ঝাড়ফুঁক করা আর চিকিৎসা ওয়াজিব অথবা মুস্তাহাবঃ

ঝাড়ফুঁক করা আর চিকিৎসা ওয়াজিব অথবা মুস্তাহাবঃ-

ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিকট আসলেন এবং বললেনঃ আমার সামনে (পূর্ববর্তী নাবীগণের) উম্মাতদের পেশ করা হল। (আমি দেখলাম) একজন নাবী যাচ্ছেন, তাঁর সাথে আছে মাত্র একজন লোক এবং আরেকজন নাবী যার সঙ্গে আছে দুইজন লোক। অন্য এক নাবীকে দেখলাম, তাঁর সঙ্গে আছে একটি দল, আরেকজন নাবী, তাঁর সাথে কেউ নেই।

আবার দেখলাম, একটি বিরাট দল যা দিগন্ত জুড়ে আছে। আমি আকাঙ্ক্ষা করলাম যে, এ বিরাট দলটি যদি আমার উম্মাত হত। বলা হলঃ এটা মুসা (আলাইহি ওয়া সালাম) ও তাঁর কওম। এরপর আমাকে বলা হলঃ দেখুন। দেখলাম একটি বিশাল জামাত দিগন্ত জুড়ে আছে। আবার বলা হলঃ এ দিকে দেখুন, ও দিকে দেখুন। দেখলাম বিরাট বিরাট দল দিগন্ত জুড়ে ছেয়ে আছে। বলা হলঃ ঐ সবই আপনার উম্মাত এবং ওদের সাথে সত্তর হাজার লোক এমন আছে যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (তাঁদের চেহারাগুলো পূর্ণিমার চাঁদের আলোর মতো জ্বল জ্বল করবে)

এরপর লোকজন এদিক ওদিক চলে গেল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি সালাম আর তাদেরকে (সত্তর হাজারের) ব্যাখ্যা করে বলেননি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি সালাম-এর সাহাবীগন এ নিয়ে নানান কথা শুরু করে দিলেন। তারা বলাবলি করলেনঃ আমরা তো শিরকের মাঝে জন্মেছি, পরে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সালাম-এর উপর ঈমান এনেছি। বরং এরা আমাদের সন্তানরাই হবে।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি সালাম-এর কাছে এ কথা পৌঁছলে তিনি বলেনঃ
তাঁরা হবে ঐ সব লোক যারা অবৈধভাবে মঙ্গল-অমঙ্গল নির্ণয় করে না, (জাহেলী যুগের ন্যায়) ঝাড়ফুঁক বা মন্তর দ্বারা চিকিৎসা কামনা করে না এবং আগুনে পোড়ানো লোহার দাগ লাগায় না, আর তাঁরা তাঁদের প্রতিপালকের উপর একমাত্র ভরসা রাখে।
[সহীহ বুখারী, হাদীসঃ ৫৭০৫, ৫৭৫২, ৫৮১১, ৬৪৭২, ৬৫৪১, ৬৫৪২]

উপরোক্ত হাদীসটির ব্যাখ্যায় শাইখ সালেহ বিন আবদুল আযীয আলে-শায়েখ বলেছেনঃ

হাদীসের অর্থ এটা নয় যে, মোটেও কোন চিকিৎসা করা যাবে না। কারন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি সালাম-কে ঝাড়ফুঁক করা হয়েছে, তিনি চিকিৎসা গ্রহন করেছেন, এবং এর নির্দেশ দিয়েছেন এবং একজন সাহাবীকে শরীরে দাগ দেয়ার নির্দেশও দিয়েছেন। সুতরাং এ ক্ষেত্রে ধারনা করা যায় যে, তাঁরা চিকিৎসা ও ঔষধকে আরোগ্য লাভের একমাত্র কারন হিসাবে গ্রহন করেননি। হাদীসে যে তিনটি বিষয়ের কথা বলা হয়েছে, এগুলোর ফলে আল্লাহ্র উপর ভরসা কমে যায় এবং তাতে হৃদয় ঝাড়ফুঁক, সেকদাতা ও গনকের দিকে ধাবিত হয়। এজন্য আল্লাহ্র প্রতি তাঁর ভরসা কমতি হয়ে যায়। পক্ষান্তরে, চিকিৎসা ওয়াজিব অথবা মুস্তাহাব। কোন কোন অবস্থায় মুবাহ। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সালাম বলেছেনঃ ‘’আল্লাহ্ তায়ালা হারাম বস্তুর মধ্যে কোন চিকিৎসা রাখেননি’’ [সুনানে বাইহাকী, ১৯৪৬৩; ইবন হিব্বান ১৩৯১]
[কিতাবুত তাওহীদ ও এর ব্যাখ্যা- মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান আত-তামীমী; ব্যাখ্যাকারীঃ শাইখ সালেহ বিন আবদুল আযীয আলে-শায়েখ,
অধ্যায়-২ পৃষ্ঠাঃ ২৩-২৭]

by-Mainuddin Ahmad 
 
Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s