পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফিতনা দাজ্জাল পৃথিবীতে ‘এক চিল্লা’ সময় লাগাবেঃ

daz

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফিতনা দাজ্জাল পৃথিবীতে ‘এক চিল্লা’ সময় লাগাবেঃ

************************************************************************
দাজ্জাল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফিতনা ও মারাত্মক বিপর্যয়। কবরের ফিতনার মতই দাজ্জালের ফিতনা অতি ভয়ংকর হবে। প্রত্যেক নবী তাঁর উম্মতদেরকে দাজ্জালের ফিতনা হতে সতর্ক করেছেন। রাসুল (সাঃ) সকল ঈমানদারদেরকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে বলেছেন। স্বয়ং রাসুল (সাঃ) দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চেয়েছেন। দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকার জন্য রাসুল (সাঃ) সুরা কাহাফের প্রথম ১০টি আয়াত পাঠ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

দাজ্জাল একজন যুবক হবে। দাজ্জালের দেহ খুব মোটা, গায়ের রঙ লাল বর্ণ, গায়ে ঘন পশম হবে, চুলগুলো কোঁকড়ানো, ডান চোখ কানা, এবং চোখটি ভেসে উঠা আঙ্গুরের মতো হবে। দাজ্জালের কপালে কাফির লেখা থাকবে, মুমিন ছাড়া আর কেউ পড়তে পারবে না।

দাজ্জালের চলার গতি হবে তীব্র বায়ুতাড়িত মেঘের ন্যায় হবে। দাজ্জালের আদেশে বৃষ্টি হবে এবং তার কাছে ধনভাণ্ডার থাকবে। দাজ্জালের সাথে জান্নাত ও জাহান্নামের মতো কিছু থাকবে, যাকে সে জান্নাত বলবে তা মুলত জাহান্নাম আর যালে সে জাহান্নাম বলবে তা মুলত জান্নাত। দাজ্জালের সাথে রুটি ও গোশতের পর্বত এবং পানির নদি থাকবে। দাজ্জাল মানুষকে হত্যা করে আবার তাকে জীবিত করতে পারবে।

দাজ্জাল কিয়ামতের অন্যতম নিদর্শন। দাজ্জাল পৃথিবীতেই বন্দী অবস্থায় আছে, কিয়ামতের পূর্বে সে আত্মপ্রকাশ করবে। সাহাবী তামিম আদ-দারী (রাঃ)-এর সাথে দাজ্জালের সাক্ষাত হয়েছে। সে একটি দ্বীপে বন্দী হয়ে আছে। কিয়ামতের আগে সে আত্মপ্রকাশ করবে। দাজ্জাল নিজেকে রব দাবী করবে।

দাজ্জালের সাথে সাক্ষাত করা মুমিনের জন্য উচিৎ হবে না। দাজ্জালের ভয়ে মানুষ পাহাড়ে আশ্রয় গ্রহন করবে।

দাজ্জাল সর্বপ্রথম ক্রোধের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করবে। দাজ্জাল ইরাক ও সিরিয়ার মাঝামাঝি স্থান ইরানের খোরাসান থেকে পৃথিবীতে আত্মপ্রকাশ করবে। ইরানের আসবাহান শহরের সত্তর হাজার ইয়াহুদী দাজ্জালের অনুসারী হবে।

দাজ্জাল পৃথিবীর সকল অংশ ভ্রমন করবে, তবে মক্কা ও মদীনায় প্রবেশ করতে পারবে না। দাজ্জাল আবির্ভাবের সময় মদীনা তিনবার কেঁপে উঠবে। দাজ্জালের সময় মদীনায় ৭টি প্রবেশ পথ থাকবে, প্রতিটি পথে দু’জন করে ফেরেশতা পাহারায় নিযুক্ত থাকবে।

উম্মতে মুহাম্মদীর সর্বশেষ জিহাদ হবে দাজ্জালের বিরুদ্ধে। তাঁরা ঈসা (আঃ)-এর নেতৃত্বে দাজ্জাল ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। ঈসা (আঃ) লুদ’ নামক স্থানে দাজ্জালকে হত্যা করবেন।

ভয়ংকরতম ফিতনা দাজ্জাল পৃথিবীতে ‘এক চিল্লা’ অর্থাৎ চল্লিশ দিন সময় লাগাবেঃ
*******************************************************************************
ইয়াকুব ইবন আসিম ইবন উরওয়াহ ইবন মাস’উদ আস সাকাফী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’আমার উম্মতের মধ্যেই দাজ্জালের আবির্ভাব হবে এবং সে চল্লিশ পর্যন্ত অবস্থান করবে। (বর্ণনাকারী বলেন) আমি জানিনা চল্লিশ দিন, না চল্লিশ মাস, চল্লিশ বছর’’ মুসলিম ৭২৭১-(১১৬/২৯৪০)

আন-নাওয়াস ইবনুস সাম’আন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’আমি তোমাদের মাঝে বিদ্যমান থাকা অবস্থায় যদি দাজ্জালের আবির্ভাব হয়, তবে আমি নিইজেই তাকে প্রতিহত করবো, তোমাদের প্রয়োজন হবে না। আর যদি আমি তোমাদের মাঝে না থাকা অবস্থায় দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হয়, তবে প্রত্যেক মুমি লোক নিজের পক্ষ হতে তাকে প্রতিহত করবে। প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আল্লাহ তায়ালাই হলেন আমার পক্ষ হতে তত্ত্বাবধানকারী।

দাজ্জাল যুবক এবং ঘন চুল বিশিষ্ট হবে, চোখ আঙ্গুরের ন্যায় হবে। আমি তাকে কাফির আবদুল উযযা ইবন কাতান-এর মতো মনে করছি। তোমাদের যে কেউ দাজ্জালের সময়কাল পাবে, সে যেন সুরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াতসমুহ পাঠ করে। সে ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যপথ হত আবির্ভূত হবে। সে ডানে-বামে দুর্যোগ সৃষ্টি করবে। হে আল্লাহর বান্দাগন! তোমরা অটল থাকবে।

আমরা প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! সে পৃথিবীতে কতদিন অবস্থান করবে? উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, চল্লিশ দিন পর্যন্ত। এর প্রথম দিনটি হবে এক বছরের সমান, দ্বিতীয় দিনটি হবে এক মাসের সমান এবং তৃতীয় দিনটি হবে এক সপ্তাহের সমান। অবশিষ্ট দিনগুলো তোমাদের (স্বাভাবিক) দিনসমুহের মতই হবে’’ মুসলিম ৭২৬২-(১১০/২৯৩৭); ইবন মাযাহ ৪০৭৫; আবু দাউদ ৪৩২১

আন-নাওয়াস ইবনুস সাম’আন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) সে (দাজ্জাল) পৃথিবীতে কতদিন অবস্থান করবে? রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, (দাজ্জাল) ৪০ দিন পর্যন্ত (পৃথিবীতে থাকবে)। আর তার প্রথম দিন ১ বছরের মতো দীর্ঘ হবে, দ্বিতীয় দিন হবে ১ মাসের সমান, তৃতীয় দিনটি হবে ১ সপ্তাহের সমান। আর বাকী দিনগুলো প্রায় তোমাদের দিনগুলোর সমপরিমান হবে’’ মুসলিম ৭২৬২-(১১০/২৯৩৭); আবু দাউদ ৪৩২১; তিরমিযি ২২৪০; ইবন মাযাহ ৪০৭৫

[[fm-তাবলীগ বা প্রচার-একটি ইসলামিক পেইজ]]
Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s