনটা সুদ হিসাবে নেওয়া হচ্ছে, কারণ টাকার মালিক মুল টাঁকা ঠিকই ফিরে পাচ্ছে আবার মাযখান থেকে জমি ভোগ করছে এটাই সুদ। ওখানে অতিরিক্ত টাঁকা সুদ হিসাবে নেওয়া হয় আর এখানে জমিন ভোগ করা হচ্ছে সুদ হিসাবে। তাই এই পদ্ধতি থেকে বিরত থাকতে হবে। বৈধভাবে যেটা করতে পারে সেটা হলো- জমির মালিকের জমি আর যে চাষ করবে তার পরিশ্রম এভাবে যে ফসল হবে তারা আপোষে যেভাবে খুশি ভাগ করে নিতে পারে কিংবা চাষি জমির মালিক থেকে জমিটা টাঁকা দিয়ে ১ বা ২ বা যে কয় বছরের জন্য দরকার সেই কয় বছরের জন্য একেবারে নিয়ে নিবে এবং সেই চুক্তির বছর শেষ হলে সব ফসল চাষির আর জমির মালিককে যে টাঁকা দেওয়া হয়েছিল সেই টাঁকা তার অর্থাৎ তাকে আর ফিরিয়ে দিতে হবে না ঐ টাঁকা, এভাবে বৈধ। এই প্রত্যেকটা বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করে এই মহাপাপ গুলো থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করা আমাদের প্রত্যেকের ফরয।

[Dawati Islam to আপনার জিজ্ঞাসা–> জেনে নিন–> দ্বীনি প্রশ্নোত্ত]
Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s