“ওহাবী”কে?

“ওহাবী” কথাটা ইদানিং খুব শোনা যায়।কথাটা একটা গালি হিসাবেই ব্যাবহার হয়। কিন্তু যারা কথাটা বলে, তাদের অধিকাংশেরই ধারণা নেই এটা আসলে কী জিনিস, কোত্থেকে-কিভাবে এই নামটা এসেছে।
.
১৮ শতকের আরব উপদ্বীপের একটা ছোট বিবরণ দেই। বর্তমান সৌদি আরব যে অঞ্চলে, যে অঞ্চল রাসুল(ﷺ) আর সাহাবীদের ভূমি, যেই ভূমির লোকেরা গ্রহণ করেছিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল(র) এর মানহাজের দীপশিখা, তারা সাহাবীদের কবরের উপরে গম্বুজ বানিয়ে পুজা শুরু করেছিল। যায়েদ বিন খাত্তাব(রা) [উমার(রা) এর ভাই; ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ], খাদিজা(রা) এইসব মহান ব্যক্তিদের কবর গম্বুজে আর পুজায় সয়লাব হয়ে গেছিল।
.
আরব মহিলারা গাছের কাছে গিয়ে সন্তান চাইতো। [অবিশ্বাস্য হলেও সত্য। ]
আরব দেশে পীরকে সিজদাহ করা হত। কবরে মানত করা হত।
বহু সাহাবীর কবর যেই দেশে, সেই মিশরের “মুসলিমরা” পিরামিডের পুজা করত [অবিশ্বাস্য হলেও সত্য। ]

ইমাম আবু হানিফা(র) এর কবর পুজা করত ইরাকীরা। [অবিশ্বাস্য হলেও সত্য। ]
শিয়াদের হুসাইন(রা) এর কবরপুজার কথা তো সবাই জানে।

মুহাম্মাদ বিন কাশিম(র) এর নেক জিহাদের ভূমি ভারতবর্ষের লোকেরাও ঠিক আরব উপদ্বীপের লোকদের মতই কবর-মাজার আর পীরপুজায় মগ্ন ছিল। [আজও এখানের অবস্থার সেরকম উন্নতি হয়নি]

এমন এক সময়ে মুহাম্মাদ ইবন আবদুল ওয়াহহাব(র) এর জন্ম।
তিনি দেখলেন–কুরআন আর নবী(ﷺ) এর সুন্নাহে যা আছে, মানুষ ঠিক তার বিপরীত কাজ করে।
তিনি মানুষকে কুরআন আর সুন্নাহ অনুসরণ করার দাওয়াত দেয়া শুরু করলেন। এই “সহজ” কাজটা করার মত মানুষও ছিল না ১৮ শতকে।

আজও এই “অপরাধে”(!)র কারণে বহু মানুষ তাঁকে গালি দিচ্ছে। তাঁর আন্দোলনের নামে ভ্রান্ত জিনিস প্রচার করছে।
আল্লাহ নবী(ﷺ) এর সুন্নাহর প্রচারকদের প্রতি রহম করুন এবং মিথ্যা ও বিদআতের নিপাত করুন।
.
প্রশ্ন নং: ৩৭৭০৩
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল ওয়াহহাব এবং তার আকিদার বই “কিতাবুত তাওহিদ” সম্পর্কে আপনাদের অভিমত কী? আমার এই কিতাবটি পড়বার সুযোগ হয়েছিল কিন্তু একজন আলিম আমাকে বললেন যে বইটির লেখকের[মুহাম্মাদ ইবন আবদুল ওয়াহহাব] এমন আকিদাগত বিভ্রান্তি রয়েছে যে তিনি আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বাইরে। আপনারা কি এই কথার সঙ্গে একমত? আর সালাফী আকিদা সম্পর্কে সাধারণভাবে আপনাদের রায় কী? এটা কি আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের ভেতরে না বাইরে?

উত্তর নং:৩৭৭০৩
১২ই ডিসেম্বর ২০১২

(ফাতওয়াঃ ১৩৭২/১৩৪৫/N=১৪৩৩)
(১) শায়খ মুহাম্মাদ ইবন আবদুল ওয়াহহাব নজদী[رحمة الله عليه{তাঁর উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক}] আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের লোকদের বাইরের কেউ নন। তবে কিছু কিছু কিছু মাসআলায় তিনি আল্লামা ইবন তাইমিয়াহ এবং ইবনিল কাইয়িমের [رحمهم الله{তাঁদের উপর আল্লাহ রহম করুন}] মতোই খুব কঠোর ছিলেন। তাঁর “কিতাবুত তাওহিদ” এই বিষয়ের জন্য চমৎকার একটি গ্রন্থ। তবে যেসব ব্যাপারগুলোতে তিনি কঠোরতা অবলম্বন করেছেন, সেসব ব্যাপার পরিহার করাই উচিত।
(২) শায়খকে[আল্লাহ তাঁর উপর রহম করুন] আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বাইরে বলে অভিহিত করা উলামায়ে দেওবন্দের সর্বশেষ মতের বিরুদ্ধাচরণ। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানবার জন্য হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ মনজুর নোমানীর[আল্লাহ তাঁর উপর রহম করুন] “শায়খ মুহাম্মাদ ইবন আবদুল ওয়াহহাবকে খিলাফ প্রোপাগান্ডা আওর হিন্দুস্তানকে উলামা-এ-হাক পার উসকে আসারাত” কিতাবটি দেখুন।
……………
.
আল্লাহ(সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) সব থেকে উত্তম জানেন।
দারুল ইফতা,
দারুল উলুম দেওবন্দ
দেওবন্দের অফিসিয়াল ফতোয়ার ওয়েবসাইট থেকে ফতোয়াটির লিঙ্কঃ
http://darulifta-deoband.org/showuserview.do…

.
প্রশ্নঃ উলামায়ে দেওবন্দ মাওলানা মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহহাব সম্পর্কে কীরকম ধারণা করেন? আপনি কি একমত যে বর্তমানকালের ওহাবী মতবাদের সাথে মাওলানা মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহহাবের শিক্ষার কোন সম্পর্ক নেই?
.
উত্তরঃ
আপনার পর্যবেক্ষণ সঠিক। শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহহাব(র) ছিলেন আঠারো শতকের একজন সুখ্যাত এবং আল্লাহভীরু আলিম যিনি হাম্বলী মাজহাব অনুসরণ করতেন। শায়খ সমাজের বিস্তৃত পরিসরে এক অসামান্য গ্রহণযোগ্যতা ও ভালোবাসা অর্জন করেন। শায়খের তৎকালিন সময়ের রাজপরিবারের সাথে সম্পর্ক ছিল এবং তিনিই আরব উপদ্বীপের সাধারণ মানুষের মধ্যে কুরআন ও সুন্নাহর প্রতি ভালোবাসা পুনঃজাগ্রত করেন।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, শায়খের মৃত্যুর পরবর্তীকালে তাঁর প্রতিপক্ষরা তাঁর নামে বিভিন্ন ভ্রান্ত আকিদা ও মতবাদ প্রচার করার এক মহাউগ্র তৎপরতা শুরু করে। এগুলো ছিল শায়খের নামে কলঙ্কলেপন ও তাঁর অনুসারীদের মধ্যে কলহ সৃষ্টির অপচেষ্টা।
.
যখন এইসব অপচেষ্টা মারাত্মকভাবে ব্যার্থ হল, তখন ঐসব প্রতিপক্ষরা ক্ষান্ত দিল এবং শায়খের অনুসারী সেজে তাঁর নাম ও প্রভাব নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করল। এভাবে তারাও জনগণের ভালোবাসা অর্জন করল।তারা শায়খের আন্দোলনকে হাইজ্যাক করে তাদের ত্রুটিপূর্ণ বিশ্বাস ও মতবাদ প্রচারের বাহন হিসাবে ব্যবহার করল।এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্যের জন্য শায়খ মুহাম্মাদ আবু বকর গাজীপুরীর “শায়খ আবদুল ওয়াহহাবের জীবন” বইটি দেখা যেতে পারে।
.
এবং আল্লাহ তা’আলা সব থেকে উত্তম জানেন।
মুফতি ইব্রাহিম দেসাই
মূল ফতোয়ার লিঙ্কঃ
http://islamqa.org/hanafi/askimam/17554
.
বিস্তারিত জানতে পড়ুনঃ
সৌদি আরবের ইসলামী গবেষণা ও ফাতওয়া বিষয়ক প্রধান কার্যালয় থেকে প্রকাশিত “সংস্কারধর্মী ওহাবী আন্দোলন সম্পর্কিত এক ঐতিহাসিক ভ্রান্তির নিরসন” বই। ডাউনলোড লিঙ্কঃ
http://i-onlinemedia.net/archives/4423
.
বাংলাদেশ কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড থেকে “তাহরীকে দেওবন্দ” বিষয়ের পাঠ্যপুস্তক হিসাবে অনুমোদিত বইঃ “দেওবন্দ আন্দোলনঃ ইতিহাস,ঐতিহ্য,অবদান” :–
ডাউনলোড লিঙ্কঃ
http://islamiboi.wordpress.com/2014/01/05/দেওবন্দ-আন্দোলন/

Muhammad Mushfiqur Rahman Minar's photo.
4 people like this.
Comments
Nahid Hasan

Nahid Hasan Abdul Wahab akjon La-majhabi cilen.

Tar andoloner asol target ei cilo majhaber ondho onosoron theke manush ke firie Quran r sunnah onosare chalano. See More

Muhammad Mushfiqur Rahman Minar

Muhammad Mushfiqur Rahman Minar আপনি ভুল জানেন। “ওহাবী” মানে লামাজহাবী না। আর মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহহাব নজদী(র)ও মোটেও লামাজহাবী ছিলেন না। তাঁর শত্রুরা তাঁর নামে এসব অপবাদ দিত। এজন্যই সৌদি আরবের ইসলামী গবেষণা ও ফাতওয়া বিষয়ক প্রধান কার্যালয় থেকে প্রকাশিত “সংস্কারধর্মী ওহাবী আন্দোলন সম্পর্কিত এক ঐতিহাসিক ভ্রান্তির নিরসন” বইটির লিঙ্ক পোস্টে দিয়েছি। বইটি পড়লে এসব ব্যাপারে সত্য ইতিহাস জানতে পারবেন। …ড.জাকির নায়েক(হাফিজাহুল্লাহ) মাজহাব মানেন না। তিনিও মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহহাব(র) এর আকিদা মানহাজে বিশ্বাসী। তার মানে এই নয় যে সকল “ওহাবী”ই লামাজহাবি। মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহহাব(র) নতুন কোন আকিদা বা মানহাজ আনেননি এবং তাঁর অনুসারীরা নিজেদের ওহাবী বলে না। বরং তাদের বিরোধীরাই ওহাবী কথাটা গালি হিসাবে ব্যবহার করে।

Muhammad Mushfiqur Rahman Minar replied · 8 Replies
Muhammad Mushfiqur Rahman Minar
Muhammad Mushfiqur Rahman Minar
Muhammad Mushfiqur Rahman Minar
Muhammad Mushfiqur Rahman Minar
Nahid Hasan

Nahid Hasan Bhaia Wikipedia te search dia dekhen tini lamajhabi cilenSee translation

Muhammad Mushfiqur Rahman Minar

Muhammad Mushfiqur Rahman Minar উইকিপিডিয়া এডিট করে সাধারণ মানুষ। উইকিপিডিয়া কোন রেফারেন্সই না। আমি রেফেরেন্সে বিশ্বাসী।

Sultan Ahmed
Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s