মুসলিমদের মধ্যে কোন দল সঠিক ?

লিখেছেন ফাতমী

বিসমিল্লাহির রাহমানির রহিম, পৃথিবীতে মুসলিমদের মধ্যেও অনেক দলাদলি দেখা যায়, মুসলিমদের মধ্যে কোন দল সঠিক? এ প্রশ্ন অনেকের মনে উদিত হয়। আমার মনেও উদিত হয়, তাই অনেক দিন আমি এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছি। একবার মনে হয়েছে সালাফীরাই ঠিক, আরেকবার মনে হয়েছে মাহজাবীরাই ঠিক, অন্যবার মনে হয়েছে শিয়ারাই ঠিক, কখনও মনে হয়েছে কুরান অনলি ও মুতাজিলারাই ঠিক, এমনও হয়েছে যে মনে হয়েছে খারেজিরাই ঠিক। যাইহোক, যারা এ সব বিষয় নিয়ে বেশী কথা বার্তা বলেন, তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দলের কাছে জান মতামত জানতে। তাছাড়া, বিভিন্ন দল নিজেরা কিভাবে সঠিক সেটা নিয়ে মানুষের কাছে আসেন, তখন মানুষ কোন পথ নিবেন বুঝতে পারেন না। ধর্ম সম্পর্কে কোন বিষয় সামনে এলেই, যা দেখতে হবে তা হল ধর্মের মূল মালিক, যার কারণের ধর্ম আছে, সেই আল্লাহ পাক কি বলেছেন সেটাই আগে। তাই কোন প্রশ্ন আসলেই, প্রথমেই কোরান খুলবেন।

 

Islam_percent_population_in_each_nation_World_Map_Muslim_data_by_Pew_Research.svg

ছবিঃ http://en.wikipedia.org

 

 

 

মুসলিম কে?

“এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেজগারদের জন্য, যারা অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি তাদেরকে যে রুযী দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে এবং যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে সেসব বিষয়ের উপর যা কিছু তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং সেসব বিষয়ের উপর যা তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। আর আখেরাতকে যারা নিশ্চিত বলে বিশ্বাস করে। তারাই নিজেদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে সুপথ প্রাপ্ত, আর তারাই যথার্থ সফলকাম।” (সূরা আল বাকারা, আয়াত ২-৪)

এটাই হচ্ছে মুসলিমদের পরিচয়। মানুষের মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য থাকলেই, তাদের মুসলিম ধরতে হবে। যুক্তি তর্ক আর কথা মারপ্যাঁচ এড়িয়ে যেতে হবে। কারণ অনেক সময় কে কি বুঝাচ্ছে সেটা ঠিকমত ভাষায় আনতে পারেনা। এই ভাষা গত দুর্বলতার সুযোগে অনেক মুসলিমই আক্রান্ত হন বা হতে পারেন।

মুসলিমের অধিকার কি?

আবু মাবাদ মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। “তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলামঃ আপনি কি বলেন যদি কোন কাফেরের সাথে আমার মোকাবেলা হয় এবং পারস্পারিক যুদ্ধে সে আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য একটি গাছের আড়ালে আশ্রয় নিয়ে বলে, আমি আল্লাহর জন্য ইসলাম গ্রহণ করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! তার ঐ কথা বলার পর আমি কি তাকে হত্যা করব? তিনি বলেনঃ তাকে হত্যা করো না। আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! সে তো আমার দুই হাতের একটি কেটেছে, অতঃপর একথা বলেছে। তিনি বলেনঃ তাকে হত্যা করো না। কেননা তুমি যদি তাকে হত্যা করো, তাহলে তুমি তাকে হত্যা করার পূর্বে যে মর্যাদায় ছিলে, সে সেই মর্যাদায় পৌঁছে যাবে; আর যে কলেমা সে পাঠ করেছে, সেই কলেমা পাঠের পূর্বে সে যে স্তরে ছিল; তুমি(তাকে হত্যা করলে) সেই স্তরে নেমে যাবে।” ইমাম বুখারী ইমাম মুসলিম হাদিসটি রিওয়ায়াত করেছেন। أنه بمنزلتك কথার অর্থ হলো: ইসলাম গ্রহণ করার কারণে সে ব্যক্তির রক্তপাত হারাম হয়ে গেছে। আর أنه بمنزلته কথার অর্থ হলো: তুমি তাকে হত্যা করার দরুন তার ওয়ারিশদের পক্ষ থেকে কিসাস স্বরূপ তোমার রক্ত প্রবাহিত করা তাদের জন্য বৈধ হয়ে যাবে। কিন্তু তুমি তার মত কাফের হয়ে যাবে না। আল্লাহই ভালো জানেন।

অর্থাৎ সর্বাবস্থায় সকল মুসলিম  নিরাপত্তার অধিকার প্রাপ্ত। যেহেতু এই হাদিসটি বুখারি এবং মুসলিম শরিফে বর্ণিত হয়েছে, সেহেতু এই হাদিস দলিল গত দিক দিয়ে শক্তিশালী, তা আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

মুসলিমদের কি করতে হবে?

এই প্রশ্নের উত্তর আল্লাহ পাক মুসা নবীর উদাহরণে কোরানে পাকে দিয়েছেন।

“আর আমি যখন তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম এবং তুর পর্বতকে তোমাদের মাথার উপর তুলে ধরেছিলাম এই বলে যে, তোমাদিগকে যে কিতাব দেয়া হয়েছে তাকে ধর সু-দৃঢ়ভাবে এবং এতে যা কিছু রয়েছে তা মনে রেখো যাতে তোমরা ভয় কর।” (সূরা আল বাক্বারাহ, আয়াত ৬৩)

অর্থাৎ, আল্লাহর কিতাব সুদূঢ়ভাবে ধরে রাখতে হবে। যখনই আপনাকে কেউ কিছু বলে বিশেষ করে যেকোনো প্রকার বিশ্বাসের ব্যাপারে, তখনই আপনার উচিত কিতাব খুলে বসা। আল্লাহ পাক এ ব্যাপারে কি নাজিল করেছেন সেটা দেখা। যখন কোন ব্যাপারে মন খারাপ, তখনও আপনি এই কাজ করতে পারেন, যখন সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন, তখন এই কাজ করতে পারেন। মাঝে মধ্যে আমি এমনিতেই কিতাব খুলে বসি, আর প্রথমেই যা পাই, তা আমার তৎকালীন সমস্যার সমাধান। ঘরে অনুবাদ, কিংবা নেটেও দেখতে পারেন, সাথে কিছু তফসিরের বই বাড়িতে রেখে দিবেন। তাহলে কেউ আপনাকে ঠকাতে পারবে না। এবং যদি আপনি এই অভ্যাস করতে পারেন, তাহলে আপনি একজন ভিন্ন মানুষ হয়ে উঠবেন, এবং সহজেই ন্যায়বিচারকে দেখতে পাবেন। যদিও ভুল ত্রুটির ঊর্ধ্বে কোন মানুষ নেই।

মুসলিমদের মধ্যে বিভক্তিঃ

মুসলিমদের মধ্যে বিভক্তির ব্যাপারে সব থেকে কমন হাদিস হলঃ

“It was narrated from Mu’aawiyah ibn Abi Sufyaan (may Allaah be pleased with him) that he said: The Messenger of Allaah (peace and blessings of Allaah be upon him) stood among us and said: “Those who came before you of the people of the Book split into seventy-two sects, and this ummah will split into seventy-three: seventy-two in Hell and one in Paradise, and that is the jamaa’ah (main body of Muslims).”- Narrated by Abu Dawood (4597) and others; classed as saheeh by al-Haakim (1/128), who said: it is an important hadeeth that represents a basic principle. It was classed as hasan by Ibn Hajar in Takhreej al-Kashshaaf (63). It was classed as saheeh by Ibn Taymiyah in Majmoo’ al-Fataawa (3/345), al-Shaatibi in al-I’tisaam (1/430), and al-‘Iraaqi in Takhreej al-Ihya’ (9/133). -In other reports he also described them as “the vast multitude”, as in the hadeeth of Abu Umaamah and others which is recorded by Ibn Abi ‘Aasim in al-Sunnah (1/34) and al-Tabaraani in al-Mu’jam al-Kabeer (8/321), with an isnaad that is hasan li ghayrihi (hasan because of corroborating evidence).

অনুবাদঃ “ইহা বর্ণনা করা হয়েছে মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রাঃ) দ্বারা যে তিনি বলেছেনঃ আল্লাহর রাসূল (সাঃ) আমাদের মধ্যে দাঁড়ালেন এবং বললেন, যারা তোমাদের আগে এসেছিল, সেই আহলে কিতাবীগণ ৭২ দলে বিভক্ত হয়েছিল, এবং এই উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবেঃ ৭২ দল জাহান্নামে যাবে এবং এক দল জান্নাতে যাবে এবং তারা হচ্ছে জামাহ” (আবু দাউদ ৪৫৯৭, আল হাকিম এই হাদিসকে সহি বলেছেন, ইবনে হাযার এই হাদিসকে হাসান বলেছেন)

The Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) also described them in the following terms: “My ummah will split into seventy-three sects, all of whom will be in Hell except one group.” They said: Who are they, O Messenger of Allaah? He said: “(Those who follow) that which I and my companions follow.” -This is mentioned in the hadeeth of ‘Abd-Allaah ibn ‘Amr which was recorded and classed as hasan by al-Tirmidhi (2641). It was also classed as hasan by al-‘Iraaqi in Ahkaam al-Qur’aan (3/432), al-‘Iraaqi in Takhreej al-Ihya’ (3/284) and al-Albaani in Saheeh al-Tirmidhi.

রাসূল সাঃ বলেছেনঃ “আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে, একদল ব্যতীত সবাই জাহান্নামে যাবে” তারা বললেন, কারা যাবে? ও আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেনঃ “যারা আমাকে ও আমার সাহাবীদের অনুসরণ করে”-(তিরমিদ ২৬৪১, হাদিসের সনদ হাসান, আল ইরাকীও সনদ হাসান বলেছেন, আলবানী সহী বলেছেন)

প্রথম হাদিসটি জানার পর আমি অত্যন্ত দুঃখ পেয়েছিলাম। আপনারা হয়ত জেনে থাকবেন, আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট যখন মৃত্যু শয্যায়, তখন তাঁর উত্তরাধিকার কে হবে এই প্রশ্ন করায় উত্তর দিয়েছিলেন, শক্তিশালী জন। মানে হচ্ছে উনার উত্তরাধিকার নিয়ে যুদ্ধ হবে, যুদ্ধে যে জয়ী হবে সেই ক্ষমতায় বসবে। অর্থাৎ আলেক্সজান্ডার সব সময় ক্ষমতাশীল থাকবেন তাঁর ক্ষমতাবান উত্তরাধিকারদের মাধ্যমে। এখন যদি ইসলামে বলা হয়, মূল দলই আসল দল, তখন সকল দলই মূল দল হিসাবে দাবী করবে, এবং যুদ্ধ যে টিকে যাবে, সেই মূল দল হিসাবে আবির্ভূত হবে বা দাবী প্রতিষ্ঠা করবে। ফলাফল, ইসলাম নিজেই অন্যায়ের আসনে পৌঁছে গেল, যে তাঁর অনুসারীদের মধ্যে দাংগা দেখতে চায়, রাসূল সাঃ এর সম্মান নবী থেকে রাজনিতিবিদে নেমে গেলেন(নাউজুবিল্লা)। পরে আস্তে আস্তে হাদিসটি বুঝতে পেরেছি।

এই হাদিসগুলিকে কোন কোন হাদিস বিশেষজ্ঞ হাসান বলেছেন, সেটা হয়ত পোস্ট পরে আজই জানলেন। এই বিষয়টা কোন জানি গোপন করা হয়, বিভিন্ন প্রকার দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে, অনেক সময় ভুল বসত এবং দরকারহীন মনে করেও হয়ে থাকে। ইসাসির ক্বাদী নামে একজন ইসলামী ধর্মতত্বের বিশেষজ্ঞ তাঁর লেখায় বলেছেন “তবে দু-তিনজন আলেম একে জাল হাদীস হিসেবে মত দিয়েছেন“। এই বিষয়টাও আমার নিজেরও অজানা ছিল।

মূলত এই হাদিস দুইয়ের মূল শিক্ষা হল শত্রু পক্ষের ডিভাইড ও রুল থেকে বেঁচে থাকা। মতামতের পার্থক্যের জন্য কেউ আলাদা দল হয়ে উঠে না। ৭৩ দল এবং ৭২ দল বলতে বুঝায় ৭২ প্রকার বা ধরনের দল, নট নেসেসারি একটা নামে একটা দল। অথবা মুসলিমদের বিভক্ত করবে একেকটা মুখোশের আড়ালে। আল্লাহ পাক মানুষের নিয়তের উপর বিচার করবেন বলেই আমরা জানি, তাই ভুল বসত অন্যকোন দলের ভিতর পরে গেলে আল্লাহ পাকই ভাল করে দেখবেন। এবং উপরের দুই হাদিস থেকে প্রমাণিত হয়না যে, ৭২ দল ভুক্ত সবাই একই সাথে সারা জীবনের জন্য জাহান্নামে যাবে। পাপের শাস্তি পাবার পর অথবা আল্লাহ পাকের যা ইচ্ছা সে অনুযায়ী বেহেস্তে আসতে পারে।

মুসলিমদের মধ্যে সঠিক দলঃ

“নিশ্চয় ইব্রাহীম ছিলেন এক সম্প্রদায়ের প্রতীক, সবকিছু থেকে মুখ ফিরিয়ে এক আল্লাহরই অনুগত এবং তিনি শিরককরীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। তিনি তাঁর অনুগ্রহের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী ছিলেন। আল্লাহ তাঁকে মনোনীত করেছিলেন এবং সরল পথে পরিচালিত করেছিলেন। আমি তাঁকে দুনিয়াতে দান করেছি কল্যাণ এবং তিনি পরকালেও সৎকর্ম শীলদের অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর আপনার প্রতি প্রত্যাদেশ প্রেরণ করেছি যে, ইব্রাহীমের দ্বীন অনুসরণ করুন, যিনি একনিষ্ঠ ছিলেন এবং শিরককারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।” (আল কোরান, সূরা নাহল আয়াত ১২০-১২৩)

এখানে আল্লাহ পাক সরাসরি মুসলিমদের মধ্যে সঠিক দল কোনটি বর্ণনা করেছেন, আর তা হল প্রতীক হিসাবে ইব্রাহীম আঃ যিনি আল্লাহ পাকের সাথে শিরক করতেন না। সকল ইব্রাহীম আঃ এর অনুসারীরা সকলে এক যোগেই এক দল। এই বক্তব্যের সমর্থনে, জামা‘আতের সংজ্ঞায় প্রখ্যাত ছাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, الجماعة ما وافق الحق وان كنت وحدكজামা‘আত হচ্ছে হক্বের অনুগামী হওয়া, যদিও তুমি একাকী হও(ইবনু আসাকির, তারীখু দিমাশক্ব ১৩/৩২২ পৃঃ; সনদ ছহীহ, তাহক্বীক্ব মিশকাত হা/১৭৩, ১/৬১ পৃঃ, সর্সঃ মুহাম্মাদ আবদুল ওয়াদূদ, মাসিক আত-তাহারীক)

কোন মুসলিম যদি রাতের বেলায় সকল মুসলিমদের ভালবেসে ঘুমায়, দিনের বেলায় সকল মুসলিমদের ও মানুষদের উপকার করে, সে নিঃসন্দেহে কোন দলাদলির মধ্যে নেই। মুসলিমদের মতামতের ভিন্নতার উপর কোন দল তৈরি হয়না, দল তখনি হয় যখন এক মুসলিম কতগুলো পয়েন্টের উপর আরেক মুসলিমকে আক্রান্ত করে, এবং আগ বাড়িয়ে রক্ত ঝরায় মাথা ফাটায়, তখন প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে তারাও প্রতিশোধ নেয় বা নিতে চায়। আপনাকে নিজেকে প্রথমে মুসলিম হিসাবে চিন্তা করতে হবে, এবং এর ভিত্তিতেই নিজে অবস্থান তৈরি করতে হবে, এবং অমুক আপনার দলভুক্ত নয়, বিধায় আপনি অমুকের মাথা ফাটাতে গেলেন, তখনই আপনি নিজেই নিজেকে নিচে নামিয়ে ফেললেন। মুসলিম হিসবে মতামত যাইহোক এক ধরনের অদৃশ্য একতা থাকতে হবে, সেটাই আপনাকে জামাত ভুক্ত করে রাখবে।

আপনি সঠিক দলভুক্ত আছেন কি না, সেটা দেখতে চাইলে ইব্রাহীম আঃ দিকে তাকাবেন, রাসূল সাঃ ও তাঁর সাহাবীদের দিকে তাকাবেন। যদি তাদের সাথে মিল পান, তাহলে আপনি তাদের সাথেই আছেন। এবং মুসলিমদের মধ্যে দলাদলি করে বিভক্তি তৈরি করবেন না এবং আপনার মতামত আপনি দিবেন।

বর্তমান কালে মুসলিমদের মধ্যে দলঃ

মাহযাবীঃ যারা মাহযাব মানেন, অর্থাৎ কোন জ্ঞানী বাক্যটির মতামত অনুসারে চলেন। এতে কোন সমস্যাই নেই, যদি না মতপার্থক্যের ভিত্তিতে ঐ জ্ঞানী বাক্যটি প্রতিপক্ষের জ্ঞানী  ব্যক্তিটিকে আক্রমণ করে রক্তপাত ঘটানোর কথা বলেন। মাহযাবের ইমামগণ একই সাথে ভিন্ন মতামত ধারী হলেও তারা সকলেই মুসলিম এই ধারণায় উপরই তাদের প্রধান আস্থা। বরং মাহযাবের ইমামগণ অনেক আগেকার হওয়ায় সরাসরি আগেকার মুসলিমদের কালচার, কথাবার্তা এবং এর অর্থ গুলি দেখেছেন, এবং সঠিকভাবে অনুধাবন করার সম্ভাবনা অনেক বেশী। মাহযাব হচ্ছে ইসলামী সংস্কৃতি ও সভ্যতার ধারক ও বাহক। তাই যারা মাহযাব অনুসরণ করছেন, তারা নিঃসন্দেহে সঠিক পথেই আছেন। সতর্ক থাকতে হবে যেন মাহযাবী পরিচয়টাই যেন বড় পরিচয় না হয়ে উঠে, এবং অন্য মুসলিমদের দুঃখের কারণ না হয়ে উঠে। সব মিলিয়ে আপনি মুসলিম, সেই পরিচয়টাই মুখ্য।

সালাফীঃ সালাফীরাও মাহজাবীদের মত, কোন আলীমকে অনুসরণ করন, যারা খুব নিকট সময়ের, যেমনঃ ইবনে তাইমিয়া রাঃ, আলবানী রাঃ, ইবনে বাজ রাঃ। তাছাড়া, তাহারা কোন মাহযাব অনুসরণ করেন না। কোন প্রকার মাহযাব অনুসরণ না করেও ভাল মুসলিম হওয়া যায়। নিজ থেকে কোন সিদ্ধান্ত নিলে ভুল হবার সম্ভাবনা থাকে যদি আপনি ঐ পরিমাণ জ্ঞানী না হন। সতর্ক থাকতে হবে যেন লা-মাহযাবী পরিচয়টাই যেন বড় পরিচয় হয়ে অন্য মুসলিমদের দুঃখের কারণ না হয়ে উঠে। সব মিলিয়ে আপনি মুসলিম, সেই পরিচয়টাই মুখ্য।

শিয়াঃ শিয়া আয়াতুল্লাহদের বাহিরে রেখে, সাধারণ জনসাধারণের কথা বলছি, যারা মুসলিমদের দুঃখে দুঃখ পায়, মুসলিমদের কষ্টে কষ্ট পায়। এবং তাত্ত্বিক বিষয় এত গভীর ভাবে জানে না, কিন্তু যা জানে তা কোরানের সহিত সাংঘর্ষিক না হয়ে থাকে, তাহলে তাদের মধ্যেও সঠিক দলীয় ব্যক্তি থাকা অসম্ভব নয়। সকল সাহাবীই সর্ব প্রকার হাদিস জানতেন না, তাই কিছু মানুষ যদি স্বল্প জানা হয়, কিন্তু যা জানে তা সহি ইসলামের বিপক্ষে নয়, ঐ সব নির্দোষ সহজ সরল ব্যক্তিগণ অবশ্যই ইব্রাহীম রাঃ এর ধর্মের উপর থাকা অসম্ভব নয়, আমি ব্যক্তিগত ভাবে সুন্নি ইমামের পিছনে শিয়া ব্যক্তিকে নামাজ আদায় করতে দেখেছি। কিন্তু যারা শিয়া পরিচয়টাকে মুখ্য ঘোষণা করে এর উপর অন্য মুসলিমদের দুঃখের কারণ হয়, তাহলে তারা সুস্পষ্ট রূপে দলাদলিতে লিপ্ত।

ইবাদী সম্প্রদায়ঃ ওমানে তারা সংখ্যা গরিষ্ঠ। হাদিস বইগুলির মধ্যে বুখারি ও মুসলিম শরিফকে তারা মানে। তারা আহলে সুন্নাতুয়াল জামাত থেকে অনেক কম সংখ্যক হাদিস গ্রহণ করে। তারা কোন একসময় খারেজীদের সাথে সম্পর্কিত ছিল, কিন্তু বর্তমানে অনেক লিবারেল এবং ক্রমান্বয়ে অন্য  মুসলিমদের নিকটবর্তী হচ্ছে। তাদের মধ্যে নিরপরাধ ব্যক্তি যাদের মুসলিম পরিচয়েই মুখ্য, এবং  যে কোন অবস্থায় মুসলিমদের সাহায্যে এগিয়ে আসে, এবং দলাদলি না করে আহলে সুন্নাতুয়াল জামাতের ইমামের পিছনে নামাজ পড়া দোষনীয় মনে করে না; তারাও ভিন্ন দলভুক্ত নয়। কিন্তু এ ধরনের মানুষের সংখ্যা ঠিক কতজন, সেটা আমার জানা নেই।

উপসংহারঃ মহান আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সব থেকে ভাল জানেন। তাই সব সময় মেনে চলবেন “আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ় হস্তে ধারণ কর; পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। আর তোমরা সে নেয়ামতের কথা স্মরণ কর, যা আল্লাহ তোমাদিগকে দান করেছেন। তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে। অতঃপর আল্লাহ তোমাদের মনে সম্প্রীতি দান করেছেন। ফলে, এখন তোমরা তাঁর অনুগ্রহের কারণে পরস্পর ভাই ভাই হয়েছ। তোমরা এক অগ্নিকুণ্ডের পাড়ে অবস্থান করছিলে। অতঃপর তা থেকে তিনি তোমাদেরকে মুক্তি দিয়েছেন। এভাবেই আল্লাহ নিজের নিদর্শনসমুহ প্রকাশ করেন, যাতে তোমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হতে পার।” (আল ইমরান, ১০৩)

মতামত যাইহোক, সকল মুসলিমকে ভাই মনে করুন, পরস্পরের বিপদে এগিয়ে আসুন, তাহলে কখনই পরস্পরের থেকে বিচ্ছিন্ন হবেন না। অন্য কোন পরিচয় যেন মুসলিম পরিচয়কে ঢেকে না ফেলে। “আল্লাহু আকবার”

 

[এডিটঃ সহজ বাংলায় আমার বক্তব্য হচ্ছে কেউ যদি কোরানের প্রতিটা বাক্য ও রাসূল সাঃ এর কোন কথা তাঁর নিকট প্রমানিত হলে সে যদি বিশ্বাস করে যায়, এবং রাজনিতিক দলাদলি করে রক্তপাত না ঘটায়, তাহলে সাইনবোর্ড যাইহোক সে সঠিক দলেই আছে। অসচেতনভাবে সে ইসলামের সকল সহী আকিদায়ই বিশ্বাস করে যায়। এবং এরাই মুসলিমদের ভিতর সংখ্যা গরিষ্ঠ।]

(এখানে জানা অজানা বহু মানুষের জ্ঞান ও কাজ থেকে সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে, তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। যেকোনো ভুল ত্রুটি সংশোধন করা হবে, ক্রমান্বয়ে আপডেট করা হবে। আল্লাহ পাক আমার ভুল ক্ষমা করুন, আমিন।)

http://www.shodalap.org/fathmee/26766/

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s